📄 নূরের দীপ্তি
ইবাদতের নুর স্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে বাড়তেও থাকে। এমনকি তার ঝলক চেহারা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছেয়ে যায়, যেভাবে ইতিপূর্বে কথা ও কাজে তার ঝলক ফুটে উঠেছিল। সুতরাং ভালো মানুষের চেহারায় যে দ্যুতি দেখা যায়, তা ইবাদতেরই নুরের আলোকচ্ছটা। ইবাদতগুজার বান্দা যখন আল্লাহর সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে, তখন সে ওহির আলোয় আলোকিত হয়, ইমানের দীপ্তিতে দীপ্তিমান হয়। ফলে তার চেহারায় এক অপার্থিব ঔজ্জ্বল্য ফুটে ওঠে। নবিজির চেহারায় নবুওয়াতের যে নুর ছিল, এই নুর সেই নুরেরই প্রতিবিম্ব। উম্মে মাবাদ খুজায়ি নবিজির যে বর্ণনা দিয়েছেন, সেখানে তিনি নবিজির চেহারার নুরের কথা বলেছেন। তাঁর স্বামী যখন তাকে বললেন, 'আমাকে তাঁর বর্ণনা দাও।' তখন তিনি বললেন :
'আমি স্পষ্ট উজ্জ্বলতার এবং লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী একজন সুপুরুষকে দেখেছি...।'
ইবনে তাইমিয়া অন্তর ও চেহারার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সংযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'অন্তরের মধ্যে যে আলো-অন্ধকার, কল্যাণ-অকল্যাণ থাকে, চোখ ও চেহারায় তা ছড়িয়ে পড়ে। অন্তরের সাথে এই দুই অঙ্গের সম্পর্ক বেশি। '
একজন মুমিনই তার অন্তর্চক্ষু দিয়ে ইবাদতের এই ফসল ও নুর দেখতে পায়। ফলে সে এই গুপ্তধন ও মুগ্ধকর আলো কখনো হাতছাড়া হতে দেয় না। পুণ্যের বিনিময়ে পাপ করে আলোর বিনিময়ে অন্ধকার আনে না। বরং সে জনৈক মুমিন কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গায় :
'সৌন্দর্য ধরে রাখে তাকওয়া ও আল্লাহভীতি। নচেৎ তা হারিয়ে যায়। তাকওয়ার নুরই মানুষের চেহারায় লাবণ্য ও সৌন্দর্য আনে। আমল যদি সুন্দর না হয়, তাহলে চেহারায় বাহ্যিক সৌন্দর্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। হে সুন্দর চেহারার অধিকারী, আল্লাহকে ভয় করো, যদি এই সৌন্দর্য চিরদিন ধরে রাখতে চাও। কারণ, তাকওয়া সুন্দরকে আরও সুন্দর করে তোলে। পক্ষান্তরে, গুনাহ সৌন্দর্যকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়। পাপিষ্ঠের চেহারার দীপ্তি সরে গিয়ে বীভৎস হয়ে ওঠে। অতঃপর হৃদয়কেও পাল্টে দেয়। সুতরাং তাকওয়ার পথে ধাবিত হও। তখন তোমার আগামীটা সুখ ও আনন্দে ভরে উঠবে।'
টিকাঃ
৩৩০. দালায়িলুন নুবুওয়াহ, আবু নুআইম আস্ফাহানি: ১/২৩৭।
৩৩১. আল-ইসতিকামাহ: ১/৩৫৫। ৩৬ নং ফায়দা: বর্ণিত আছে যে, উমর বিন খাত্তাব মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারীকে শাস্তিস্বরূপ তার চেহারা কালো করে দেওয়ার এবং বাহনের ওপর উল্টো করে বেঁধে শাস্তি দিতেন। কেননা, শাস্তি গুনাহসম্পর্কিত একটি বিষয়। সুতরাং যেহেতু সে মিথ্যা বলার মাধ্যমে নিজের চেহারাকে কালো করেছে এবং কথাকে উল্টে দিয়েছে; তাই চেহারা কালো করে দেওয়া এবং বাহনের ওপর উল্টো করে বেঁধে দেওয়া হবে তার যথাযথ শাস্তি।
📄 অনুগ্রহের বিনিময় অনুগ্রহই হয়
هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ
'অনুগ্রহের বদলা অনুগ্রহ ছাড়া কী হতে পারে?'
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু সাইদ খাজ্জার বলতেন:
যে নিজের প্রবৃত্তি থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, রবের সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়াই তার পুরস্কার।
যে মাখলুকের সাথে অন্তরঙ্গতা ছিন্ন করেছে, বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের সাথে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হওয়াই তার পুরস্কার।
যে ধৈর্যের সাথে আল্লাহর বিধিনিষেধ মেনে চলেছে, আল্লাহকে পাওয়াই তার পুরস্কার।
দুনিয়ার কষ্টের প্রতিদান আখিরাতের চিরশান্তি ছাড়া আর কী হতে পারে? বিপদে যে সবর করেছে, আল্লাহর নৈকট্য ব্যতীত অন্যকিছু তার প্রতিদান হতে পারে না。
অধিক আমলের প্রতি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল কেমন আগ্রহী ছিলেন দেখুন। তিনি বলেন, 'এমন কোনো হাদিস আমি লিপিবদ্ধ করিনি, যে হাদিস অনুযায়ী আমি আমল করিনি। এমনকি আমার লিখিত একটি হাদিসে আছে, রাসুল হিজামা করে আবু তাইবাকে এক দিনার দান করলেন। এ হাদিস অনুযায়ী আমল করার জন্য আমি হিজামা করিয়ে হিজামা থেরাপিস্টকে এক দিনার দিলাম। '
ইমাম আহমাদ রাসুল -এর প্রতিটি সুন্নাতের ওপর আমল করার প্রতি প্রলুব্ধ ছিলেন। শুধু সুন্নাত নয়; বরং তাঁর প্রতিটি সহজাত অভ্যাস অনুসরণের চেষ্টা করতেন তিনি। তাতে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও।
ইবরাহিম বিন হানি বলেন, আহমাদ বিন হাম্বল আমার কাছে তিনদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তিনদিন পর তিনি আমাকে বললেন, 'আমার জন্য অন্য একটা জায়গা খুঁজে দেখো, আমি স্থানান্তরিত হব।' আমি বললাম, 'হে আবু আব্দুল্লাহ, এতে আপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে আমার ভয় হচ্ছে।' তিনি বললেন, 'নবিজি গুহার মধ্যে তিনদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। আমাদের উচিত হবে না যে, কেবল সুসময়ে আমার তাঁর সুন্নাহ মেনে চলব এবং কঠিন সময় তা ছেড়ে দেবো।'
'তাঁর ছিল সুউচ্চ মনোবল, যার উচ্চতার কোনো শেষ নেই। তাঁর সর্বনিম্ন সাহসিকতাটাও যুগের পরিধির চেয়ে বড় ছিল। তাঁর হাত ছিল উদার ও দানশীল। তাঁর উদারতার এক-দশমাংশও যদি ভূ-ভাগের কোনো অংশে রাখা হয়, তখন পৃথিবীর ভূ-ভাগ সাগরের চেয়ে উদার প্রমাণিত হবে।'
তাঁর কারামাত ও পুণ্যকর্মের ঝলক দেখুন:
ওয়ারকানি বলেন, 'আহমাদ বিন হাম্বল যে রাতে ইনতিকাল করেন, সে রাতে বিশ হাজার ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অগ্নিউপাসক ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয়। মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অগ্নিউপাসক—সবাই তাঁকে হারানোর ব্যথায় মাতম করেছিল।'
ইবনুল জাওজি বলেন, '৫৫৪ হিজরিতে বাগদাদে বন্যা হলে আমার সকল কিতাব বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সেগুলো থেকে একটি খণ্ড অক্ষত থেকে যায়, যেটাতে ইমাম আহমাদ -এর লিখিত দুটি পৃষ্ঠা ছিল。
প্রধান বিচারপতি আলি বিন হাসান জাইনাবি বলেন, 'একদা তাদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেদিন ঘরে যত কিতাব ছিল, সব জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে একটি কিতাব রক্ষা পেয়ে যায়, যাতে ইমাম আহমাদ -এর লিখিত একটি অংশ ছিল。
শামসুদ্দিন জাহাবি বলেন, '৭২০ হিজরির পরে বাগদাদে এক ভয়াবহ প্লাবন হয়। যে কবরস্থানে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল -এর কবর আছে, তার চতুষ্পার্শ্বে এক হাত পরিমাণ পানি উঠেছিল। অতঃপর আল্লাহর কুদরতে সে পানি থেমে যায় এবং ইমামের কবরের আশপাশের জমি প্লাবন থেকে সুরক্ষিত থাকে। বস্তুত এটা ছিল এক অলৌকিক ঘটনা。
ফাতিমা বিনতে আহমাদ বিন হাম্বল নিজ পিতা সম্পর্কে একটি আশ্চর্য ঘটনা বর্ণনা করেছেন:
আমার ভাই সালিহের ভাষায় আগুন লাগল। তিনি একটি সচ্ছল পরিবারের মেয়ে বিয়ে করেছিলেন। তারা তাকে প্রায় চার হাজার দিনার সমমূল্যের আসবাবপত্র হাদিয়া দিয়েছিল। সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। সালিহ বলতে লাগলেন, 'যা কিছু হারিয়েছি কোনো কিছুর প্রতি আমার আফসোস নেই, তবে আমার পিতার একটি কাপড়ের জন্য আমার আফসোস হচ্ছে, যার ওপর তিনি নামাজ পড়তেন এবং তাঁর পরে বরকত লাভের জন্য আমিও নামাজ পড়তাম।' ফাতিমা বলেন, 'আগুন নিভে যাওয়ার পর লোকেরা বাড়িতে প্রবেশ করে দেখল, একটি খাটের ওপর কাপড়টি পড়ে আছে। তার আশপাশের সবকিছু জ্বলে ছাই হয়ে গেলেও কাপড়টি সম্পূর্ণ অক্ষত থেকে যায়!'
টিকাঃ
৩৩২. সুরা আর-রহমান, ৫৫: ৬০।
৩৩৩. শুআবুল ইমান, আবু বকর বাইহাকি ২/১৯।
৩৩৪. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১১/২১৩।
৩৩৫. আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ ওয়াল মিনাহিল মারয়িয়্যাহ : ২/২১।
৩৩৬. তারিখু বাগদাদ: ৫/১৮৮।
৩৩৭. আল-আদাবুশ শারয়িয়্যাহ ওয়াল মিনাহিল মারয়িয়্যাহ: ২/১৩।
৩৩৮. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১১/২৩০।
৩৩৯. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১১/২৩১।
৩৪০. আল-আদাবুশ শারয়িয়্যাহ ওয়াল মিনাহিল মারয়িয়্যাহ : ২/১২।
📄 মাসব্যাপী বদদুআ
নেককার উজির ইয়াহইয়া বিন হুবাইরা -এর কারামত ছিল একটি চমৎকার কারামত। তিনি আল্লাহর সাথে উত্তম আচরণ করেছেন। আল্লাহকে ভয় করেছেন এবং প্রজাদের প্রতি এমন ইনসাফ করেছেন যে, তাঁর চরিত্রকে মানুষ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের একটি প্রমাণ হলো, একদা তিনি কবুল হওয়ার দৃঢ় আশা নিয়ে এক মাস পর্যন্ত আল্লাহর কাছে একটি বিষয়ে দুআ করেছিলেন। সে দুআ আল্লাহ কবুল করেছিলেন। ঘটনাটি ইবনুল জাওজি বর্ণনা করেছেন :
যখন সুলতান মাসউদ সেলজুকি ও তাঁর অনুসারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেল এবং তারা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করতে লাগল, তখন উজির ইয়াহইয়া বিন হুবাইরা এবং খলিফা মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ইচ্ছা করলেন।
ইয়াহইয়া বলেন, 'অতঃপর আমি এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখলাম। বুঝতে পারলাম, সুলতানের যা দাপট, এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো ঠিক হবে না। খফিলা মুকতাফির সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করলাম। তাঁকে জানালাম, এ পরিস্থিতিতে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা এবং তাঁর ওপর পূর্ণরূপে ভরসা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমার কথায় তিনি দ্বিমত করেননি। বললেন, আসলেই এর অন্য কোনো উপায় দেখছি না। অতঃপর আমি তাঁকে চিঠি লিখে জানালাম, রাসুল রাল ও জিকওয়ান নামক দুই কিলার জন্য মাসব্যাপী বদদুআ করেছিলেন। আমাদেরও তার জন্য মাসব্যাপী বদদুআ করতে হবে। খলিফা আমার প্রস্তাবে সম্মত হলেন।'
উজির বলেন, 'অতঃপর আমি প্রতিদিন রাতের শেষভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে শুরু করলাম। এভাবে এক মাস অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথেই মাসউদ মৃত্যুবরণ করলেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের দুআ কবুল করলেন এবং ইরাকের ওপর থেকে মাসউদ ও তার অনুসারীদের কালো হাত সরিয়ে দিলেন। এভাবে বিনা রক্তপাতে তাদের শাসিত ভূমির কর্তৃত্ব আল্লাহ তাআলা আমাদের হাতে তুলে দিলেন। ঘটনাটি খলিফা ও উজিরের কারামত হিসেবে আলোচনা করা হয়。
টিকাঃ
৩৪১. জাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ: ১/১২৭-১২৮।
📄 অধিক ফলদায়ক সৎকর্মসমূহ
ইবরাহিম বিন আলি মারসাদি বলেন, 'আল্লাহকে তুমি চেনো, কিন্তু তাঁকে ভালোবাসো না; অথবা তাঁকে ভালোবাসো, কিন্তু তাঁর জিকির করো না; অথবা তাঁর জিকির করো, কিন্তু সে জিকিরে স্বাদ পাও না; অথবা জিকিরের স্বাদ পাও, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে ছাড়া অন্যকিছুতে মেতে থাকো—এমনটা হওয়া অসম্ভব।'
আবু সুলাইমান দারানি বলেন, 'যে দিনের বেলা সৎকর্ম করে, তাকে রাতে সৎকর্ম করার তাওফিক দেওয়া হয়। অনুরূপভাবে যে রাতে সৎকর্ম করে, তাকে দিনে সৎকর্ম করার তাওফিক দেওয়া হয়।'
ভালো আমলের একটি উপকারিতা হচ্ছে, আমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো ভালো আমল করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে আরও একটি ভালো আমল করার তাওফিক দান করেন। সেই ভালো কাজ আরেকটি ভালো কাজকে টেনে আনে...এভাবে চলতে থাকে।
সুতরাং যদি তুমি রাতে কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) আদায় করার সুযোগ লাভ করতে চাও, তাহলে দিনের বেলায় দৃষ্টি নত রাখার ভালো কাজটি আগে করে নাও। যদি ফজরের নামাজের সাওয়াব অর্জন করতে আগ্রহী হও, তাহলে এর পূর্বে গোপনে সদাকা করার ভালো কাজটি সেরে নাও। যদি নামাজের মধ্যে খুশুখুজুর (একাগ্রতা ও বিনম্রতা) সাওয়াব লাভ করতে চাও, তাহলে সকাল সকাল মসজিদে চলে আসার ভালো কাজটি আগে করো।
জুবাইর বিন আওয়াম ছিলেন একজন প্রকৃত আল্লাহওয়ালা বান্দা—যাঁর সৃষ্টি তো মাটি থেকে, তবে গঠিত হয়েছেন ইলমে ওহির নুর এবং কুরআনের মহত্ত্ব দ্বারা। তিনি তাঁর দীর্ঘ ইমানি জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি কথা বলেছেন। কথাটি এতটাই মূল্যবান যে, পারলে এটাকে গলায় ঝুলিয়ে রেখো। আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর-এর উদ্ধৃতিতে বাণীটি নিম্নরূপ :
'যখন তুমি কোনো মানুষকে কোনো উত্তম কাজ করতে দেখবে, তখন বুঝে নেবে, লোকটি এ ধরনের ভালো কাজ আরও অনেক করে। তেমনিভাবে কাউকে কোনো মন্দ কাজ করতে দেখলে বুঝে নেবে, সে এ ধরনের মন্দ কাজ আরও করে। কেননা, একটি ভালো কাজ তার মতো আরও অসংখ্য ভালো কাজের প্রমাণ বহন করে। অনুরূপভাবে একটি মন্দ কাজ তার মতো আরও অসংখ্য মন্দ কাজের অস্তিত্বের জানান দেয়। '
ইমাম ইবনুল কাইয়িম আমাদের সামনে একটি উদাহরণ দিয়েছেন, যার সাহায্যে আমরা নিজেদের মনকে ভালো কাজ ও ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করতে পারি। তিনি বলেন, 'ইবাদতের সূচনা, ক্রমান্বয়ে বেড়ে ওঠা ও বৃদ্ধি পাওয়ার দৃষ্টান্ত হলো একটি খেজুরবিচি, যা রোপণ করা হয় অতঃপর ধীরে ধীরে সেটা গাছ হয়ে ওঠে। তারপর তুমি সেই গাছের ফল খাও এবং বিচি রোপণ করে দাও। সুতরাং যখনই তুমি একটি ভালো কাজ করবে, সে ভালো কাজের সাওয়াব অর্জন করার পাশাপাশি আরেকটি ভালো কাজের বীজ বপীত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে একটি পাপ আরেকটি পাপকে টেনে নিয়ে আসে। বুদ্ধিমানদের এ উদাহরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। উত্তম আমলের অন্যতম একটি উপকারিতা হচ্ছে, তার পরে আরও একটি উত্তম আমল করার সৌভাগ্য অর্জিত হয়। একইভাবে মন্দ আমলের একটি অপকারিতা হচ্ছে, সেটি তার পরে আরেকটি মন্দ আমলকে টেনে আনে。
আল্লাহর প্রকৃত বান্দাদের নেক আমলে ধারাবাহিকতা থাকে। তাদের সৎকর্মগুলো ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বরকত তাদের কাছে এসে ভিড় জমায়। একপর্যায়ে তাদের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, ইবাদত-বন্দেগি তাদের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনে পরিণত হয়। অল্পক্ষণের জন্য ইবাদত বন্ধ থাকলে তাদের দম আটকে যায়।
টিকাঃ
৩৪২. শুআবুল ইমান: ২/১৮।
৩৪৩. সিফাতুস সাফওয়াহ: ২/৩৮৪।
৩৪৪. সিফাতুস সাফওয়াহ: ১/৩৪৯।
৩৪৫. আল-ফাওয়ায়িদ : পৃ. ৩৫, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ।