📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 মাসব্যাপী বদদুআ

📄 মাসব্যাপী বদদুআ


নেককার উজির ইয়াহইয়া বিন হুবাইরা -এর কারামত ছিল একটি চমৎকার কারামত। তিনি আল্লাহর সাথে উত্তম আচরণ করেছেন। আল্লাহকে ভয় করেছেন এবং প্রজাদের প্রতি এমন ইনসাফ করেছেন যে, তাঁর চরিত্রকে মানুষ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের একটি প্রমাণ হলো, একদা তিনি কবুল হওয়ার দৃঢ় আশা নিয়ে এক মাস পর্যন্ত আল্লাহর কাছে একটি বিষয়ে দুআ করেছিলেন। সে দুআ আল্লাহ কবুল করেছিলেন। ঘটনাটি ইবনুল জাওজি বর্ণনা করেছেন :

যখন সুলতান মাসউদ সেলজুকি ও তাঁর অনুসারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেল এবং তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করতে লাগল, তখন উজির ইয়াহইয়া বিন হুবাইরা এবং খলিফা মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা করলেন।

ইয়াহইয়া বলেন, 'অতঃপর আমি এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখলাম। বুঝতে পারলাম, সুলতানের যা দাপট, এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো ঠিক হবে না। খফিলা মুকতাফির সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করলাম। তাঁকে জানালাম, এ পরিস্থিতিতে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা এবং তাঁর ওপর পূর্ণরূপে ভরসা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমার কথায় তিনি দ্বিমত করেননি। বললেন, আসলেই এর অন্য কোনো উপায় দেখছি না। অতঃপর আমি তাঁকে চিঠি লিখে জানালাম, রাসুল রাল ও জিকওয়ান নামক দুই কিলার জন্য মাসব্যাপী বদদুআ করেছিলেন। আমাদেরও তার জন্য মাসব্যাপী বদদুআ করতে হবে। খলিফা আমার প্রস্তাবে সম্মত হলেন।'

উজির বলেন, 'অতঃপর আমি প্রতিদিন রাতের শেষভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে শুরু করলাম। এভাবে এক মাস অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথেই মাসউদ মৃত্যুবরণ করলেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের দুআ কবুল করলেন এবং ইরাকের ওপর থেকে মাসউদ ও তার অনুসারীদের কালো হাত সরিয়ে দিলেন। এভাবে বিনা রক্তপাতে তাদের শাসিত ভূমির কর্তৃত্ব আল্লাহ তাআলা আমাদের হাতে তুলে দিলেন। ঘটনাটি খলিফা ও উজিরের কারামত হিসেবে আলোচনা করা হয়。

টিকাঃ
৩৪১. জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ: ১/১২৭-১২৮।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 অধিক ফলদায়ক সৎকর্মসমূহ

📄 অধিক ফলদায়ক সৎকর্মসমূহ


ইবরাহিম বিন আলি মারসাদি বলেন, 'আল্লাহকে তুমি চেনো, কিন্তু তাঁকে ভালোবাসো না; অথবা তাঁকে ভালোবাসো, কিন্তু তাঁর জিকির করো না; অথবা তাঁর জিকির করো, কিন্তু সে জিকিরে স্বাদ পাও না; অথবা জিকিরের স্বাদ পাও, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে ছাড়া অন্যকিছুতে মেতে থাকো—এমনটা হওয়া অসম্ভব।'

আবু সুলাইমান দারানি বলেন, 'যে দিনের বেলা সৎকর্ম করে, তাকে রাতে সৎকর্ম করার তাওফিক দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে যে রাতে সৎকর্ম করে, তাকে দিনে সৎকর্ম করার তাওফিক দেওয়া হয়।'

ভালো আমলের একটি উপকারিতা হচ্ছে, আমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো ভালো আমল করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে আরও একটি ভালো আমল করার তাওফিক দান করেন। সেই ভালো কাজ আরেকটি ভালো কাজকে টেনে আনে...এভাবে চলতে থাকে।

সুতরাং যদি তুমি রাতে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) আদায় করার সুযোগ লাভ করতে চাও, তাহলে দিনের বেলায় দৃষ্টি নত রাখার ভালো কাজটি আগে করে নাও। যদি ফজরের নামাজের সাওয়াব অর্জন করতে আগ্রহী হও, তাহলে এর পূর্বে গোপনে সদাকা করার ভালো কাজটি সেরে নাও। যদি নামাজের মধ্যে খুশুখুজুর (একাগ্রতা ও বিনম্রতা) সাওয়াব লাভ করতে চাও, তাহলে সকাল সকাল মসজিদে চলে আসার ভালো কাজটি আগে করো।

জুবাইর বিন আওয়াম ছিলেন একজন প্রকৃত আল্লাহওয়ালা বান্দা—যাঁর সৃষ্টি তো মাটি থেকে, তবে গঠিত হয়েছেন ইলমে ওহির নুর এবং কুরআনের মহত্ত্ব দ্বারা। তিনি তাঁর দীর্ঘ ইমানি জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি কথা বলেছেন। কথাটি এতটাই মূল্যবান যে, পারলে এটাকে গলায় ঝুলিয়ে রেখো। আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর-এর উদ্ধৃতিতে বাণীটি নিম্নরূপ :
'যখন তুমি কোনো মানুষকে কোনো উত্তম কাজ করতে দেখবে, তখন বুঝে নেবে, লোকটি এ ধরনের ভালো কাজ আরও অনেক করে। তেমনিভাবে কাউকে কোনো মন্দ কাজ করতে দেখলে বুঝে নেবে, সে এ ধরনের মন্দ কাজ আরও করে। কেননা, একটি ভালো কাজ তার মতো আরও অসংখ্য ভালো কাজের প্রমাণ বহন করে। অনুরূপভাবে একটি মন্দ কাজ তার মতো আরও অসংখ্য মন্দ কাজের অস্তিত্বের জানান দেয়। '

ইমাম ইবনুল কাইয়িম আমাদের সামনে একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যার সাহায্যে আমরা নিজেদের মনকে ভালো কাজ ও ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করতে পারি। তিনি বলেন, 'ইবাদতের সূচনা, ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠা ও বৃদ্ধি পাওয়ার দৃষ্টান্ত হলো একটি খেজুরবিচি, যা রোপণ করা হয় অতঃপর ধীরে ধীরে সেটা গাছ হয়ে ওঠে। তারপর তুমি সেই গাছের ফল খাও এবং বিচি রোপণ করে দাও। সুতরাং যখনই তুমি একটি ভালো কাজ করবে, সে ভালো কাজের সাওয়াব অর্জন করার পাশাপাশি আরেকটি ভালো কাজের বীজ বপীত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে একটি পাপ আরেকটি পাপকে টেনে নিয়ে আসে। বুদ্ধিমানদের এ উদাহরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। উত্তম আমলের অন্যতম একটি উপকারিতা হচ্ছে, তার পরে আরও একটি উত্তম আমল করার সৌভাগ্য অর্জিত হয়। একইভাবে মন্দ আমলের একটি অপকারিতা হচ্ছে, সেটি তার পরে আরেকটি মন্দ আমলকে টেনে আনে。

আল্লাহর প্রকৃত বান্দাদের নেক আমলে ধারাবাহিকতা থাকে। তাদের সৎকর্মগুলো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বরকত তাদের কাছে এসে ভিড় জমায়। একপর্যায়ে তাদের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, ইবাদত-বন্দেগি তাদের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনে পরিণত হয়। অল্পক্ষণের জন্য ইবাদত বন্ধ থাকলে তাদের দম আটকে যায়।

টিকাঃ
৩৪২. শুআবুল ইমান: ২/১৮।
৩৪৩. সিফাতুস সাফওয়াহ: ২/৩৮৪।
৩৪৪. সিফাতুস সাফওয়াহ: ১/৩৪৯।
৩৪৫. আল-ফাওয়ায়িদ : পৃ. ৩৫, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 ধারাবাহিকতার রহস্য

📄 ধারাবাহিকতার রহস্য


ইবাদত-বন্দেগিই হয় তাদের স্বভাব-প্রকৃতি। কোনো কারণে ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে এই প্রশস্ত পৃথিবী তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসে, যতক্ষণ না ইবাদতে ফিরে আসে。

নেক আমলে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকপ্রাপ্ত হওয়ার লক্ষণ। অনুগত বান্দা কোনো ভালো কাজ শুরু করলে তার প্রতিদানস্বরূপ আল্লাহ তাআলা যেসব পুরস্কার প্রদান করেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো কাজ তোমার থেকে সংঘটিত হতে থাকবে এবং পাপ করার ইচ্ছা করা সত্ত্বেও তা থেকে তোমাকে বিরত রাখা হবে। সুসময়ে ও দুঃসময়ে আল্লাহর আশ্রয় নেওয়ার পথ তোমার জন্য সহজ হয়ে যাবে。

ইবাদতে অটলতা ও ধারাবাহিকতার রহস্য হলো, যে ব্যক্তি এর প্রতি মনোযোগী হয়, আল্লাহ তাআলা তাকে নানাভাবে সাহায্য করেন। তাঁর সাহায্যের একটি পন্থা হচ্ছে, ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করা। এটাই সবচেয়ে উত্তম সাহায্য। কারণ, ফেরেশতাগণ হলেন ইমানের যুদ্ধে শক্তিশালী সাহায্যকারী এবং আল্লাহর গোপন বাহিনী। তবে তাদের সহায়তা পাওয়ার জন্য শর্ত হলো, তোমাকে আগে সৎকর্ম শুরু করতে হবে।

বান্দার ইমানের তারতম্যভেদে তার প্রতি আল্লাহর সাহায্যের শক্তিও কমবেশি হয়। ইবনে তাইমিয়া বলেন, 'আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন আসে ইমান অনুযায়ী। সুতরাং যার ইমান শক্তিশালী হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সমর্থনে শক্তিশালী ফেরেশতা-বাহিনী প্রেরণ করা হয়। যার ইমান দুর্বল হয়, তার সাহায্যকারী ফেরেশতা-বাহিনীও তার ইমানের মতো দুর্বল হয়।'

আরেক জায়গায় তিনি পুণ্যকর্মের গুরুত্ব খুলে খুলে বর্ণনা করেছেন। শক্তিশালী ও উন্নত পুণ্যকর্ম করার পাশাপাশি অধিকহারে পুণ্যকর্ম করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। বলেছেন, 'মানুষের পুণ্যকর্ম যখন শক্তিশালী হয়, তখন আল্লাহ তাআলা এমন শক্তিশালী ফেরেশতা-বাহিনী দ্বারা তার সমর্থন করেন, যারা শয়তানের ওপর বিজয় লাভ করেন। আর যদি পাপকর্ম শক্তিশালী হয়, তখন শয়তানের বাহিনী বিজয় ছিনিয়ে নেয়।'

এটা একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে তোমার বাহিনী ও সাহায্যকারীগণ তোমার বিজয়ের পথ রচনা করবে, যদি তারা শক্তিশালী হয়। তোমার আমল-ইবাদতই এ যুদ্ধের রসদ। ইবনুল কাইয়িম -এর নিম্নোক্ত উদ্ধৃতির সারকথা এটাই। তিনি বলেন, 'বান্দা যখনই তাঁর ইবাদতকে পূর্ণতার স্তরে নিয়ে যাবে, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সহযোগিতা লাভ করবে।'

এমনকি যদি কখনো তার পদস্খলন হয় এবং গাফিল হয়ে কোনো গুনাহ করে বসে, তখনও আল্লাহ তাআলা তাকে সাহায্য করেন। কারণ, আল্লাহর নিকট তার একটি মর্যাদা থাকে, যার কারণে আল্লাহ তাকে পৃথিবীতেই পাপের শাস্তি দিয়ে আখিরাতের জন্য সংশোধিত করে নেন।

ইবনুল কাইয়িম বলেন, '...তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাকে—যে তাঁর কাছে সম্মানিত—সামান্য ভুলের জন্যও শাস্তি প্রদান করেন। ফলে সে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকে। পক্ষান্তরে যে বান্দা আল্লাহর কাছে ঘৃণিত, তার ও তার পাপের মাঝে আল্লাহ তাআলা অন্তরায় হন না। বরং সে যখনই নতুন কোনো গুনাহ করে, তখন আল্লাহ তাকে নতুন একটি নিয়ামত দানে ভূষিত করেন। তা দেখে সেই প্রবঞ্চিত বান্দাটি মনে করে যে, আল্লাহ তাকে ভালোবেসে এ নিয়ামত দান করেছেন। সে ঘুণাক্ষরেও ভাবে না যে, এটা মূলত তার প্রতি আল্লাহর অসম্মান ও অবজ্ঞার প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাকে কঠিন ও স্থায়ী আজাব দেওয়ার ইচ্ছা করেছেন।'

টিকাঃ
৩৪৬. আল-জাওয়াবুল কাফি: পৃ. ৫৬, দারুল মারিফাহ।
৩৪৭. কুতুল কুলুব: ১/১১৫।
৩৪৮. আন-নাবওয়াত, ইবনে তাইমিয়া: ২/১০৬২।
৩৪৯. আন-নাবওয়াত: ২/১০৬৩।
৩৫০. মাদারিজুস সালিকিন: ১/৯৭।
৩৫১. জাদুল মাআদ: ৩/৫০২।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 হিদায়াতের মূল্য চেষ্টা ও সাধনা

📄 হিদায়াতের মূল্য চেষ্টা ও সাধনা


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
'যারা আমার পথে জিহাদ করে (সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়), তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব।'

সুদ্দি-সহ আরও অনেক মুফাসসিরে কিরাম বলেন, 'এ আয়াত কিতাল ফরজ হওয়ার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে।' সুতরাং এখানে 'জিহাদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, দ্বীনকে সাহায্য করা, বাতিলপন্থীদের প্রতিহত করা, জালিমদের মোকাবিলা করা, গাফিলদের পথ দেখানো এবং এসবের আগে, পরে ও পাশাপাশি অন্তরের সংযম ও সাধনা। আল্লাহ তাআলা এই জিহাদের পুরস্কারস্বরূপ হিদায়াত এবং হিদায়াতের ওপর অটলতা দান করেন। একাধিক মুফাসসিরের জবানিতে উল্লেখিত আয়াতের বিভিন্ন তাফসির (অর্থাৎ চেষ্টা ও সাধনার বিনিময়ে হিদায়াত লাভের বিভিন্ন ধরন ও পদ্ধতি) উল্লেখিত হয়েছে। নিচে কয়েকটি তুলে ধরা হলো:
• দারানি-এর তাফসির: মৌলিক আমলসমূহ চেষ্টা ও সংযমের মাধ্যমে উত্তমরূপে আদায় করলে আমি আরও অধিক আমল করার তাওফিক দান করব।
• ফুজাইল-এর তাফসির: যারা ইলম অর্জনের জন্য চেষ্টা-সাধনা করবে, আমি তাদের জন্য ইলম অনুযায়ী আমল করার ব্যবস্থা করে দেবো।
• সাহল-এর তাফসির: যারা নববি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম করবে, আমি তাদেরকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করব।
• ইবনে আতা-এর তাফসির: যারা আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা-সাধনা করবে, আমি তাদেরকে আমার সন্তুষ্টিলাভের স্থান তথা জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেবো।

• ইবনে আব্বাস-এর তাফসির : যারা আমার ইবাদতে চেষ্টা-সাধনা করে, আমি তাদেরকে আমার বিনিময় লাভ করার পথসমূহ দেখিয়ে দেবো।

জুনাইদ-এর তাফসির : যারা তাওবার মাধ্যমে চেষ্টা-সাধনা করে, আমি তাদেরকে ইখলাস ও নিষ্ঠা অর্জনের পথে পরিচালিত করব। অথবা যারা আমার সেবায় চেষ্টা-সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার সাথে নিভৃতে আলাপের সৌভাগ্য অর্জনের পথে পরিচালিত করব。

আয়াত থেকে সূক্ষ্মভাবে একটি বিষয় বোঝা যায় যে, হিদায়াতের পন্থা কেবল একটি নয়; বরং কয়েকটি আছে। যেন আল্লাহর দিকে পৌঁছিয়ে দেওয়া পথসমূহ তোমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে এবং তার ওপর চলতে উদ্বুদ্ধ করছে। সুতরাং সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না। কারণ আল্লাহ তাআলা এতই দয়ালু যে, পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর বিনিময়ে এক পাপিষ্ঠ বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। আরেক ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে গাছের ডাল সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ক্ষমা করেছিলেন। এভাবে দেখতে তুচ্ছ মনে হয়, এমন অনেক পুণ্যকর্মের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা অনেক বান্দাকে ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন।

টিকাঃ
৩৫২. সুরা আল-আনকাবুত, ২৯: ৬৯।
৩৫৩. তাফসিরুন নাসাফি (মাদারিকুত তানজিল ওয়া হাকায়িকুত তাওয়িল), দারুল কালিমিত তাইয়িব: ২/২৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00