📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 ধনীদের নেতা

📄 ধনীদের নেতা


ধনী মনের অধিকারী একজন অনন্য আদর্শ ব্যক্তি। তার হৃদয় সর্বদা নিশ্চিন্ত ও প্রশান্ত থাকে। সে পীড়াপীড়ি করে কারও কাছে যাচনা করে না। সম্পদের পেছনে কুকুরের মতো হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে দৌড়ায় না। কোনো লেনদেনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অথবা লাভজনক কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে আফসোস করতে করতে নিজেকে শেষ করে দেয় না। তাই তো সে মানুষের মাঝে সম্রাটের মতো বসবাস করতে পারে। কারণ, সে তাদের সহযোগিতার প্রতি মুখাপেক্ষী নয় এবং তাদের কাছ থেকে চাইতে গিয়ে তার চেহারা মলিন হয় না। প্রকৃত ধনীদের খবর শোনো তাদেরই একজন হাসান বিন সালিহ থেকে:
'অনেক সময় এমন অবস্থায় আমার সকাল হতো যে, একটি কানাকড়িও আমার হাতে থাকত না। তা সত্ত্বেও আমি এমনভাবে চলতাম, যেন দুনিয়ার সকল সম্পদ আমার মালিকানাধীন।'

আমাদের সমসাময়িক ইতিহাস থেকে একজনের গল্প শোনো:
বারা নেজার রাইয়ান স্বীয় পিতা ড. নেজার রাইয়ান এবং বস্তুবাদের এ যুগে তার আশ্চর্যজনক দুনিয়াবিমুখতার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'একদিন তিনি আমাকে বললেন, “হে বারা, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, মানুষজন যে সহায়-সম্পত্তি ও বিত্ত-বৈভবের প্রতি লালায়িত, সেসবের প্রতি আমার মনের মধ্যে কোনো লোভ অনুভব করি না। সবই আমি আল্লাহর জন্য পরিত্যাগ করেছি।” তাঁর এমন মহত্ত্বের বিনিময়ে আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।'

পকেট খালি তবে মন ঐশ্বর্য ও উদারতায় পূর্ণ, এমন প্রকৃত ধনীদের একজনের গল্প শোনো:

টিকাঃ
১৪৬. সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৭/৩৬৯।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 যে গোলামের চরিত্র অভিজাত শ্রেণির লোকদের মতো!

📄 যে গোলামের চরিত্র অভিজাত শ্রেণির লোকদের মতো!


যারা প্রকৃত ধনী, তারা অত্যন্ত উদার ও দানশীল হয়। নিজেদের যাবতীয় সহায়-সম্পত্তি দান করতেও তাদের গায়ে লাগে না। কারণ, তাদের ঐশ্বর্য থাকে মূলত তাদের মনে। হৃদয়ে তারা ধারণ করে প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধি। এমনই একজনের ঘটনা বর্ণনা করেছেন মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব তার বিখ্যাত 'আল-হাদিকাহ' গ্রন্থে। তিনি সেখানে গরিবের জীর্ণ পোশাকে আচ্ছাদিত একজন ধনীর বিবরণ দিয়েছেন। লোকটি মূলত একজন কৃষ্ণাঙ্গ গোলাম। একদা তার পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন বসরার আমির উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন মামার। লোকটি তখন একটি বাগানের দেয়ালের পাশে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। তার সামনে ছিল একটি কুকুর। তিনি এক লুকমা খেয়ে আরেক লুকমা কুকুরকে খেতে দিচ্ছিলেন। এ দেখে উমর বিন আব্দুল্লাহ বললেন, 'কুকুরটি কি তোমার?'
-না।
-তাহলে তুমি যা খাচ্ছ, তাকে তা-ই খেতে দিচ্ছ যে?
-কারণ, একটি দুচোখওয়ালা প্রাণী আমার দিকে চেয়ে আছে, এমন সময় তাকে না দিয়ে একাকী খেতে আমার লজ্জা লাগে।
-তুমি স্বাধীন নাকি গোলাম?
-আমি বনি আসিম গোত্রের এক ব্যক্তির গোলাম।

অতঃপর উমর তার মালিকপক্ষকে ডেকে এনে তাদের থেকে তাকে কিনে নিলেন এবং পুরো বাগানটাও কিনে নিলেন। অতঃপর তার নিকট গিয়ে বললেন, 'তোমাকে জানানো হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে আজাদ করে দিয়েছেন?'
-সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি একক, অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া আর কেইবা আমাকে আজাদ করতে পারে?
-এই বাগান এখন থেকে তোমার।
-আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, এটাকে আমি শহরের গরিবদের জন্য ওয়াকফ করে দিলাম।
-কী বলছ এসব! তোমার দরিদ্রতা ও অভাব সত্ত্বেও তুমি এমন সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছ?
-আসলে আল্লাহ আমার প্রতি বড় একটি অনুগ্রহ করেছেন, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্য করতে আমার লজ্জা লাগছে!

পক্ষান্তরে, যার সম্পদ বেশি হয় এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে সম্পদ অর্জন করতে থাকে, এমনকি সম্পদ কামাই করা ছাড়া অন্য কিছু সে ভাবতেই পারে না এবং সব সময় কামনা করতে থাকে যে, অন্যান্য মানুষের হাতে যত সম্পদ আছে, সব তার হাতে চলে আসুক, সে পরশ্রীকাতরতা, মনঃকষ্ট ও অস্থিরতায় ভোগে সব সময়। সেই প্রকৃত গরিব। এ জন্যই অভিজ্ঞজনেরা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে একটি মূলনীতি দাঁড় করিয়েছেন :
'যে অল্পতে তুষ্ট হয় না, অধিক পেলেও সে তুষ্ট হতে পারে না।'

ফুজাইল বিন ইয়াজ ধনী ও গরিব নির্ণয়ের জন্য একটি সূক্ষ্ম মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন। কী ছিল সেই মানদণ্ড, নিচের গল্পটি থেকে তা জেনে নাও :
একদিন ফুজাইল বিন ইয়াজের এক ভক্ত এসে বলল, 'আপনি এই জুব্বাটি আমার থেকে হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করলে আমি খুশি হব।'
- যদি তুমি ধনী হও, তাহলে আমি তা গ্রহণ করব।
- আমি ধনী।
- তোমার কাছে কী পরিমাণ সম্পত্তি আছে?
- দুই হাজার।
- তুমি কি চাও, তা চার হাজার হয়ে যাক?
- অবশ্যই।
- তাহলে তো তুমি গরিব, আমি তোমার থেকে হাদিয়া গ্রহণ করতে পারব না।

টিকাঃ
১৪৭. আল-হাদিকাহ: পৃ. ১৩৫৪-১৩৫৫।
১৪৮. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ১০/১৪৮।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 গাইরুল্লাহর দাসত্বের লাঞ্ছনা

📄 গাইরুল্লাহর দাসত্বের লাঞ্ছনা


সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল ইরশাদ করেছেন :
تَعِسَ عَبْدُ الدِّيْنَارِ، وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ، وَعَبْدُ الْخَمِيْصَةِ، إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ، وَإِذَا شِيْكَ فَلَا انْتَقَشَ
'ধ্বংস হোক দিনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম ও উত্তম পোশাক- আশাক ও উত্তম চাদরের গোলাম (দুনিয়াদার)! যদি তাকে দেওয়া হয়, তাহলে সে সন্তুষ্ট হয়। আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। সে ধ্বংস হোক, তার অবস্থা আরও খারাপ হোক! তার পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হলে তা কেউ বের না করুক!

দাসত্ব মানে কোনো বস্তুর সামনে নিচু ও লাঞ্ছিত হওয়া। সুতরাং দুনিয়ার দাস হওয়া মানে নিজের মনকে দুনিয়ার সামনে অবনমিত ও অনুগত করে দেওয়া। ফলে রিজিক অনুসন্ধানের জন্য সে যেকোনো হীনতা ও লাঞ্ছনার পথে চলতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এমনকি হারাম উপায়ে রিজিক অনুসন্ধান করতেও দ্বিধাবোধ করে না সে।

আবু আলি আদ-দাক দাসত্বের যে অর্থ করেছেন, তা দাসত্বের অর্থকে আরও ব্যাপক ও স্পষ্টভাবে বোঝায়। তিনি বলেন:
'তুমি তারই গোলাম, যার হাতে তুমি বন্দী। সুতরাং তুমি যদি নিজের প্রবৃত্তির কাছে বন্দী হয়ে থাকো, তাহলে তুমি নিজের প্রবৃত্তির গোলাম। আর যদি দুনিয়ার হাতে বন্দী হয়ে থাকো, তাহলে তুমি দুনিয়ার গোলাম।'

উল্লিখিত হাদিসের ব্যাখ্যা:
হাদিসে দিনার, দিরহাম, উত্তম পোশাক-আশাক ও উত্তম চাদর- প্রত্যেকটিকে কেবল একটি অর্থে আনা হয়নি; বরং প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা অর্থ আছে। দিনার বলা হয় স্বর্ণের মুদ্রাকে এবং দিরহাম বলা হয় রুপার মুদ্রাকে। আগের যুগে মানুষ স্বর্ণ ও রুপার তৈরি মুদ্রা দিয়ে পরস্পর লেনদেন করত। দিনার ও দিরহাম দ্বারা হাদিসে মানুষের মাঝে সাধারণভাবে পরিচিত সম্পদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। দুনিয়ালোভী সম্পদশালীদের মধ্যে আবার তারতম্য আছে। কেউ কেউ অঢেল সম্পত্তির অধিকারী হয়, অধিক জমিজমা ও মালামালের মালিক হয়। হাদিসের এ ধরনের ধনীকে 'দিনারের গোলাম' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেউ কেউ কম সম্পদের মালিক হয়, তবে দ্রুতগতিতে যেকোনো সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে টাকা-পয়সা কামিয়ে ধনী হওয়ার সুতীব্র বাসনা নিয়ে দিনাতিপাত করে। হাদিসে তাদের 'দিরহামের গোলাম' বলা হয়েছে।

আর 'পোশাক-আশাকের গোলাম' বলে রেশম ও উলেন ইত্যাদি দ্বারা তৈরি আড়ম্বরপূর্ণ ও গৌরবময় পোশাক যারা পরে, তাদের বোঝানো হয়েছে। কারণ, যারা এ ধরনের পোশাক পরিধানে অভ্যন্ত, তারা এ অভ্যাস সহজে ছাড়তে পারে না। যেন তারা পোশাক-আশাক ও চাকচিক্যময় বেশভূষার গোলামে পরিণত হয়। তাদের মনজুড়ে কেবল ঘুরতে থাকে উন্নত ও জাঁকালো পোশাক-আশাকের ফিকির ও কল্পনা। এ জন্যই জনৈক সালাফ পোশাকের ব্যাপারে উপদেশ দিয়ে বলেন:
'ওই কাপড় পরিধান করো, যে কাপড় তোমার সেবা করে। এমন কাপড় পরিধান করো না, যার সেবা তোমাকে করতে হয়। '

আর 'চাদরের গোলাম' বলে হাদিসে ওই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যে নিজের এবং বাড়ির আসবাবপত্রকে অপ্রয়োজনীয় সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ করার জন্য চেষ্টা করতে থাকে এবং উত্তরোত্তর সুন্দর ও আড়ম্বরপূর্ণ করার ফিকিরে থাকে।

অতঃপর রাসুল এমন বান্দার অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন:
إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ،
যদি তাকে দেওয়া হয়, তাহলে সে সন্তুষ্ট হয়। আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। '

অর্থাৎ যখন আল্লাহ তাআলা তাকে সম্পদ দান করেন, তখন সে আনন্দিত ও সন্তুষ্ট হয়। আর যখন তাকে সম্পদ দান না করেন এবং দরিদ্রতা দিয়ে পরীক্ষা করেন, তখন সে রাগান্বিত হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার পবিত্র এই বাণীটি তার সাথে হুবহু মিলে যায় :
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةُ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ
'মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তবে ইবাদতের ওপর কায়িম থাকে এবং যদি কোনো পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়。

এ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়িম বলেন:
'এসব লোক, যাদের দান করা হলে সন্তুষ্ট হয়, দান করা না হলে অসন্তুষ্ট হয়, তাদেরকে উল্লিখিত বস্তুসমূহের গোলাম বলে আখ্যায়িত করেছেন রাসুল । কারণ, তারা সেগুলোর প্রতি ভীষণভাবে ভালোবাসা, লোভ ও আগ্রহ লালন করে। আর মানুষ যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বস্তুর প্রতি এতটা আসক্ত হয়ে পড়ে যে, তা পেলে সন্তুষ্ট হয় এবং না পেলে অসন্তুষ্ট হয়, সেটা ওই বস্তুর প্রতি তার দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ। যে পরিমাণ আসক্তি, সে পরিমাণ দাসত্ব。

এরপর রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'সে ধ্বংস হোক, তার অবস্থা আরও খারাপ হোক!' অর্থাৎ সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, ধ্বংস হোক! কেননা, সে নিজের দ্বীনকে দুনিয়ার তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে। মণিমাণিক্যের বিনিময়ে সে কিনে নিয়েছে মৃৎপাত্র। তা সত্ত্বেও সে দুনিয়া থেকে কেবল তা-ই অর্জন করতে পারবে, যা তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বরাদ্দ আছে। এই মানুষ মহামূল্যবান বস্তুর বিনিময়ে অতি তুচ্ছ ও নগণ্য বস্তু ক্রয় করে নিয়েছে। মানুষের মাঝে বুদ্ধিশুদ্ধি বলে কিছু না থাকলেই কেবল এমনটি করা সম্ভব!

বস্তুত এটাই আল্লাহর নিয়ম, কেউ অবৈধ পথে সুখ তালাশ করলে তাকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে সুখ থেকে বঞ্চিত রাখেন। বরং সুখের বদলে তার জীবনে ভরে দেন দুঃখ-দুর্দশা। কারণ, সে রবের দেখিয়ে দেওয়া পথ বাদ দিয়ে অন্য পথে সুখের অনুসন্ধান করেছে। ফলে যে পথে সুখ আছে মনে করে সে পা বাড়িয়েছে, সেখানে আল্লাহ তাআলা সুখের বদলে দুঃখ রেখে দিয়েছেন।

'তার পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হলে তা কেউ বের না করুক!'
রাসুল এ ব্যক্তির জন্য বদ-দুআ করতে করতে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বললেন যে, তার পায়ে যদি কোনো কাঁটা বিদ্ধ হয়, তা যেন কোনো ছেনি ইত্যাদি দিয়ে তুলে নেওয়া সম্ভব না হয়! অর্থাৎ সে যদি কোনো বিপদে পড়ে, তাকে উদ্ধার করার জন্য কেউ এগিয়ে না আসুক এবং তার প্রতি কোনো মানুষের মনে দয়ার উদ্রেক না হোক! কারণ দুঃখগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি কেউ দয়ার্দ্র হয়ে তাকে সান্ত্বনা দিলে দুঃখ কিছুটা লাঘব হয়। কিন্তু রাসুল চাইছেন, এ ব্যক্তির কপালে এতটুকু সহানুভূতিও না জুটুক! বরং তার দুঃখ দেখে তার শত্রুরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে তার কাটা গায়ে নুনের ছিটা দিক। হাদিসে বিশেষভাবে কাঁটা বিদ্ধ হওয়ার কথা বলার কারণ হলো, সাধারণত এমন ছোট বিপদে মানুষ সহজেই পাশে এসে দাঁড়ায়। যখন এমন সহজ বিপদেও কারও পাশে আসাকে না করা হচ্ছে, তাহলে বড় বিপদে পাশে আসার তো প্রশ্নই আসে না!

এখন তোমার ইখতিয়ার। তুমি চাইলে এককভাবে আল্লাহর বান্দা হতে পারো, অথবা চাইলে তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করতে পারো! চাইলে তুমি স্বাধীন থাকতে পারো, অথবা চাইলে প্রবৃত্তি ও মনোবাসনার গোলাম হয়ে থাকতে পারো!

টিকাঃ
১৪৯. সহিহুল বুখারি: ২৮৮৭।
১৫০. আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়‍্যা: ২/৩৪৮।
১৫১. ফাতাওয়া ইবনি তাইমিয়া: ১০/৫৯৭।
১৫২. সহিহুল বুখারি: ২৮৮৭।
১৫৩. সুরা আল-হাজ, ২২: ১১।
১৫৪. সহিহ বুখারিতে আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে।): কোনো ব্যক্তি মদিনায় আগমন করত, অতঃপর তার স্ত্রী যদি পুত্র-সন্তান প্রসব করত এবং তার ঘোড়া বাচ্চা দিত, তখন বলত, "এ দ্বীন ভালো।" আর যদি তার স্ত্রী থেকে পুত্র-সন্তান না জন্মাত এবং তার ঘোড়াও বাচ্চা না দিত, তখন বলত, “এটা মন্দ দ্বীন."
১৫৫. ইগাসাতুল লাহফান মিন মাকাইদিশ শাইতান: ২/১৪৯।
১৫৬. মিরকাতুল মাফাতিহ শারহু মিশকাতিল মাসাবিহ: ৮/২৯-৩২।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 ঐশ্বর্যের তিন মেরুদণ্ড

📄 ঐশ্বর্যের তিন মেরুদণ্ড


এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস-এর নিকট এসে প্রশ্ন করলেন, 'আমরা কি গরিব মুহাজির নই?'
-তোমার কি স্ত্রী আছে, যার সাথে তুমি সঙ্গম করতে পারো?
-হ্যাঁ, আছে।
-তোমার কি একটি বাসস্থান আছে, যেখানে তুমি বসবাস করতে পারো?
-জি, আছে।
-তাহলে তুমি ধনীদের একজন।
-আমার একটা খাদিমও আছে!
-তাহলে তুমি একজন বাদশাহ!

আব্দুল্লাহ রাসুল-এর নিম্নোক্ত হাদিসের ওপর আমল করেই এমন মন্তব্য করেছেন:
مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافَى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا

'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ঘরে অথবা গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপদে ও সুস্থ শরীরে সকাল করেছে এবং তার কাছে একদিনের খাবার আছে, তাকে যেন দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দান করা হয়েছে。

এ বিষয়টি কেবল তারাই বুঝতে পারে, যাদের মাঝে তাকওয়া ও বিবেকের সমন্বয় ঘটেছে। যাদের হৃদয় জীবিত এবং যাদের ভেতরে ইমানওয়ালা অন্তর্দৃষ্টি আছে, কেবল তারাই তা অনুধাবন করতে পারে। ফলে দুনিয়ার কোনো আসবাব বা স্বাদ থেকে বঞ্চিত হলে তাদের মন অস্থির হয়ে যায় না। তারা জানে যে, সুখী ব্যক্তি সাধারণ মানুষ যা খায়, তার চেয়ে বেশি খায় না এবং অন্যান্য মানুষের চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক হয়েছে বলে সে সুখী হয় না। বরং তার সুখের রহস্য হলো, অন্যান্য মানুষ যেখানে অধিক পেলেও তুষ্ট হতে পারে না, সেখানে সে অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়। জনৈক দার্শনিককে প্রশ্ন করা হলো, 'ঐশ্বর্য কী?' তিনি উত্তর দিলেন, 'ঐশ্বর্য হলো তোমার আশা-আকাঙ্ক্ষা কম হওয়া এবং যতটুকুতেই তোমার চলে, ততটুকুর ওপর পরিতুষ্ট হওয়া。

অলংকারপূর্ণ ভাষায় রাফিয়ি বলেন:
'নিশ্চিন্ত ও অস্থিরতামুক্ত হৃদয়ে অধিক সম্পদের ফিকির থাকে না। আর যে অন্তরে অধিক সম্পদের ফিকির থাকে না, সে অন্তর অল্প পরিমাণ সম্পদ নিয়েও বেশি সুখী হয়।'

সেই সুখী কাফেলারই একজন সুখের আতিশয্যে আবৃত্তি করেন :
'আমার কুঁড়েঘর আমার কাছে খলিফা ও উজিরের রাজপ্রাসাদের চেয়ে প্রিয়। যখন আমি এক টুকরো রুটি খেয়ে পুকুর থেকে পানি পান করি, তখন মনে হয় আমার চেয়ে সুখী এ তল্লাটে আর কেউ নেই, যেন আমিই খলিফা! খলিফার সুখ অনুভব করার জন্য আমাকে সুউচ্চ সিংহাসনে আরোহণ করার কোনোই প্রয়োজন নেই। পরিমাণে অল্প আহার্য যদি স্বচ্ছ ও যথেষ্ট হয়, তাহলে বেশির কোনো প্রয়োজন থাকে না।'

টিকাঃ
১৫৭. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ৪/৭৮।
১৫৮. সুনানুত তিরমিজি: ২৩৪৬, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪১৪১, আল-আদাবুল মুফরাদ: ৩০০।
১৫৯. ফাইজুল কাদির: ৪/২৮২।
১৬০. ওয়াহইয়ুল কলাম: ১/২৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00