📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 তৃতীয় পক্ষকে নাক গলানোর সুযোগ দিবেন না

📄 তৃতীয় পক্ষকে নাক গলানোর সুযোগ দিবেন না


আমাদের বড়রা বলেন, অধিকাংশ সময় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয় তৃতীয় পক্ষের কারণে। আর যদি এই ঝগড়ার মাঝে আপনি নিজের ভাই বোন প্রমুখদের টেনে আনেন, তাহলে ঝামেলা গুরুতর আকার নিবে। যদি বন্ধুবান্ধবকে টানেন, তাহলে সম্পর্কের 'ইন্নালিল্লাহ' হয়ে যাবে। তাছাড়া একটু আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলাম, আপনাদের দাম্পত্যজীবনে আপনার বোনের কিংবা আপনার মায়ের মাধ্যমে আপনার স্ত্রীর বিচারক হয়ে উঠতে পারে আপনার ভগ্নীপতি। এটা কক্ষনো হতে দিবেন না। মনে রাখবেন, যারা অন্যের প্রাইভেট জীবন নিয়ে নাক গলায় এদের দৃষ্টান্ত রাস্তায় চলা বেয়াড়া ট্রাকের মত। ট্রাকের পিছনে যেমনিভাবে লেখা থাকে, ১০০ গজ দূরে থাকুন। অনুরূপভাবে এ জাতীয় লোক থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 নিজেকে পরিপাটি রাখুন

📄 নিজেকে পরিপাটি রাখুন


পুরুষরা তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ঠিক একইভাবে তারা তাদের সঙ্গীকেও সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযি. বলতেন

إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَتَزَيَّنَ لِلْمَرْأَةِ ، كَمَا أُحِبُّ أَنْ تَتَزَيَّনَ لِي الْمَرْأَةُ

আমি আমার স্ত্রীর জন্য পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন পছন্দ করি আমার স্ত্রী আমার জন্য পরিপাটি থাকাকে। ২২

টিকাঃ
২২ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ১৫৭১২

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 বলবেন কম, শুনবেন বেশি

📄 বলবেন কম, শুনবেন বেশি


আপনার সঙ্গী কী বলছেন, সেই কথাগুলি মন দিয়ে শুনুন। তাঁর দুটো কথা শুনেই নিজের মতামত দিতে শুরু করবেন না। এতে আপনাদের মধ্যে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।

আমরা সবাই নিজের কথা বলতে ভালোবাসি, কিন্তু বিপরীতের মানুষটির বক্তব্য শোনার কোনো ইচ্ছেই আমাদের মধ্যে থাকে না। তাই ঝগড়া-অশান্তিও বাড়ে। সব সময়ই যে আপনাকে ডিফেন্সিভ হতে হবে, এমন কোনো অর্থ নেই। বরং এবার থেকে শোনার অভ্যাসও গড়ে তুলুন। তাঁর মতামতকে সম্মান করুন। আপনার এই ব্যবহারে তিনিও খুশি হবেন। জনৈক মনীষী বলেছিলেন

خلق الله لنا أذنين ولساناً واحداً لنسمع أكثر مما نقول

আল্লাহ আমাদেরকে কান দিয়েছেন দুটি আর জিহ্বা দিয়েছেন একটি, যেন আমরা বলার চেয়ে শোনার কাজ বেশি করি। ২২

টিকাঃ
২২ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা: ১৫৭১২

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন

📄 মধুর স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন


আপনার সঙ্গীর কোন্ কাজ বা আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। কারণ আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে এমনটি করবে বা বলবে তা আপনি কল্পনায়ও ঠাঁই দিতে পারছেন না! তাই খুব চটেছেন! একটু থামুন! কয়েক সেকেন্ড ভাবুন। তার সঙ্গে অতিবাহিত সুন্দর ভালোবাসার ভালো লাগার আচরণগুলো স্মরণ করুন। সেগুলোর স্মৃতিচারণ করুন। দেখবেন রাগ কমে যাবে! স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মানুষ ভুল করে। ভুল করতে পারে। ভাল-মন্দ স্বভাবের মিশ্রণেই মানুষের সৃষ্টি! একটি আচরণ খারাপ হলে তার অনেক আচরণ আছে যেগুলো মুগ্ধকর। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। আপনার ক্ষেত্রে। আপনার সঙ্গী/সঙ্গীণীর ক্ষেত্রে। সকলের ক্ষেত্রে! প্রত্যেকের উচিৎ তার সঙ্গীর উত্তম আচরণগুলো দেখা। মন্দগুলো মানবিক দুর্বলতা হিসেবে ক্ষমা করে দেয়া। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেন

لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ منها خُلُقًا رَضِيَ منها آخَرَ

কোনো মুমিন অন্য মুমিন নারীকে চূড়ান্তভাবে ঘৃণা করতে পারে না। তার একটি স্বভাবে সন্তুষ্ট না হলে অন্য স্বভাবে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে। ২৩

টিকাঃ
২৩ সহীহ মুসলিম: ১৪৬৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px