📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 দুনিয়া ও আখিরাতের পার্থক্য

📄 দুনিয়া ও আখিরাতের পার্থক্য


আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই তোমার সামনে তাঁর অসীম রহমতের নমুনা দৃশ্যমান করেছেন। তিনি তোমাকে দান করেছেন ফলমূল, গাছগাছালি, নদীনালা ও স্বাদ-উপভোগ। এ সবগুলোই যেন জান্নাতে বয়ে চলা সুরভিত বাতাসের একটি ঝলক। যার ঘ্রাণ তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় অফুরন্ত নিয়ামত ও সুমহান আনন্দের কথা। ফলে তুমি এ নিয়ামত লাভের জন্য আরও অধীর ও মরিয়া হয়ে ওঠো। অতঃপর নবিজি ﷺ কোনো মুগ্ধকর বস্তু দেখলে যা বলতেন, তুমিই তা-ই বলো :
لَبَّيْكَ إِنَّ الْعَيْشَ عَيْشُ الْآخِرَةِ
'আমি আপনার সমীপে হাজির হে রব, নিশ্চয় আসল জীবন হচ্ছে আখিরাতের জীবন。

তারপর তুমি সেই আখিরাতের জীবনকে সুন্দর ও শান্তিময় করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা, অধ্যবসায়, দৃঢ়তা ও ক্ষিপ্রতা নিয়ে এগিয়ে যাও।

দুনিয়ার নিয়ামত ও সুখ তোমাকে আখিরাতের নিয়ামত ও সুখের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার অসম্পূর্ণ সুখ তোমাকে আখিরাতের পূর্ণাঙ্গ সুখের প্রতি উৎসাহিত করে।

তাই দুনিয়ার কোনো প্রিয় বস্তুর নাগাল না পেলেও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে তুমি বলতে পারো, 'এই নিয়ামত আমার জন্য জান্নাতে অপেক্ষা করছে!' আর যখন তা তোমার নাগালে আসে, তখন তুমি বলো, 'দুনিয়ার নিয়ামতের চেয়ে আখিরাতের নিয়ামত আরও সুস্বাদু এবং উপভোগ্য!'

এই দুনিয়া একটি পারাপারের স্থান মাত্র। এখানে মুসাফির তার মূল গন্তব্যের জন্য কিছু পাথেয় সংগ্রহ করে নেয়, এই যা! তাই মুমিন দুনিয়ার নিয়ামতকেই চূড়ান্ত মনে করে না। পেলে ভালো, না পেলে আরও ভালো টাইপ অবস্থা! দুনিয়ার প্রতিটি নিয়ামত তাকে আখিরাতের নিয়ামতের জন্য অধীর ও মরিয়া করে তোলে। দুনিয়ার অসম্পূর্ণ নিয়ামত তাকে আখিরাতে প্রভুর সান্নিধ্যে গিয়ে পরিপূর্ণ নিয়ামত লাভের প্রতি লোভাতুর করে।

এতক্ষণ আমরা যে মনের ধনীদের কথা বললাম, তাদের বিশেষ একজন হলেন অখ্যাত সাহাবি...

টিকাঃ
১৯২. মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা: ১৫৮০৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00