📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 তৃতীয় পথ্য: কম ঘুমানো

📄 তৃতীয় পথ্য: কম ঘুমানো


হাম্মাম বিন হারিস দুআ করতেন : 'হে আল্লাহ, আমার জন্য অল্প ঘুম যথেষ্ট করুন। আমাকে আপনার ইবাদতের জন্য রাত্রি জাগরণ করার তাওফিক দান করুন।'

তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য ঘুমাতেন। তাও বসাবস্থায়。

খেয়াল করো, তার মাঝে কেমন নামের প্রভাব পড়েছে? হাম্মাম নামের প্রভাবে তার মাঝে রবকে সন্তুষ্ট করার 'হাম্ম' তথা চিন্তা কাজ করেছে। 'হারিস' নামের প্রভাবে তার মাঝে আল্লাহর ইবাদতের 'হারস' তথা ফসল উৎপাদনের প্রবণতা কাজ করেছে। ফলে রাতদিন তিনি আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যস্ত থেকেছেন। শুধু তিনিই নন, আমাদের অনেক সালাফ এভাবে ঘুমকে উপেক্ষা করে ইবাদত করেছেন, কাজ করেছেন। তারা অপারগতাবশত কিছুক্ষণের জন্য ঘুমাতেন মাত্র।

তাদের কম ঘুমানো নির্দেশ করে, তারা দিনেরাতে কাজে ব্যস্ত থাকতেন। এ ব্যাপারে আবু বকর সিদ্দিক-এর অভিজ্ঞতার কথাটি শোনো :
'আল্লাহর কসম, আমি ঘুমিয়েছি ঠিক, তবে স্বপ্ন দেখিনি (গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়িনি)। (তা সত্ত্বেও) কোনো বিষয়ে চিন্তা করার পর তা থেকে উদাসীন থাকিনি। আমি পথের ওপর অটল ছিলাম, কখনো বিচ্যুত হইনি।'

উস্তাজ রাশিদ তাঁর কথার ব্যাখ্যা করে বলেন:
অর্থাৎ রিদ্দার যুদ্ধ, বিভিন্ন ভূখণ্ড বিজয় এবং রাষ্ট্রের অবকাঠামো সুসংগঠিত করার কাজে তিনি এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, ভালোভাবে ঘুমানোর ফুরসত তিনি পাননি। নবিজি -এর অফাতের পর তাঁর সত্যনিষ্ঠায় আরও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। যার ফলে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এমন চৈতন্য দান করেছেন যে, উদাসীনতা, বিস্মৃতি ও অমনোযোগিতা তাঁকে আক্রান্ত করতে পারেনি।
তিনি তাঁর সময়কে আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করেছেন, তাই কম ঘুমানো এবং বিশ্রামহীনতা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাকে সজাগতা ও চৈতন্য দান করেছেন।

টিকাঃ
২৯৬. ৩০ নং ফায়দা : চারটি কারণে মানুষের ঘুমের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। ১. জন্মগত স্বভাবের ভিন্নতা : কিছু মানুষের ঘুম কম হয়, কিছু মানুষের বেশি হয়। তাই কারও জন্য দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট, কারও জন্য আট ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট হয়। ২. পরিবেশের ভিন্নতা: গরম আবহাওয়ার দেশসমূহের ঘুমের পরিমাণ ঠান্ডা আবহাওয়ার দেশসমূহের চেয়ে ভিন্ন হয়। ব্যস্ত এলাকা এবং প্রশান্ত এলাকার ঘুমের পরিমাণে তারতম্য হয়। ৩. বয়সের ভিন্নতা: বৃদ্ধ লোকদের ঘুম যুবকদের ঘুমের চেয়ে তুলনামূলক কম হয়। ৪. পেশার ভিন্নতা: যারা কায়িক শ্রম করে, তাদের ঘুমের প্রয়োজন তাদের চেয়ে বেশি যারা চিন্তাভিত্তিক শ্রম করে অথবা প্রকাশনাজগতে কাজ করে।
২৯৭. সিফাতুস সাফওয়াহ : ২/২১।
২৯৮. আল-খারাজ, আবু ইউসুফ: ১/২১।
২৯৯. আর-রাকায়িক: পৃ. ২১।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 একটি ভুল ধারণা

📄 একটি ভুল ধারণা


কেউ কেউ মনে করে যে, রাতে দীর্ঘক্ষণ ঘুমালে সকালে খুব চাঙাভাব ও কর্মোদ্দীপনা নিয়ে জাগ্রত হওয়া যাবে। ফলে ফজরের নামাজের সময়টিও সে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু সে জানে না, এর কারণে তার মাঝে পুরো দিনের জন্য অলসতা চলে আসে। কেননা, বরকতের ভান্ডারের একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। তা ছাড়া ফজরের নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির ব্যাপারে হাদিসে এসেছে:
أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
'সে অলসতা ও কলুষতাপূর্ণ মন নিয়ে সকালে উপনীত হয়।'

হে ঘুমকাতুরে চোখ, তুমি জাগ্রত চোখের খবর জানো না! হায়, যদি তুমি বিনিদ্র থাকার স্বাদ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারতে!

বিনিদ্র থাকার যে আনন্দ ও স্বাদ, তা যদি আমি প্রকাশ করতে চাই, তাহলে বলব:
যারা জাগ্রত থাকে, তাদের অন্তরসমূহে প্রবাহিত হয় জান্নাতের মৃদুমন্দ বাতাস। ঘুমের বিনিময়ে তারা লাভ করে মজাদার অনিদ্রা, যে অনিদ্রায় তারা ক্লান্ত হয় না। এ অনিদ্রায় যে স্বাদ ও আনন্দ পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। অধিক নিদ্রা সীমিত আনন্দ উপভোগের এই দুনিয়াতেও নিন্দনীয়, তাহলে অসীম আখিরাতে তার শান্তি কী হবে, তা তো সহজেই অনুমেয়।

আর আমাদের পার্শ্বদেশ কেনই বা দূরে থাকবে না ধ্বংস ও লজ্জার বিছানা থেকে!?
হে গাফিলতির দীর্ঘ নিদ্রায় নিমজ্জিত, অধিক নিদ্রা তোমার আফসোসের কারণ হবে। মৃত্যুর পর যখন কবরে শায়িত হবে, তখন দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমানো যাবে। যেখানে তোমার জন্য সজ্জিত হবে তোমার পাপ অথবা পুণ্যের শয্যা।

হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববি বলেন, হাদিস থেকে বোঝা যায়, যে ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠার পর দুআ, অজু এবং নামাজ—এই তিনটির কোনো একটিই ছেড়ে দেবে, তার সকাল কলুষতা ও অলসতা সহকারে হবে。

টিকাঃ
৩০০. ৩১ নং ফায়দা: সহিহ হাদিসে আছে: 'তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁঠ দিয়ে দেয়। প্রতি গিঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমিয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির (ঘুম থেকে ওঠার দুআ) পড়ে, তখন একটি গিঠ খুলে যায়। এরপর অজু করলে আরেকটি গিঠ খুলে যায়। এরপর নামাজ পড়লে অপর গিঠটিও খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উৎফুল্ল মনে ও অনাবিল চিত্তে। অন্যথায় তার সকাল হয় কলুষতা ও অলসতা সহকারে।' (সহিহুল বুখারি: ১১৪২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00