📄 কতিপয় যরূরী জ্ঞাতব্য
পিতা-মাতার প্রতিদান :
পিতা-মাতা যে কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, তার প্রতিদান কেউ দিতে পারে না। এমনকি মায়ের এক ফোটা দুধের ঋণ পরিশোধ করাও অসম্ভব। গর্ভকালীন একটি দীর্ঘ শ্বাসের বিনিময়ও কোন সন্তান দিতে পারবে না। কিন্তু ভালোর প্রতিদান ভালো কাজ দিয়ে হওয়া উচিৎ। আল্লাহ বলেন, هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ 'উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কি হ'তে পারে? (আর-রহমান ৫৫/৬০)।
দাসত্ব বরণকারী পিতাকে মুক্ত করলেও পিতা-মাতার অধিকার আদায় হবে না। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا يَجْزِى وَلَدٌ وَالِدَهُ إِلَّا أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوْكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'সন্তানের পক্ষে তার পিতাকে প্রতিদান দেয়া সম্ভব নয়। তবে সে তাকে দাসরূপে পেয়ে ক্রয় করে দাসত্বমুক্ত করে দিলে তার প্রতিদান হ'তে পারে'।
অন্য হাদীছে এসেছে,
وَعَنْ أَبِي بُرْدَة قَالَ : شَهِدْتُ ابْنَ عُمَرَ رضي الله عنهما وَرَجُلٌ يَمَانِي يَطُوفُ بِالْبَيْتِ قَدْ حَمَلَ أُمَّهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ، يَقُوْلُ : إِنِّي لَهَا بَعِيرُهَا الْمُذَلَّل ... إِنْ أُدْعِرَتْ رِكَابُهَا لَمْ أَذْعَرْ ثُمَّ قَالَ : يَا ابْنَ عُمَرَ أَتَرَانِي جَزَيْتُهَا؟ قَالَ: لَا، وَلَا بِزَفْرَةٍ وَاحِدَةٍ-
আবু বুরদা (রহঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ইবনে ওমর (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। ইয়েমেনের এক ব্যক্তি তার মাকে তার পিঠে বহন করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিল আর বলছিল, 'আমি তার জন্য তার অনুগত। উটতুল্য। আমি তার পাদানিতে আঘাতপ্রাপ্ত হ'লেও নিরুদ্বেগে তা সহ্য করি'। অতঃপর সে ইবনে ওমর (রাঃ)-কে বলল, আমি কি আমার মাতার প্রতিদান দিতে পেরেছি বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন, না, তার একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদানও হয়নি'।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: إِنَّ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا رَأَى رَجُلًا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ حَامِلًا أُمَّهُ، وَهُوَ يَقُولُ: أَتَرَيْنِي جَزَيْتُكِ يَا أُمَّهُ؟ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَيْ لُكَعُ وَلَا طَلْقَةً وَاحِدَةً
হাসান হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা ইবনু ওমর (রাঃ) দেখলেন, জনৈক ব্যক্তি তার মাকে কাঁধে নিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফকালীন সময়ে বলছে, হে মা! তুমি কি মনে কর আমি তোমার প্রতিদান দিতে পেরেছি? ইবনু ওমর (রাঃ) একথা শুনে বললেন, হে নগণ্য! জন্মের সময়কার একটি কষ্টেরও নয়'।
আরেকটি হাদীছে এসেছে, عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم مَنِ اسْتَعَاذَ باللَّهِ فَأَعِيذُوهُ وَمَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ-
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে নিরাপত্তা চায়, তাকে নিরাপত্তা দাও। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ নামে ভিক্ষা চায়, তাকে দাও। যে ব্যক্তি তোমাদেরকে দাওয়াত করে তার ডাকে সাড়া দাও। যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে তোমরা তার উত্তম প্রতিদান দাও। প্রতিদান দেয়ার মতো কিছু না পেলে তার জন্য দু'আ করতে থাকো, যতক্ষণ না তোমরা অনুধাবন করতে পারো যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছো।
পিতা-মাতার মাঝে দ্বন্দ্ব লাগলে সন্তানের করণীয়:
পিতা-মাতা সন্তানের নিকট সমমর্যাদার অধিকারী। যদিও সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে মা অগ্রাধিকারযোগ্য। বর্তমান অনৈসলামিক সমাজ ব্যবস্থায় দেখা যায় পিতা ও মাতার মধ্যে মনোমালিন্য লেগেই থাকে। এমনকি তারা সন্তানের সামনে উচ্চ ভাষায় পরস্পরকে গালিগালাজ করে এবং হাতাহাতিও করে। আর এর কারণ হ'ল শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারলে খুব খুশী হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةٌ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ قَالَ: فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نِعْمَ أَنْتَ
শয়তান সমুদ্রের পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর মানুষের মধ্যে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য সেখান থেকে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শয়তনই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শয়তান মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিৎনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিৎনা মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। তিনি বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি মানব সন্তানকে ছেড়ে দেইনি, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করে দিয়েছি। তিনি বলেন, শয়তান এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসায় আর বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছ। বর্ণনাকারী আ'মাশ বলেন, আমার মনে হয় জাবের (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে'।
এক্ষেত্রে সন্তানের দায়িত্ব হ'ল নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিষয়গুলো অবলোকন করে উভয়কে নিজেদের ভুলের ব্যাপারে সচেতন করা এবং বুঝিয়ে তাদের মাঝে মীমাংসা করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'আর যখন তোমরা কথা বলবে তখন ন্যায় কথা বলবে, তা নিকট জনের বিরুদ্ধে হলেও' (আন'আম ৬/১৫২)। তিনি আরো বলেন, 'হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক আল্লাহ্ জন্য সাক্ষ্যদাতা হিসাবে, যদিও সেটি তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়' (নিসা ৪/১৩৫)। এক্ষণে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়া সদাচরণের অংশ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ মুমিনগণ পরস্পরে ভাই ব্যতীত নয়। অতএব তোমাদের দু'ভাইযের মধ্যে সন্ধি করে দাও। আর আল্লাহকে ভয় কর। তাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে' (হুজুরাত ৪৯/১০)। আর মীমাংসা করে দেওয়ার কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি না করলে পিতা-মাতার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে, যা সন্তানের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে। রাসূল (ছাঃ) মীমাংসা করার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বলেন, أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ مِنْ دَرَجَةِ الصِّيَامِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّدَقَةِ، قَالُوا : بَلَى، قَالَ: صَلَاحُ ذَاتِ البَيْنِ، فَإِنَّ فَسَادَ ذَاتِ البَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ 'আমি তোমাদেরকে (নফল) ছিয়াম, ছালাত ও ছাদাক্বা অপেক্ষাও উত্তম আমলের কথা বলব না? ছাহবীগণ বললেন, অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, বিবদমান দু'ব্যক্তির মাঝে সুসম্পর্ক স্থাপন করা। কেননা পরস্পর সম্পর্ক বিনষ্ট করা হ'ল দ্বীন ধ্বংসকারী বিষয়'। ১৮৮ এছাড়াও সন্তান নিম্নের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারে-
১. সন্তান পিতা-মাতার মীমাংসার জন্য দো'আ করবে। আর দো'আ করার জন্য দো'আ কবুলের সময়গুলো বেছে নিবে; সেটি হতে পারে সিজদায়, শেষ রাতে বা ফরয ছালাত শেষে।
২. পিতা ও মাতা উভয় বংশের মধ্য হতে দু'জন বিচারক নিয়োগ করা। যাতে তারা তাদের মাঝের মতপার্থক্য দূর করে সমঝোতায় উপনীত হতে পারে। আর আশা রাখবে আল্লাহ যাতে এদের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেন। আল্লাহ বলেন, وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّق اللهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا
'আর যদি তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর, তাহ'লে স্বামীর পরিবার থেকে একজন ও স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন শালিস নিযুক্ত কর। যদি তারা উভয়ে মীমাংসা চায়, তাহ'লে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে (সম্প্রীতির) তাওফীক দান করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও ভিতর-বাহির সবকিছু অবহিত' (নিসা ৪/৩৫)।
৩. পিতা-মাতা উভয়কে ক্ষমা করার গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে অবহিত করা। যাতে তারা পরস্পরকে ক্ষমা করে পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَلَا تَنْسَوُا الْفَضْلَ 1 Raa | R
بَيْنَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ অধিক নিকটবর্তী। তোমরা পরস্পরের প্রতি সদাচরণকে ভুলে যেয়ো না (বাক্বারাহ ২/২৩৭)। আল্লাহ আরো বলেন, তারা যেন তাদের মার্জনা করে ও দোষ-ত্রুটি এড়িয়ে যায়। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? বস্তুতঃ আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াবান (নূর ২৪/২২)।
৪. পিতা-মাতাকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করবে। অবহিত করবে পরস্পরকে পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা সম্পর্কে।
৫. পিতা-মাতাকে পারস্পরিক ভালো ধারণা সম্পর্কে অবহিত করবে। পিতার নিকট মায়ের অনুশোচনা সম্পর্কে অবহিত করবে এবং মায়ের নিকট পিতার অকৃত্রিম ভালো থাকার কথা অবহিত করবে যদিও তা মিথ্যা হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَيْسَ الْكَذَّابُ الَّذِي يُصْلِحُ بَيْنَ النَّاسِ وَيَقُولُ خَيْرًا وَيَنْمِي خَيْرًا 'সে ব্যক্তি মিথ্যাবাদী নয়, যে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য (নিজের থেকে) ভালো কথা পৌঁছে দেয় কিংবা ভালো কথা বলে'।
শ্বশুর ও শাশুড়ীর সেবা করার বিধান:
শশুর-শাশুড়ীর খেদমত করা আবশ্যক নয়। তবে স্বামীকে খুশি রাখার জন্য বা স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ খেদমত করা উত্তম কাজ। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়ীর কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করলে ও তাদের সেবা-যত্ন করলে তাতে অশেষ নেকী অর্জিত হবে। এর ফলে স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি অধিক সন্তুষ্ট থাকবেন। ১৯০ রাসূল (ছাঃ) জনৈক মহিলাকে বলেন, তুমি লক্ষ্য রেখ যে, তুমি তোমার স্বামীর হৃদয়ের কোথায় অবস্থান করছ? কেননা সে তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম'।
পিতা মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিধান:
আবুদ্দারদা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি শামে (সিরিয়া) তার নিকটে এসে বলল, আমার মা, অন্য বর্ণনায় আমার পিতা বা মাতা (রাবীর সন্দেহ) আমাকে বারবার তাগিদ দিয়ে বিয়ে করালেন। এখন তিনি আমাকে আমার স্ত্রীকে তালাক দানের নির্দেশ দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় আমি কি করব? জবাবে আবুদ্দারদা বলেন, আমি তোমাকে স্ত্রী ছাড়তেও বলব না, রাখতেও বলব না। আমি কেবল এতটুকু বলব, যতটুকু আমি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبِوْابِ الْجَنَّةِ، فَحَافِظُ إِنْ شِئْتَ أَوْ ضيع 'পিতা হ'লেন জান্নাতের মধ্যম দরজা। এক্ষণে তুমি তা রেখে দিতে পার অথবা বিনষ্ট করতে পার'।
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, আমার স্ত্রীকে আমি ভালবাসতাম। কিন্তু আমার পিতা তাকে অপসন্দ করতেন। তিনি তাকে তালাক দিতে বলেন। আমি তাতে অস্বীকার করি। তখন বিষয়টি রাসূল (ছাঃ)-কে বলা হ'লে তিনি বলেন, أطعْ أَبَاكَ وَطَلَّقْهَا، فَطَلَّقْتُهَا 'তুমি তোমার পিতার আনুগত্য কর এবং তাকে তালাক দাও। অতঃপর আমি তাকে তালাক দিলাম'।
ঈমানদার ও দূরদর্শী পিতার আদেশ মান্য করা ঈমানদার সন্তানের জন্য অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু পুত্র ও তার স্ত্রী উভয়ে ধার্মিক ও আনুগত্যশীল হ'লে ফাসেক পিতা-মাতার নির্দেশ এক্ষেত্রে মানা যাবে না। একইভাবে সন্তান ছহীহ হাদীছপন্থী হ'লে বিদ'আতী পিতা-মাতার নির্দেশও মানা চলবে না। কারণ সকল ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের বিধান অগ্রাধিকার পাবে।
উপরোক্ত হাদীছদ্বয়ের ভিত্তিতে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, পিতা-মাতার কথায় স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। যা শরী'আতসম্মত নয়। কারণ সবাই আল্লাহ্র রাসূল বা ওমর ফারুক নন। সবার নিকট অহি আসে না বা ইলহামও হয় না। ইবনু আব্বাস ও আবুদ্দারদা (রাঃ)-কে পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হ'লে তারা বলেন,
أَنَا بِالَّذِي آمُرُكَ أَنْ تُطَلَّقَ امْرَأَتَكَ، وَلَا أَنْ تَعُقَّ وَالِدَيْكَ، قَالَ: فَمَا أَصْنَعُ بِهَذِهِ الْمَرْأَةِ؟ قَالَ: ابْرِرْ وَالِدَيْكَ
‘আমি তোমাকে তোমার স্ত্রী তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারছি না আবার পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ারও আদেশ করছিনা। প্রশ্নকারী বললেন, তাহ'লে আমি এই নারীর ব্যাপারে কী করব? ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, (স্ত্রীকে রেখেই) পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ কর’।
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ)-কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল,
إِنَّ أَبِي يَأْمُرُنِي أَنْ أَطَلَّقَ امْرَأَتِي قَالَ: لَا تُطَلِّقْهَا قَالَ: أَلَيْسَ عُمَرُ أَمَرَ ابْنَهُ عَبْدَ اللهِ أَنْ يُطَلِّقَ امْرَأَتَهُ قَالَ حَتَّى يَكُوْنَ أَبُوْكَ مِثْلَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ -
'আমার পিতা আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য আমাকে আদেশ দিচ্ছেন। (আমি কি করব?) তিনি বললেন, তুমি তালাক দিও না। বর্ণনাকারী বলল, ওমর (রাঃ) কি তার ছেলে আব্দুল্লাহকে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে বলেননি। তিনি বললেন, তোমার পিতা কি ওমরের মত হয়েছেন'? ১৯৫ অর্থাৎ সব পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে না।
একদিন প্রখ্যাত তাবেঈ আতা (রহঃ)-কে একজন লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ'ল, যার স্ত্রী ও মা রয়েছেন। আর তার মা তার স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি বললেন, ،لِيَتَّقِ اللهَ فِي أُمَّهِ وَلِيَصِلْهَا 'সে যেন তার মায়ের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং মায়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে'। তাকে বলা হ'ল, সে কি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিবে? তিনি বললেন, না। তাকে বলা হ'ল, মা যে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ব্যতীত খুশি নন। তিনি বললেন, أَرْضَاهَا اللهُ، امْرَأَتُهُ بِيَدِهِ إِنْ طَلَّقَهَا فَلَا حَرَجَ وَإِنْ حَبَسَهَا فَلَا حَرَجَ، তাকে সন্তুষ্ট না করুন। স্ত্রী তার হাতে রয়েছে, সে যদি তালাক দেয় তাতেও কোন দোষ নেই। আবার না দিলেও কোন দোষ নেই'।
শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে মায়ের কথায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হ'লে তিনি বলেন, لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُطَلَّقَهَا، بَلْ يَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَبَرَّهَا وَلَيْسَ تَطْلِيقُ امْرَأَتِهِ مِنْ بِرِّهَا، দেওয়া হালাল হবে না। বরং তার জন্য আবশ্যক হ'ল মায়ের সাথে সদাচরণ করা। আর স্ত্রীকে তালাক দেওয়া সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত নয়'।
প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান বছরীকে জিজ্ঞেস করা হ'ল, জনৈক মা তার সন্ত ানকে স্ত্রী তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন সে কি করবে? তিনি বললেন, لَيْسَ الطَّلَاقُ مِنْ بِرِّهَا فِي شَيْءٍ، অংশ নয়'। ১৯৮ মুছতফা বিন সা'দ রুহায়বানী বলেন, وَلَا تَجِبُ عَلَى ابْنِ طَاعَةُ أَبَوَيْهِ وَلَوْ كَانَا عَدْلَيْنِ فِي طَلَاقِ زَوْجَتِهِ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ مِنْ الْبَرِّ، তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার আনুগত্য করা সন্তানের জন্য আবশ্যক নয়। যদিও তারা ন্যায়পরায়ণ কারণ এটি সদাচরণের অংশ নয়'।
তবে পিতা-মাতা শরী'আতসম্মত কোন কারণে স্ত্রীকে তালাক দিতে বললে তালাক দিতে হবে। যেমন ওমর (রাঃ) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে স্ত্রী তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেখানে শারঈ কারণ ছিল। ২০০ ইবরাহীম (আঃ) তাঁর ছেলে ইসমাঈল (আঃ)-কে স্ত্রী তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। সেখানেও শারঈ কারণ ছিল। ২০১ অতএব স্পষ্ট শারঈ কারণ ছাড়া পিতা-মাতার আদেশে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে না।
অমুসলিম পিতা-মাতাকে দান :
অমুসলিম পিতা-মাতার জন্য মুসলিম সন্তান খরচ করবে। তাদের প্রয়োজনে নগদ অর্থ প্রদান করবে। তবে তাদের যাকাতের মাল থেকে দেওয়া যাবে না। কারণ তারা মুশরিক। আর মুশরিক যাকাতের মালের হকদার নয়। অমুসলিমকে সাধারণ দান-খয়রাত করা যাবে। আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট জনৈক ইহুদী মহিলা ভিক্ষা চাইলে তিনি তাকে ভিক্ষا দেন।
পিতা-মাতা হিসাবেও তাদের যাকাতের মাল দেওয়া যাবে না। যেমনটি মুসলিম পিতা-মাতাকে যাকাতের মাল থেকে দেওয়া যাবে না। কারণ সন্ত ানের জন্য আবশ্যক হ'ল পিতা-মাতার যাবতীয় খরচ বহন করা। ইমাম আবুদাউদ 'অমুসলিমদের উপর ছাদাক্বাহ করার বিধান' অনুচ্ছেদ রচনা করে আসমা বর্ণিত হাদীছটি বর্ণনা করেন। ২০০ আসমা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত,
قَدِمَتْ عَلَى أُمِّى رَاغِبَةً فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ وَهِيَ رَاغِمَةٌ مُشْرِكَةٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّى قَدِمَتْ عَلَى وَهِيَ رَاغِمَةٌ مُشْرِكَةٌ أَفَأَصِلُهَا قَالَ : نَعَمْ فَصِلِي أُمَّكِ 'আমার মাতা, যিনি ইসলামের প্রতি বৈরী ও কুরাইশদের ধর্মের অনুরাগী ছিলেন (কুরাইশদের সাথে হোদায়বিয়ার সন্ধির সময়) আমার নিকট আগমন করেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মাতা আমার নিকট এসেছেন, কিন্তু তিনি ইসলাম বৈরী মুশরিক। এখন (আত্মীয়তার বন্ধন হেতু) আমি কি তাকে কিছু দান করার মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করব? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মাতার সাথে সুম্পর্ক বজায় রাখ'।
অমুসলিম পিতা-মাতার হেদায়াতের জন্য দো'আ :
সাধারণভাবে অমুসলিমদের হেদায়াতের জন্য দো'আ করা কর্তব্য। রাসূল (ছাঃ) আবু জাহল বা ওমরের হেদায়াতের জন্য, আবু হুরায়রার মায়ের হেদায়াতের জন্য, দাউস সম্প্রদায়ের হেদায়াতের জন্য, ছাক্বীফ গোত্রের হেদায়াতের জন্য এবং ইহুদী খৃষ্টানদের হেদায়াতের জন্য দো'আ করেছিলেন'। ২০৫ কারণ কারো দাওয়াতের মাধ্যমে বা দো'আর মাধ্যমে কেউ হেদায়াত হ'লে সেটি লাল উট কুরবানী করা অপেক্ষা উত্তম'। ২০৬ আর পিতা-মাতা সবচেয়ে কাছের মানুষ। কাজেই পিতা-মাতা অমুসলিম থেকে জাহান্নামে যাবে এটি কোন সন্তানের কাম্য নয়। সেজন্য অমুসলিম পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের পাশাপাশি তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ্র নিকট খালেছ অন্তরে দো'আ করতে হবে।
আবু কাছীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আমি আমার মাকে ইসলামের প্রতি আহবান জানাতাম, তখন তিনি মুশরিক ছিলেন। একদিন আমি তাকে ইসলাম কবুলের জন্য আহবান জানালাম। তখন তিনি রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে আমাকে এমন এক কথা শোনালেন যা আমার কাছে খুবই অপ্রিয় ছিল। আমি কাঁদতে কাঁদতে রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসছিলাম। আর তিনি অস্বীকার করে আসছিলেন। এরপর আমি তাকে আজ দাওয়াত দেওয়াতে তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে এমন কথা শোনালেন, যা আমি পসন্দ করি না। সুতরাং আপনি আল্লাহ্র কাছে দো'আ করুন যেন তিনি আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দান করেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল বললেন, اللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ 'হে আল্লাহ্! আবু হুরায়রার মাকে হেদায়াত দান কর'। নবী করীম (ছাঃ)-এর দো'আর কারণে আমি খুশি মনে বেরিয়ে এলাম। যখন আমি (ঘরের) দরজায় পৌঁছলাম তখন তা বন্ধ দেখতে পেলাম। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, আবু হুরায়রা! একটু দাঁড়াও (থাম)। তখন আমি পানির কলকল শব্দ শুনছিলাম। তিনি বলেন, এরপর তিনি (আমার মা) গোসল করলেন এবং গায়ে চাদর পরলেন। আর তড়িঘড়ি করে দোপাট্টা ও ওড়না জড়িয়ে নিলেন, এরপর ঘরের দরজা খুলে দিলেন। এরপর বললেন, 'হে আবু হুরায়রা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল'। তিনি বলেন, তখন আমি রাসূল (ছাঃ)-এর খিদমতে রওনা হ'লাম। এরপর তাঁর কাছে গেলাম এবং আমি তখন আনন্দে কাঁদছিলাম। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! সুসংবাদ গ্রহন করুন। আল্লাহ্ আপনার দো'আ কবুল করেছেন এবং আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দান করেছেন। তখন তিনি আল্লাহ্ শুকরিয়া আদায় করলেন ও তাঁর প্রশংসা করলেন এবং ভাল ভাল (কথা) বললেন। তিনি বলেন, এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি আল্লাহ্ কাছে দো'আ করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করেন এবং তাদের ভালোবাসা আমাদের অন্তরে বদ্ধমূল করে দেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর রাসূল (ছাঃ) বললেন, اللَّهُمَّ حَتَّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا، يَعْني أَبَا هُرَيْرَةَ وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِينَ 'হে আল্লাহ্! তোমার এই বান্দা (আবু হুরায়রা)-কে এবং তাঁর মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয়ভাজন করে দাও এবং তাদের কাছেও মুমিন বান্দাদের প্রিয় করে দাও'। এরপর এমন কোন মুমিন বান্দা সৃষ্টি হয়নি, যে আমার কথা শুনেছে অথবা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালবাসেনি'।
অমুসলিম পিতা-মাতার কবর যিয়ারত :
অমুসলিম পিতা-মাতার কবর যিয়ারত করা জায়েয। কারণ তারা অমুসলিম হ'লেও জন্মদাতা পিতা ও মাতা। সেজন্য ইসলামী শরী'আত মুশরিক পিতা-মাতার কবর যিয়ারতের অনুমতি দিয়েছে। এতে তাদের উপকার হবে না। কিন্তু যিয়ারতকারীর উপকার হ'তে পারে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, زَارَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ فَقَالَ : اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي أَنْ أزُورَ قَبْرَهَا فَأُذِنَ لِى فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْمَوْتَ (218)
নবী (ছাঃ) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করতে গেলেন। তিনি কাঁদলেন এবং আশেপাশের সবাইকে কাঁদালেন। তিনি বললেন, আমি আমার প্রভুর নিকট মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হ'ল না। তখন আমি তার কবর যিয়ারত করার জন্য অনুমতি চাইলে আমাকে অনুমতি দেয়া হ'ল। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত কর। কারণ কবর যিয়ারাত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়'।
অমুসলিম পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা:
অমুসলিম পিতা-মাতা মৃত্যু বরণ করার পর তাদের ক্ষমার জন্য দো'আ করা যাবে না। কারণ তারা নিশ্চিত জাহান্নামী। আর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে তাদের জন্য দো'আ করে কোন লাভ হবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَوْ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ কَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
নবী ও মুমিনদের উচিত নয় মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা যদিও তারা নিকটাত্মীয় হয়, একথা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যে তারা জাহান্নামের অধিবাসী (তাওবাহ ৯/১১৩)। ২০৯ আলী (রাঃ) বলেন, سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْتَغْفِرُ لِأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ فَقُلْتُ لَهُ أَتَسْتَغْفِرُ لِأَبَوَيْكَ وَهُمَا مُشْرِكَانِ. فَقَالَ أَوْلَيْسَ اسْتَغْفَرَ إِبْرَاهِيمُ لأَبَيْهِ وَهُوَ مُشْرِكٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَتَزَلَتْ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ
এক ব্যক্তিকে তার (মৃত) মুশরিক পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনলাম। আমি তাকে বললাম, তোমার মৃত পিতা-মাতার জন্য কি তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করছ, অথচ তারা ছিল মুশরিক? সে বলল, ইবরাহীম (আঃ) কি তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি, অথচ তার পিতা ছিল মুশরিক? আমি বিষয়টি নবী (ছাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় 'নবী ও ঈমানদার লোকদের পক্ষে শোভনীয় নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনই হৌক না কেন'।
উল্লেখ্য যে, ইবরাহীম (আঃ) ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন তার ওয়াদা পূরণের জন্য। তিনি পিতার নিকট বলেছিলেন যে, আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। তাছাড়া তার দো'আ কবুল হয়নি। কারণ তার পিতা ছিল মুশরিক। وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ إِلَّا عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ عَدُوٌّ لِلَّهِ تَبَرَّاً مِنْهُ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ আর পিতার জন্য ইবরাহীমের ক্ষমা প্রার্থনা ছিল কেবল সেই ওয়াদার কারণে যা সে তার পিতার সাথে করেছিল। অতঃপর যখন তার নিকট পরিষ্কার হয়ে গেল সে আল্লাহর শত্রু, তখন সে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিল বড়ই কোমল হৃদয় ও সহনশীল' (তাওবাহ ৯/১১৪)।
يَلْقَى إِبْرَاهِيمُ أَبَاهُ آزَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَعَلَى وَجْهِ آزَرَ قَتَرَةٌ وَغَبَرَةٌ، فَيَقُولُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ لا تَعْصِنِي فَيَقُولُ أَبُوهُ فَالْيَوْمَ لَا أَعْصِيكَ. فَيَقُولُ إِبْرَاهِيمُ يَا رَبِّ، إِنَّكَ وَعَدْتَنى أَنْ لَا تُخْزِيَنِي يَوْمَ يُبْعَثُونَ فَأَيُّ خِزْيِ أَخْرَى مِنْ أَبِي الأَبْعَدِ فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى إِنِّي حَرَّمْتُ الْجَنَّةَ عَلَى الْكَافِرِينَ، ثُمَّ يُقَالُ يَا إِبْرَاهِيمُ مَا تَحْتَ رِجْلَيْكَ فَيَنْظُرُ فَإِذَا هُوَ بِدِيجٍ مُلْتَطِحْ، فَيُؤْخَذُ بِقَوَائِمِهِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ
'কিয়ামতের দিন ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতা আযরের সাক্ষাৎ লাভ করবেন। আযরের মুখমণ্ডল মলীন ধুলা থাকবে। তখন ইবরাহীম (আঃ) তাকে বলবেন, আমি কি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। এরপর ইব্রাহীম (আঃ) (আল্লাহ্র কাছে) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার চেয়ে অধিক অপমান আমার জন্য আর কি হ'তে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইব্রাহীম! তোমার পদতলে কি? তখন তিনি নিচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার স্থানে সর্বশরীরে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে'।
উপরোল্লেখিত ঘটনার অন্তরালে বেশ কিছু তাৎপর্য রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল, আল্লাহ তা'আলার ভয় এবং তাঁর হুকুম-আহকামের প্রতি যাদের নিষ্ঠা থাকে না, তাদের দ্বারা দুনিয়ায় অন্য অধিকার রক্ষা ও নিষ্ঠা আশা করা যায় না। ইহজগতে মানবগোষ্ঠী সমাজের রীতি-নীতি কিংবা রাষ্ট্রের আইন-কানূন থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে বহু পন্থা আবিষ্কার করে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ আইন-কানুনের কাছে সেগুলো ধরা পড়ে যায়। তাই পিতা-পুত্রের মত নিবিড় সম্পর্কযুক্ত আপনজনের ক্ষেত্রেও কোন আপোষ-মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি এবং কাফের পুত্রের সঙ্গে পবিত্র পিতার মিলিত হওয়া, মহান আল্লাহ তা'আলা অনুমোদন করেননি। বরং পিতাকে এমন ভাষায় সতর্ক করে দেন, যা ভবিষ্যত মুসলিম জাতির জন্য এক মহাস্মারক। আনাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, : أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ أَبِي قَالَ فِي النَّارِ. فَلَمَّا قَفَّى دَعَاهُ فَقَالَ: إِنَّ أَبِي وَأَبَاكَ فِي النَّارِ
জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহ্র রসূল! আমার (মৃত) পিতা কোথায় (জান্নাতে না জাহান্নামে)? তিনি বললেন, জাহান্নামে। অতঃপর সে যখন (মন খারাপ করে) ফিরে যেতে উদ্যত হল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, 'আমার পিতা এবং তোমার পিতা উভয়ে জাহান্নামে'। ২১২ অন্য হাদীছে এসেছে, আবু রাযীন (রাঃ) বলেন, قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ أُمِّى قَالَ : أُمُّكَ فِي النَّارِ. قَالَ قُلْتُ: فَأَيْنَ مَنْ مَضَى مِنْ أَهْلِكَ، قَالَ : أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُوْنَ أُمُّكَ مَعَ أُمِّي 'আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার (মৃত) মাতা কোথায় (জান্নাতে না জাহান্নামে)? তিনি বললেন, তোমার মা জাহান্নামে। আমি বললাম, আপনার পরিবারের যারা পূর্বে মারা গেছে তারা কোথায়? তখন তিনি তাকে বললেন, 'তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মা আমার মায়ের সাথে থাকবে'।
আবু তালেব মারা গেলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন, مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ، إِنَّكَ لَا تَهْدِي .مَنْ أَحْبَبْتَ 'নবী ও মুমিনদের উচিত নয় মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা' (তওবা ৯/১১৩) ও 'নিশ্চয়ই তুমি হেদায়াত করতে পারো না যাকে তুমি ভালবাস' (ক্বাছাছ ২৮/৫৬)
অমুসলিম পিতা-মাতাকে দাফন:
অমুসলিম পিতা-মাতা মারা গেলে তাদের দাফনের ব্যবস্থা করা সন্তানের অন্যতম দায়িত্ব। তবে মুসলিম সন্তান তার অমুসলিম পিতা-মাতাকে গোসল দিবে না, কাফনের কাপড় পরাবে না, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে না ও জানাযার ছালাতের ব্যবস্থা করবে না। ২১৫ আলী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন,
لَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو طَالِب أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّ عَمَّكَ الشَّيْخَ قَدْ مَاتَ . قَالَ : اذْهَبْ فَوَارِهِ ثُمَّ لاَ تُحْدِثُ شَيْئًا حَتَّى تَأْتِيَنِي. قَالَ فَوَارَيْتُهُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ قَالَ : اذْهَبْ فَاغْتَسِلْ ثُمَّ لَا تُحْدِثُ شَيْئاً حَتَّى تَأْتِيَنِي. قَالَ فَاغْتَسَلْتُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ قَالَ فَدَعَا لِي بِدَعَوَاتِ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا حُمْرَ النَّعَمِ - وَسُودَهَا 'আবু তালিব মারা গেলে আমি নবী (ছাঃ)-এর নিকট গিয়ে বললাম, আপনার বৃদ্ধ চাচা মারা গেছেন। তিনি বললেন, তুমি গিয়ে তাকে দাফন করে এসো। আর এর মধ্যে কাউকে কিছু বলবে না বা কিছু ঘটাবে না। তিনি বলেন, আমি তাকে দাফন করে তাঁর নিকট আসলে তিনি বললেন, গোসল করে এসো। আর এর মধ্যে কাউকে কিছু বলবে না বা কিছু ঘটাবে না। অতঃপর গোসল করে তাঁর নিকট আসলে তিনি এমন কিছু দো'আ করে দিলেন যা লাল ও কালো উট অপেক্ষা উত্তম ছিল'।
টিকাঃ
১৮৩. মুসলিম হা/১৫১০; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১০; মিশকাত হা/৩৩৯১।
১৮৪. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১১; আল-আছারুছ ছহীহাহ হা/১৯৯।
১৮৫. ফাকেহী, আখবারে মাক্কাহ হা/৬১৫; মারওয়াযী, আল বিরু ওয়াছ ছিলাহ হা/৩৮, সনদ ছহীহ।
১৮৬. আবুদাউদ হা/১৬৭২; আহমাদ হা/৫৭৪৩; ছহীহুত তারগীব হা/৮৫২।
১৮৭. মুসলিম হা/২৮১৩; মিশকাত হা/৭১।
১৮৮. তিরমিযী হা/২৫০৯; মিশকাত হা/৫০৩৮; ছহীহুত তারগীব হা/২৮১৪।
১৮৯. বুখারী হা/২৬৯২; মুসলিম হা/২৬০৫; মিশকাত হা/৪৮২৫।
১৯০. ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৯/২৬৪-২৬৫।
১৯১. আহমাদ হা/১৯০২৫; ছহীহাহ হা/২৬১২।
১৯২. শারহুস সুন্নাহ হা/৩৪২১; আহমাদ হা/২৭৫৫১; তিরমিযী হা/১৯০০; ইবনু মাজাহ হা/২০৮৯; মিশকাত হা/৪৯২৮; ছহীহাহ হা/৯১৪।
১৯৩. হাকেম হা/২৭৯৮; ছহীহ ইবনু হিব্বান হা/৪২৬; ছহীহাহ হা/৯১৯।
১৯৪. ইবনু আবী শায়বাহ হা/১৯০৫৯, ১৯০৬০; হাকেম হা/২৭৯৯; ছহীহুত তারগীব হা/২৪৮৬, ইবনু আব্বাস বর্ণিত হাদীছটি হাসান ও আবুদ্দারদা বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ।
১৯৫. মুহাম্মাদ ইবনু মুফলেহ, আল-আদাবুশ শারঈয়া ১/৪৪৭।
১৯৬. মারওয়াযী, আল-বিরু ওয়াছ ছিলাহ হা/৫৮, সনদ হাসান।
১৯৭. মাজমূ'উল ফাতাওয়া ৩৩/১১২।
১৯৮. মারওয়াযী, আল-বিরু ওয়াছ ছিলাহ ৫৬ পৃঃ।
১৯৯. মাতালিবু উলিল নুহা ফী শারহি গায়াতিল মুনতাহা ৫/৩২০।
২০০. হাকেম হা/২৭৯৮; ছহীহ ইবনু হিব্বان হা/৪২৬; ছহীহাহ হা/৯১৯।
২০১. বুখারী হা/৩৩৬৪।
২০২. বুখারী হা/১০৪৯; মুসলিম হা/৯০০; মিশকাত হা/১২৮।
২০৩. দলীলুল ফালেহীন লি তুরুকে রিয়াযুছ ছালেহীন ৩/১৬২।
২০৪. আবুদাউদ হা/১৬৬৮; ছহীহ তারগীব হা/২৫০০; মিরকাত হা/৪৯১৩-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
২০৫. বুখারী হা/২৯৩৭; মুসলিম হা/২৪৯১; আহমাদ হা/১৪৭৪৩; আবুদাউদ হা/৫৩৮; তিরমিযী হা/৩৯৪২; মিশকাত হা/৪৭৪০, ৫৯৮৬।
২০৬. বুখারী হা/২৯৪২; আবুদাউদ হা/৩৬৬১।
২০৭. মুসলিম হা/২৪৯১; মিশকাত হা/৫৮৯৫।
২০৮. মুসলিম হা/৯৭৬; হাকেম হা/১৩৯০; মিশকাত হা/১৭৬৩।
২০৯. অত্র আয়াতে মুশরিকদের ক্ষমা প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাদের শিরক ও কুফরী স্পষ্ট হয়ে গেছে। জীবিত মুশরিকদের জন্য হেদায়াতের দো'আ করা যেতে পারে। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু মৃত কাফির-মুশরিকের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বা তাদের নামের আগে শ্রদ্ধাবশতঃ মরহুম-মাগফুর, জান্নাতবাসী বা জান্নাতবাসিনী ইত্যাদি দো'আ সূচক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
২১০. তওবা ৯/১১৩; হাকেম হা/৩২৮৯; তিরমিযী হা/৩১০১; আহমাদ হা/১০৮৫, সনদ ছহীহ।
২১১. বুখারী হা/৩৩৫০; মিশকাত হা/৫৫৩৮।
২১২. মুসলিম হা/২০৩; আবুদাউদ হা/৪৭১৮।
২১৩. আহমাদ হা/১৬২৩৪; যিলালুল জান্নাহ হা/৬৩৮; মাজমা'উয যাওয়ায়েদ হা/৪৫৬, হায়ছামী বলেন, বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত। আলবানী বলেন, শাহেদ থাকায় বর্ণনাটি ছহীহ।
২১৪. বুখারী হা/১৩০৭; মুসলিম হা/২৪; আহমাদ হা/২৩২৪।
২১৫. ছহীহাহ হা/১৬১-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
২১৬. আহমাদ হা/৮০৭; নাসাঈ হা/১৯০; ছহীহাহ হা/১৬১।
📄 উপসংহার
কুরআন ও হাদীছের উপরোক্ত বিশ্লেষণের আলোকে বুঝা গেল যে, পিতা-মাতার মর্যাদা অতুলনীয়। তাদের একটি দীর্ঘশ্বাসের প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা কোন সন্তানের নেই। অথচ অনেক সন্তান তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। কেউবা পিতা-মাতাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আবার কেউ নেশাগ্রস্থ হয়ে তাদের হত্যা করে। কেউ আবার মাকে বেধে রেখে আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছে, যা পুরো মানব জাতিকে কলঙ্কিত করছে। কিন্তু ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা অনেক উচ্চমার্গে অধিষ্ঠিত। যে পিতা-মাতার কারণে একজন সন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়, সেই পিতা মাতাকে যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারে বা হত্যা করে তারা আর যাই হোক মানবিক বোধ সম্পন্ন নয়। যাদের হৃদয় আছে কিন্তু বুঝে না। চোখ আছে কিন্তু দেখে না। কান আছে কিন্তু শোনে না। ওরা হ'ল চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তার চাইতে পথভ্রষ্ট। ওরা হ'ল উদাসীন। তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী (আ'রাফ ৭/১৭৯)। আল্লাহ বলেন, 'তুমি কি মনে কর ওদের অধিকাংশ শোনে ও বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত। বরং তার চাইতে পথভ্রষ্ট' (ফুরক্বান ২৫/৪৪)।
সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করতে হবে। অন্যথা দুনিয়ায় অশান্তি ও পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে। পিতা-মাতাকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে। পিতা-মাতার কষ্ট পাওয়া সন্তানের জন্য বদদো'আ তুল্য। সেজন্য কোনভাবেই যেন পিতা-মাতা কষ্ট না পান সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের মাধ্যমে তাদের দো'আর আশা করতে হবে। তাদের ভাল দো'আ সন্তানের জন্য অফুরান কল্যাণের কারণ হবে। পিতা-মাতার খিদমত করার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আমাদের দুনিয়া ও পরকালে সফলতা অর্জন করার তাওফীক দান করুন-আমীন!
سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك، اللهم اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب