📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 আল্লাহর জন্য ত্যাগ স্বীকার

📄 আল্লাহর জন্য ত্যাগ স্বীকার


প্রসিদ্ধ তাবিয়ি কাতাদা বিন দিআমাহ সাদুসি বলেন, 'যখন কোনো ব্যক্তি কোনো হারাম কাজ সম্পাদন করার সামর্থ্য রাখা সত্ত্বেও একমাত্র আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাআলা আখিরাতের পূর্বে দুনিয়াতেই তাকে এর চেয়ে উত্তম বদলা দান করেন।'

চলো, কয়েকটি হাদিসাংশ থেকে তাঁর কথার যথার্থতা জেনে নিই:
مَا نَقَصَ مَالٌ مِنْ صَدَقَةٍ
'সদাকা করলে সম্পদ কমে না।'

وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ، إِلَّا عِزَّا
'(প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও) কোনো বান্দা যদি ক্ষমা করে দেয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার সম্মান বৃদ্ধি করেন।'

مَنْ كَانَتِ الْآخِرَةُ هَمَّهُ ... وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ
'যে ব্যক্তি আখিরাতকে তার ধ্যান-জ্ঞান বানিয়ে নেয়,... দুনিয়া না চাওয়া সত্ত্বেও তার হাতে এসে ধরা দেবে।'

مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرُ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ، دَعَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيَّرَهُ اللَّهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ
'যে ব্যক্তি রাগ প্রয়োগের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে তাকে সকল মাখলুকের সামনে ডেকে এনে ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা বেছে নেওয়ার ইচ্ছাধিকার দান করবেন। '

مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ
'আল্লাহর জন্য যে বিনয় অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাআলা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।'

مَنْ تَرَكَ اللَّبَاسَ تَوَاضُعًا لِلَّهِ وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَيْهِ دَعَاهُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ حَتَّى يُخَيَّرَهُ مِنْ أَيِّ حُلَلِ الْإِيمَانِ شَاءَ يَلْبَسُهَا
'যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য বিনয়াবনত হয়ে বিলাসী পোশাক ত্যাগ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সকল মাখলুকের সামনে তাকে ডাকবেন এবং জান্নাতি পোশাকসমূহের মধ্য থেকে যেটা ইচ্ছা বেছে নেওয়ার অধিকার দান করবেন। '

উপরিউক্ত সকল কথা নবিজি -এর সহিহ অথবা হাসান হাদিসের অংশ। প্রতিটি হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেয়, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে উত্তম বদলা দান করেন এবং মৃত্যুর পূর্বে দুনিয়াতেও তার সাওয়াব দান করেন। এটি একটি ইমানি মূলনীতি, যার মূলভাব হচ্ছে :
'যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে তার চেয়ে উত্তম বদলা দান করবেন।'

এটা এমন এক পাঠ, যা একজন গ্রাম্য সাহাবিকে রাসুল হাত ধরে শিক্ষা দিয়েছেন। বলেছেন:

إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا اتَّقَاءَ اللَّهِ إِلَّا أَعْطَاكَ اللَّهُ خَيْرًا مِنْهُ
'তুমি আল্লাহর ভয়ে যা-ই পরিত্যাগ করবে, বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার চেয়ে উত্তম বস্তু তোমাকে দান করবেন।'

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করার বিনিময়ে তিনি যে প্রতিদান দান করেন, ইবনুল কাইয়িম সে প্রতিদানের প্রকারসমূহ বিশ্লেষণ করেছেন। অতঃপর সর্বোত্তম প্রকারটি চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, 'প্রতিদান বিভিন্ন ধরনের আছে। সেগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে আল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠতা ও ভালোবাসা, হৃদয়ের প্রশান্তি, শক্তি, প্রফুল্লতা, আনন্দ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।'

প্রতিদানটা কলবে পাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ, কলবের প্রশান্তি ও আনন্দ শরীরের সুখ ও স্বাদের উৎস। সুফইয়ান বিন উয়াইনা আব্দুল্লাহ বিন মারজুক-কে একটি বালুকাময় প্রান্তরে পেলেন, যে অবস্থায় তাঁর পাশে ছিল বিক্ষিপ্ত বালির টিলা। তাঁকে এ অবস্থায় দেখে সুফইয়ান বললেন, 'হে আবু মুহাম্মাদ, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু পরিত্যাগ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই বদলা দিয়ে দেন। তো আপনি যা ত্যাগ করেছেন, তার বিনিময়ে কী পেয়েছেন?' তিনি বললেন, 'আমি বর্তমানে যে অবস্থায় আছি, তার প্রতি সন্তুষ্টি।'

আল্লাহর এই নীতিসম্পর্কিত কোনো না কোনো ঘটনা আমাদের প্রত্যেকের সাথে ঘটেছে। স্মৃতির ডাইরির পাতা উল্টালে অবশ্যই তা চোখে পড়বে। ভবিষ্যতের দিগন্তে আলোর আগমন ঘটাতে হলে এসব অতীত ঘেঁটে দেখা জরুরি। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া যথার্থই বলেছেন, 'আল্লাহর জন্য যে কোনো কিছু বিসর্জন দিল, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর ওপর। '

কেউ আল্লাহর জন্য ত্যাগ স্বীকার করল; কিন্তু আল্লাহ তার বিনিময় দান করেননি এবং যা ত্যাগ করেছে তার চেয়ে উত্তম বিনিময় দেননি—এমনটা হওয়া অসম্ভব। যদি তুমি মনে করো যে, তুমি প্রতিদান পাওনি, তাহলে নিজেকেই অভিযুক্ত করো এবং গভীর মনোনিবেশ নিয়ে চিন্তা করে দেখো, আসল সমস্যা কোথায়। কেননা, আল্লাহ তাআলা হচ্ছেন অধিক দানশীল এবং তাঁর উদারতা অনেক ব্যাপক ও সর্বজনবিদিত।

এ জন্য খাওয়াস বলেন, 'কেউ প্রবৃত্তির চাহিদা ছেড়ে দিল; কিন্তু অন্তরে তার প্রতিদান অনুভব করেনি, প্রবৃত্তির চাহিদা ত্যাগ করার দাবিতে সে মিথ্যুক।'

কথাটিকে আরও স্পষ্ট করে ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ও অভ্যাস পরিত্যাগ করলে মনের ভেতর কষ্ট অনুভব হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহর জন্য তা পরিত্যাগ করে, সে প্রথম ধাক্কায় একটু কষ্ট অনুভব করলেও পরে আর অনুভব করে না। বস্তুত এর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য ত্যাগ করার ক্ষেত্রে কে কতটা আন্তরিক তার পরীক্ষা করা হয়। এই সাময়িক কষ্টের ওপর যদি কেউ সবর করে, কিছুদিন যেতে না যেতেই এই কষ্টকেই তার কাছে সুখ মনে হয়。

টিকাঃ
৩১১. জাম্মুল হাওয়া: পৃ. ২৪৫।
৩১২. আল-মুজামল আওসাত: ২২৭০।
৩১৩. সহিহু মুসলিম: ২৫৮৮।
৩১৪. সুনানুত তিরমিজি: ২৪৬৫।
৩১৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪৭৭৭।
৩১৬. আল-মুজামুল আওসাত: ৮৩০৭।
৩১৭. সুনানুত তিরমিজি: ২৪৮১।
৩১৮. মুসনাদু আহমাদ: ২০৭৩৯, হাদিসটি সহিহ। ৩৩ নং ফায়দা: যেকোনো ভালো কাজের প্রভাব তোমার পরবর্তী প্রজন্মের ওপর পড়বে। কেননা, আল্লাহর জন্য কোনোকিছু ত্যাগ করার বরকত পরবর্তী প্রজন্ম ভোগ করে। বর্ণিত আছে যে, খলিফা মুতাওয়াক্কিল একবার মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন আবু শাওয়ারিব, আহমাদ বিন মিদাল, ইবরাহিম তাইমি এ-কে বসরা থেকে ডেকে এনে সেখানকার কাজি হওয়ার প্রস্তাব পেশ করলেন। কিন্তু মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বয়স বেশি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রস্তাব গ্রহণে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন। আহমাদ বিন মিদালও দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতার কথা বলে অপারগতা প্রকাশ করলেন। ইবরাহিম তাইমিও প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন; কিন্তু মুতাওয়াক্কিল তাকে বললেন, 'আপনি ছাড়া এখন আর কেউ বাকি নেই।' তাই একপ্রকার জোর করেই তাকে কাজি নিযুক্ত করলেন। ফলে আলিমদের কাছে ইবরাহিম তাইমির মর্যাদা হ্রাস পেল এবং বাকি দুজনের মর্যাদা বৃদ্ধি পেল। আবুল আলা বলেন, 'এরপর মানুষ দেখতে পেয়েছে, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার বরকত তার সন্তানদের মধ্যে কীভাবে উপচে পড়েছে। তার সন্তানদের মধ্য থেকে একে একে ২৪ জন কাজি হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে আট জন প্রধান কাজি হয়েছেন।' (তারিখু বাগদাদ: ৬/১৯৭)
৩১৯. আল-ফাওয়ায়িদ: পৃ. ১০৭।
৩২০. আজ-জুহদুল কাবির: ১/৩৩৭।
৩২১. কায়িদাহ ফিস সবর: পৃ. ৯৯।
৩২২. আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়‍্যা: পৃ. ২৮৭। ৩৫ নং ফায়দা : ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'বান্দা হারামে জড়িয়ে পড়ার পেছনে মোটাদাগে দুটি কারণ আছে। প্রথম কারণ: আল্লাহর ব্যাপারে সে বিরূপ ধারণা পোষণ করে যে, সে যদি আল্লাহর আনুগত্য করে এবং হারাম ত্যাগ করাকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে হালাল ও উত্তম বিনিময় দান করবেন না। দ্বিতীয় কারণ: সে বুঝতে পারে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম বিনিময়ে দেবেন; কিন্তু তার চাহিদা সবরের ওপর এবং প্রবৃত্তি বিবেকের ওপর বিজয়ী হয়ে যায়। প্রথম কারণটি জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে এবং দ্বিতীয় কারণটি বিবেক-বুদ্ধি ও অন্তর্দৃষ্টি দুর্বল হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
৩২৩. আল-ফাওয়ায়িদ: ১/১০৭।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 যা আগে পাঠিয়ে দেবে, তা অবশ্যই পাবে

📄 যা আগে পাঠিয়ে দেবে, তা অবশ্যই পাবে


এটি একটি সুনির্দিষ্ট মূলনীতি। আব্দুল্লাহ বিন উমর-এর সাথে কী হয়েছে দেখো:
তিনি তার একটি গোলাম ৮০০ দিরহামের বিনিময়ে দোষমুক্তির নিশ্চয়তা দিয়ে বিক্রি করলেন। অতঃপর ক্রেতা ইবনে উমর-কে বললেন, 'গোলামের মধ্যে একটি রোগ আছে, যার কথা আপনি আমাকে বলেননি।' দুজনে উসমান বিন আফফান-এর নিকট বিচার নিয়ে গেলেন। ক্রেতা বললেন, 'তিনি আমাকে একটি গোলাম বিক্রি করেছেন, গোলামের মধ্যে একটি রোগ আছে, যার ব্যাপারে তিনি আমাকে বলেননি।' আব্দুল্লাহ বিন উমর বললেন, 'আমি গোলামটিকে দোষমুক্তির নিশ্চয়তা দিয়ে বিক্রি করেছি।' এরপর উসমান আব্দুল্লাহ বিন উমর-কে এই মর্মে শপথ করতে বললেন যে, তিনি গোলামটি বিক্রি করার সময় তাঁর জানামতে কোনো রোগ ছিল না। কিন্তু ইবনে উমর শপথ করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং গোলামটি ফেরত নিয়ে নিলেন। অতঃপর তিনি গোলামটিকে ১৫০০ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করলেন。

তিনি চাইলে শপথ করে বিক্রয়চুক্তি বহাল রাখতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহর মর্যাদার প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর নামে শপথ করা থেকে বিরত থাকলেন এবং পণ্য ফেরত নিয়ে নিলেন। ফলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দ্বিগুণ মুনাফা দান করলেন। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নাও এবং নিজের জীবনে তার প্রয়োগ ঘটাও। জেনে রাখো, আল্লাহর উদারতা ও দানশীলতা তোমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি এবং উন্নত। তুমি হয়তো বলতে পারো, আমরা কি আর সোনালি যুগের সালাফের মতো অতটা ত্যাগী হতে পারব নাকি? তাই তোমার জন্য সমসাময়িক একজন মনীষীর ঘটনা উল্লেখ করছি। এক দরিদ্র আজহারির ঘটনা। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।

টিকাঃ
৩২৪. বিক্রয়-চুক্তির সময় ক্রেতা পণ্য ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত হবে, পণ্যের মধ্যে কোনো দোষ নেই। এ ধরনের বিক্রয়-চুক্তির পর পণ্যের মধ্যে কোনো দোষ পাওয়া গেলে বিক্রেতা পণ্য ফেরত নিতে বাধ্য থাকে না। (-অনুবাদক)
৩২৫. মুয়াত্তা মালিক: ২/৩০৯।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 দরিদ্র আজহারি

📄 দরিদ্র আজহারি


বর্ণিত আছে যে, উচ্চ মিসরীয় এক ছাত্র আজহারে পড়তে আসলো এবং একজন শাইখের দারসে বসে পাঠ আরম্ভ করল; কিন্তু বাড়ি থেকে তার খাওয়া-দাওয়ার খরচ পাঠাতে দেরি হলো। তাই সে ক্ষুধার তাড়নায় শাইখের দারস থেকে আলাদা হয়ে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। চলতে চলতে একটি সংকীর্ণ গলিতে প্রবেশ করল। সেখানে একটি খোলা দরজার ভেতর খাবারের স্তুপ দেখতে পেয়ে তা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াল। এক লুকমা মুখে রাখতেই তার মনে পড়ল, সে তো ইলম অর্জন করার জন্য এসেছে। ইলম হচ্ছে আলো আর এ খাবার থেকে মালিকের অনুমতি ছাড়া যা খাবে তা অন্তরের জন্য অন্ধকার হবে। আলো ও অন্ধকার এক জায়গায় একত্রিত হয় না। একটা আরেকটাকে তাড়িয়ে দেয়। এই ভেবে সে খাবার না খেয়েই শাইখের দারসে ফিরে আসলো। অথচ সে সময় তার ক্ষুধা কত মারাত্মক পর্যায়ের ছিল, তা আল্লাহই ভালো জানেন।

দারস শেষে একজন মহিলা এসে শাইখের সাথে নিচু স্বরে কথা বললেন। উপস্থিত কেউই তার কথা শুনতে পায়নি। মহিলা চলে যাওয়ার পর শাইখ গরিব ছাত্রটিকে বললেন, 'বিয়ে করবে?' সে বলল, 'শাইখ কি আমার সাথে রসিকতা করছেন? ওয়াল্লাহি, গত তিনদিন থেকে আমার পেটে এক লুকমা খাবার যায়নি। এমন অবস্থায় আমি কীভাবে বিয়ে করব?' শাইখ বললেন, 'এই যে মহিলাটি এখানে এসেছিলেন, তার স্বামী গত হয়েছেন কিছুদিন আগে। মৃত্যুকালে তিনি একটি নেককার মেয়ে এবং অনেক ধন-সম্পদ রেখে গিয়েছেন। এখন তার মা চাইছেন একজন নেককার পুরুষের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দেবেন এবং ধন-সম্পদ তার হাতে দিয়ে দেবেন।' যুবক বলল, 'তাহলে ঠিক আছে।' এরপর সবাই বেরিয়ে পড়ল। তার গন্তব্য ছিল ঠিক সেই ঘরটি, ইতিপূর্বে যে ঘর থেকে খাবার না খেয়ে যুবকটি চলে গিয়েছিল। ঘরটি দেখেই যুবক কেঁদে দিল।

শাইখ বললেন, 'কাঁদছ কেন? এই বিয়েতে কি তুমি রাজি নও?' সে বলল, 'তা নয়; বরং একটু আগে ক্ষুধার তাড়নায় এই ঘরে ঠিক এই খাবার থেকে হারাম উপায়ে আমি খেতে যাচ্ছিলাম, পরে আল্লাহর ভয়ে তা পরিত্যাগ করেছি। এখন আল্লাহ তাআলা আমাকে হালাল উপায়ে সেই খাবার তো ফিরিয়ে দিয়েছেনই, সাথে আরও বড় পুরস্কার দান করেছেন!'

টিকাঃ
৩২৬. মিসরের দক্ষিণ ভাগ। দক্ষিণে নুবিয়া ও উত্তরে নিম্ন মিসরের মধ্যবর্তী নীলনদের দুই পার্শ্বস্থ এলাকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। (-অনুবাদক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00