📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 বলবেন কম, শুনবেন বেশি

📄 বলবেন কম, শুনবেন বেশি


আপনার সঙ্গী কী বলছেন, সেই কথাগুলি মন দিয়ে শুনুন। তাঁর দুটো কথা শুনেই নিজের মতামত দিতে শুরু করবেন না। এতে আপনাদের মধ্যে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।

আমরা সবাই নিজের কথা বলতে ভালোবাসি, কিন্তু বিপরীতের মানুষটির বক্তব্য শোনার কোনো ইচ্ছেই আমাদের মধ্যে থাকে না। তাই ঝগড়া-অশান্তিও বাড়ে। সব সময়ই যে আপনাকে ডিফেন্সিভ হতে হবে, এমন কোনো অর্থ নেই। বরং এবার থেকে শোনার অভ্যাসও গড়ে তুলুন। তাঁর মতামতকে সম্মান করুন। আপনার এই ব্যবহারে তিনিও খুশি হবেন। জনৈক মনীষী বলেছিলেন

خلق الله لنا أذنين ولساناً واحداً لنسمع أكثر مما نقول

আল্লাহ আমাদেরকে কান দিয়েছেন দুটি আর জিহ্বা দিয়েছেন একটি, যেন আমরা বলার চেয়ে শোনার কাজ বেশি করি। ২২

টিকাঃ
২২ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ১৫৭১২

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন

📄 মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন


আপনার সঙ্গীর কোন্ কাজ বা আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। কারণ আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে এমনটি করবে বা বলবে তা আপনি কল্পনায়ও ঠাঁই দিতে পারছেন না! তাই খুব চটেছেন! একটু থামুন! কয়েক সেকেন্ড ভাবুন। তার সঙ্গে অতিবাহিত সুন্দর ভালোবাসার ভালো লাগার আচরণগুলো স্মরণ করুন। সেগুলোর স্মৃতিচারণ করুন। দেখবেন রাগ কমে যাবে! স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ ভুল করে। ভুল করতে পারে। ভাল-মন্দ স্বভাবের মিশ্রণেই মানুষের সৃষ্টি! একটি আচরণ খারাপ হলে তার অনেক আচরণ আছে যেগুলো মুগ্ধকর। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে। আপনার সঙ্গী/সঙ্গীণীর ক্ষেত্রে। সকলের ক্ষেত্রে! প্রত্যেকের উচিৎ তার সঙ্গীর উত্তম আচরণগুলো দেখা। মন্দগুলো মানবিক দুর্বলতা হিসেবে ক্ষমা করে দেয়া। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেন

لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ منها خُلُقًا رَضِيَ منها آخَرَ

কোনো মুমিন অন্য মুমিন নারীকে চূড়ান্তভাবে ঘৃণা করতে পারে না। তার একটি স্বভাবে সন্তুষ্ট না হলে অন্য স্বভাবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে। ২৩

টিকাঃ
২৩ সহীহ মুসলিম: ১৪৬৯

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 শয়তান কিন্তু জিতে গেল, আপনি হেরে গেলেন

📄 শয়তান কিন্তু জিতে গেল, আপনি হেরে গেলেন


এ বিষয়ে একটি চমৎকার হাদীস আছে। শুনলে অবশ্যই অভিভূত হবেন। আমরা হরহামেশা শয়তানকে জেতাচ্ছি। আর আমরা তার কাছে হেরে যাচ্ছি। হযরত যাবের রা. বলেন, রাসূল বলেছেন, ইবলিস তার সিংহাসন পানিতে স্থাপন করে। তারপর তার বাহিনীদের প্রেরণ করে। সর্বোচ্চ দুষ্কৃতিকারী তার সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। দুষ্কৃতি শেষে একজন এসে বলে, আমি এই এই কাজ করেছি। ইবলিস বলে, তুমি উল্লেখযোগ্য কিছুই করনি! অপর একজন এসে বলে, আমি স্বামীর পিছনে লেগেই ছিলাম। এক পর্যায়ে তার ও তার স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়! তখন শয়তান তাকে কাছে টেনে নেয় আর বলে, হ্যাঁ তুমিই কাজের কাজ করেছ এবং তার সাথে আলিঙ্গন করে! ২৪

যখনই নিজেদের মাঝে কিছু হয়ে যাবে লক্ষ রাখতে হবে শয়তান যেন জিতে না যায়! সাবধান হতে হবে। আমাদেরকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

টিকাঃ
২৪ সহীহ মুসলিম: ৫০৩৯

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 বিরতি নিন

📄 বিরতি নিন


আপনি যদি মনে করেন যে আলোচনাটি উত্তপ্ত হতে চলেছে, তবে বিরতি নিন। কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। সুতরাং এ সময়ে প্রয়োজনে তাকে নিজ সম্মুখ হতে সরিয়ে দিন অথবা নিজেই অন্যত্র সরে যান কিংবা অজু করে নিন বা কিছু পানি পান করুন, আপনার গাছপালা দেখুন। এসব একটি রিসেট বোতামের মতো কাজ করবে। আপনি যখন আবার রুমে প্রবেশ করবেন এবং আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলবেন, তখন দুজনেই নিজেকে শান্ত করবেন এবং সম্ভবত বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলবেন।

আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ.-কে বলা হল

اجمع لنا حسن الخلق في كلمة

উত্তম চরিত্র সম্পর্কে এক কথায় আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন

ترك الغضب

রাগ ত্যাগ করা। ২৫

টিকাঃ
২৫ জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ১/৩৬৩

ফন্ট সাইজ
15px
17px