📄 পিতা-মাতা যুলুম করলেও তাদের খিদমত করা
পিতা-মাতা যেমন বয়োবৃদ্ধ, তেমনি তারা জ্ঞানেও বৃদ্ধ। সেজন্য তারা যেকোন সিদ্ধান্ত বুঝে ও জেনে গ্রহণ করে থাকেন। আর যুবকেরা কাজ করে জোশে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতার সিদ্ধান্ত সন্তানের নিকট সঠিক মনে নাও হতে পারে। তার নিকট মনে হতে পারে এটি যুলুম। এই অবস্থাতেও পিতা-মাতার আনুগত্য করা ও তাদের সেবা করা আবশ্যক। রাসূল (ছাঃ) বলেন, وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ، وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ دُنْيَاكَ، فَاخْرُجْ لَهُمَا ‘তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করবে, তারা যদি তোমাকে দুনিয়া ছাড়তেও আদেশ করেন তবে তাই করবে’। ৩১ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ وَكُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ পিতা-মাতার আনুগত্য করবে, যদিও তারা তোমাকে তোমার সম্পদ থেকে ও কেবল তোমার জন্য নির্দিষ্ট যাবতীয় বস্তু থেকে বঞ্চিত করে’।
টিকাঃ
৩১. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৮; মু'জামুল কাবীর হা/১৫৬; আওসাত্ব হা/৭৯৫৬, সনদ ছহীহ।
৩২. মু'জামুল আওসাত্ব হা/৭৯৫৬; মু'জামুল কাবীর হা/১৫৬; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৬৯।
📄 পিতা-মাতার প্রতি খরচ করা
ভালো পথে সম্পদ ব্যয় করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ
'লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, কিভাবে খরচ করবে? তুমি বলে দাও যে, ধন-সম্পদ হ'তে তোমরা যা ব্যয় করবে, তা তোমাদের পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় কর। আর মনে রেখ, তোমরা যা কিছু সৎকর্ম করে থাক, আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যকরূপে অবগত' (বাক্বারাহ ২/২১৫)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ابْدَأُ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٍ فَالأَهْلِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَيْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَيْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا. يَقُولُ فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ 'প্রথমে নিজের জন্য ব্যয় কর। এরপর অবশিষ্ট থাকলে পরিজনের জন্য ব্যয় কর। নিজ পরিজনের জন্য ব্যয় করার পরও যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যয় কর। আত্মীয়-স্বজনদেরকে দান করার পরও যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহ'লে এদিক অর্থাৎ সম্মুখে-ডানে-বামে ব্যয় করবে'।
আর পিতা-মাতা পরিজনের অন্যতম সদস্য। হাদীছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا شَابٌ مِنَ الثَّنِيَّةِ فَلَمَّا رَأَيْنَاهُ بِأَبْصَارِنَا قُلْنَا : لَوْ أَنَّ هَذَا الشَّابَ جَعَلَ شَبَابَهُ وَنَشَاطَهُ وَقُوَّتَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ فَسَمِعَ مَقَالَتَنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم قَالَ : وَمَا سَبِيلُ اللَّهِ إِلَّا مَنْ قُتِلَ؟ مَنْ سَعَى عَلَى وَالِدَيْهِ فَفِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَنْ سَعَى عَلَى عِيَالِهِ فَفِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَنْ سَعَى عَلَى نَفْسِهِ لِيُعِفُّهَا فَفِي سَبِيلِ اللهِ، وَمَنْ سَعَى عَلَى التَّكَاثُرِ فَهُوَ فِي سَبِيلِ - الشَّيْطَانِ 'একদা আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম। হঠাৎ করে একজন যুবক ছানিয়া নিম্ন ভূমি থেকে আগমন করল। তাকে গভীর দৃষ্টিতে অবলোকন করে বললাম, হায়! যদি এই যুবকটি তার যৌবন, উদ্যম ও শক্তি আল্লাহ্ পথে ব্যয় করত! বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাদের বক্তব্য শুনে বললেন, কেবল নিহত হ'লেই কি সে আল্লাহ্ পথে থাকবে? যে ব্যক্তি মাতা-পিতার খেদমতে সচেষ্টা থাকবে সে আল্লাহ্ পথে। যে পরিবার-পরিজনের কল্যাণের জন্য চেষ্টায় রত থাকবে সে আল্লাহ্ পথে। যে ব্যক্তি নিজেকে গোনাহ থেকে রক্ষার চেষ্টায় রত থাকবে সে আল্লাহর পথে। আর যে ব্যক্তি সম্পদের অধিকতর প্রাচুর্যের নেশায় মত্ত থাকবে সে শয়তানের পথে।
আরেকটি হাদীছে এসেছে,
عَنْ عَمْرُو بْن شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُوْلُ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً وَوَلَدًا وَإِنَّ وَالِدِي يَجْتَاحُ مَالِي. قَالَ أَنْتَ وَمَالُكَ لِوَالِدِكَ، إِنَّ أَوْلَادَكُمْ مِنْ أَطْيَبَ كَسْبِكُمْ، فَكُلُوا مِنْ كَسْبِ أَوْلَادِكُمْ
আমর ইবনু শু'আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার সম্পদ ও সন্তান আছে। আমার পিতা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী। তিনি বলেন, তুমি ও তোমার সম্পদ উভয়ই তোমার পিতার। তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য সর্বোত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্ত ানদের উপার্জন থেকে খাবে'। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, إِنَّ أَطْيَبَ مَا أَكَلَ الرَّجُلُ مِنْ كَسْبِهِ وَإِنَّ وَلَدَهُ مِنْ كَسْبِهِ، পবিত্রতম হ'ল নিজের উপার্জন। আর সন্তান সন্ততি তার উপার্জনেরই অংশ'..।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَعْدِي عَلَى وَالِدِهِ قَالَ: إِنَّهُ أَخَذَ مِنْ مَالِي ، فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَا عَلِمْتَ أَنَّكَ، وَمَالَكَ مِنْ كَسْبِ أَبيكَ -
ইবনু ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে তার পিতার বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অভিযোগ করে বলল, তিনি আমার ধন-সম্পদ কেড়ে নিয়েছেন। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি জান, তুমি এবং তোমার ধন-সম্পদ তোমার পিতারই উপার্জন?'।৩৭ অন্য বর্ণনায় রয়েছে وَإِنَّ أَمْوَالَ أَوْلَادِكُمْ مِنْ كَسْبِكُمْ فَكُلُوهُ - هَنِيئًا 'আর তোমাদের সন্তানদের সম্পদ তোমাদেরই উপার্জন। অতএব তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে খাও'।
টিকাঃ
৩৩. মুসলিম হা/৯৯৭; মিশকাত হা/৩৩৯২।
৩৪. মু'জামুল আওসাত্ব হা/৪২১৪; শু'আবুল ঈমান হা/৯৮৯২; ছহীহাহ হা/২২৩২, ৩২৪৮।
৩৫. আবুদাউদ হা/৩৫৩০; ইবনু মাজাহ হা/২২৯২; মিশকাত হা/৩৩৫৪; ছহীহুল জামে' হা/১৪৮৭।
৩৬. ইবনু মাজাহ হা/২১৩৭; মিশকাত হা/২৭৭০; ইরওয়া হা/২১৬২।
৩৭. তাবারানী, মু'জামুল কাবীর হা/১৩৩৪৫; ছহীহাহ হা/১৫৪৮; ছহীহুল জামে' হা/১৩৩১; মাজমা'উয যাওয়ায়েদ হা/৬৭৬৩।
৩৮. আহমাদ হা/৬৬৭৮; বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/১৫৫২৬।
📄 পিতা-মাতার প্রতি খরচের ক্ষেত্রে মা‘কে অগ্রাধিকার দেওয়া
পিতা-মাতার উভয়ের প্রতি খরচ করা সন্তানের জন্য আবশ্যক। তবে মায়ের অধিক অবদান থাকার কারণে মাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ طَارِقِ الْمُحَارِبِيِّ قَالَ قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ النَّاسَ وَهُوَ يَقُولُ : يَدُ الْمُعْطِي الْعُلْيَا وَابْدَأُ بِمَنْ تَعُولُ أُمَّكَ وَأَبَاكَ وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ فَأَدْنَاكَ -
তারিকু মুহারিবী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা মাদীনায় আগমন করলাম, আর তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তিনি তাতে বলছিলেন, দাতার হাত উঁচু (মর্যাদাসম্পন্ন)। তোমার পোষ্যদের মধ্যে দানের কাজ আরম্ভ কর। (যেমন) তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, ভাই; এভাবে যে যত তোমার নিকটাত্মীয় (তাকে পর্যায়ক্রমে দানের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দাও)।
টিকাঃ
৩৯. নাসাঈ হা/২৫৩২; আহমাদ হা/১৭৫৩০; ছহীহুত তারগীব হা/১৯৫৬।
📄 শেষ বয়সে পিতা-মাতাকে সঙ্গ দেওয়া
যৌবনের উদ্যমতা ও কর্মচঞ্চল বয়সসীমার চৌহদ্দি মাড়িয়ে এক সময় পিতা-মাতাও বার্ধক্যে উপনীত হন। এসময় তারা শিশুমনা হয়ে যান। ফলে তারা শিশুদের মত সঙ্গ চায়। শিশুরা যেমন পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে খেলতে, ঘুরতে বা বেড়াতে চায়, তেমনি বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাও সঙ্গ চায়, ঘুরতে চায়, আত্মীয়-স্বজনের বা সন্তানের সাক্ষাৎ চায়। এসময় সন্তানের জন্য আবশ্যক হ'ল তাদের সাথে অবস্থান করা বা তাদেরকে নিজের কাছে রাখা। এসময় তাদের সঙ্গ দিলে বরকত লাভ করা যায়। বৃদ্ধ মানুষ পৃথিবীতে আছে বিধায় এ ধরা কল্যাণ ও বরকতময়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ،الْبَرَكَةُ مَعَ أَكَابِرِكُم প্রবীণদের সাথেই তোমাদের কল্যাণ, বরকত রয়েছে'।
ইসলামে বৃদ্ধ পিতা-মাতার খিদমত ও সেবা করার ফযীলত ও গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ ثُمَّ رَغِمَ أَنْفُ. قِيلَ مَنْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ : مَنْ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ عِنْدَ الْكِبَرِ أَحَدَهُمَا أَوْ كِلَيْهِمَا فَلَمْ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেন, তার নাক ধূলায় ধূসরিত হৌক (৩ বার)। বলা হ'ল, তিনি কে হে আল্লাহ্ রাসূল! তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল, অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না'। ৪১ অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, ابْغُوْنِي الضَّعِيفَ فَإِنَّكُمْ إِنَّمَا تُرْزَقُوْنَ وَتُنْصَرُوْنَ بِضُعَفَائِكُمْ 'তোমরা আমাকে দুর্বলদের মাঝে খোঁজ কর। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদের অসীলায় তোমরা রিযিক ও সাহায্য প্রাপ্ত হয়ে থাক'।
إِنَّمَا يَنْصُرُ اللَّهُ هَذِهِ الْأُمَّةَ بِضَعِيْفِهَا بِدَعْوَتِهِمْ وَصَلَاتِهِمْ وَإِخْلَاصِهِمْ 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতকে তাদের দুর্বল লোকদের দো'আ, ছালাত ও ইখলাছের মাধ্যমে সাহায্য করে থাকেন'। ৪৩ অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِم 'নিশ্চয়ই বৃদ্ধ চুল বিশিষ্ট মুসলিমকে সম্মান করাই আল্লাহকে সম্মান করার শামিল'।
কারণ বৃদ্ধদের ইবাদতে ও দো'আয় একনিষ্ঠতা থাকে, থাকে দুনিয়ার মোহ থেকে অন্তরের পরিচ্ছন্নতা। তাদের আগ্রহ ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পরকাল।
টিকাঃ
৪০. ইবনু হিববান হা/৫৫৯; হাকেম হা/২১০, সনদ ছহীহ।
৪১. মুসলিম হা/২৫৫১; মিশকাত হা/৪৯১২।
৪২. নাসাঈ হা/৩১৭৯; আবুদাউদ হা/২৫৯৪; আহমাদ হা/২১৯৩১, সনদ ছহীহ।
৪৩. নাসাঈ হা/৩১৭৮; ছহীহুত তারগীব হা/০৬; ছহীহুল জামে' হা/২৩৮৮, সনদ ছহীহ।
৪৪. আবুদাউদ হা/৪৮৪৩; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৩৫৭; মিশকাত হা/৪৯৭২; ছহীহুত তারগীব হা/৯৮; ছহীহুল জামে' হা/২১৯৯।