📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 এর জন্য চাই নিরবচ্ছিন্নতা ও অবিচলতা

📄 এর জন্য চাই নিরবচ্ছিন্নতা ও অবিচলতা


আল্লাহর কাছে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্নতা শর্ত। এমনকি নফলের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে হয়। জোশে এসে দুয়েক দিন বা দুয়েক সপ্তাহ আমল করল, এরপর ছেড়ে দিল—এমন আমলের দাম আল্লাহর কাছে খুব একটা নেই। হাদিসের শব্দের দিকে খেয়াল করো :
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
'আমার বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এভাবে একসময় আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি...।'

হাদিসের শব্দ থেকে এ কথা একদম স্পষ্ট হয় যে, নিরবচ্ছিন্নতা ছাড়া আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে না। আসলে ইবাদতে নিরবচ্ছিন্নতা ব্যতীত অন্তর আলোকিত হয় না। এ জন্যই যুগশ্রেষ্ঠ দুনিয়াবিমুখ সাধক আবু সুলাইমান দারানি বলেন:
'নিরবচ্ছিন্নতার আলাদা একটা প্রতিদান আছে। আমরা যারা এক রাত ইবাদত করে দুই রাত ঘুমিয়ে কাটাই, এক দিন রোজা রেখে দুই দিন ছেড়ে দিই, এভাবে আমাদের অন্তরসমূহ আলোকিত হবে না।' আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিকপ্রাপ্ত আমলের ওপর নিরবচ্ছিন্নতা ধরে রাখতে না পারার পেছনে দুটি কারণ: আমাদের চিরাচরিত স্বভাব ভুলে যাওয়া অথবা সংকল্পের দুর্বলতা।

মূলত এ দুটি আমাদের পিতা আদম-এর কাছ থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি আমরা। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا
'আমি তো ইতিপূর্বে আদমকে নির্দেশ দিয়েছিলাম; কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল; আমি তাকে সংকল্পে দৃঢ় পাইনি। '

এখানে স্বভাবতই কারও মনে একটি প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, কেউ নিজ পিতার অনুরূপ হলে অপরাধের কী আছে?
কিন্তু এখানে দেখতে হবে, আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে তোমার সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও তোমাকে অটলতা ও নিরবচ্ছিন্নতার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তা ছাড়া এর বিনিময়ে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়। একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা লাভের চেয়ে উত্তম পুরস্কার আর কী হতে পারে!? আল্লাহর ভালোবাসা এমন এক অদ্ভুত বিষয়, যা সাধারণ বিবেক দ্বারা অনুভব করা যায় না। আল্লাহ যেমন বড় ও মহিমান্বিত, তেমনই তাঁর ভালোবাসাও অনেক অনেক বড় নিয়ামত। আল্লাহকে চিনে এমন হৃদয় ব্যতীত তা অনুভব করা যায় না। আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করতে পারা যেকোনো মাখলুকের জন্য অনেক বড় সফলতা ও উন্নতি।

তিনি প্রথমে ফরজের কল্যাণে তোমার কাজকে ভালোবাসেন। যেমন, হাদিসে এসেছে:
وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ
'আমার বান্দা যে সমস্ত জিনিস দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম জিনিস হলো তা, যা আমি তার ওপর ফরজ করেছি।'

অতঃপর নফলের কল্যাণে তিনি সরাসরি তোমাকেই ভালোবাসেন। যেমন তিনি বলেন:
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
'আমার বান্দা নফলের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হতে থাকে। এভাবে একসময় তাকে আমি ভালোবেসে ফেলি।'

অর্থাৎ নফলের মাধ্যমে বান্দা ইমানের ধাপ অতিক্রম করে ইহসানে উন্নীত হয়।

একটি সংশয় ও তার নিরসন
সংশয় : আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের সেতু নফল কেন? ফরজ কেন নয়? ভালোবাসার পাখি নফলের ডানা ছাড়া গন্তব্য অভিমুখে উড়াল দিতে পারে না কেন?
নিরসন: উলামায়ে কিরাম এর উত্তর দিয়েছেন, বান্দা সাধারণত ফরজ আদায় করে আল্লাহর শান্তির ভয়ে। কিন্তু নফল ইবাদত করে তাঁর নৈকট্য হাসিলের নিয়তে। যেহেতু নফলের সময় তার নিয়ত অধিক নিষ্ঠাপূর্ণ থাকে, তাই নফলই আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের কারণ হয়।

একটি উদাহরণ:
তোমার একজন পরিচারক তোমার সকল কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। কোনো আদেশ অমান্য করে না। কোন কোন বিষয় তোমার অপছন্দ, তা জেনে নিয়ে সেসব থেকে বিরত থাকে। তোমার পছন্দের কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে। তুমি কি তার মজুরি পুরোপুরি বুঝিয়ে দেবে না তাকে? আবার এই পরিচারক যদি আরও বেশি চতুর ও বুদ্ধিমান হয়, ফলে তুমি আদেশ করার আগেই তোমার পছন্দনীয় কাজগুলো ঠিকঠাকভাবে করে ফেলে এবং নিষেধ করা ছাড়াই তোমার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকে, তখন তোমার বিবেক কি তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ভালোবাসার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে না? কোনো সময় সে যদি তোমার থেকে অধিক পারিশ্রমিক চায়, তুমি কি না দিয়ে থাকতে পারবে?

আল্লাহ তাআলা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি মহান ও উদার। তাই তাঁর আবশ্যকীয় বিধানসমূহ পালন করার পাশাপাশি কোনো বান্দা যদি অতিরিক্ত হিসেবে নিয়মিত নফল আমল করে, তাহলে তিনিও অতিরিক্ত প্রতিদান হিসেবে সে বান্দাকে তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

টিকাঃ
৫৪. ফাতহুল বারি: ১১/৩৪২।
৫৫. সহিহুল বুখারি: ৬৫০২।
৫৬. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/২৭১।
৫৭. সুরা তহা, ২০: ১১৫।
৫৮. সহিহুল বুখারি: ৬৫০২।
৫৯. সহিহুল বুখারি: ৬৫০২।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 নেতৃত্বের অধীনে প্রতিপালন

📄 নেতৃত্বের অধীনে প্রতিপালন


নবি তাঁর সাহাবিদের স্বীয় কর্মের মাধ্যমে ইবাদতের ওপর অটল থাকার শিক্ষা দিতেন। আয়িশা বর্ণনা করেন:
'রাসুল যখন কোনো আমল করতেন, তার ওপর অটল থাকতেন। '

আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি এমন করতেন। এরপর আয়িশা পূর্বের কথাকে আরও সুদৃঢ় করে বলেন:
'তিনি কখনো তাহাজ্জুদ পরিত্যাগ করতেন না। কোনোদিন অসুস্থ হলে কিংবা ক্লান্তি আসলে বসে বসে তাহাজ্জুদ পড়তেন।'

তবে মাঝেমধ্যে অসুস্থতা কিংবা ঘুমের কারণে রাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারতেন না। তখন কি তাহলে তিনি তাহাজ্জুদ ছেড়ে দিতেন? আল্লাহর কসম, তিনি কক্ষনো এমন করতেন না। হাদিসের অন্য একটি রিওয়ায়াতে শেষের দিকে আয়িশা কী বলছেন শোনো:
'কোনো রাতে যদি অসুস্থতা কিংবা ঘুমের কারণে তাহাজ্জুদ পড়া সম্ভব না হতো, পরের দিন দিনে বারো রাকআত নামাজ আদায় করে দিতেন।'

নবিজি কোনো আমল শুরু করলে তার ওপর অটল ও অবিচল থাকতেন, এর আরও একটি প্রমাণ হলো, নবিজি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে যখন বিছানায় যেতেন, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিতেন, অতঃপর শরীরের যতটুকু হাত পৌঁছানো সম্ভব, ততটুকুতে হাত মালিশ করতেন। মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থতার সময়েও তিনি এ আমলের ওপর অটল ছিলেন। উম্মুল মুমিনিন আয়িশা-ই এর সাক্ষ্য দিয়েছেন :
'মৃত্যুর পূর্বে নবিজি যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন আমি তাঁর শরীরে সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দিতাম এবং তাঁর হাত দিয়ে শরীরে বুলিয়ে দিতাম, যেভাবে তিনি সুস্থ অবস্থায় নিজে নিজে করতেন।'

নবিজি -এর উক্ত আমলের ব্যাখ্যায় আবু সুলাইমান দারানি বলেন:
'কোনো নফল আমল ছুটে গেলে তা কাজা আদায় করে দাও। এতে তোমার মাঝে নফল ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে না।'

এটি একটি জীবন্ত উপদেশ। এই উপদেশ তোমার মাঝে পরিপূর্ণতার অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং অপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করে নেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি করবে। ফলে শিথিলতামুক্ত মানসিকতা নিয়ে তুমি বেড়ে উঠবে এবং ধাপে ধাপে উন্নতি ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে।

টিকাঃ
৬০. সহিহু মুসলিম: ৭৪৬, সুনানু আবি দাউদ: ১৩৬৮।
৬১. সুনানু আবি দাউদ: ১৩০৭।
৬২. সহিহু মুসলিম: ৭৪৬।
৬৩. আত-তালিকাতুল হিসান আলা সহিহি ইবনি হিব্বان: ৬৫৫৬, আস-সিলসিলাহ আস-সাহিহাহ : ৩১০৪। আয়িশা নিজের হাত না বুলিয়ে রাসুল-এর হাত দিয়ে বুলাতেন। এর কারণ হলো, রাসুল-এর হাত ছিল অধিক বরকতপূর্ণ।
৬৪. হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/২৬১।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 শিক্ষার্থীদের প্রতিজ্ঞা

📄 শিক্ষার্থীদের প্রতিজ্ঞা


নবিজির এ শিক্ষা হাতেকলমে শিখে নিয়েছিলেন তাঁর সুযোগ্য শিষ্যরা। জীবনের কঠিনতম সময়ে কিংবা যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও এ শিক্ষা তাঁরা ভুলে যাননি। আলি-এর কর্মে তার প্রমাণ দেখো :

রাসুল আলি ও ফাতিমা-কে ঘুমানোর পূর্বে ৩৪ বার 'আল্লাহু আকবার', ৩৩ বার 'সুবহানাল্লাহ' এবং ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ' পড়ার উপদেশ দিয়েছিলেন। আলি ও ফাতিমা কেউই সেদিনের পর থেকে এ আমল ছাড়েননি। এমনকি আলি বলেন, 'নবিজির মুখ থেকে এ আমলের কথা শোনার পর থেকে আজ অবধি কোনোদিন তা ছাড়িনি, এমনকি সিফফিন যুদ্ধের রাতেও না!'

এ ঘটনা আমাদেরকে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ওজর-আপত্তিকে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং অলসতার ডাকে সাড়া না দেওয়ার শিক্ষা দেয়।

এমনই ছিল সাহাবিদের অবস্থা। আর এমন হবে না-ই বা কেন? তাঁরা তো 'নুবুওয়াত বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন! যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শিক্ষা হচ্ছে : যেহেতু জিকির বা আল্লাহর স্মরণ উত্তম ইবাদত, তাই তার ওপর অটল ও নিরবচ্ছিন্ন থাকাও উত্তম আমল।

এ জন্য রাসুল আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, কোনো জিকির শুরু করার পর তা যেন আর ছেড়ে না দিই। কেননা, অটলতা ও নিরবচ্ছিন্নতার মাধ্যমেই জিকিরের প্রকৃত উদ্দেশ্য তথা সব ধরনের পরিস্থিতিতে আল্লাহর বিধিনিষেধ মেনে চলা বাস্তবায়িত হয়। এই অনড়তা ও নিরবচ্ছিন্নতায় স্বয়ং নবি আমাদের আদর্শ। তিনি সৃষ্টিকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ সত্যবাদী হওয়া সত্ত্বেও কসম করে বলেন :

وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي اليَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
'আল্লাহর কসম, আমি প্রতিদিন সত্তর বারের বেশি গুনাহ মাফ চাই এবং তাওবা করি। '

অতঃপর ভাষার মধ্যে অলংকারিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে বলেন :
مَا أَصْبَحْتُ غَدَاةً قَطُّ إِلَّا اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ فِيهَا مِائَةَ مَرَّةٍ
'যত সকালে আমি উপনীত হয়েছি, প্রতিটিতেই একশ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। '

টিকাঃ
৬৫. সহিহুল বুখারি: ৫৩৬২, সহিহু মুসলিম: ২৭২৭।
৬৬. ৩ নং ফায়দা : আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর জিকির করা। ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি মাধ্যম রেখেছেন, আর ভালোবাসা অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে নিয়মিত জিকির করা। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসা কামনা করে, সে যেন অধিকহারে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর জিকির করে।' (আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব: পৃ. ৬১)
৬৭. সহিহুল বুখারি: ৬৩০৭।
৬৮. আল-মুজামুল আওসাত: ৩৭৩৭।

📘 পার্থিব জীবনে জান্নাতি সুখ > 📄 সময়ের পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা

📄 সময়ের পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা


নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল করা সহজ হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা সময়ের মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্য ও সঙ্গতি রেখেছেন। বিশেষ কোনো দিন বা মাসকে একটু বেশি ফজিলত দিলেও, বাকি সময়গুলোকে একদম ফজিলতমুক্ত রাখা হয়েছে এমনও নয়। ফলে জুমআর দিনের আলাদা বৈশিষ্ট্য এবং রমাদান মাসের বিশেষ ফজিলত অন্য সময়ে ইবাদত করা থেকে অনুৎসাহিত করে না। নিচে সময়ের সামঞ্জস্যতার কয়েকটি উপমা দেওয়া হলো:

* জুমআর দিনে দুআ কবুল হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে ঠিকই, কিন্তু এমন একটি সময় প্রতিটি রাতেও রাখা হয়েছে। যেমন, রাসুল-এর সুসংবাদ বাণীতে এসেছে:

إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ، يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ
'নিশ্চয় রাতে এমন একটি প্রহর আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি ঠিক সে প্রহরে আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের কোনো কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তাআলা তার চাওয়া পূরণ করেন। এই প্রহর প্রতিটি রাতে রয়েছে। '

• অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা যদিও রমাদানকে ফরজ রোজার জন্য বাছাই করেছেন; কিন্তু ঠিক তার পরের মাস শাওয়ale বিশেষ ছয়টি রোজা বরাদ্দ রেখেছেন। শাওয়াল শেষ হতে না হতেই জিলহজের নয় রোজা। এর পরপরই আল্লাহর মাস মহররমের রোজা, যেটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় রোজা। সবই তোমাকে নিয়মিত রোজা রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য রাখা হয়েছে।

এভাবে রাসূল শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন। কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'এই মাসটি রজব ও রমাদানের মাঝামাঝি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ এ মাসে রোজা রাখতে গাফিলতি করে। তাই আমি রোজা রেখে এই মাসটিকে আবাদ রাখতে চাই। যাতে দ্বীনের জন্য ত্যাগ দেওয়ার ধারাবাহিকতা টিকে থাকে এবং বছরের অন্য মাসসমূহের তুলনায় এর মর্যাদা কমে না যায়।'

এবার তুমি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছ সময়ের পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা কীভাবে তোমাকে আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর কারণে প্রতিটি দিনে ও মাসে ইবাদত করার ইচ্ছা তোমার মনে জাগরূক থাকে। কোনো দিন বা মাসকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে অন্য সময়গুলোতে অবহেলা করার প্রবণতা তৈরি হয় না তোমার মনে। ফলে সময়ের প্রতিটি ক্ষণের সাথে তোমার একপ্রকার বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া সৃষ্টি হয় এবং ইবাদতের মাঝে সুষ্ঠু ভারসাম্য গড়ে ওঠে। তবে এটা তখনই হবে, যখন তুমি আল্লাহ তাআলা তোমাকে যে ইবাদত করার তাওফিক দান করেছেন, তার ওপর নিরবচ্ছিন্ন ও অনড় থাকবে।

টিকাঃ
৬৯. সহিহ হাদিসে এসেছে: 'জুমআর দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যে সময়ে আল্লাহর কোনো বান্দা তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তা দান করেন। সুতরাং উক্ত সময়টিকে তোমরা আসরের পরের সময়ে অনুসন্ধান করো।' (সুনানু আবি দাউদ, সুনানুন নাসায়ি, সহিহুল জামি : ৮১৯০)
৪ নং ফায়দা: ইমাম নববি বলেন, 'এই হাদিস প্রমাণ করে, প্রতিটি রাতে দুআ কবুল হওয়ার বিশেষ একটি সময় আছে। সাথে সাথে এই হাদিস রাতের প্রতিটি অংশে দুআ করার প্রতি উৎসাহিত করে; যাতে কবুল হওয়ার সেই ক্ষণটি পাওয়া যায়।' (শারহুন নববি ৬/৩৬)
৭০. সহিহু মুসলিম: ৭৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00