📄 যা আগে পাঠিয়ে দেবে, তা অবশ্যই পাবে
এটি একটি সুনির্দিষ্ট মূলনীতি। আব্দুল্লাহ বিন উমর-এর সাথে কী হয়েছে দেখো:
তিনি তার একটি গোলাম ৮০০ দিরহামের বিনিময়ে দোষমুক্তির নিশ্চয়তা দিয়ে বিক্রি করলেন। অতঃপর ক্রেতা ইবনে উমর-কে বললেন, 'গোলামের মধ্যে একটি রোগ আছে, যার কথা আপনি আমাকে বলেননি।' দুজনে উসমান বিন আফফান-এর নিকট বিচার নিয়ে গেলেন। ক্রেতা বললেন, 'তিনি আমাকে একটি গোলাম বিক্রি করেছেন, গোলামের মধ্যে একটি রোগ আছে, যার ব্যাপারে তিনি আমাকে বলেননি।' আব্দুল্লাহ বিন উমর বললেন, 'আমি গোলামটিকে দোষমুক্তির নিশ্চয়তা দিয়ে বিক্রি করেছি।' এরপর উসমান আব্দুল্লাহ বিন উমর-কে এই মর্মে শপথ করতে বললেন যে, তিনি গোলামটি বিক্রি করার সময় তাঁর জানামতে কোনো রোগ ছিল না। কিন্তু ইবনে উমর শপথ করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং গোলামটি ফেরত নিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি গোলামটিকে ১৫০০ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করলেন。
তিনি চাইলে শপথ করে বিক্রয়চুক্তি বহাল রাখতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহর মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর নামে শপথ করা থেকে বিরত থাকলেন এবং পণ্য ফেরত নিয়ে নিলেন। ফলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দ্বিগুণ মুনাফা দান করলেন। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নাও এবং নিজের জীবনে তার প্রয়োগ ঘটাও। জেনে রাখো, আল্লাহর উদারতা ও দানশীলতা তোমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি এবং উন্নত। তুমি হয়তো বলতে পারো, আমরা কি আর সোনালি যুগের সালাফের মতো অতটা ত্যাগী হতে পারব নাকি? তাই তোমার জন্য সমসাময়িক একজন মনীষীর ঘটনা উল্লেখ করছি। এক দরিদ্র আজহারির ঘটনা। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।
টিকাঃ
৩২৪. বিক্রয়-চুক্তির সময় ক্রেতা পণ্য ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত হবে, পণ্যের মধ্যে কোনো দোষ নেই। এ ধরনের বিক্রয়-চুক্তির পর পণ্যের মধ্যে কোনো দোষ পাওয়া গেলে বিক্রেতা পণ্য ফেরত নিতে বাধ্য থাকে না। (-অনুবাদক)
৩২৫. মুয়াত্তা মালিক: ২/৩০৯।
📄 দরিদ্র আজহারি
বর্ণিত আছে যে, উচ্চ মিসরীয় এক ছাত্র আজহারে পড়তে আসলো এবং একজন শাইখের দারসে বসে পাঠ আরম্ভ করল; কিন্তু বাড়ি থেকে তার খাওয়া-দাওয়ার খরচ পাঠাতে দেরি হলো। তাই সে ক্ষুধার তাড়নায় শাইখের দারস থেকে আলাদা হয়ে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। চলতে চলতে একটি সংকীর্ণ গলিতে প্রবেশ করল। সেখানে একটি খোলা দরজার ভেতর খাবারের স্তুপ দেখতে পেয়ে তা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াল। এক লুকমা মুখে রাখতেই তার মনে পড়ল, সে তো ইলম অর্জন করার জন্য এসেছে। ইলম হচ্ছে আলো আর এ খাবার থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়া যা খাবে তা অন্তরের জন্য অন্ধকার হবে। আলো ও অন্ধকার এক জায়গায় একত্রিত হয় না। একটা আরেকটাকে তাড়িয়ে দেয়। এই ভেবে সে খাবার না খেয়েই শাইখের দারসে ফিরে আসলো। অথচ সে সময় তার ক্ষুধা কত মারাত্মক পর্যায়ের ছিল, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
দারস শেষে একজন মহিলা এসে শাইখের সাথে নিচু স্বরে কথা বললেন। উপস্থিত কেউই তার কথা শুনতে পায়নি। মহিলা চলে যাওয়ার পর শাইখ গরিব ছাত্রটিকে বললেন, 'বিয়ে করবে?' সে বলল, 'শাইখ কি আমার সাথে রসিকতা করছেন? ওয়াল্লাহি, গত তিনদিন থেকে আমার পেটে এক লুকমা খাবার যায়নি। এমন অবস্থায় আমি কীভাবে বিয়ে করব?' শাইখ বললেন, 'এই যে মহিলাটি এখানে এসেছিলেন, তার স্বামী গত হয়েছেন কিছুদিন আগে। মৃত্যুকালে তিনি একটি নেককার মেয়ে এবং অনেক ধন-সম্পদ রেখে গিয়েছেন। এখন তার মা চাইছেন একজন নেককার পুরুষের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দেবেন এবং ধন-সম্পদ তার হাতে দিয়ে দেবেন।' যুবক বলল, 'তাহলে ঠিক আছে।' এরপর সবাই বেরিয়ে পড়ল। তার গন্তব্য ছিল ঠিক সেই ঘরটি, ইতিপূর্বে যে ঘর থেকে খাবার না খেয়ে যুবকটি চলে গিয়েছিল। ঘরটি দেখেই যুবক কেঁদে দিল।
শাইখ বললেন, 'কাঁদছ কেন? এই বিয়েতে কি তুমি রাজি নও?' সে বলল, 'তা নয়; বরং একটু আগে ক্ষুধার তাড়নায় এই ঘরে ঠিক এই খাবার থেকে হারাম উপায়ে আমি খেতে যাচ্ছিলাম, পরে আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করেছি। এখন আল্লাহ তাআলা আমাকে হালাল উপায়ে সেই খাবার তো ফিরিয়ে দিয়েছেনই, সাথে আরও বড় পুরস্কার দান করেছেন!'
টিকাঃ
৩২৬. মিসরের দক্ষিণ ভাগ। দক্ষিণে নুবিয়া ও উত্তরে নিম্ন মিসরের মধ্যবর্তী নীলনদের দুই পার্শ্বস্থ এলাকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। (-অনুবাদক)