📄 পরিবেশের ভারসাম্য
তোমার চতুষ্পার্শ্বে অন্তর্দৃষ্টি বুলাও। দেখো, জগতের সবকিছুই তোমার প্রতিপালকের সামনে অবনমিত ও অনুগত। এই অনুভূতি তোমাকে নেক আমলের ওপর অটল ও অবিচল থাকতে সহায়তা করবে। এ জন্যই মাহান বলতেন:
'তোমার কি লজ্জা করে না যে, যে বাহনের ওপর তুমি সওয়ার হও এবং যে কাপড় তুমি পরিধান করো, সেগুলো তোমার চেয়ে অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির করে? এই লজ্জা যদি তোমার মাঝে থাকে, তাহলে তুমি কখনো "আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” জিকির থেকে বিরত থাকতে পারো না।'
প্রকৃত মুমিন বোঝে, এই সুপ্রশস্ত জগতের সাথে খাপ খাওয়াতে হলে তাকে ভালো আমল করতে হবে। সুতরাং তুমি যদি ভালো কর্মের ওপর অনড় ও অবিচল থাকো, তাহলে জড়জগৎ, প্রাণিজগৎ ও আসমান-জমিনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে এবং সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত এই বিশ্বজগতের সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জীবনযাপন করতে পারবে। কিন্তু যদি তোমার ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়, তখন এই বিশাল বিশ্বজগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলা থেকে তুমি পথ হারিয়ে ফেলবে এবং দ্রুত ফিরে না আসলে সম্পূর্ণরূপে ছিটকে পড়ে যাবে।
টিকাঃ
৭১. ৫ নং ফায়দা: মাহান খুব বেশি জিকির করতেন। এ জন্য তাঁর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল খুব সুন্দরভাবে। এ সম্পর্কে বনি হানিফার মুয়াজ্জিন ইবরাহিম বর্ণনা করেন, 'হাজ্জাজ মাহান হানাফিকে তাঁর ঘরের দরজায় শূলিতে চড়ানোর নির্দেশ দিলেন। যখন তাঁকে গাছের সাথে বাঁধা হলো, তখন তাঁর মুখে ছিল 'সুবহানাল্লাহ', 'আল্লাহু আকবার', 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' ও 'আলহামদুলিল্লাহ' জিকির। তিনি হাতের সাহায্যে গুণে গুণে উনত্রিশ বার জিকির করার সাথে সাথেই তাঁকে মেরে ফেলা হলো। মৃত্যুর সময় তাঁর হাত উনত্রিশ নির্দেশক অবস্থায় ছিল। এর এক মাস পর আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম। তখনও তাঁর হাত উনত্রিশ নির্দেশক অবস্থায় ছিল।' তিনি আরও বলেন, 'রাতের অন্ধকারের সময় তাঁর পাশে চেরাগের মতো একটি আলো দেখা যেত!' (সিফাতুস সাফওয়াহ: ২/৪২)
📄 ভালো কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ভয়ংকর প্রভাব
কোনো আমল শুরু করে তা বন্ধ করে দেওয়া থেকে রাসুল নিষেধ করেছেন এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আবদুল্লাহ বিন আমর-কে দেওয়া উপদেশে তিনি ইরশাদ করেছেন:
لَا تَكُنْ مِثْلَ فُلَانٍ كَانَ يَقُومُ اللَّيْلَ، فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيْلِ
'ওই ব্যক্তির মতো হয়ো না, যে তাহাজ্জুদ পড়া শুরু করে আবার বন্ধ করে দিয়েছে। '
এ জন্য আধ্যাত্মিক চিকিৎসকগণ তাদের পূর্বঅভিজ্ঞতার আলোকে আমল বন্ধ করে দেওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে তোমাকে সতর্ক করেছেন এবং আমল শুরু করার পর তার ওপর অটল ও অবিচল থাকার প্রতি জোর দিয়েছেন। আদেশসূচক ক্রিয়া ব্যবহার করে তারা বলেন :
'নফলকে ফরজের মতো গুরুত্ব দাও এবং গুনাহকে কুফরের মতো ভয়ংকর মনে করো।'
কারণ তারা খুব ভালোভাবে বোঝেন যে, এটা ছাড়া আমলের ওপর অটল থাকা সম্ভব নয়। এদিকে এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, ইবাদতের স্বাদ অনুভব না হলে তার ওপর অটল থাকা যায় না। একসময় না একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। তাই ইবাদতের স্বাদ অনুভব করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সালাফদের অভিজ্ঞতা বলে, মনের ওপর জোর দিয়ে একনাগাড়ে আমল করে যাওয়া ইবাদতের স্বাদ সৃষ্টি হওয়ার উপায়।
কেউ গুপ্তধন হাতে পাওয়ার পর স্বেচ্ছায় তা হাতছাড়া করে ফেলল, শীর্ষচূড়ায় পৌঁছানোর পর ছিটকে পড়ল এবং উৎকৃষ্টকে ভোগ করার পর তার বিনিময়ে নিকৃষ্টকে বেছে নিল। এমন ব্যক্তির বোকামি দেখে সালাফগণ বিস্ময়ে হতবাক। আবু সুলাইমান দারানি বলেন:
'যে ব্যক্তি ইবাদতে স্বাদ পায় না, তাকে নিয়ে আমার আশ্চর্য লাগে না, তবে যে ব্যক্তি ইবাদতের স্বাদ অনুভব করার পর তা ছেড়ে দিয়েছে, সে এই স্বাদ ছাড়া কীভাবে থাকতে পারে, তা নিয়ে আমার খুব আশ্চর্য লাগে। '
কাজেই প্রত্যেক মুমিনকে ইবাদতের স্বাদ অর্জন করাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে আমল করে যেতে হবে। শুরুতে একটু কষ্ট হবে, তবে কিছুদিন পর তা অভ্যাসে পরিণত হবে এবং ভালো লাগতে শুরু করবে। এভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল করতে করতে একসময় তার স্বাদের মিষ্টতায় অবগাহন করতে শুরু করবে তুমি।
যে ব্যক্তি কোনো আমল শুরু করার পর তা ছেড়ে দিল, সে যেন উন্নতির পথ থেকে পেছনে সরে আসলো এবং নিজের এতদিনের প্রচেষ্টাকে জবাই করে দিল। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে তার ওপর অটল ও অবিচল রইল, সে অবশ্যই পার্থিব জান্নাতের শেষপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। এতক্ষণে তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ, আল্লাহর কাছে নিয়মিত আমল পরিমাণে কম হলেও এত প্রিয় কেন?
তোমার মনে এ প্রশ্ন আসতেই পারে যে, নফল ছেড়ে দিলে তো কোনো গুনাহ নেই, তবুও নফল ছেড়ে দেওয়াটা এত ভয়াবহ কেন?
নিচের আলোচনায় এর উত্তর আসছে:
টিকাঃ
৭২. সহিহুল বুখারি: ১১৫২।
৭৩. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/২৬২।
📄 নফল মজবুত দুর্গ
হে ভাই, নফল ত্যাগ করার ভয়াবহতম পরিণতি হচ্ছে তোমার ওপর শয়তান নিজের প্রভাব খাটানো এবং তোমার ফরজ নষ্ট করার সুয়োগ পেয়ে যায়। কারণ নফল হচ্ছে একটি মজবুত দুর্গ, যা ফরজের ভূমিকে শত্রুর আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে এবং তার মূল্যবান সম্পদ চুরি হওয়া থেকে হিফাজত করে। ফলে শত্রু যখন তোমার নিকটে চলে আসে, তখন নফলের অস্ত্রের মুখে পড়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।
নফলের প্রাচীর তোমাকে শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করে। কেননা, যে ব্যক্তি কেবল ফরজ আদায় করে, শয়তান যদি তার ফরজের ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে বসে, তখন সে তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। ফলে শয়তান ধাপে ধাপে তার ফরজের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে এবং তদস্থলে হারাম ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু যে ব্যক্তির ধনভান্ডারে নফলের মজুদ আছে, তখন শয়তান লুট করতে এসে যদি কিছু নিয়ে যেতে পারে, তা নফল থেকেই নিতে পারে। ফরজ তথা মূলধন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। ফলে সে ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যায়। এ জন্যই বলা হয়, ফরজের ঘাটতি পূরণের জন্যই নফলের প্রবর্তন করা হয়েছে। একটি হাদিস এই বক্তব্যকে সুদৃঢ় করে। যেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন যখন বান্দার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলবেনঃ
انْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ فَتُكْمِلُوا بِهَا فَرِيضَتَهُ؟ ثُمَّ الزَّكَاةُ) كَذَلِكَ، ثُمَّ تُؤْخَذُ الْأَعْمَالُ عَلَى حَسَبِ ذَلِكَ(
'দেখো, এই বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না, যা দ্বারা ফরজ নামাজের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে?' তারপর এভাবে জাকাতসহ অন্যান্য আমলের হিসাব করা হবে।
)ثُمَّ تُؤْخَذُ الْأَعْمَالُ عَلَى حَسَبٍ ذَلِكَ( 'তারপর এই পদ্ধতিতে অন্যান্য আমলের হিসাব নেওয়া হবে।' কথাটি আরেকবার পড়ো। এ থেকে বোঝা যায়, প্রত্যেক ফরজ ইবাদতের নফল ভার্সন রয়েছে।
• পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নফল ভার্সন হচ্ছে তাহাজ্জুদ, মধ্যদিনের নামাজ, বিতির এবং ফরজ নামাজের পূর্বে ও পরে নির্ধারিত সুন্নাতে মুআক্কাদাহ নামাজ।
• জাকাতের নফল ভার্সন হচ্ছে সদাকা, করজে হাসানা ও ঋণ মাফ করা।
• রমাদানের রোজার নফল ভার্সন হচ্ছে নফল রোজাসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে শ্বেত দিনসমূহের (প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের) রোজা, সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা, আরাফাত দিবসের রোজা, আশুরার (১০ মহররম) রোজা ইত্যাদি。
• হজের নফল ভার্সন হচ্ছে উমরা এবং অন্যের পক্ষ থেকে হজ করা।
এখন নিশ্চয় তোমার সামনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জনের রোডম্যাপ পরিষ্কার হয়ে গেছে।
টিকাঃ
৭৪. ৬ নং ফায়দা : ইবনুল কাইয়িম মনে করেন, পুণ্যকর্ম পাপকর্মকে প্রতিহত করে এবং ভালো কাজ খারাপ কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই তিনি বলেন, 'গুনাহের মূল হচ্ছে, ওয়াজিব (অবশ্যপালনীয় আমলসমূহ) আদায় না করা, নিষিদ্ধ কর্ম করা নয়।' (আল-মাদারিজ: ২/১৫৬)
৭৫. মুসনাদু আহমাদ: ১৬৬১৪, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৪২৬।
৭৬. ৭ নং ফায়দা: করজ দেওয়া বা করজ মাফ করে দেওয়া সম্পর্কে অনেক সাহাবি ও সালাফের রায় হলো, এটা সদাকা করার চেয়ে উত্তম। কেননা, নবি ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি পরিশোধে অক্ষম কোনো ঋণগ্রহীতাকে (তার সচ্ছলতা আসা অবধি) অবকাশ দেবে, সে ঋণ পরিশোধ করার সময় হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ঋণের পরিমাণ সদাকা করার সাওয়াব পাবে। অতঃপর ঋণ পরিশোধ করার সময় হওয়ার পরে সময় বাড়িয়ে দিলে প্রতিদিন সে পরিমাণ সদাকা করার সাওয়াব পাবে।' (মুসনাদু আহমাদ, সুনানু ইবনি মাজাহ, সহিহুল জামি: ৬১০৮)
৭৭. মুসনাদে আহমাদ ও সহিহ মুসলিমে আবু কাতাদা থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি পরিশোধে অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেবে (পরিশোধের মেয়াদকাল বাড়িয়ে দেবে), অথবা ক্ষমা করে দেবে (ঋণ মাফ করে দেবে), কিয়ামতের দিন সে আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে।' (সহিহুল জামি: ৬৫৭৬)
৮ নং ফায়দা: মুনাবি বলেন, 'কারণ, ঋণপরিশোধে অক্ষম হওয়া দুনিয়াতে মানুষের জন্য বড় একটি দুর্দশা ও মুসিবত। তাই কেউ যদি কোনো ব্যক্তি থেকে দুনিয়ার এই বিপদ দূর করে দেয়, কিয়ামতের দিন তার আখিরাতের বড় বিপদ দূর হয়ে যাবে। অর্থাৎ কিয়ামতের ভয়াবহ কষ্ট থেকে সে রেহাই পাবে এবং সম্মানিত স্থানে স্থান পাবে। এ জন্যই সালাফগণ বলেন, "অনেক সময় নফল আমলের সাওয়াব ও প্রতিদান ওয়াজিব আমলের সাওয়াবের চেয়ে বেশি হয়।" (ফাইজুল কাদির: ৬/৩০৩)
৭৮. রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি প্রতিমাসে তিনদিন রোজা রাখে, সে যেন সারাজীবন রোজা রাখে।' (মুসনাদু আহমাদ, সুনানুত তিরমিজি, সহিহুল জামি: ৬৩২৪) অন্য একটি হাদিসে রাসুল সেই তিনদিন নির্ধারিত করে দিয়েছেন: 'প্রতিমাসের তিনটি রোজা রাখা মানে আজীবন রোজা রাখা। সেই তিনদিন হচ্ছে, শ্বেত দিনসমূহ তথা (চান্দ্রমাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ।' (সুনানুন নাসায়ি, বাইহাকি, সহিহুল জামি: ৩৮৪৯)
📄 একটি চমৎকার নফল ইবাদত
ইলম অর্জন করা অন্য অনেক নফল ইবাদতের চেয়ে একটি উৎকৃষ্ট নফল ইবাদত। সহিহ হাদিসে এসেছে:
فَضْلُ الْعِلْمِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ
'আমার কাছে ইবাদতের আধিক্যের চেয়ে ইলমের আধিক্য বেশি প্রিয়। '
আবু দারদা বিষয়টি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি বলেন, 'রাতে তাহাজ্জুদ পড়ার চেয়ে একটি মাসআলা শিখা আমার কাছে অধিক প্রিয়। '
উম্মাহর আরও দুজন নেতৃস্থানীয় আলিম সুফইয়ান সাওরি ও শাফিয়ি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন:
'ফরজের পরে ইলম অর্জন করার চেয়ে উত্তম কোনো আমল নেই।'
ইবনুল জাওজি 'তালবিসু ইবলিস' নামক কিতাবের শুরুতে ইবাদতে আগ্রহী লোকদের ইলম অর্জনের ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। উক্ত গ্রন্থে তিনি বসরার ইমাম মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহর একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন :
'ইলমের আধিক্য ইবাদতের আধিক্য অপেক্ষা উত্তম।'
শামের বিখ্যাত আবিদ ইউসুফ বিন আসবাতের একটি উক্তি উল্লেখ করেছেন:
'ইলমের একটি অধ্যায় শিক্ষা করা সত্তরটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার চেয়ে উত্তম।'
ইরাকের ইয়াকুত খ্যাত মুআফি বিন ইমরানেরও একটি কথা উল্লেখ করেছেন :
'একটি হাদিস লিপিবদ্ধ করা আমার কাছে এক রাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেয়ে বেশি প্রিয়। '
বদরুদ্দিন বিন জামাআহ ইলমপিপাসুদের দারুণ একটি কথা উপহার দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইলম অর্জনের ফজিলত ও গুরুত্বের ছয়টি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:
'আল্লাহর জন্য ইলম অর্জন করা নামাজ, রোজা, তাসবিহ, দুআ প্রভৃতি শারীরিক ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কেননা :
* ইলমের উপকারিতা তার অর্জনকারীকে যেমন অন্তর্ভুক্ত করে, তেমনই সাধারণভাবে সকল মাখলুককেও অন্তর্ভুক্ত করে।
* ইলম অন্যান্য ইবাদতকে সংশোধন করে। সুতরাং সেগুলো ইলমের প্রতি মুখাপেক্ষী এবং নির্ভরশীল। কিন্তু ইলম সেগুলোর প্রতি মুখাপেক্ষী নয়।
* তদুপরি, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী আলিমগণ নবিগণের উত্তরসূরি। আবিদগণের ব্যাপারে এমন কথা বলা হয়নি।
* ইলমের ব্যাপারে সাধারণ লোকদের ওপর আলিমের আনুগত্য করা ওয়াজিব।
* ইলমের প্রভাব তার ধারকের মৃত্যুর পরেও জীবিত থাকে; কিন্তু অন্যান্য নফলের প্রভাব তার আদায়কারী মারা যাওয়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়।
* ইলম বাকি থাকলে শরিয়াহ জীবিত থাকবে এবং উম্মাহর নিদর্শনসমূহ সুরক্ষিত থাকবে। '
টিকাঃ
৭৯. মুসনাদুল বাজ্জার: ২৯৬৯, মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩১৪, সহিহুল জামি: ৪২১৪। ৯ নং ফায়দা : ইবনে তাইমিয়া বলেন, 'আমলের সাওয়াব সেই আমলের উপকারিতা ও ফায়দার ভিত্তিতে হয়।
৮০. ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন: ১/৯।
৮১. জামিউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহি: ১/১২৩-১২৪।
৮২. তালবিসু ইবলিস: পৃ. ১২১।
৮৩. তাজকিরাতুস সামি: পৃ. ১৩। ১০ নং ফায়দা: ইবনে হাজম বলেন, 'যে ব্যক্তি ইলম নিয়ে কৃপণতা করে, সে সম্পদ নিয়ে কৃপণতাকারী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক নিকৃষ্ট। কেননা, যে ব্যক্তি সম্পদ নিয়ে কৃপণতা করে, সে এমন বস্তু নিয়ে কৃপণতা করে, যা খরচ করলে কমে যায়। কিন্তু কৃপণ আলিম এমন বস্তু নিয়ে কৃপণতা করে, যা যতই খরচ করুক, ফুরায় না।' (আল-আখলাকু ওয়াস সিয়ার: ১/২২)