📄 ঋণ পরিশোধ করা
পিতা-মাতার ঋণ থাকলে সন্তানরা সর্বপ্রথম তাদের ঋণ পরিশোধ করবে। কারণ ঋণ এমন এক বোঝা যা ঋণদাতা ব্যতীত কেউ হালকা করতে পারবে না। সেজন্য পিতা-মাতার যাবতীয় সম্পদ দ্বারা হ'লেও তাদের ঋণ পরিশোধ করবে, সামর্থ্য না থাকলে ঋণদাতার নিকট থেকে মাফ করিয়ে নিবে। মাফ না করলে দাতাদের সহযোগিতা নিয়ে হ'লেও তা পরিশোধ করার চেষ্টা করবে। কারণ ঋণ মাফ হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা মাইয়েতের সম্পদ বণ্টনের পূর্বে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنِ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا এবং তার ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী, তা তোমরা জানো না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়' (নিসা ৪/১১)। হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم : نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'মুমিন ব্যক্তির রূহ তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়'।
অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গুনাহ্ই মাফ করে দেওয়া হবে'।
অন্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، فَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ، وَلَمْ يَتْرُكْ وَفَاءً، فَعَلَيْنَا قَضَاؤُهُ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ 'আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি ঋণের বোঝা নিয়ে মারা যায় আর ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে না যায়, তাহলে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য'।
ঋণ দু'প্রকার: ১. যে ব্যক্তি তার ওপর থাকা ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা নিয়ে মৃত্যুবরণ করল, আমি তার অভিভাবক।
২. যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা না করে (আত্মসাৎ করার ইচ্ছায়) মৃত্যুবরণ করল। এর কারণে সেদিন তার নেকী হ'তে কর্তন করা হবে, যেদিনে কোন দিরহাম ও দীনার থাকবে না।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে যদি কেউ খণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যেত এবং খণ পরিশোধের দায়িত্ব কেউ না নিত, সেক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) তাঁর জানাযার ছালাত আদায় করতেন না। কিন্তু যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে বিজয় দান করলেন এবং ইসলামী রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হ'ল তখন তিনি রাষ্ট্রের প্রজাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, 'আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়'। ফলে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়ে নেন। সুতরাং বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর ভাবা উচিত তাদের উপর রাষ্ট্রের প্রজাদের কী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আর এটা যাকাত বণ্টনের আটটি খাতের একটি।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَغَسَّلْنَاهُ وَحَنَّطْنَاهُ وَكَفَّفَنَّاهُ ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّى عَلَيْهِ فَقُلْنَا تُصَلَّى عَلَيْهِ. فَخَطَا خُطَّى ثُمَّ قَالَ : أَعَلَيْهِ دَيْنٌ. قُلْنَا دِينَارَانِ. فَانْصَرَفَ فَتَحَمَّلَهُمَا أَبُو قَتَادَةَ فَأَتَيْنَاهُ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ الدِّينَارَانِ عَلَيَّ. فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم أُحِقَّ الْعَرِيمُ وَبَرِئَ مِنْهُمَا الْمَيِّتُ . قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ بِيَوْمِ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ. فَقَالَ إِنَّمَا مَاتَ أَمْسِ. قَالَ عَادَ إِلَيْهِ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ قَدْ قَضَيْتُهُمَا. فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: الآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جِلْدُهُ
'জনৈক লোক মারা গেলে আমরা তাকে গোসল দিয়ে সুগন্ধি মাখিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। যাতে তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করেন। আমরা তাঁকে জানাযার ছালাত আদায়ের জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি এক কদম এগিয়ে বললেন, তার কোন ঋণ আছে কি? আমরা বললাম, দু' দীনার রয়েছে। তিনি ফিরে গেলেন। আবু কাতাদা তা পরিশোধ করলে চাইলে আমরা তাঁর নিকট আসলাম। আবু কাতাদা বললেন, দু'দীনার পরিশোধের দায়িত্ব আমার। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহলে ঋণী অধিকার প্রাপ্ত হলেন এবং মাইয়েত তা থেকে দায়মুক্ত হলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করলেন। একদিন পর রাসূল (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, দীনার দু'টির কী হয়েছে? তিনি বললেন, তিনি তো গতকাল মারা গেছেন। তিনি পরের দিন তাঁর নিকট ফিরে এসে বললেন, দু'দীনারের ঋণ আমি পরিশোধ করছি। তখন রাসূল )ছাঃ) বললেন, الْآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جَلْدُهُ 'এখন তার চামড়া ঠাণ্ডা হ'ল'।
টিকাঃ
১১৪. ইবনু মাজাহ হা/২৪১৩;; মিশকাত হা/২৯১৫।
১১৫. মুসলিম হা/১৮৮৬; মিশকাত হা/২৯১২; ছহীহুল জামে' হা/৮১১৯।
১১৬. বুখারী হা/৬৭৩১; মুসলিম হা/১৬১৯; মিশকাত হা/৩০৪১।
১১৭. ফাতহুল বারী, তুফহা ইত্যাদি, অত্র হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।।
১১৮. আহমাদ হা/১৪৫৭৬; হাকেম হা/২৩৪৬; ছহীহুল জামে' হা/২৭৫৩।
📄 অছিয়ত পূর্ণ করা
পিতা-মাতার কোন ন্যায়সঙ্গত অছিয়ত থাকলে তা পালন করা সন্তানদের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ'লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (নিসা ৪/১১)।... কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সহনশীল' (নিসা ৪/১২)। তিনি আরো বলেন, كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوْفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ যখন মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়, তখন যদি সে কিছু ধন-সম্পদ ছেড়ে যায়, তবে তার জন্য অছিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হ'ল পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়ানুগভাবে। এটি আল্লাহভীরুদের জন্য আবশ্যিক বিষয়' (বাক্বারাহ ২/১৮০)। ১১৯ একজন ব্যক্তি তার সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ অছিয়ত করতে পারে। এর বেশী করলে তা পালন করা যাবে না'। ১২০ তবে অছিয়ত ওয়ারিছদের জন্য নয়।
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ -
আবু উমামাহ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের অংশ নির্দিষ্ট করেছেন। সুতরাং কোন ওয়ারিছের জন্য অছিয়ত নেই'।
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ أَبَاهُ قَالَ عَادَنِي رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم في حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ شَكْوَى، أَشْفَيْتُ مِنْهَا عَلَى الْمَوْتِ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَلَغَ بِي مَا تَرَى مِنَ الْوَجَعِ، وَأَنَا ذُو مَالِ، وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ، أَفَأَتَصَدَّقُ ثُلُثَى مَالِي قَالَ : لَا قُلْتُ فَبِشَطْرِهِ قَالَ : الثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَتَتَكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ الله، إِلَّا أُجِرْتَ، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي امْرَأَتِكَ. قُلْتُ أَأَخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّه إِلَّا ازْدَدْتَ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُوْنَ اللَّهُمَّ أَمْض لأَصْحَابى هِجْرَتَهُمْ، وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِن الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ حَوْلَةَ. قَالَ سَعْدٌ رَأَى لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَنْ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ -
আমের বিন সা'দ বর্ণনা করেন, তার পিতা সা'দ বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের সময় আমি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছিলাম। নবী করীম (ছাঃ) সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম, আমি যে রোগাক্রান্ত, তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধন্যাঢ্য লোক। আমার এক মেয়ে ব্যতীত কোন ওয়ারিছ নেই। তাই আমি কি আমার দুইতৃতীয়াংশ মাল ছাদাক্বাহ করে দিতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেন, না। এক-তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিছদের মানুষের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানোর মত অভাবী রেখে যাওয়ার চেয়ে তাদের সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিয়ে থাকো, তোমাকে এর প্রতিদান দেয়া হবে। আমি বললাম, তা হ'লে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকব? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি এদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছু নেক আমল করো না কেন, এর বদলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা অনেক কওম উপকৃত হবে। আর অনেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপর তিনি দো'আ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার ছাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দেবেন না। কিন্তু সা'দ ইবনু খাওলার দুর্ভাগ্য। (কারণ তিনি বিদায় হজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সা'দ বলেন, মক্কায় তাঁর মৃত্যু হওয়ায় রাসূল (ছাঃ) তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন'।
টিকাঃ
১১৯. মীরাছ বণ্টনের নীতিমালা সম্বলিত সূরা নিসা ১১-১২ আয়াত দ্বারা অত্র আয়াতের সামগ্রিক হুকুম রহিত (মানসূখ) হয়েছে। তবে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যাদের মীরাছ নেই, তাদের জন্য বা অন্যদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে অছিয়ত করা মুস্তাহাব হওয়ার হুকুম বাকী রয়েছে' (ইবনু কাছীর)।
১২০. বুখারী হা/২৭৪৪; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।
১২১. আবুদাউদ হা/২৮৭০; ইবনু মাজাহ হা/২৭১৩; তিরমিযী হা/২১২০; মিশকাত হা/৩০৭৩; ছহীহুল জামে' হা/১৭২০, ৭৮৮, ১৭৮৯।
১২২. বুখারী হা/৬৩৭৩; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।
📄 মানত পূর্ণ করা
পিতা-মাতার কোন শরী'আতসম্মত মানত থাকলে তা পালন করা সন্তানের জন্য আবশ্যক。
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما : قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرِ أَفَأَصُوْمُ عَنْهَا قَالَ : أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ فَقَضَيْتِيْهِ أَكَانَ يُؤَدِّى ذَلِكِ عَنْهَا. قَالَتْ نَعَمْ قَالَ : فَصُومِي عَنْ أُمِّكِ -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার উপর মান্নতের ছাওমের কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ হ'তে এ ছাওম আদায় করতে পারি কি? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর কোন ঋণ থাকত তাহ'লে তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা তার পক্ষ হ'তে আদায় হ'ত কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'তোমার মায়ের পক্ষ হ'তে তুমি ছাওম পালন কর'।
টিকাঃ
১২৩. বুখারী হা/১৯৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮; আবুদাউদ হা/৩৩১০。
📄 কাফফারা আদায় করা
পিতা-মাতার উপর কোন কাফফারা থাকলে সন্তান তা আদায় করবে। তা কসমের কাফ্ফারা হ'তে পারে বা ভুলবশতঃ হত্যার কাফ্ফারাও হ'তে পারে। কারণ এগুলো পিতা-মাতার ঋণের অর্ন্তভুক্ত। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ امْرَأَةً رَكِبَتِ الْبَحْرَ فَنَذَرَتْ إِنْ نَجَّاهَا اللَّهُ أَنْ تَصُوْمَ شَهْرًا فَنَجَّاهَا اللهُ فَلَمْ تَصُمْ حَتَّى مَاتَتْ فَجَاءَتِ ابْنَتُهَا أَوْ أُحْتُهَا إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَصُوْمَ عَنْهَا -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক মহিলা সমুদ্রে ভ্রমণে গিয়ে মানত করল, আল্লাহ তাকে নিরাপদে ফেরার সুযোগ দিলে সে একমাস ছিয়াম পালন করবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিলেন। কিন্তু ছিয়াম পালনের পূর্বেই সে মারা গেল। তার মেয়ে অথবা বোন রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট আসলে তিনি তাকে মৃতের পক্ষ থেকে ছিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন'।
টিকাঃ
১২৪. আবুদাউদ হা/৩৩০৮; নাসাঈ হা/৩৮১৬; ছহীহাহ হা/১৯৪৬。