📄 মানত পূর্ণ করা
পিতা-মাতার কোন শরী'আতসম্মত মানত থাকলে তা পালন করা সন্তানের জন্য আবশ্যক。
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما : قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرِ أَفَأَصُوْمُ عَنْهَا قَالَ : أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ فَقَضَيْتِيْهِ أَكَانَ يُؤَدِّى ذَلِكِ عَنْهَا. قَالَتْ نَعَمْ قَالَ : فَصُومِي عَنْ أُمِّكِ -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার উপর মান্নতের ছাওমের কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ হ'তে এ ছাওম আদায় করতে পারি কি? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর কোন ঋণ থাকত তাহ'লে তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা তার পক্ষ হ'তে আদায় হ'ত কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'তোমার মায়ের পক্ষ হ'তে তুমি ছাওম পালন কর'।
টিকাঃ
১২৩. বুখারী হা/১৯৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮; আবুদাউদ হা/৩৩১০。
📄 কাফফারা আদায় করা
পিতা-মাতার উপর কোন কাফফারা থাকলে সন্তান তা আদায় করবে। তা কসমের কাফ্ফারা হ'তে পারে বা ভুলবশতঃ হত্যার কাফ্ফারাও হ'তে পারে। কারণ এগুলো পিতা-মাতার ঋণের অর্ন্তভুক্ত। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ امْرَأَةً رَكِبَتِ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنْ نَجَّاهَا اللَّهُ أَنْ تَصُوْمَ شَهْرًا فَنَجَّاهَا اللهُ فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ فَجَاءَتِ ابْنَتُهَا أَوْ أُحْتُهَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَصُوْمَ عَنْهَا -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক মহিলা সমুদ্রে ভ্রমণে গিয়ে মানত করল, আল্লাহ তাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে একমাস ছিয়াম পালন করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু ছিয়াম পালনের পূর্বেই সে মারা গেল। তার মেয়ে অথবা বোন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আসলে তিনি তাকে মৃতের পক্ষ থেকে ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন'।
টিকাঃ
১২৪. আবুদাউদ হা/৩৩০৮; নাসাঈ হা/৩৮১৬; ছহীহাহ হা/১৯৪৬。
📄 ফযর ছিয়াম, মানতের ছিয়াম এবং বদলী হজ্জ ও ওমরা পালন করা
ফরয ছিয়াম যা সফর কিংবা রোগের কারণে আদায় করতে পারেনি। পরবর্তীতে আদায় করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুবরণ করায় কাযা আদায় করতে পারেনি। এমন ছিয়াম নিকটতম আত্মীয়রা আদায় করে দিবে। আর যদি কোন ব্যক্তি মারাত্মক রোগের কারণে রামাযানের ছিয়াম পালনে অক্ষম হয় এবং রামাযানের পরেও মৃত্যু অবধি সুস্থ হতে না পারে তাহ'লে তার ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কারণ এমন সময় তার জন্য ছিয়াম ফরয নয়। আর যদি কেউ চির রোগী হয় যার সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা নেই। সে নিজে বা তার আত্মীয়রা প্রতিদিন একজন করে মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে। অনুরূপভাবে সম্পদশালী পিতা-মাতা যদি হজ্জ সম্পাদন না করে মারা যায় এবং পর্যাপ্ত সম্পদ রেখে যায় তাহ'লে সন্তানের জন্য পিতা-মাতার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ ও ওমরা পালন সমীচীন। ১২৫ যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ -
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'ছিয়ামের ক্বাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহ'লে তার নিকটাত্মীয় তার পক্ষ হ'তে ছিয়াম আদায় করবে'।
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّى بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ، قَالَ : وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاتُ. قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهَا كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا؟ قَالَ: صُومِي عَنْهَا. قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ : نَعَمْ حُجِّى عَنْهَا
বুরায়দা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি ছাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ্ রাসূল! এক মাসের ছিয়াম আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হ'তে আমি কি ছিয়াম আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, তার পক্ষে তুমি ছিয়াম আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও তিনি হজ্জ করেননি। তার পক্ষ হ'তে কি আমি হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ আদায় কর'। ১২৭ অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي مَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ أَفَأَحُجَّ عَنْهُ؟ قَالَ : أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ: حُجِّ عَنْ أَبِيكَ-
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আগমন করে বলল, (হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমার পিতা হজ্জ পালন না করে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করব? তিনি বললেন, তুমি কি মনে কর, যদি তোমার পিতার উপর ঋণ থাকত, তাহ'লে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) বললেন, অতএব তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন কর'। ১২৮ অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّى مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيْهِ عَنْهَا؟ فَقَالَ : لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ عَنْهَا. قَالَ نَعَمْ. قَالَ : فَدَيْنُ اللَّه أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা এক মাসের সিয়াম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ হ'তে এ সিয়াম কাযা করতে পারি? তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকত তাহ'লে কি তুমি তা আদায় করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ্র ঋণ পরিশোধ করাই হ'ল অধিক উপযুক্ত'।
অন্য একটি বর্ণনায় হজ্জের সাথে ওমরার কথাও উল্লেখ আছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي رَزَيْنِ الْعُقَيْلِي أَنَّهُ أَتَى النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ الله ! إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَثِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ وَلاَ الْعُمْرَةَ وَلَا الضَّعْنَ. قَالَ : حُجَّ عَنْ أَبِيْكَ وَاعْتَمِرْ -
আবু রাযীন আল-উক্বায়লী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনি একবার নবী (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ, হজ্জ ও ওমরা করার সামর্থ্য রাখে না এবং বাহনে বসতে পারেন না। তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ হ'তে হজ্জ ও ওমরা পালন কর'।
টিকাঃ
১২৫. ফাতহুল বারী ৪/৬৪।
১২৬. বুখারী হা/১৯৫২; মুসলিম হা/১১৪৭; মিশকাত হা/২০৩৩।
১২৭. মুসলিম হা/১১৪৯; তিরমিযী হা/৬৬৭; মিশকাত হা/১৯৫৫।
১২৮. নাসাঈ হা/২৬৩৯; ইবনু হিব্বান হা/৩৯৯২; ছহীহাহ হা/৩০৪৭。
১২৯. বুখারী হা/১৫৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮।
১৩০. নাসাঈ হা/২৬৩৭; তিরমিযী হা/৯৩০; মিশকাত হা/২৫২৮, সনদ ছহীহ।
📄 পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ভাল আচরণ করা
পিতা-মাতার সাথে তাদের জীবদ্দশায় ভাল সম্পর্ক ছিল এমন ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ أَبَرَّ الْبَرِّ صِلَةُ الْمَرْء أَهْلَ وُدَّ أَبِيْهِ بَعْدَ أَنْ يُوَلِّيَ 'সবচেয়ে বড় নেকীর কাজ এই যে, ব্যক্তি তার পিতার ইন্তিকালের পর তার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে'।
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর অন্য কোন সহধর্মিণীর প্রতি এতটুকু অভিমান করিনি, যতটুকু খাদীজা (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাকে দেখিনি। কিন্তু নবী করীম (ছাঃ) তার কথা অধিক সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবেহ করে গোশতের পরিমাণ বিবেচনায় হাড়-গোশতকে ছোট ছোট টুকরা করে হ'লেও খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় অভিমানের সুরে নবী করীম (ছাঃ)-কে বলতাম, (আপনার অবস্থা দৃষ্টে) মনে হয়, খাদীজা (রাঃ) ছাড়া পৃথিবীতে যেন আর কোন নারী নেই। প্রত্যুত্তরে তিনি বলতেন, হ্যাঁ। তিনি এমন ছিলেন, তার গর্ভে আমার সন্তান জন্মেছিল'। ১৩২ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, وَإِنْ كَانَ لَيَذْبَحُ الشَّاةَ فَيُهْدِى فِي ،خلائِلِهَا مِنْهَا مَا يَسَعُهُنَّ 'কোন দিন তিনি বকরী যবেহ করলে খাদীজা (রাঃ)-এর বান্ধবীদের নিকট এমন পরিমাণ গোশত নবী করীম (ছাঃ) হাদিয়া স্বরূপ পাঠিয়ে দিতেন, যা তাদের জন্য যথেষ্ট হত'। ১৩০ আরেক বর্ণনায় রয়েছে, إِذَا ذَبَحَ الشَّاةَ فَيَقُولُ أَرْسِلُوا بِهَا إِلَى أَصْدِقَاءِ خَدِيجَةَ، 'রাসূল (ছাঃ) যখন বকরী যবেহ করতেন তখন বলতেন, এ গোশত খাদীজার বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও'।
হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ الله بْن عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الْأَعْرَابِ لَقِيَهُ بِطَرِيْقِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ عَبْدُ الله وَحَمَلَهُ عَلَى حِمَارِ كَانَ يَرْكَبُهُ وَأَعْطَاهُ عِمَامَةً كَانَتْ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ ابْنُ دِينَارٍ فَقُلْنَا لَهُ أَصْلَحَكَ اللهُ إِنَّهُمُ الْأَعْرَابُ وَإِنَّهُمْ يَرْضَوْنَ بِالْيَسِيْرِ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ أَبَا هَذَا كَانَ وُدًّا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ صِلَةُ الْوَلَدِ أَهْلَ وُدٌ أَبَيْهِ-
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত যে, মক্কার এক রাস্তায় তার সঙ্গে এক বেদুঈনের সাক্ষাৎ হ'ল। আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে সালাম দিয়ে স্বীয় গাধার পিঠে সওয়ারী করে নিলেন। তিনি তাঁর মাথার পাগড়ী তাকে দান করলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, আমরা তাকে বললাম, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। বেদুঈনরা তো অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বললেন, এই ব্যক্তির পিতা ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, 'কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম নেকীর কাজ হচ্ছে তার পিতার বন্ধুজনের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে সম্পর্ক রক্ষা করা'।
ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, 'এ হাদীছ পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তাদের আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয় মানুষদের প্রতি সদাচরণকে সর্বোত্তম নেকীর কাজ হিসাবে আখ্যা দিয়েছে। আর এসব লোকের প্রতি সদাচরণের কারণ হ'ল তারা পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয় মানুষ। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এমন সব আত্মীয়কে বুঝায় যাদের মাঝে বংশীয় সম্পর্ক বিদ্যমান, চাই তারা একে অপরের ওয়ারিছ হোক বা না হোক'।
অন্য হাদীছে এসেছে, عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ : قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ، فَأَتَانِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، فَقَالَ: أَتَدْرِي لِمَ أَتَيْتُكَ؟ قَالَ: قُلْتُ : لَا ، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصِلَ أَبَاهُ فِي قَبْرِهِ، فَلْيَصِلْ إِخْوَانَ أَبِيهِ بَعْدَهُ وَإِنَّهُ كَانَ بَيْنَ أَبِي عُمَرَ وَبَيْنَ أَبِيكَ إِحَاءٌ وَوُدٌ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَصِلَ ذَاكَ -
আবু বুরদাহ হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি মদীনায় গমন করলে আব্দুল্লাহ বিন ওমর আমার নিকট এসে বললেন, আমি তোমার নিকট কেন এসেছি তা তুমি কি জান? সে বলল, আমি বললাম, না। তিনি বললেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার কবরস্থ পিতার সাথে সদাচরণ করতে চায় সে যেন তার মৃত্যুর পরে তার বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে। আর আমার পিতা ওমর (রাঃ) ও তোমার পিতার মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আর আমি সেই সম্পর্ক বহাল রাখতে পসন্দ করছি'।
টিকাঃ
১৩১. আহমাদ হা/৫৬১২; ছহীহুল জামে' হা/১৫২৫।
১৩২. বুখারী হা/৩৮১৮; মিশকাত হা/৬১৭৭।
১৩৩. বুখারী হা/৩৮১৬।
১৩৪. মুসলিম হা/২৪৩৫; ছহীহুল জামে' হা/৪৭২২।
১৩৫. মুসলিম হা/২৫৫২; মিশকাত হা/৪৯১৭।
১৩৬. শারহু মুসলিম হা/২৫৫২-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য, ১৬/১০৯-১১০।
১৩৭. ইবনু হিব্বان হা/৪৩২; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫০৬।