📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 নবিজির শিক্ষা

📄 নবিজির শিক্ষা


ইমাম শাফিয়ি আলিমগণের সম্মান এবং সুলতানের চেয়ে তাদের সম্মান বেশি হওয়া নিয়ে গর্ব করে বলেন:
'পরিতুষ্টিই ঐশ্বর্যের মূল। তাই তো আমি পরিতুষ্টির আস্তিন শক্ত করে ধরে রেখেছি। সুতরাং পৃথিবীর দুয়ারে আমাকে যেতে হয় না, কারও দরবারে নিজেকে নিবেদিত করতে হয় না। ফলে টাকা-পয়সা ছাড়াই আমি ধনীদের একজন হয়ে উঠলাম এবং রাজা-বাদশাহদের মতো মানুষের ওপর হুকুম চালাই অবলীলায়।'

আপন সাহাবিদের প্রতি রাসুল -এর বিশেষ একটি শিক্ষা ছিল, কেউ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট সাহায্য চাইবে না এবং আল্লাহর সামনে নত হয়ে সিজদা করা ব্যতীত অন্য কারও জন্য কপাল মাটিতে ঠেকাবে না। আবু জার -কে তিনি কী উপদেশ দিয়েছিলেন, তা শোনো :
‘মানুষের নিকট কোনো কিছুই চাইবে না। এমনটি (বাহনের পিঠের ওপর থাকা অবস্থায়) তোমার চাবুক পড়ে গেলেও, সেটি উঠিয়ে দিতে কাউকে বলবে না। তুমি নিজে নেমে তা উঠিয়ে নেবে।'

সুবহানাল্লাহ! নবিজি আমাদের মাঝে কেমন আত্মমর্যাদাবোধ জাগাতে চেয়েছেন! সামান্য একটি বিষয়েও মানুষের কাছে সাহায্য না চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, সেখানে বড় বিষয়ে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে তো প্রশ্নই আসে না!

রাসুল -এর এই শিক্ষা ধনী-গরিব, মনিব-ভৃত্য নির্বিশেষে সকল সাহাবি মনেপ্রাণে ধারণ করেছিলেন। তাই তো রাসুল -এর ভৃত্য সাওবান দ্বিধাহীনচিত্তে কারও নিকট সাহায্য না চেয়ে আত্মসম্মান ধরে রাখাকে গ্রহণ করেছিলেন, যখন রাসুল সকল সাহাবিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন:
مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا، وَأَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ؟
'কে আমাকে এ নিশ্চয়তা দেবে যে, সে মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না, বিনিময়ে আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেবো?'

উত্তরে সাওবান বলেছিলেন, 'আমি'।

এরপর থেকে সাওবান সত্যিই কখনো কারও নিকট কোনো কিছু চাননি。

মানুষের কাছ থেকে কোনো কিছু না চাওয়ার ব্যাপারে রাসুল -এর হাতে যেসব সাহাবি অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে আওফ বিন মালিক অন্যতম। তিনি তাঁর এক বর্ণনায় উক্ত অঙ্গীকারের ওপর সাহাবিদের অটলতার বিবরণ দিয়েছেন। বলেছেন, 'এরপর থেকে রাসুলের কোনো সাহাবির চাবুক পড়ে গেলে, সেটি তুলে দেওয়ার জন্য কাউকে বলতেন না।'

জনৈক কবি বলেন:
'তোমার ভালো কাজ দেখে যদি তোমাকে অনুদান না দেয়, তাহলে ছেড়ে দাও। এর থেকে বিরত থাকার মাঝেই নিহিত তোমার সম্পদ। কোনো আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি এমন কোনো মানুষের নিকট অনুগ্রহ চাইতে পারে না, যার সামনে নিজের আত্মমর্যাদা বিলীন করতে হয়। নিজেকে লাঞ্ছিত করে যদি কোনো অনুদান চাইতে হয়, সে অনুদান না নেওয়াই উত্তম।'

এ সম্পর্কে ইবনুল জাওজি আমাদেরকে দারুণ একটি উপদেশ উপহার দিয়েছেন তাঁর 'আল-মুদহিশ' নামক বইয়ে:
'তোমার মালিক ব্যতীত অন্য কারও নিকট কোনো কিছু চেয়ো না। কারণ, ভৃত্য মালিক ব্যতীত অন্য কারও কাছে চাওয়া মানে মালিকের বদনাম করা。

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট সাহায্য চাওয়া মানে আল্লাহকে অপমান করা। কারণ, তা কেমন যেন আল্লাহর প্রতি পরোক্ষভাবে কার্পণ্যের অভিযোগ করার মতো। তা ছাড়া এটা তোমার অজান্তেই আল্লাহর ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধ হয়ে যায়। এটা তোমার ইমানের ক্ষতি তো করেই, পাশাপাশি তোমার বিবেক ও বুদ্ধিমত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। জান্নাত এমন বোকা লোকদের থেকে নিজের সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করে প্রতিনিয়ত। আবু ইয়াজিদ আল-বিসতামি কেমন যেন সেই ঘোষণা শুনতে পেয়েছেন।

টিকাঃ
১৬৯. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ২/১৭৩।
১৭০. আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দ্বীন: ১/১১৪।
১৭১. মাজমুউল ফাতাওয়া: ১/৩৯-৪০।
১৭২. সহিহ মুসলিম: ২৯৬৫, মুসনাদু আহমাদ: ১৪৪৪।
১৭৩. মুসনাদু আহমাদ: ২১৫০৯।
১৭৪. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৪৩।
১৭৫. আল-মুদহিশ: পৃ. ২৬৭।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 যদি সে সবর করে, সেটাই হবে তার জন্য অধিক কল্যাণকর!

📄 যদি সে সবর করে, সেটাই হবে তার জন্য অধিক কল্যাণকর!


তাই তো তিনি একটি দারুণ উপমার মাধ্যমে বলেন:
'মাখলুকের কাছে মাখলুকের সাহায্য প্রার্থনা করা মানে এক ডুবন্তের কাছে আরেক ডুবন্তের সাহায্য চাওয়া।'

সালিহ ও সৎকর্মশীল বান্দাদের চিন্তাচেতনা প্রায় এক রকম। এ জন্যই হয়তো আবু আব্দুল্লাহ কারশি -ও একই কথা বলেছেন :
'মাখলুকের কাছে মাখলুকের সাহায্য প্রার্থনা করা মানে এক বন্দীর নিকট আরেক বন্দীর সাহায্য চাওয়া।'

এ জন্যই ইমাম আহমাদ প্রতি নামাজের শেষে বিশেষ একটি দুআ করতেন। দুআটি তাঁর অন্তরে ঐশ্বর্যের চারা রোপণ করেছিল। দুআটি আমরা নিয়মিত পড়লে আমাদের অন্তরেও ঐশ্বর্যের চারা রোপিত হওয়ার আশা করা যায়।
'হে আল্লাহ, আপনি আমার কপালকে যেভাবে আপনি ব্যতীত অন্য কারও জন্য মাটিতে ঠেকানো থেকে বিরত রেখেছেন, সেভাবে আপনি ব্যতীত অন্য কারও কাছে চাওয়া থেকেও বিরত রাখুন।'

যদি তুমি ধৈর্য না ধরো, তাহলে লাঞ্ছিত হবে। মানুষের কাছে চাওয়ার লাঞ্ছনা ও নীচতা কেমন, তা যদি তুমি জানতে চাও, তাহলে উরওয়া বিন আজিনার ঘটনাটি শোনো। উরওয়া মদিনার বিখ্যাত একজন কবি ছিলেন। ফকিহ ও মুহাদ্দিস হিসেবেও তাকে গণনা করা হতো। একদিন তার আর্থিক অবস্থা খুবই অসচ্ছল হয়ে পড়ল। তখন আশপাশের লোকেরা তাকে পরামর্শ দিল, 'হিশাম বিন আব্দুল মালিকের সাথে আপনার বন্ধুত্ব আছে। তাই আপনি তার কাছে যান এবং খিলাফতের পক্ষ থেকে কিছু অনুদান গ্রহণ করুন।' তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ইবনে আজিনা রওনা হলেন বন্ধুর উদ্দেশে। উটের ওপর সওয়ার হয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন সুদূর শামে। তারপর হিশামের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন। হিশাম তার বন্ধুকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। উরওয়া জানালেন, তিনি অভাব-অনটনের মধ্যে আছেন। তখন তাকে উদ্দেশ্য করে হিশাম বললেন, 'একটি কবিতায় তুমিই তো বলেছিলে :
"আমি একজন জ্ঞানী মানুষ, অপচয়-অপব্যয় আমার স্বভাবের মধ্যে নেই। রিজিকের জন্য আমি অমানুষিক কষ্ট করি না। কারণ, যে রিজিক আমার জন্য বরাদ্দ, তা আমার নিকট পৌঁছাবেই। এখন তার জন্য যদি আমি চেষ্টা করি, তাহলে কষ্টের বিনিময়ে তা আমার কাছে আসবে। কিন্তু আমি যদি বসে থাকি, তাহলে কষ্ট ছাড়াই তা আমার কাছে এসে পৌঁছাবে।"

আমি তো তোমার কথা ও কাজে মিল দেখতে পাচ্ছি না। কেননা, তুমি রিজিকের তালাশে কষ্ট করে সুদূর মদিনা থেকে শামে চলে এসেছ!'

উরওয়া বললেন, 'তুমি আমাকে দারুণ এক উপদেশ দিয়েছ বন্ধু। তুমি আমাকে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছ, যা থেকে আমি অনেক দিন যাবৎ বিস্মৃত ছিলাম।' এই বলে তিনি তাৎক্ষণিক বাহনের ওপর সওয়ার হয়ে হিজাজে চলে আসলেন। সেদিন রাতে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার পর হিশামের উরওয়ার কথা মনে পড়ল। তখন মনে মনে বললেন, 'কুরাইশের একজন ব্যক্তি হিকমতের সাথে তোমার কাছে কিছু চাইতে আসলো, আর তুমি তার অভাব সত্ত্বেও তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছ! তা ছাড়া সে একজন কবি, কখন কী বলে বসে, তার নিশ্চয়তা নেই!'

পরদিন সকালে হিশাম উরওয়ার ব্যাপারে খোঁজ নিলে তাকে বলা হলো, তিনি চলে গেছেন। হিশাম বললেন, 'অসুবিধা নেই, এখন সে জানবে যে, তার রিজিক তার কাছে অচিরেই আসবে।' অতঃপর তিনি গোলামকে ডাকলেন এবং তাকে দুই হাজার দিনার দিয়ে বললেন, 'এখনই ইবনে আজিনার সাথে দেখা করে এগুলো তাকে দিয়ে আসো।'

গোলাম বলেন, আমি তার নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই তিনি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন। আমি তার দরজার কড়া নাড়লাম। তিনি বের হলে হিশামের দেওয়া দিনার তার হাতে তুলে দিলাম। সেগুলো হাতে নেওয়ার পর তিনি বললেন, 'আমিরুল মুমিনিনকে আমার কথাটি পৌঁছে দিয়ো:
"আমি রিজিকের জন্য কষ্ট করেছি, তাই আমাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু যখন আমি বাড়িতে ফিরে আসলাম, তখন আমার রিজিক আমার কাছে এসে গেছে!"

সুবহানাল্লাহ! তিনি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে রিজিক চাইতে গিয়ে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হলেন। যদি তিনি ধৈর্য ধরতেন এবং যা আছে তার ওপর পরিতুষ্ট থাকতেন, তাহলে একসময় রিজিক তার বাড়িতে চলে আসত। যেমনটি তিনি নিজ কবিতার মধ্যেই বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তার নিজের কথার ওপর অটল থাকতে পারেননি। যদি তিনি উবাইদ বিন আবরাস যা শিখেছেন তা শিখতেন, তাহলে সেটাই তার জন্য কল্যাণকর হতো। উবাইদ বিন আবরাসের সেই শিক্ষাটি হলো :
'যে মানুষের কাছে চায়, মানুষ তাকে বঞ্চিত করে। কিন্তু যে আল্লাহর কাছে চায়, তাকে খালি হাতে ফিরতে হয় না।'

ইবনে রজব ঠিক এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন নিচের বাক্যে :
'যে মানুষের কাছ থেকে তাদের টাকা-পয়সা চায়, মানুষ তাকে অপছন্দ করে এবং তার প্রতি একপ্রকার ঘৃণা চলে আসে তাদের মনে। কারণ, টাকা-পয়সা বনি আদমের খুবই প্রিয় বস্তু। তাই কেউ তাদের প্রিয় বস্তু নিয়ে নিতে চাইলে খারাপ তো লাগবেই!'

টিকাঃ
১৭৬. ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়া: ১/৩৩০।
১৭৭. ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়া: ১/৪৮৪।
১৭৮. সিফাতুস সাফওয়াহ: ১/৪৮৪।
১৭৯. সামারাতুল আওরাক : ১/৮ (ঈষৎ পরিবর্তিত)।
১৮০. জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম : ২/২০৫।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 ইবাদতের উদ্দেশ্য সৃষ্টির দাসত্ব থেকে নিষ্কৃতিলাভ

📄 ইবাদতের উদ্দেশ্য সৃষ্টির দাসত্ব থেকে নিষ্কৃতিলাভ


আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য যেসব ইবাদত প্রবর্তন করেছেন, সবগুলোর পেছনে বিভিন্ন মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তন্মধ্যে একটি উদ্দেশ্য হলো, গাইরুল্লাহর দাসত্ব থেকে মুক্তিলাভ। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝতে সহজ হবে। রোজা সম্পর্কে মুনাবি বলেন:
'রোজা প্রবর্তিত হয়েছে প্রবৃত্তির চাহিদাকে দমানোর জন্য, পরাধীনতার উপকরণসমূহ এবং বস্তুর দাসত্ব থেকে মুক্তিদানের জন্য। কেননা, মানুষ মনের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বস্তুর দাসে পরিণত হয় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্কহীন হয়ে যায়। রোজা গাইরুল্লাহর সেই দাসত্বকে নিঃশেষ করে দেয় এবং আকাঙ্ক্ষিত বস্তুসমূহের দাসত্ব থেকে স্বাধীনতা দান করে। স্বাধীনতা মানে সম্পদের দাস বনে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া। আল্লাহ বলেন:
قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَهَا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
“তিনি বললেন, তাহলে কি আল্লাহ ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোনো উপাস্য অনুসন্ধান করব; অথচ তিনিই তোমাদের সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”

প্রবৃত্তি একধরনের উপাস্য। রোজা সেই উপাস্যের দাসত্ব থেকে মানুষকে নিষ্কৃতি দেয়。

টিকাঃ
১৮১. সুরা আল-আরাফ, ৭: ১৪০।
১৮২. ফাইজুল কাদির: ৪/২১১।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 তৃতীয় অর্থ: আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা

📄 তৃতীয় অর্থ: আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা


এটাই আমাদের আলোচ্য বিষয় প্রকৃত ঐশ্বর্যের তৃতীয় অর্থ। যেমন কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন :
وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَى
'তিনি আপনাকে পেয়েছেন নিঃস্ব, অতঃপর ধনী করেছেন।'

ফাতহুল বারি গ্রন্থে ইবনে হাজার এ আয়াতের তাফসিরে বলেন :
'আয়াতে ধনী করে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে মনের ধনী করে দেওয়া। কারণ আয়াতটি মক্কায় অবতীর্ণ। এদিকে (মদিনায় গিয়েও) খাইবার ইত্যাদি বিজয়ের পূর্বে রাসুল-এর আর্থিক অসচ্ছলতার কথা তো সবার জানা।'

সুতরাং রাসুল-এর ঐশ্বর্য প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুপাতে খাবারের চেয়ে অতিরিক্ত সম্পদ থাকা নয়, তার ঐশ্বর্য মনের ঐশ্বর্য এবং আল্লাহর প্রতি নিরঙ্কুশ ভরসা ও নির্ভরতা। এই ঐশ্বর্য তিনি লাভ করেছেন সেই পূর্ণাঙ্গ নিয়ামতের অংশ হিসেবে, যার কথা কুরআনে এসেছে :
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
'আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।'

টিকাঃ
১৮৩. সুরা আদ-দুহা, ৯৩: ৮।
১৮৪. ফাতহুল বারি: ১১/২৭৩।
১৮৫. সুরা আল-মায়িদা, ৫: ৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00