📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 অছিয়ত পূর্ণ করা

📄 অছিয়ত পূর্ণ করা


পিতা-মাতার কোন ন্যায়সঙ্গত অছিয়ত থাকলে তা পালন করা সন্তানদের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ'লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (নিসা ৪/১১)।... কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সহনশীল' (নিসা ৪/১২)। তিনি আরো বলেন, كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوْفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ যখন মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়, তখন যদি সে কিছু ধন-সম্পদ ছেড়ে যায়, তবে তার জন্য অছিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হ'ল পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়ানুগভাবে। এটি আল্লাহভীরুদের জন্য আবশ্যিক বিষয়' (বাক্বারাহ ২/১৮০)। ১১৯ একজন ব্যক্তি তার সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ অছিয়ত করতে পারে। এর বেশী করলে তা পালন করা যাবে না'। ১২০ তবে অছিয়ত ওয়ারিছদের জন্য নয়।
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ -
আবু উমামাহ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের অংশ নির্দিষ্ট করেছেন। সুতরাং কোন ওয়ারিছের জন্য অছিয়ত নেই'।
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ أَبَاهُ قَالَ عَادَنِي رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم في حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ شَكْوَى، أَشْفَيْتُ مِنْهَا عَلَى الْمَوْتِ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَلَغَ بِي مَا تَرَى مِنَ الْوَجَعِ، وَأَنَا ذُو مَالِ، وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ، أَفَأَتَصَدَّقُ ثُلُثَى مَالِي قَالَ : لَا قُلْتُ فَبِشَطْرِهِ قَالَ : الثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَتَتَكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ الله، إِلَّا أُجِرْتَ، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي امْرَأَتِكَ. قُلْتُ أَأَخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّه إِلَّا ازْدَدْتَ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُوْنَ اللَّهُمَّ أَمْض لأَصْحَابى هِجْرَتَهُمْ، وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِن الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ حَوْلَةَ. قَالَ سَعْدٌ رَأَى لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَنْ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ -
আমের বিন সা'দ বর্ণনা করেন, তার পিতা সা'দ বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের সময় আমি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছিলাম। নবী করীম (ছাঃ) সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম, আমি যে রোগাক্রান্ত, তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধন্যাঢ্য লোক। আমার এক মেয়ে ব্যতীত কোন ওয়ারিছ নেই। তাই আমি কি আমার দুইতৃতীয়াংশ মাল ছাদাক্বাহ করে দিতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেন, না। এক-তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিছদের মানুষের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানোর মত অভাবী রেখে যাওয়ার চেয়ে তাদের সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিয়ে থাকো, তোমাকে এর প্রতিদান দেয়া হবে। আমি বললাম, তা হ'লে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকব? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি এদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছু নেক আমল করো না কেন, এর বদলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা অনেক কওম উপকৃত হবে। আর অনেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপর তিনি দো'আ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার ছাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দেবেন না। কিন্তু সা'দ ইবনু খাওলার দুর্ভাগ্য। (কারণ তিনি বিদায় হজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সা'দ বলেন, মক্কায় তাঁর মৃত্যু হওয়ায় রাসূল (ছাঃ) তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন'।

টিকাঃ
১১৯. মীরাছ বণ্টনের নীতিমালা সম্বলিত সূরা নিসা ১১-১২ আয়াত দ্বারা অত্র আয়াতের সামগ্রিক হুকুম রহিত (মানসূখ) হয়েছে। তবে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যাদের মীরাছ নেই, তাদের জন্য বা অন্যদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে অছিয়ত করা মুস্তাহাব হওয়ার হুকুম বাকী রয়েছে' (ইবনু কাছীর)।
১২০. বুখারী হা/২৭৪৪; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।
১২১. আবুদাউদ হা/২৮৭০; ইবনু মাজাহ হা/২৭১৩; তিরমিযী হা/২১২০; মিশকাত হা/৩০৭৩; ছহীহুল জামে' হা/১৭২০, ৭৮৮, ১৭৮৯।
১২২. বুখারী হা/৬৩৭৩; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 মানত পূর্ণ করা

📄 মানত পূর্ণ করা


পিতা-মাতার কোন শরী'আতসম্মত মানত থাকলে তা পালন করা সন্তানের জন্য আবশ্যক。
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما : قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرِ أَفَأَصُوْمُ عَنْهَا قَالَ : أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ فَقَضَيْتِيْهِ أَكَانَ يُؤَدِّى ذَلِكِ عَنْهَا. قَالَتْ نَعَمْ قَالَ : فَصُومِي عَنْ أُمِّكِ -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার উপর মান্নতের ছাওমের কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ হ'তে এ ছাওম আদায় করতে পারি কি? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর কোন ঋণ থাকত তাহ'লে তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা তার পক্ষ হ'তে আদায় হ'ত কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'তোমার মায়ের পক্ষ হ'তে তুমি ছাওম পালন কর'।

টিকাঃ
১২৩. বুখারী হা/১৯৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮; আবুদাউদ হা/৩৩১০。

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 কাফফারা আদায় করা

📄 কাফফারা আদায় করা


পিতা-মাতার উপর কোন কাফফারা থাকলে সন্তান তা আদায় করবে। তা কসমের কাফ্ফারা হ'তে পারে বা ভুলবশতঃ হত্যার কাফ্ফারাও হ'তে পারে। কারণ এগুলো পিতা-মাতার ঋণের অর্ন্তভুক্ত। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ امْرَأَةً رَكِبَتِ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنْ نَجَّاهَا اللَّهُ أَنْ تَصُوْمَ شَهْرًا فَنَجَّاهَا اللهُ فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ فَجَاءَتِ ابْنَتُهَا أَوْ أُحْتُهَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَصُوْمَ عَنْهَا -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক মহিলা সমুদ্রে ভ্রমণে গিয়ে মানত করল, আল্লাহ তাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে একমাস ছিয়াম পালন করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু ছিয়াম পালনের পূর্বেই সে মারা গেল। তার মেয়ে অথবা বোন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আসলে তিনি তাকে মৃতের পক্ষ থেকে ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন'।

টিকাঃ
১২৪. আবুদাউদ হা/৩৩০৮; নাসাঈ হা/৩৮১৬; ছহীহাহ হা/১৯৪৬。

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 ফযর ছিয়াম, মানতের ছিয়াম এবং বদলী হজ্জ ও ওমরা পালন করা

📄 ফযর ছিয়াম, মানতের ছিয়াম এবং বদলী হজ্জ ও ওমরা পালন করা


ফরয ছিয়াম যা সফর কিংবা রোগের কারণে আদায় করতে পারেনি। পরবর্তীতে আদায় করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হঠাৎ মৃত্যুবরণ করায় কাযা আদায় করতে পারেনি। এমন ছিয়াম নিকটতম আত্মীয়রা আদায় করে দিবে। আর যদি কোন ব্যক্তি মারাত্মক রোগের কারণে রামাযানের ছিয়াম পালনে অক্ষম হয় এবং রামাযানের পরেও মৃত্যু অবধি সুস্থ হতে না পারে তাহ'লে তার ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করতে হবে না। কারণ এমন সময় তার জন্য ছিয়াম ফরয নয়। আর যদি কেউ চির রোগী হয় যার সুস্থ হওয়ার সম্ভবনা নেই। সে নিজে বা তার আত্মীয়রা প্রতিদিন একজন করে মিসকীনকে খাবার খাওয়াবে। অনুরূপভাবে সম্পদশালী পিতা-মাতা যদি হজ্জ সম্পাদন না করে মারা যায় এবং পর্যাপ্ত সম্পদ রেখে যায় তাহ'লে সন্তানের জন্য পিতা-মাতার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ ও ওমরা পালন সমীচীন। ১২৫ যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ -
আয়েশা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'ছিয়ামের ক্বাযা যিম্মায় রেখে যদি কোন ব্যক্তি মারা যায় তাহ'লে তার নিকটাত্মীয় তার পক্ষ হ'তে ছিয়াম আদায় করবে'।
عَنْ بُرَيْدَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّى بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ، قَالَ : وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاتُ. قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّهَا كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا؟ قَالَ: صُومِي عَنْهَا. قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ : نَعَمْ حُجِّى عَنْهَا
বুরায়দা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তার নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি ছাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তোমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ্ রাসূল! এক মাসের ছিয়াম আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হ'তে আমি কি ছিয়াম আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, তার পক্ষে তুমি ছিয়াম আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও তিনি হজ্জ করেননি। তার পক্ষ হ'তে কি আমি হজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তার পক্ষ হতে তুমি হজ্জ আদায় কর'। ১২৭ অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ أَبِي مَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ أَفَأَحُجَّ عَنْهُ؟ قَالَ : أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ؟ قَالَ : نَعَمْ، قَالَ: حُجِّ عَنْ أَبِيكَ-
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট আগমন করে বলল, (হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমার পিতা হজ্জ পালন না করে মারা গেছেন, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করব? তিনি বললেন, তুমি কি মনে কর, যদি তোমার পিতার উপর ঋণ থাকত, তাহ'লে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) বললেন, অতএব তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন কর'। ১২৮ অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّى مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَقْضِيْهِ عَنْهَا؟ فَقَالَ : لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ عَنْهَا. قَالَ نَعَمْ. قَالَ : فَدَيْنُ اللَّه أَحَقُّ أَنْ يُقْضَى -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা এক মাসের সিয়াম যিম্মায় রেখে মারা গেছেন, আমি কি তাঁর পক্ষ হ'তে এ সিয়াম কাযা করতে পারি? তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকত তাহ'লে কি তুমি তা আদায় করতে না? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ্র ঋণ পরিশোধ করাই হ'ল অধিক উপযুক্ত'।
অন্য একটি বর্ণনায় হজ্জের সাথে ওমরার কথাও উল্লেখ আছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي رَزَيْنِ الْعُقَيْلِي أَنَّهُ أَتَى النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ الله ! إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَثِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ وَلاَ الْعُمْرَةَ وَلَا الضَّعْنَ. قَالَ : حُجَّ عَنْ أَبِيْكَ وَاعْتَمِرْ -
আবু রাযীন আল-উক্বায়লী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, তিনি একবার নবী (ছাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ, হজ্জ ও ওমরা করার সামর্থ্য রাখে না এবং বাহনে বসতে পারেন না। তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ হ'তে হজ্জ ও ওমরা পালন কর'।

টিকাঃ
১২৫. ফাতহুল বারী ৪/৬৪।
১২৬. বুখারী হা/১৯৫২; মুসলিম হা/১১৪৭; মিশকাত হা/২০৩৩।
১২৭. মুসলিম হা/১১৪৯; তিরমিযী হা/৬৬৭; মিশকাত হা/১৯৫৫।
১২৮. নাসাঈ হা/২৬৩৯; ইবনু হিব্বান হা/৩৯৯২; ছহীহাহ হা/৩০৪৭。
১২৯. বুখারী হা/১৫৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮।
১৩০. নাসাঈ হা/২৬৩৭; তিরমিযী হা/৯৩০; মিশকাত হা/২৫২৮, সনদ ছহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00