📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 দরিদ্র আজহারি

📄 দরিদ্র আজহারি


বর্ণিত আছে যে, উচ্চ মিসরীয় এক ছাত্র আজহারে পড়তে আসলো এবং একজন শাইখের দারসে বসে পাঠ আরম্ভ করল; কিন্তু বাড়ি থেকে তার খাওয়া-দাওয়ার খরচ পাঠাতে দেরি হলো। তাই সে ক্ষুধার তাড়নায় শাইখের দারস থেকে আলাদা হয়ে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। চলতে চলতে একটি সংকীর্ণ গলিতে প্রবেশ করল। সেখানে একটি খোলা দরজার ভেতর খাবারের স্তুপ দেখতে পেয়ে তা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াল। এক লুকমা মুখে রাখতেই তার মনে পড়ল, সে তো ইলম অর্জন করার জন্য এসেছে। ইলম হচ্ছে আলো আর এ খাবার থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়া যা খাবে তা অন্তরের জন্য অন্ধকার হবে। আলো ও অন্ধকার এক জায়গায় একত্রিত হয় না। একটা আরেকটাকে তাড়িয়ে দেয়। এই ভেবে সে খাবার না খেয়েই শাইখের দারসে ফিরে আসলো। অথচ সে সময় তার ক্ষুধা কত মারাত্মক পর্যায়ের ছিল, তা আল্লাহই ভালো জানেন।

দারস শেষে একজন মহিলা এসে শাইখের সাথে নিচু স্বরে কথা বললেন। উপস্থিত কেউই তার কথা শুনতে পায়নি। মহিলা চলে যাওয়ার পর শাইখ গরিব ছাত্রটিকে বললেন, 'বিয়ে করবে?' সে বলল, 'শাইখ কি আমার সাথে রসিকতা করছেন? ওয়াল্লাহি, গত তিনদিন থেকে আমার পেটে এক লুকমা খাবার যায়নি। এমন অবস্থায় আমি কীভাবে বিয়ে করব?' শাইখ বললেন, 'এই যে মহিলাটি এখানে এসেছিলেন, তার স্বামী গত হয়েছেন কিছুদিন আগে। মৃত্যুকালে তিনি একটি নেককার মেয়ে এবং অনেক ধন-সম্পদ রেখে গিয়েছেন। এখন তার মা চাইছেন একজন নেককার পুরুষের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দেবেন এবং ধন-সম্পদ তার হাতে দিয়ে দেবেন।' যুবক বলল, 'তাহলে ঠিক আছে।' এরপর সবাই বেরিয়ে পড়ল। তার গন্তব্য ছিল ঠিক সেই ঘরটি, ইতিপূর্বে যে ঘর থেকে খাবার না খেয়ে যুবকটি চলে গিয়েছিল। ঘরটি দেখেই যুবক কেঁদে দিল।

শাইখ বললেন, 'কাঁদছ কেন? এই বিয়েতে কি তুমি রাজি নও?' সে বলল, 'তা নয়; বরং একটু আগে ক্ষুধার তাড়নায় এই ঘরে ঠিক এই খাবার থেকে হারাম উপায়ে আমি খেতে যাচ্ছিলাম, পরে আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করেছি। এখন আল্লাহ তাআলা আমাকে হালাল উপায়ে সেই খাবার তো ফিরিয়ে দিয়েছেনই, সাথে আরও বড় পুরস্কার দান করেছেন!'

টিকাঃ
৩২৬. মিসরের দক্ষিণ ভাগ। দক্ষিণে নুবিয়া ও উত্তরে নিম্ন মিসরের মধ্যবর্তী নীলনদের দুই পার্শ্বস্থ এলাকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। (-অনুবাদক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00