📄 একটি ভুল ধারণা
কেউ কেউ মনে করে যে, রাতে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে সকালে খুব চাঙাভাব ও কর্মোদ্দীপনা নিয়ে জাগ্রত হওয়া যাবে। ফলে ফজরের নামাজের সময়টিও সে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু সে জানে না, এর কারণে তার মাঝে পুরো দিনের জন্য অলসতা চলে আসে। কেননা, বরকতের ভান্ডারের একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। তা ছাড়া ফজরের নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির ব্যাপারে হাদিসে এসেছে:
أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
'সে অলসতা ও কলুষতাপূর্ণ মন নিয়ে সকালে উপনীত হয়।'
হে ঘুমকাতুরে চোখ, তুমি জাগ্রত চোখের খবর জানো না! হায়, যদি তুমি বিনিদ্র থাকার স্বাদ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারতে!
বিনিদ্র থাকার যে আনন্দ ও স্বাদ, তা যদি আমি প্রকাশ করতে চাই, তাহলে বলব:
যারা জাগ্রত থাকে, তাদের অন্তরসমূহে প্রবাহিত হয় জান্নাতের মৃদুমন্দ বাতাস। ঘুমের বিনিময়ে তারা লাভ করে মজাদার অনিদ্রা, যে অনিদ্রায় তারা ক্লান্ত হয় না। এ অনিদ্রায় যে স্বাদ ও আনন্দ পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। অধিক নিদ্রা সীমিত আনন্দ উপভোগের এই দুনিয়াতেও নিন্দনীয়, তাহলে অসীম আখিরাতে তার শান্তি কী হবে, তা তো সহজেই অনুমেয়।
আর আমাদের পার্শ্বদেশ কেনই বা দূরে থাকবে না ধ্বংস ও লজ্জার বিছানা থেকে!?
হে গাফিলতির দীর্ঘ নিদ্রায় নিমজ্জিত, অধিক নিদ্রা তোমার আফসোসের কারণ হবে। মৃত্যুর পর যখন কবরে শায়িত হবে, তখন দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমানো যাবে। যেখানে তোমার জন্য সজ্জিত হবে তোমার পাপ অথবা পুণ্যের শয্যা।
হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি বলেন, হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠার পর দুআ, অজু এবং নামাজ—এই তিনটির কোনো একটিই ছেড়ে দেবে, তার সকাল কলুষতা ও অলসতা সহকারে হবে。
টিকাঃ
৩০০. ৩১ নং ফায়দা: সহিহ হাদিসে আছে: 'তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁঠ দিয়ে দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমিয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির (ঘুম থেকে ওঠার দুআ) পড়ে, তখন একটি গিঠ খুলে যায়। এরপর অজু করলে আরেকটি গিঠ খুলে যায়। এরপর নামাজ পড়লে অপর গিঠটিও খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় তার সকাল হয় কলুষতা ও অলসতা সহকারে।' (সহিহুল বুখারি: ১১৪২)