📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা

📄 পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা


পিতা-মাতার জন্য সকলকে প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা পিতা-মাতার জন্য দো'আ শিক্ষা দিয়েছেন এবং দো'আ করার আদেশও দিয়েছেন। তিনি বলেন, رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًاً 'হে পালনকর্তা! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন' (বনী ইসরাঈল ১৭/২৪)। মৃত্যুর পর মানুষের তিনটি আমল জারী থাকে, তার মধ্যে সৎ সন্তানের দো'আ সব থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ الْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যখন কোন মানুষ মারা যায়, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত সকল কর্ম বন্ধ হয়ে যায় (১) ছাদাক্বা জারিয়াহ (২) উপকারী ইলম এবং (৩) সৎ সন্তান যে তার জন্য দো'আ করে'।
এর ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরام বলেন, (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ। যেমন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন, বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি। (২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। যা মানুষকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহ্ পথ দেখায় এবং যাবতীয় শিরক ও বিদ'আত হ'তে বিরত রাখে। উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাদান করা, ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন বই-প্রবন্ধ লেখা, ছাপানো ও বিতরণ করা এবং এজন্য অন্যান্য স্থায়ী প্রচার মাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি। (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো'আ করে'। মৃতের জন্য সর্বোত্তম হাদিয়া হ'ল সুসন্তান, যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ছাদাক্বা করে, তার পক্ষ হ'তে হজ্জ করে ইত্যাদি।
অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন سَبْعٌ يَجْرِي لِلْعَبْدِ أَجْرُهُنَّ بَعْدَ مَوْتِهِ وَهُوَ فِي قَبْرِهِ: مَنْ عَلَّمَ عِلْمًا ، أَوْ أَجْرَى نَهَرًا، أَوْ حَفَرَ بِرًا، أَوْ غَرَسَ نَخَلًا، أَوْ بَنَى مَسْجِدًا، أَوْ تَرَكَ وَلَدًا يَسْتَغْفِرُ لَهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ، أَوْ، وَرَّتَ مُصْحَفًا
'মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমল জারী থাকে। (১) দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা (২) নদী-নালা প্রবাহিত করা (৩) কূপ খনন করা (৪) খেজুর তথা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা (৫) মসজিদ নির্মাণ করা (৬) এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে পিতার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে (৭) কুরআন বিতরণ করা/কুরআনের ওয়ারিছ রেখে যাওয়া'। ১০৫ এটি পূর্বের হাদীছের ব্যাখ্যা স্বরূপ।
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, আবু উমামাহ আল বাহিলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, أَرْبَعَةٌ تَجْرِى عَلَيْهِمْ أُجُورُهُمْ بَعْدَ الْمَوْتِ مُرَابط فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ عَمِلَ عَمَلاً أُجْرِيَ لَهُ مِثْلُ مَا عَمِلَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ Dia , فَأَجْرُهَا لَهُ مَا جَرَتْ وَرَجُلٌ تَرَكَ وَلَدًا صَالِحاً فَهُوَ يَدْعُو لَهُ
বিষয়ের ছওয়াব প্রাপ্তি মানুষের মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। ১. আল্লাহ্ রাস্তায় সীমান্ত প্রহরী, ২. ব্যক্তির এমন (মাসনূন) আমল যা অন্যেরাও অনুসরণ করে, ৩. এমন ছাদাক্বা যা সে স্থায়ীভাবে জারী করে দিয়েছে, ৪. এমন নেক সন্তান রেখে যাওয়া যে তার জন্য দো'আ করে'। ১০৬ প্রখ্যাত তাবেঈ আতা (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, يُقْضَى عَنِ الْمَيِّتِ أَرْبَعُ الْعِنْقُ .وَالصَّدَقَةُ وَالْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ মৃতের পক্ষ হতে চারটি কাজ করণীয়: গোলাম আযাদ করা, ছাদাক্বা করা, হজ্জ করা এবং ওমরা করা'।
উল্লেখ্য যে, সৎ সন্তান দো'আ না করলেও তার সৎ কর্মের ছওয়াব পিতা-মাতা পাবেন বলে একদল বিদ্বান উপরোক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় মন্তব্য পেশ করেছেন (আলবানী, আহকামুল জানায়েয ১/৭৬)।
সন্তানের প্রার্থনার কারণে পিতা-মাতার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়:
পিতা-মাতার জন্য সন্তান একটি বড় নে'মত। তাই সন্তানকে আদর্শবান করে গড়ে তুলতে পারলে পৃথিবীতে সে যেমন পিতা-মাতার জন্য চক্ষু শীতলকারী হবে, তেমনি পরকালে নাজাতের কারণ হবে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ : يَارَبِّ أَنَّى لِي هَذِهِ فَيَقُولُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হ'ল? তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে ১০৮ )وَلَدِكَ لَكَ( শব্দটি ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এখানে ولد দ্বারা মুমিন সন্তান উদ্দেশ্য। আর এটি বিবাহের উপকারসমূহের একটি উপকার ও সর্বাপেক্ষা বড় উপকার এবং ঐ বস্তুসমূহের একটি যা পুণ্য এবং কর্ম থেকে মরণের পর মুমিন ব্যক্তির সাথে মিলিত হয়। যেমন হাদীছে এসেছে। আল্লামা ত্বীবী বলেন, পূর্বোক্ত হাদীছটি এ প্রমাণ বহন করছে যে, ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা বড় বড় গুনাহ মোচন করা হয়'।
অন্য হাদীছে এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: تُرْفَعُ لِلْمَيتِ بَعْدَ مَوْتِهِ دَرَجَتُهُ، فَيَقُولُ : أَي رَبِّ، أَيُّ شَيْءٍ هَذَا؟ فَيُقَالُ : وَلَدُكَ اسْتَغْفَرَ لَكَ-
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যুর পর তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। তখন সে বলবে, হে প্রভু! এই মর্যাদা কীভাবে হ'ল? তাকে বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে'।
অন্য একটি আছারে এসেছে, عَنْ مُحَمَّدِ بْنْ سِيرِينَ: كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ لَيْلَةً، فَقَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ، وَلِأُمِّي، وَلِمَنِ اسْتَغْفَرَ لَهُمَا قَالَ لِي مُحَمَّدٌ: فَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُ لَهُمَا حَتَّى نَدْخُلَ فِي دَعْوَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ-
প্রখ্যাত তাবেঈ মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রহঃ) বলেন, এক রাতে আমরা আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহ! আবু হুরায়রাকে, আমার মাকে এবং তাদের দু'জনের জন্য যারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তাদের সকলকে তুমি ক্ষমা কর'। মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রহঃ) বলেন, আমরা আবু হুরায়রার দো'আয় শামিল হওয়ার আশায় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি'।
পিতা-মাতার জন্য নবী-রাসূলগণের দো'আ :
সকল নবী-রাসূল তাদের পিতা-মাতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের দো'আর কিছু নমুনা কুরআনে উপস্থাপন করেছেন। পিতা-মাতার জন্য তাদের কিছু দো'আ নিম্নে পেশ করা হ'ল।-
সুলায়মান (আঃ)-এর দো'আ :
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: রাব্বি আওঝি'নী আন্ আঙ্কুরা নি'মাতাকা-ল্লাতী আন্'আস্তা 'আলাইয়‍্যা ওয়া 'আলা ওয়া-লিদাইয়‍্যা ওয়া আন আ'মালা ছা-লিহান্ তারযা-হু ওয়া আদ্খিলনী বিরাহমাতিকা ফী 'ইবা-দিকাছ ছা-লিহীন।
অর্থ : 'হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে যে নে'মত তুমি দান করেছ তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তি দান কর। আর আমি যাতে তোমার পসন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে তোমার অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর' (নামল ১৬/১৯)।
নূহ (আঃ)-এর দো'আ :
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِمَنْ دَخَلَ بَيْتِيَ مُؤْمِنًا وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ
উচ্চারণ : 'রাব্বিস্ফিল্লী ওয়ালি ওয়া-লি দাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বায়তিয়া মুমিনাও ওয়া লিল মু'মিনীনা ওয়াল মু'মিনাত'।
'হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে বিশ্বাসী হয়ে প্রবেশ করবে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন' (নূহ ৭১/২৮)।
ইবরাহীম (আঃ)-এর দো'আ:
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ: রব্বানাগফিরলী ওয়ালি ওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিল মু'মিনীনা ইয়াওমা ইয়কুমুল হিসা-ব।
'হে আমাদের প্রভু! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং ঈমানদার সকলকে ক্ষমা কর যেদিন হিসাব দণ্ডায়মান হবে' (ইবরাহীম ১৪/৪০-৪১)।
সৎ বান্দাদের পিতা-মাতার জন্য দো'আ:
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي، إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
উচ্চারণ: রাব্বি আওযি'নী আন্ আঙ্কুরা নি'মাতাকাল্লাতী আন'আস্তা 'আলাইয়‍্যা ওয়া 'আলা ওয়া-লিদাইয়্যা ওয়া আন আ'মালা ছা-লিহান্ তারযা-হু ওয়া আছলিহলী ফী যুররিইয়্যাতী, ইন্নী তুতু ইলাইকা ওয়া ইন্নী মিনাল মুসলিমীন।
অর্থ: 'হে আমার প্রভু! আমাকে শক্তি দাও যাতে আমি তোমার নে'মতের শোকর আদায় করি। যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পসন্দনীয় সৎকর্ম করি। আমার পিতা-মাতাকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আর সন্তানদেরকেও সৎকর্মপরায়ণ কর। আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম। আমি তোমার একান্ত একজন আজ্ঞাবহ' (আহক্বাফ ৪৬/১৫)। উপরোক্ত সকল দো'আ নিজের জন্য, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য করা যাবে।
পিতা-মাতা জীবিত বা মৃত উভয় অবস্থায় তাদের জন্য দো'আ করা:
পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় তাদের সার্বিক কল্যাণের জন্য দো'আ করা ও তাদের জন্য দান-ছাদাক্বাহ করা উত্তম কাজ। তারা যেমন মৃত্যুর পর দো'আ পাওয়ার অধিকার রাখেন, তেমনি জীবিত থাকা অবস্থাতেও সেই অধিকার রাখেন। এটি সদ্ব্যবহারের অন্যতম মাধ্যম। ১১২ কাযী ইয়ায বলেন, لَا نَعْرِفُ رِوَايَةً بِالْفَرْقِ بَيْنَ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ 'দো'আর ক্ষেত্রে পিতা-মাতা জীবিত বা মৃত থাকার মাঝে পার্থক্য রচনাকারী কোন বর্ণনা আছে বলে আমরা জানি না'। ১১০ অর্থাৎ পিতা-মাতার জন্য জীবিত ও মৃত্যু পরবর্তী উভয় অবস্থায় দো'আ করতে হবে।

টিকাঃ
১০৩. আওনুল মা'বুদ ১৪/৩৬, হা/৫১৪২-এর ব্যাখ্যা দ্যষ্টব্য।
১০৪. মুসলিম হা/১৬৩১; মিশকাত হা/২০৩।
১০৫. মুসনাদ বাযযার হা/৭২৮৯; ছহীহ তারগীব হা/৭৩; ছহীহুল জামে' হা/৩৬০২।
১০৬. আহমাদ হা/২২৩০১; ছহীহুত তারগীব হা/১১৪।
১০৭. মুছান্নাফে ইবনু আবী شায়বাহ হা/১২০৮৫।
১০৮. ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬০; মিশকাত হা/২৩৫৪; ছহীহাহ হা/১৫৯৮।
১০৯. মির'আত ৮/৬১, মিশকাত হা/২৩৭৮-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।।
১১০. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৩৬, সনদ হাসান।
১১১. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৩৭, সনদ ছহীহ।
১১২. মারদাভী, আল ইনছাফ ফী মা'রিফাতির রাজেহ মিনাল খিলাফ ২/৫৬০।
১১৩. ঐ。

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 ঋণ পরিশোধ করা

📄 ঋণ পরিশোধ করা


পিতা-মাতার ঋণ থাকলে সন্তানরা সর্বপ্রথম তাদের ঋণ পরিশোধ করবে। কারণ ঋণ এমন এক বোঝা যা ঋণদাতা ব্যতীত কেউ হালকা করতে পারবে না। সেজন্য পিতা-মাতার যাবতীয় সম্পদ দ্বারা হ'লেও তাদের ঋণ পরিশোধ করবে, সামর্থ্য না থাকলে ঋণদাতার নিকট থেকে মাফ করিয়ে নিবে। মাফ না করলে দাতাদের সহযোগিতা নিয়ে হ'লেও তা পরিশোধ করার চেষ্টা করবে। কারণ ঋণ মাফ হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা মাইয়েতের সম্পদ বণ্টনের পূর্বে ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنِ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا এবং তার ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রদের মধ্যে কে তোমাদের জন্য অধিক উপকারী, তা তোমরা জানো না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়' (নিসা ৪/১১)। হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم : نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'মুমিন ব্যক্তির রূহ তার ঋণের কারণে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়'।
অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আছ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গুনাহ্ই মাফ করে দেওয়া হবে'।
অন্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، فَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ، وَلَمْ يَتْرُكْ وَفَاءً، فَعَلَيْنَا قَضَاؤُهُ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ 'আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি ঋণের বোঝা নিয়ে মারা যায় আর ঋণ পরিশোধ করার মত সম্পদ রেখে না যায়, তাহলে তা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য'।
ঋণ দু'প্রকার: ১. যে ব্যক্তি তার ওপর থাকা ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা নিয়ে মৃত্যুবরণ করল, আমি তার অভিভাবক।
২. যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা না করে (আত্মসাৎ করার ইচ্ছায়) মৃত্যুবরণ করল। এর কারণে সেদিন তার নেকী হ'তে কর্তন করা হবে, যেদিনে কোন দিরহাম ও দীনার থাকবে না।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে যদি কেউ খণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যেত এবং খণ পরিশোধের দায়িত্ব কেউ না নিত, সেক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) তাঁর জানাযার ছালাত আদায় করতেন না। কিন্তু যখন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে বিজয় দান করলেন এবং ইসলামী রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হ'ল তখন তিনি রাষ্ট্রের প্রজাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন, 'আমি মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়'। ফলে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়ে নেন। সুতরাং বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর ভাবা উচিত তাদের উপর রাষ্ট্রের প্রজাদের কী দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আর এটা যাকাত বণ্টনের আটটি খাতের একটি।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَغَسَّلْنَاهُ وَحَنَّطْنَاهُ وَكَفَّفَنَّاهُ ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يُصَلِّى عَلَيْهِ فَقُلْنَا تُصَلَّى عَلَيْهِ. فَخَطَا خُطَّى ثُمَّ قَالَ : أَعَلَيْهِ دَيْنٌ. قُلْنَا دِينَارَانِ. فَانْصَرَفَ فَتَحَمَّلَهُمَا أَبُو قَتَادَةَ فَأَتَيْنَاهُ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ الدِّينَارَانِ عَلَيَّ. فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم أُحِقَّ الْعَرِيمُ وَبَرِئَ مِنْهُمَا الْمَيِّتُ . قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ بِيَوْمِ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ. فَقَالَ إِنَّمَا مَاتَ أَمْسِ. قَالَ عَادَ إِلَيْهِ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ قَدْ قَضَيْتُهُمَا. فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: الآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جِلْدُهُ
'জনৈক লোক মারা গেলে আমরা তাকে গোসল দিয়ে সুগন্ধি মাখিয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। যাতে তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করেন। আমরা তাঁকে জানাযার ছালাত আদায়ের জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি এক কদম এগিয়ে বললেন, তার কোন ঋণ আছে কি? আমরা বললাম, দু' দীনার রয়েছে। তিনি ফিরে গেলেন। আবু কাতাদা তা পরিশোধ করলে চাইলে আমরা তাঁর নিকট আসলাম। আবু কাতাদা বললেন, দু'দীনার পরিশোধের দায়িত্ব আমার। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহলে ঋণী অধিকার প্রাপ্ত হলেন এবং মাইয়েত তা থেকে দায়মুক্ত হলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করলেন। একদিন পর রাসূল (ছাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, দীনার দু'টির কী হয়েছে? তিনি বললেন, তিনি তো গতকাল মারা গেছেন। তিনি পরের দিন তাঁর নিকট ফিরে এসে বললেন, দু'দীনারের ঋণ আমি পরিশোধ করছি। তখন রাসূল )ছাঃ) বললেন, الْآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جَلْدُهُ 'এখন তার চামড়া ঠাণ্ডা হ'ল'।

টিকাঃ
১১৪. ইবনু মাজাহ হা/২৪১৩;; মিশকাত হা/২৯১৫।
১১৫. মুসলিম হা/১৮৮৬; মিশকাত হা/২৯১২; ছহীহুল জামে' হা/৮১১৯।
১১৬. বুখারী হা/৬৭৩১; মুসলিম হা/১৬১৯; মিশকাত হা/৩০৪১।
১১৭. ফাতহুল বারী, তুফহা ইত্যাদি, অত্র হাদীছের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।।
১১৮. আহমাদ হা/১৪৫৭৬; হাকেম হা/২৩৪৬; ছহীহুল জামে' হা/২৭৫৩।

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 অছিয়ত পূর্ণ করা

📄 অছিয়ত পূর্ণ করা


পিতা-মাতার কোন ন্যায়সঙ্গত অছিয়ত থাকলে তা পালন করা সন্তানদের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ তা'আলা বলেন, 'কিন্তু যদি মৃতের ভাইয়েরা থাকে, তাহ'লে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ মৃতের অছিয়ত পূরণ করার পর এবং তার ঋণ পরিশোধের পর (নিসা ৪/১১)।... কাউকে কোনরূপ ক্ষতি না করে। এটি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সহনশীল' (নিসা ৪/১২)। তিনি আরো বলেন, كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوْفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ যখন মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়, তখন যদি সে কিছু ধন-সম্পদ ছেড়ে যায়, তবে তার জন্য অছিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হ'ল পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়ানুগভাবে। এটি আল্লাহভীরুদের জন্য আবশ্যিক বিষয়' (বাক্বারাহ ২/১৮০)। ১১৯ একজন ব্যক্তি তার সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ অছিয়ত করতে পারে। এর বেশী করলে তা পালন করা যাবে না'। ১২০ তবে অছিয়ত ওয়ারিছদের জন্য নয়।
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ -
আবু উমামাহ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারের অংশ নির্দিষ্ট করেছেন। সুতরাং কোন ওয়ারিছের জন্য অছিয়ত নেই'।
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ أَبَاهُ قَالَ عَادَنِي رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم في حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ شَكْوَى، أَشْفَيْتُ مِنْهَا عَلَى الْمَوْتِ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَلَغَ بِي مَا تَرَى مِنَ الْوَجَعِ، وَأَنَا ذُو مَالِ، وَلَا يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ، أَفَأَتَصَدَّقُ ثُلُثَى مَالِي قَالَ : لَا قُلْتُ فَبِشَطْرِهِ قَالَ : الثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَتَتَكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ الله، إِلَّا أُجِرْتَ، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي امْرَأَتِكَ. قُلْتُ أَأَخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ: إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّه إِلَّا ازْدَدْتَ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُوْنَ اللَّهُمَّ أَمْض لأَصْحَابى هِجْرَتَهُمْ، وَلَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِن الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ حَوْلَةَ. قَالَ سَعْدٌ رَأَى لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَنْ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ -
আমের বিন সা'দ বর্ণনা করেন, তার পিতা সা'দ বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্জের সময় আমি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ছিলাম। নবী করীম (ছাঃ) সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম, আমি যে রোগাক্রান্ত, তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধন্যাঢ্য লোক। আমার এক মেয়ে ব্যতীত কোন ওয়ারিছ নেই। তাই আমি কি আমার দুইতৃতীয়াংশ মাল ছাদাক্বাহ করে দিতে পারি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেন, না। এক-তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিছদের মানুষের কাছে ভিক্ষার হাত বাড়ানোর মত অভাবী রেখে যাওয়ার চেয়ে তাদের সম্পদশালী রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিয়ে থাকো, তোমাকে এর প্রতিদান দেয়া হবে। আমি বললাম, তা হ'লে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকব? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তুমি এদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যা কিছু নেক আমল করো না কেন, এর বদলে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা অনেক কওম উপকৃত হবে। আর অনেক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারপর তিনি দো'আ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমার ছাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দেবেন না। কিন্তু সা'দ ইবনু খাওলার দুর্ভাগ্য। (কারণ তিনি বিদায় হজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সা'দ বলেন, মক্কায় তাঁর মৃত্যু হওয়ায় রাসূল (ছাঃ) তাঁর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন'।

টিকাঃ
১১৯. মীরাছ বণ্টনের নীতিমালা সম্বলিত সূরা নিসা ১১-১২ আয়াত দ্বারা অত্র আয়াতের সামগ্রিক হুকুম রহিত (মানসূখ) হয়েছে। তবে নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যাদের মীরাছ নেই, তাদের জন্য বা অন্যদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে অছিয়ত করা মুস্তাহাব হওয়ার হুকুম বাকী রয়েছে' (ইবনু কাছীর)।
১২০. বুখারী হা/২৭৪৪; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।
১২১. আবুদাউদ হা/২৮৭০; ইবনু মাজাহ হা/২৭১৩; তিরমিযী হা/২১২০; মিশকাত হা/৩০৭৩; ছহীহুল জামে' হা/১৭২০, ৭৮৮, ১৭৮৯।
১২২. বুখারী হা/৬৩৭৩; মুসলিম হা/১৬২৮; মিশকাত হা/৩০৭১।

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 মানত পূর্ণ করা

📄 মানত পূর্ণ করা


পিতা-মাতার কোন শরী'আতসম্মত মানত থাকলে তা পালন করা সন্তানের জন্য আবশ্যক。
عَنِ ابْنِ عَبَّاس رضى الله عنهما : قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ أُمِّي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ نَذْرِ أَفَأَصُوْمُ عَنْهَا قَالَ : أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ فَقَضَيْتِيْهِ أَكَانَ يُؤَدِّى ذَلِكِ عَنْهَا. قَالَتْ نَعَمْ قَالَ : فَصُومِي عَنْ أُمِّكِ -
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল (ছাঃ)- এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার মা মৃত্যুবরণ করেছেন। তার উপর মান্নতের ছাওমের কাযা রয়েছে। আমি তার পক্ষ হ'তে এ ছাওম আদায় করতে পারি কি? তখন তিনি বললেন, যদি তোমার মায়ের উপর কোন ঋণ থাকত তাহ'লে তুমি তা পরিশোধ করে দিতে, তবে তা তার পক্ষ হ'তে আদায় হ'ত কি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'তোমার মায়ের পক্ষ হ'তে তুমি ছাওম পালন কর'।

টিকাঃ
১২৩. বুখারী হা/১৯৫৩; মুসলিম হা/১১৪৮; আবুদাউদ হা/৩৩১০。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00