📄 পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ভাল আচরণ করা
পিতা-মাতার সাথে তাদের জীবদ্দশায় ভাল সম্পর্ক ছিল এমন ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ أَبَرَّ الْبَرِّ صِلَةُ الْمَرْء أَهْلَ وُدَّ أَبِيْهِ بَعْدَ أَنْ يُوَلِّيَ 'সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ এই যে, ব্যক্তি তার পিতার ইন্তিকালের পর তার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে'।
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান করিনি, যতটুকু খাদীজা (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাকে দেখিনি। কিন্তু নবী করীম (ছাঃ) তার কথা অধিক সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবেহ করে গোশতের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-গোশতকে ছোট ছোট টুকরা করে হ'লেও খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় অভিমানের সুরে নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতাম, (আপনার অবস্থা দৃষ্টে) মনে হয়, খাদীজা (রাঃ) ছাড়া পৃথিবীতে যেন আর কোন নারী নেই। প্রত্যুত্তরে তিনি বলতেন, হ্যাঁ। তিনি এমন ছিলেন, তার গর্ভে আমার সন্তান জন্মেছিল'। ১৩২ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, وَإِنْ كَانَ لَيَذْبَحُ الشَّاةَ فَيُهْدِى فِي ،خلائِلِهَا مِنْهَا مَا يَسَعُهُنَّ 'কোন দিন তিনি বকরী যবেহ করলে খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের নিকট এমন পরিমাণ গোশত নবী করীম (ছাঃ) হাদিয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন, যা তাদের জন্য যথেষ্ট হত'। ১৩০ আরেক বর্ণনায় রয়েছে, إِذَا ذَبَحَ الشَّاةَ فَيَقُولُ أَرْسِلُوا بِهَا إِلَى أَصْدِقَاءِ خَدِيجَةَ، 'রাসূল (ছাঃ) যখন বকরী যবেহ করতেন তখন বলতেন, এ গোশত খাদীজার বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও'।
হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ الله بْن عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الْأَعْرَابِ لَقِيَهُ بِطَرِيْقِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ عَبْدُ الله وَحَمَلَهُ عَلَى حِمَارِ كَانَ يَرْكَبُهُ وَأَعْطَاهُ عِمَامَةً كَانَتْ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ ابْنُ دِينَارٍ فَقُلْنَا لَهُ أَصْلَحَكَ اللهُ إِنَّهُمُ الْأَعْرَابُ وَإِنَّهُمْ يَرْضَوْنَ بِالْيَسِيْرِ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ أَبَا هَذَا كَانَ وُدًّا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ صِلَةُ الْوَلَدِ أَهْلَ وُدٌ أَبَيْهِ-
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত যে, মক্কার এক রাস্তায় তার সঙ্গে এক বেদুঈনের সাক্ষাৎ হ'ল। আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে সালাম দিয়ে স্বীয় গাধার পিঠে সওয়ারী করে নিলেন। তিনি তাঁর মাথার পাগড়ী তাকে দান করলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, আমরা তাকে বললাম, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। বেদুঈনরা তো অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বললেন, এই ব্যক্তির পিতা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, 'কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম নেকীর কাজ হচ্ছে তার পিতার বন্ধুজনের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করা'।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, 'এ হাদীছ পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয় মানুষদের প্রতি সদাচরণকে সর্বোত্তম নেকীর কাজ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে। আর এসব লোকের প্রতি সদাচরণের কারণ হ'ল তারা পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয় মানুষ। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এমন সব আত্মীয়কে বুঝায় যাদের মাঝে বংশীয় সম্পর্ক বিদ্যমান, চাই তারা একে অপরের ওয়ারিছ হোক বা না হোক'।
অন্য হাদীছে এসেছে, عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ : قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ، فَأَتَانِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، فَقَالَ: أَتَدْرِي لِمَ أَتَيْتُكَ؟ قَالَ: قُلْتُ : لَا ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصِلَ أَبَاهُ فِي قَبْرِهِ، فَلْيَصِلْ إِخْوَانَ أَبِيهِ بَعْدَهُ وَإِنَّهُ كَانَ بَيْنَ أَبِي عُمَرَ وَبَيْنَ أَبِيكَ إِحَاءٌ وَوُدٌ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَصِلَ ذَاكَ -
আবু বুরদাহ হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি মদীনায় গমন করলে আব্দুল্লাহ বিন ওমর আমার নিকট এসে বললেন, আমি তোমার নিকট কেন এসেছি তা তুমি কি জান? সে বলল, আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার কবরস্থ পিতার সাথে সদাচরণ করতে চায় সে যেন তার মৃত্যুর পরে তার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। আর আমার পিতা ওমর (রাঃ) ও তোমার পিতার মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আর আমি সেই সম্পর্ক বহাল রাখতে পসন্দ করছি'।
টিকাঃ
১৩১. আহমাদ হা/৫৬১২; ছহীহুল জামে' হা/১৫২৫।
১৩২. বুখারী হা/৩৮১৮; মিশকাত হা/৬১৭৭।
১৩৩. বুখারী হা/৩৮১৬।
১৩৪. মুসলিম হা/২৪৩৫; ছহীহুল জামে' হা/৪৭২২।
১৩৫. মুসলিম হা/২৫৫২; মিশকাত হা/৪৯১৭।
১৩৬. শারহু মুসলিম হা/২৫৫২-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ১৬/১০৯-১১০।
১৩৭. ইবনু হিব্বان হা/৪৩২; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫০৬।
📄 দান-ছাদাক্বাহ করা
পিতা-মাতার জন্য সন্তান দো'আ করা ছাড়াও দান-ছাদাক্বাহ করবে। এতে দানকারীও ছওয়াব পাবে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَإِنِّي أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ فَلِيَ أَجْرٌ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا قَالَ : نَعَمْ
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-কে বললেন, আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, কিন্তু আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হ'লে কিছু ছাদাক্বাহ করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হ'তে ছাদাক্বাহ করলে আমার জন্য কোন ছওয়াব রয়েছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ'।
হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, অত্র হাদীছের বাহ্যিক অর্থ থেকে বুঝা যায়, তিনি কথা বলতে সক্ষম হননি তাই ছাদাক্বাও দেননি।
সাঈদ বিন সা'দ বিন উবাদাহ হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, সা'দ বিন উবাদাহ নবী করীম (ছাঃ)-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে গমন করলেন। ইত্যবসরে সা'দের মায়ের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল। তখন তাকে বলা হ'ল, আপনি অছিয়ত করেন। তিনি বললেন, কিসের অছিয়ত করব? ধন-সম্পদ যা আছে তাতো সা'দের। সা'দ ফিরে আসার পূবেই তিনি মারা গেলেন। সা'দ ফিরে আসলে বিষয়টি তাকে বলা হ'ল। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ করলে এতে তার উপকার হবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সা'দ (রাঃ) বললেন, অমুক অমুক বাগান তার জন্য ছাদাক্বাহ। তিনি বাগানটির নাম উল্লেখ করেছিলেন'।
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ জায়েয এবং এতে মৃত ব্যক্তি ছওয়াবের অধিকারী হবে। বিশেষ করে ছাদাক্বাহ যখন মৃত ব্যক্তির সন্তান করবেন তখন আরো বেশী ছওয়াব হবে। অনুরূপভাবে দো'আও পৌঁছবে। সুতরাং সন্তানের পক্ষ থেকে এই কাজগুলো পিতা-মাতার জন্য আঞ্জাম দেওয়া হ'লে পিতা-মাতা ছওয়াব তো পাবেন। পাশাপাশি দানকারী সন্তানও ছওয়াব পাবেন।
হাদীছটি থেকে আরো বুঝা যায় যে, যিনি বা যারা হঠাৎ মারা গেলেন তাদের পক্ষ থেকে ছাদাক্বা করা মুস্তাহাব। অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ امْرَأَةً قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَوْلَا ذَلِكَ لَتَصَدَّقَتْ وَأَعْطَتْ أَفَيُجْزِئُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَعَمْ فَتَصَدَّقِي عَنْهَا -
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তিনি এভাবে মারা না গেলে ছাদাক্বাহ ও দান করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ করি তবে তিনি কি এর ছওয়াব পাবেন? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, হ্যাঁ, তুমি তার পক্ষ থেকে ছাদাক্বাহ কর'। ১৪০ যেমন অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ سَعْدَ قَالَ : يَا رَسُولَ اللهُ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ، وَأَنَا غَائِبٌ، فَهَلْ يَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا بِشَيْءٍ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ : فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِي الَّذِي بِالْمِحْرَافِ صَدَقَةٌ عَنْهَا -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, সা'দ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা মারা গেছেন আর তখন আমি সেখানে অনুপস্থিত ছিলাম। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু ছাদাক্বা করি, তাহ'লে কি তাঁর কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সা'দ (রাঃ) বললেন, তাহ'লে আমি আপনাকে সাক্ষী করছি মিখরাফ নামক স্থানে অবস্থিত আমার বাগানটি তাঁর জন্য ছাদাক্বা করলাম'। ১৪১ অন্য বর্ণনায় এসেছে, সা'দ বিন ওবাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ) কে বললাম, إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ : الْمَاءُ، قَالَ ! হে আল্লাহর রাসূল! .فَحَفَرَ بِمْرًا وَقَالَ هَذِهِ لِأُمِّ سَعْدٍ 'উম্মে সা'দ (আমার মা) মারা গেছে। অতএব তার জন্য কোন ছাদাক্বা সবচেয়ে উত্তম হবে? তিনি বললেন, পানি। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সা'দ (রাঃ) একটি কুয়া খনন করে বললেন, এটি সা'দের মায়ের জন্য ছাদাক্বা'।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,
الْعَاصِ بْنَ وَائِل نَذَرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ يَنْحَرَ مِائَةَ بَدَنَةٍ وَأَنَّ هِشَامَ بْنَ الْعَاصِ نَحَرَ حِصَّتَهُ خَمْسِينَ بَدَنَةً وَأَنَّ عَمْراً سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَمَّا أَبُوكَ فَلَوْ كَانَ أَقَرَّ بالتَّوْحِيدِ فَصُمْتَ وَتَصَدَّقْتَ عَنْهُ نَفَعَهُ
'আস ইবনে ওয়ায়েল জাহেলী যুগে একশো উট যবাহ করার মানত করেছিল। অতপর (তার ছেলে) হিশাম তার পক্ষ থেকে ৫০টি উট যবাহ করে। আর তার (আরেক ছেলে) আমর (বাকি ৫০টি অপর ছেলে আমর যবাহ করতে চান) এ ব্যাপারে নবী (ছাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তোমার পিতা যদি তাওহীদ স্বীকার করত আর তুমি তার পক্ষ থেকে ছিয়াম রাখতে বা ছাদাক্বা করতে, তবে এটি তার উপকারে আসত'।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ جَوَازُ الصَّدَقَةِ عَنْ الْمَيِّتِ وَاسْتِحْبَابُهَا وَأَنَّ ثَوَابَهَا يَصِلُهُ وَيَنْفَعُهُ وَيَنْفَعُ الْمُتَصَدِّقَ أَيْضًا وَهَذَا كُلُّهُ أَجْمَعَ عَلَيْهِ الْمُسْلِمُونَ 'এই হাদীছে মৃতের পক্ষ থেকে ছাদাক্বা করা জায়েয ও মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে দলীল রয়েছে। আর এর ছওয়াব মৃতের নিকট পৌঁছে এবং এতে সে উপকৃত হয়, উপকৃত হয় ছাদাক্বাকারীও। আর এসকল বিষয়ে مسلمانوں ঐক্য রয়েছে'।
উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, 'আর ছাদাক্বা ও ছওমের ছওয়াব মুসলিম পিতা, অনুরূপ মুসলিম মাতার মৃত্যুর পর তাদের আমলনামায় যোগ হওয়া ও তাদের নিকট এর ছওয়াব পৌঁছার ব্যাপারে হাদীছে দলীল রয়েছে। তারা অছিয়ত করুক বা না করুক। কারণ সন্তান পিতা-মাতারই উপার্জন। তাছাড়া এটি আল্লাহ তা'আলার বাণী, 'মানুষ কিছুই পায় না তার চেষ্টা ব্যতীত' (নাজম ৫3/39) এর মধ্যে শামিল। অর্থাৎ সন্তান পিতার চেষ্টার অংশ। ফলে সন্তান যে সৎ কর্ম করবে তা পিতারই অংশ'। ১৪৫ তিনি আরো বলেন, 'আর জেনে রাখুন, এ বিষয়ে বর্ণিত সকল হাদীছ এসেছে বিশেষভাবে সন্তানের পক্ষ থেকে পিতা-মাতার জন্য। সুতরাং নিকটাত্মীয়ের পক্ষ থেকে সকল মৃতের জন্য ছওয়াব প্রেরণ করার দলীল গ্রহণ করা বিশুদ্ধ নয়। যেমন ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) অধ্যায় রচনা করেছেন 'মৃতদের জন্য নিকটাত্মীয়দের ছওয়াব বখশানো' অধ্যায়। কারণ উক্ত দাবী দলীল অপেক্ষা ব্যাপক। আর এমন কোন দলীল আসেনি যে, জীবিতদের হাদিয়াকৃত সাধারণ সৎ আমলসমূহ ব্যাপকভাবে মৃতদের উপকৃত হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে। তবে বিশেষভাবে যে সকল বিষয়ে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত'।
ইমাম নববী (রহঃ) এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, 'যে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে চাই সে যেন তাদের পক্ষ থেকে ছাদাক্বা করে। ছাদাক্বা মাইয়েতের কাছে পৌঁছে এবং তার উপকারে আসে। এতে কোনো দ্বিমত নেই। আর এটাই সঠিক। আর আবুল হাসান মাওয়ার্দী বছরী তার আল-হাভী কিতাবে কিছু আহলে কালাম থেকে যে কথা বর্ণনা করেছেন, মাইয়েতের কাছে কোনো ছওয়াব পৌঁছে না, সেটা অকাট্যভাবে সম্পূর্ণ বাতিল ও ভিত্তিহীন। কিতাব-সুন্নাহ ও উম্মাহ্র ইজমা বিরোধী। সুতরাং তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য'।
টিকাঃ
১৩৮. বুখারী হা/১৩৮৮; মুসলিম হা/১০০৪; মিশকাত হা/১৯৫০।
১৩৯. নাসাঈ হা/৩৬৫০; ইবনু হিব্বান হা/৩৩৫৪; ইবনু খুযায়মা হা/২৫০০; মু'জামুল কাবীর হা/৫৫২৩; ফাল্গুল বারী ৫/৩৮৯ সনদ ছহীহ।
১৪০. আবুদাউদ হা/২৮৮১; নাসাঈ হা/৩৬৪৯।
১৪১. বুখারী হা/২৭৫৬,২৭৬২; আহমাদ হা/৩০৮০।
১৪২. আবুদাউদ হা/১৬৮১; নাসাঈ হা/৩৬৬৪; মিশকাত হা/১৯১২।
১৪৩. আহমাদ হা/৬৭০৪; ছহীহাহ হা/৪৮৪।
১৪৪. শারহুন নববী আলা মুসলিম ১১/৮৪, উক্ত বিষয়ে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
১৪৫. ছহীহাহ হা/৪৮৪-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
১৪৬. ছহীহাহ হা/৪৮৪-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
১৪৭. শারহুন নববী আলা ছহীহ মুসলিম ১/৮৯-৯০, উক্ত বিষয়ে বর্ণিত হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।