📄 দুই. সন্তান জান্নাত লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম
ইসলামে সন্তানকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত ও আমানত হিসেবে গণ্য করা হয়। সুসন্তান বাবা-মায়ের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের কারণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, "ধন, ঐশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দুনিয়ার জীবনের অলঙ্কার-শোভা।" (সূরা কাহাফ: ৪৬)[[8](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQHWehQCGVHM5VRUlfPWWZy7KDET6Os-U4K7ScZaKZskBglYjJpunadJQZViJEH4Znw7bCjmRr6ZGQc6sh8Y2OgtM8y8KcHlBGg6Oqy3146O2D1dkHzo97EG3zfxx-F0QXVjUFB9DL6wLefeq4rr)]
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমল জারি থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।[[9](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQHZEwndchy0EfcNebWFD6XSE1yJl9crjhOrMlAJmg-_KvywAsQ0EiWCO5wNcGeDJeZCroG2Do8xtTrOw6RnHrKY7OzT6o6Y6EIfZT5HZnDuQsDFYhX_vENN8Cl5h6IU2QA%3D)] এর থেকে বোঝা যায়, নেক সন্তান পরকালে বাবা-মায়ের জান্নাত লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। সন্তানের দোয়া ও নেক আমলের সওয়াব বাবা-মা মৃত্যুর পরেও পেতে থাকেন, যা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।[[9](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQHZEwndchy0EfcNebWFD6XSE1yJl9crjhOrMlAJmg-_KvywAsQ0EiWCO5wNcGeDJeZCroG2Do8xtTrOw6RnHrKY7OzT6o6Y6EIfZT5HZnDuQsDFYhX_vENN8Cl5h6IU2QA%3D)] তাই সন্তানকে সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা প্রত্যেক বাবা-মায়ের অন্যতম দায়িত্ব, যা তাদের পরকালীন মুক্তির ওসিলা হতে পারে।
📄 তিন. সন্তানদের ইগনোর করা থেকে বেঁচে থাকুন
সন্তানদের আবেগীয়ভাবে উপেক্ষা করা বা অবহেলা করা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।[[13](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQFTm-n-Yp-aQlbBagG2PN6GaUV2lOo8S7YZr7DeY1CcMPm73EcIr3_pjLfo_SC33-FGySQt-z87DdIrg9XJO-2ycsGo5lRCd7YKKq4TsT1e2HV9XH-KO8sqnJlThjf7wxZ1myfDG--fVTRDyRw6LnAUPZpV)] যখন বাবা-মা সন্তানের অনুভূতি, আবেগ বা তাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেন না, তখন শিশুরা নিজেদের মূল্যহীন মনে করতে শুরু করে।[[13](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQFTm-n-Yp-aQlbBagG2PN6GaUV2lOo8S7YZr7DeY1CcMPm73EcIr3_pjLfo_SC33-FGySQt-z87DdIrg9XJO-2ycsGo5lRCd7YKKq4TsT1e2HV9XH-KO8sqnJlThjf7wxZ1myfDG--fVTRDyRw6LnAUPZpV)] এই ধরনের অবহেলা শারীরিক নির্যাতনের মতো দৃশ্যমান না হলেও এর ক্ষত অনেক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
যেসব পরিবারে আবেগীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় না বা সন্তানের অনুভূতিকে ছোট করে দেখা হয়, সেখানকার শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বিষণ্ণতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং সম্পর্ক তৈরিতে সমস্যাসহ বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভোগে।[[13](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQFTm-n-Yp-aQlbBagG2PN6GaUV2lOo8S7YZr7DeY1CcMPm73EcIr3_pjLfo_SC33-FGySQt-z87DdIrg9XJO-2ycsGo5lRCd7YKKq4TsT1e2HV9XH-KO8sqnJlThjf7wxZ1myfDG--fVTRDyRw6LnAUPZpV)] বাইরে থেকে একটি পরিবারকে স্বাভাবিক মনে হলেও, আবেগীয় অবহেলা ধীরে ধীরে সন্তানের মানসিক জগৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে।[[14](https://www.google.com/url?sa=E&q=https%3A%2F%2Fvertexaisearch.cloud.google.com%2Fgrounding-api-redirect%2FAUZIYQG30Td1rF_In-eCCzNZyDaqu-pmJpIHMLimUFtVQ8SyoT4b4dnxMvLQklMXUp3L4DiXeqIMWqu4wMFbzXMP6ebI_gBNDekF3tjvpE4icN5gVzjyI-Byhbs4cKEoKdO9SD1SfKzOW8qm9SphPwPuWamT)] তাই সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা অত্যন্ত জরুরি। বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা নির্ভয়ে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতে পারে।
📄 চার. সন্তানদের আগলে রাখুন, না হয় জন্ম দেওয়া থেকেই বিরত থাকুন
রাসূলুল্লাহ (সা) বাবা-মাকে দায়িত্বশীল বা রাখাল বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাখালের মূল কাজ দুটি: এক. বিপদ আপদ থেকে আগলে রাখা। দুই. উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা। একইভাবে বাবা-মায়ের কাজও দুটি। প্রথমত, সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, তাদের জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা। এখন ভেবে দেখুন তো, আপনি কি আপনার সন্তানের জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করছেন? তার সামনে কি হালাল-হারামের বিধান তুলে ধরছেন? তার অন্তরে কি আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করছেন?
যদি আপনার কাছে মনে হয়, আপনি এসব পারবেন না, তাহলে সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এটি আপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিষয় নয়। বরং এটি আপনারই গ্রহণ করা একটি ঐচ্ছিক বিষয়। আপনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিয়ে করার, আপনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্তান জন্ম দেওয়ার। অতএব, এর দায়ভার আপনাকেই গ্রহণ করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা) বাবা-মাকে দায়িত্বশীল বা রাখাল বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাখালের মূল কাজ দুটি: এক. বিপদ আপদ থেকে আগলে রাখা। দুই. উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা। একইভাবে বাবা-মায়ের কাজও দুটি। প্রথমত, সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাতের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করা। দ্বিতীয়ত, তাদের জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করা। এখন ভেবে দেখুন তো, আপনি কি আপনার সন্তানের জন্য উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করছেন? তার সামনে কি হালাল-হারামের বিধান তুলে ধরছেন? তার অন্তরে কি আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করছেন?
যদি আপনার কাছে মনে হয়, আপনি এসব পারবেন না, তাহলে সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এটি আপনার ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো বিষয় নয়। বরং এটি আপনারই গ্রহণ করা একটি ঐচ্ছিক বিষয়। আপনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিয়ে করার, আপনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্তান জন্ম দেওয়ার। অতএব, এর দায়ভার আপনাকেই গ্রহণ করতে হবে।
📄 পাঁচ. আল্লাহর ব্যাপারে সন্তানদের মনে খারাপ ধারণা তৈরি করবেন না
বাবা-মা যখন সন্তানের সাথে কোনো বিষয়ে কথা বলেন, তখন যদি কথায় কথায় আল্লাহর নাম ব্যবহার করেন, কিন্তু সেই কথা না রাখেন, তাহলে সন্তানের মনে আল্লাহ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। যেমন, কোনো বাবা যদি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, কাল তোমাকে খেলনা কিনে দেবো’, কিন্তু পরদিন তিনি তা কিনে দেন না, তখন সন্তানের মনে হতে পারে—আল্লাহর নামে কসম করলেও তা রক্ষা না করলে কিছু হয় না। এভাবে সে আল্লাহকে গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করে।
এসব ক্ষেত্রে, বাবা-মা অজান্তে সন্তানের কচি মনে আল্লাহ সম্পর্কে একটি ভুল বার্তা পৌঁছে দেন। তারা হয়তো নিজেরা বুঝতেও পারেন না যে, তাদের ছোট ছোট মিথ্যা বা ওয়াদাখেলাপি সন্তানের বিশ্বাসে কতটা বড় আঘাত হানছে। ফলে, সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর প্রতি তার আস্থা ও ভয় কমে যেতে পারে। তাই, সন্তানের সামনে আল্লাহকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।
বাবা-মা যখন সন্তানের সাথে কোনো বিষয়ে কথা বলেন, তখন যদি কথায় কথায় আল্লাহর নাম ব্যবহার করেন, কিন্তু সেই কথা না রাখেন, তাহলে সন্তানের মনে আল্লাহ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। যেমন, কোনো বাবা যদি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, কাল তোমাকে খেলনা কিনে দেবো’, কিন্তু পরদিন তিনি তা কিনে দেন না, তখন সন্তানের মনে হতে পারে—আল্লাহর নামে কসম করলেও তা রক্ষা না করলে কিছু হয় না। এভাবে সে আল্লাহকে গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করে।
এসব ক্ষেত্রে, বাবা-মা অজান্তে সন্তানের কচি মনে আল্লাহ সম্পর্কে একটি ভুল বার্তা পৌঁছে দেন। তারা হয়তো নিজেরা বুঝতেও পারেন না যে, তাদের ছোট ছোট মিথ্যা বা ওয়াদাখেলাপি সন্তানের বিশ্বাসে কতটা বড় আঘাত হানছে। ফলে, সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর প্রতি তার আস্থা ও ভয় কমে যেতে পারে। তাই, সন্তানের সামনে আল্লাহকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।