📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 পিতা-মাতার দো‘আ কবুলযোগ্য

📄 পিতা-মাতার দো‘আ কবুলযোগ্য


পিতা-মাতার মর্যাদা এতো বেশী যে, তারা সন্তানের জন্য দো'আ করলে আল্লাহ তাদের দো'আ ফিরিয়ে দেন না। পিতা-মাতা যদি সন্তানের জন্য ভালো দো'আ করেন তবে তা কবুল হয়। আবার সন্তানের বিরুদ্ধে খারাপ দো'আ করলে সেটিও আল্লাহও কবুল করে নেন। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لاَ شَكٍّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'তিন ব্যক্তির দো'আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়। মযলুমের দো'আ, মুসাফিরের দো'আ ও সন্তানের জন্য পিতার দো'আ। তবে সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার দো'আ করা সমীচীন নয়। যেমন হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ)
لَا تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَوْلَادِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى خَدَمِكُمْ، وَلَا تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ، لَا تُوَافِقُوا مِنَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى سَاعَةً نَيْلُ فِيهَا عَطَاءٌ، فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ
সন্তানদের বা তোমাদের খাদেমের বা তোমাদের মালসম্পদের অকল্যাণ, অমঙ্গল বা ক্ষতি চেয়ে বদ দু'আ করবে না। কারণ, হয়ত এমন হতে পারে যে, যে সময়ে তোমরা বদদু'আ করলে, সেই সময়টি এমন সময় যখন আল্লাহ বান্দার সকল প্রার্থনা কবুল করেন এবং যে যা চায় তাকে তা প্রদান করেন। এভাবে তোমাদের বদদু'আও তিনি কবুল করে নেবেন'।

টিকাঃ
৩. তিরমিযী হা/১৯০৫; আহমাদ হা/৭৫০১; ছহীহুত তারগীব হা/১৬৫৫।
৪. মুসলিম হা/৩০০৯; আবুদাউদ হা/১৫৩৪; মিশকাত হা/২২২৯।

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 পিতা-মাতার দান ফেরতযোগ্য

📄 পিতা-মাতার দান ফেরতযোগ্য


কাউকে কোন উপহার দিলে ফেরত নেওয়া শরী'আতসম্মত নয়। কিন্তু সন্ত ানের নিকট পিতা-মাতার অধিক মর্যাদার কারণে তাদের কৃতদান ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسِ يَرْفَعَانِ الْحَدِيثَ قَالَ لَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً ثُمَّ يَرْجِعُ فِيهَا إِلَّا الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ وَمَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ أَكَلَ حَتَّى إِذَا شَبِعَ قَاءَ ثُمَّ عَادَ فِي قَيْتِهِ
ইবনু ওমর ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে মারফুরূপে বর্ণিত আছে যে, উপহার প্রদানের পর তা আবার ফিরিয়ে নেয়া কারো জন্য বৈধ নয়। তবে পিতা তার সন্তানকে দেয়া উপহার ফিরিয়ে নিতে পারে। যে ব্যক্তি কাউকে কিছু দিয়ে তা আবার ফিরিয়ে নেয় সে হ'ল কুকুরের মত; সে খায়, যখন পেট ভরে যায় তখন বমি করে এবং পরে নিজের বমি নিজেই খায়'।

টিকাঃ
৫. তিরমিযী হা/২১৩২; আবুদাউদ হা/৩৫৩৯; মিশকাত হা/৩০২১; ছহীহুত তারগীব হা/২৬১২।

📘 পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য > 📄 মায়ের বিশেষ মর্যাদা

📄 মায়ের বিশেষ মর্যাদা


পিতার উপর মায়ের অগ্রাধিকার: পিতা-মাতার ক্ষেত্রে কারো মর্যাদা খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কেননা মর্যাদার দিক থেকে কোন ক্ষেত্রে পিতা অগ্রগামী আবার কোন ক্ষেত্রে মা। ঠিক পরীক্ষার মত পিতা অংকে ভাল তো মা ইংরেজীতে, আবার পিতা হাদীছে ভাল তো মা কুরআনে। তবে গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান ও দুগ্ধপান করা কেবল মায়েরাই করে থাকেন। এতে পিতার কোন অংশদারিত্ব নেই। এজন্য আল্লাহ তা'আলা মাকে তিনগুণ বেশী মর্যাদা দান করেছেন। এর পরের ক্ষেত্রগুলোতে পিতা-মাতার সমান অবদান থাকে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ -
'আর আমরা মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট বরণ করে গর্ভে ধারণ করেছে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। অতএব তুমি আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (মনে রেখ, তোমার) প্রত্যাবর্তন আমার কাছেই' (লোকুমান ৩১/১৪)।
মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত: মা এতো মর্যাদাবান যে, তার পদতলে সন্তানের জান্নাত রয়েছে। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْن جَاهِمَةَ السُّلَمِيِّ أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ الله أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ. فَقَالَ : هَلْ لَكَ مِنْ أُمِّ ؟. قَالَ نَعَمْ. قَالَ : فَالْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا -
মু'আবিয়াহ বিন জাহেমাহ আস-সুলামী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জাহেমাহ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি জিহাদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আপনার সাথে পরামর্শ করার জন্য এসেছি। তিনি আমাকে বললেন, তোমার কি মা আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, 'তুমি তার নিকটে থাক। কেননা জান্নাত তার পায়ের নীচে'। কোন বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বললেন, তোমার কি পিতা-মাতা আছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, الْزَمْهُمَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ أَرْجُلِهِمَا 'তুমি তাদের নিকটে থাক। কেননা জান্নাত রয়েছে তাদের পায়ের নীচে'। অন্য বর্ণনায় এসেছে, জাহেমাহ আস-সুলামী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে দু'বার এসে বলেন, আমি আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও আখেরাত কামনা করি। জবাবে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমার মা কি বেঁচে আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল (ছাঃ) বললেন, ارجع فَبَرَّهَا 'ফিরে যাও। তার সাথে সদাচরণ কর'। অবশেষে তৃতীয় বার সম্মুখদিক থেকে এসে একই আবেদন করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, وَيْحَكَ الْزَمْ رِجْلَهَا فَثَمَّ الْجَنَّةُ 'তোমার ধ্বংস হৌক! তার পায়ের কাছে থাক। সেখানেই জান্নাত রয়েছে'।
মায়ের মর্যাদা তিনগুণ বেশী:
মা সন্তানের প্রতি অত্যন্ত দয়াদ্র ও স্নেহাশীল হওয়ার কারণে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। হাদীছে এসেছে, আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক মহিলা আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে এলে তিনি তাকে তিনটি খেজুর দেন। সে তার ছেলে দু'টিকে একটি করে খেজুর দেয় এবং নিজের জন্য একটি রেখে দেয়। তারা খেজুর দু'টি খেয়ে তাদের মায়ের দিকে তাকাল এবং অবশিষ্ট খেজুরটি পেতে চাইল। মা খেজুরটি দুই টুকরা করে প্রত্যেককে অর্ধেক অর্ধেক করে দিল। নবী (ছাঃ) ঘরে আসলে আয়েশা (রাঃ) তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন তিনি বলেন, এতে তোমার বিস্মিত হওয়ার কি আছে? সে তার ছেলে দু'টির প্রতি দয়াপরবশ হওয়ার কারণে আল্লাহ তার প্রতি দয়াপরবশ হয়েছেন'।
তিনটি কারণে পিতা অপেক্ষা মায়ের মর্যাদা তিনগুণ বেশী। (১) গর্ভধারণ (২) কষ্টের পর কষ্ট বরণ এবং (৩) দুই বছর যাবৎ বুকের দুধ খাওয়ানো। হাদীছে এসেছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي قَالَ: أُمُّكَ . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ : أُمُّكَ . قَالَ : ثُمَّ مَنْ قَالَ : أُمُّكَ ، قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ: ثُمَّ أَبُوكَ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, অতঃপর কে? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তোমার মা। সে বলল, অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বলল, অতঃপর কে? তিনি বললেন, অতঃপর তোমার পিতা'।
অন্য হাদীছে এসেছে, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ الصُّحْبَةِ قَالَ: أُمُّكَ ثُمَّ أُمُّكَ ثُمَّ أُمُّكَ ثُمَّ أَبُوكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ -
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেন, তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার পিতা, তারপর যে তোমার সবচেয়ে নিকটবর্তী'।
অন্যত্র এসেছে, عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : إِنَّ الله يُوْصِيْكُمْ بِأُمَّهَاتِكُمْ ثَلَاثًا إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِآبَائِكُمْ إِنَّ اللَّهَ يُوْصِيْكُمْ بِالْأَقْرَبِ فَالأَقْرَب
মিকদাম ইবনে মা'দীকারিব (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'আল্লাহ তোমাদের মায়েদের সম্পর্কে তোমাদের তিনবার উপদেশ দিচ্ছেন, অতঃপর তোমাদের পিতাদের সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন, অতঃপর নৈকট্যের ক্রমানুসারে নিকটাত্মীয় সম্পর্কে তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন'।
সর্বপ্রথম সদ্ব্যবহার পাওয়ার হকদার মা, তারপর পিতা, তারপর ছেলে-মেয়ে, তারপর দাদাগণ-নানাগণ ও রক্তসম্পর্কীয় মাহরাম আত্মীয়গণ। যেমন চাচা ও ফুফুগণ, মামা ও খালাগণ। এরপর পর্যায়ক্রমের নিকটাত্মীয়গণ। এরপর রক্তসম্পর্কীয় গায়ের মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ হালাল বা বৈধ)। যেমন- চাচতো ভাই, চাচাতো বোন, মামাতো ভাই, মামাতো বোন ইত্যাদি। এরপর শ্বশুর বাড়ীর আত্মীয়দের সাথে সদাচরণ করতে হবে। এরপর খাদেম বা কর্মচারীদের সাথে স্তর অনুযায়ী। এরপর প্রতিবেশীদের সাথে। এর মধ্যে যার বাড়ীর কাছে সে বেশী হকদার, এভাবে পর্যায়ক্রমে দূরের আত্মীয়-স্বজন।
পাপ মোচনে মায়ের সেবা: মায়ের খেদমত পাপ মোচনে সহায়ক। এজন্য কোন ব্যক্তি পাপ করলে রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরام তাদের মায়ের খেদমত করার পরামর্শ দিতেন। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي خَطَبْتُ امْرَأَةً، فَأَبَتْ أَنْ تَنْكِحَنِي، وَخَطَبَهَا غَيْرِي، فَأَحَبَّتْ أَنْ تَنْكِحَهُ، فَغِرْتُ عَلَيْهَا فَقَتَلْتُهَا، فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ قَالَ: أُمُّكَ حَيَّةٌ؟ قَالَ : لَا ، قَالَ: تُبْ إِلَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، وَتَقَرَّبْ إِلَيْهِ مَا اسْتَطَعْتَ. فَذَهَبْتُ فَسَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ : لِمَ سَأَلْتَهُ عَنْ حَيَاةِ أُمِّهِ؟ فَقَالَ: إِنِّي لَا أَعْلَمُ عَمَلًا أَقْرَبَ إِلَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ بِرِّ الْوَالِدَةِ
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, আমি এক মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। সে আমাকে বিবাহ করতে অস্বীকার করল। অপর এক ব্যক্তি তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে সে তাকে বিবাহ করতে পসন্দ করল। এতে আমার আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগলে আমি তাকে হত্যা করি। আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বলেন, তোমার মা কি জীবিত আছেন? সে বলল, না। তিনি বলেন, তুমি মহামহিম আল্লাহ্র নিকট তওবা কর এবং যথাসাধ্য তার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো। (আতা' রহঃ বলেন) আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা জীবিত আছে কি-না তা আপনি কেন জিজ্ঞেস করলেন? তিনি বলেন, 'আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য মায়ের সাথে সদাচরণের চেয়ে উত্তম কোন কাজ আমার জানা নেই'।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন,
أَلَكَ وَالِدَانِ حَيَّانِ أَوْ أَحَدُهُمَا؟ قَالَ : لَا ، قَالَ: تَقَرَّبْ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ بِمَا قَدَرْتَ عَلَيْهِ، فَقُلْنَا لَهُ بَعْدَ مَا خَرَجَ، فَقَالَ : لَوْ كَانَ حَيَّيْنِ أَبَوَاهُ أَوْ أَحَدُهُمَا رَجَوْتُ لَهُ أَنَّهُ لَيْسَ شَيْءٌ أَحطَّ لِلذُّنُوبِ مِنْ بِرِّ الْوَالِدَيْنِ
'তোমার পিতা-মাতা বা তাদের একজন কি জীবিত আছেন? সে বলল, না। তিনি বললেন, যথাসাধ্য আল্লাহ্র নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো। লোকটি বের হয়ে যাওয়ার পর আমরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তার পিতা-মাতা বা তাদের একজন যদি জীবিত থাকত তাহ'লে তার জন্য আশা করতাম। কারণ পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ অপেক্ষা গুনাহ মোচনকারী আর কিছুই নেই'।
খালা মায়ের মর্যাদায় অভিষিক্ত:
মায়ের সম্মানে তার বোন তথা সন্তানের খালাদের মায়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। মায়ের পরেই খালাগণ সন্তানদের দেখাশুনা ও আদর-যত্ন করে থাকেন। তাদের সর্বাধিক কাছের মানুষ হয়ে থাকেন। এজন্য মায়ের মৃত্যু হ'লে খালারা সে সম্মান পাবে'। তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন না। তবে হানাফী মাযহাবের দৃষ্টিতে খালা ওয়ারিছ হবে আছাবা ও যাবিল ফুরুয না থাকলে, যা সঠিক নয় (মিরক্কাত ৫/২০২৩)। যেমন হাদীছে এসেছে,
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : الْحَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأم -
বারা ইবনু আযেব (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, খালা মায়ের স্থলাভিষিক্ত'।
অন্য হাদীছে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ : أَتَى رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَذْنَبْتُ ذَنْبًا كَبِيرًا، فَهَلْ لِي مِنْ تَوْبَةٍ؟ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَكَ وَالِدَانِ؟ قَالَ : لَا، قَالَ: فَلَكَ حَالَةٌ؟، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَبَرَّهَا إِذًا -
ইবনু ওমর (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি একটা বড় পাপ করে ফেলেছি। আমার জন্য কি তওবার কোন ব্যবস্থা আছে? রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, তোমার কি মা-বাবা জীবিত আছেন? সে বলল, না। তিনি বললেন, তোমার খালা জীবিত আছেন? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহ'লে তার সাথে সদাচরণ কর'।
অন্যত্র এসেছে,
عَنْ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ رضى الله عنها أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا أَعْتَقَتْ وَلِيْدَةً وَلَمْ تَسْتَأْذِنِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُهَا الَّذِي يَدُورُ عَلَيْهَا فِيهِ قَالَتْ أَشْعَرْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَّى أَعْتَقْتُ وَلِيْدَتِي قَالَ: أَوَفَعَلْتِ. قَالَتْ نَعَمْ. قَالَ : أَمَا إِنَّكَ لَوْ أَعْطَيْتِيهَا أَحْوَالَكِ او أَخَوَاتِكِ كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ -
মায়মূনা বিনতে হারেছ (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-এর অনুমতি ব্যতীত তিনি আপন দাসীকে মুক্ত করে দিলেন। অতঃপর তার ঘরে নবী করীম (ছাঃ)-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি জানেন না আমি আমার দাসীকে মুক্ত করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মুনা (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, শোন! তুমি যদি তোমার মামা-খালাদের বা বোনদের এটা দান করতে তাহ'লে তোমার জন্য বেশী নেকীর কাজ হ'ত'।

টিকাঃ
৬. নাসাঈ হা/৩১০৪; মিশকাত হা/৪৯৩৯; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৪৮৫।
৭. ত্বাবারাণী, মু'জামুল কাবীর হা/২২০২; ছহীহ আত-তারগীব হা/২০৮৫।
৮. ইবনু মাজাহ হা/২৭৮১; ছহীহুল জামে' হা/১২৪৮; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৪৮৪।
৯. বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৮৯; হাকেম হা/৭৩৪৯, সনদ ছহীহ।
১০. বুখারী হা/৫৯৭১; মুসলিম হা/২৫৪৮; মিশকাত হা/৪৯১১।
১১. মুসলিম হা/২৫৪৮; মিশকাত হা/৪৯১১; ছহীহুল জামে' হা/১৩৯৯।
১২. ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬১; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৬০; ছহীহাহ হা/১৬৬৬; ছহীহুল জামে' হা/১৯২৪।
১৩. ইমাম নববী, শারহু মুসলিম হা/২৫৪৮-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
১৪. আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৪; আল-আছারুছ ছহীহাহ হা/১৯৭।
১৫. শু'আবুল ঈমান হা/৭৯১৩।
১৬. ফাতহুল বারী ৭/৫০৬।
১৭. বুখারী হা/২৬৯৯; তিরমিযী হা/১৯০৪; আবুদাউদ হা/২২৮০; মিশকাত হা/৩৩৭৭।
১৮. ইবনু হিব্বান হা/৪৩৫; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫০৪, ২৫২৬; শু'আবুল ঈমান হা/৭৮৬৪।
১৯. বুখারী হা/২৫৯২; ছহীহ আত-তারগীব হা/২৫২৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00