📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 বউমার ভুলচুক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে

📄 বউমার ভুলচুক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে


দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সমাজে অনেক শাশুড়ি আছেন, পুত্রবধূকে আপন করে নিতে পারেন না। পুত্রবধূকে বাড়ির সেবিকা বা চাকরানি মনে করেন। শাশুড়ি নিজের মেয়েকে এক চোখে দেখেন, পুত্রবধূকে ভিন্ন চোখে দেখেন। এ জন্য একটি ব্যাপার স্পষ্ট থাকা দরকার যে, পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা ফরজ করা হয়নি। সুতরাং এ জন্য তাকে শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করতে পারবেন না; বরং আপনার উচিত দিল বড় করা। তার ভুলচুক ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা। টুকটাক বিষয় নিয়ে বউমার সঙ্গে মতবিরোধ হতেই পারে। সেজন্য খামোখা ঝগড়াঝাঁটি করতে যাবেন না। চেষ্টা করুন তার মতকেও গুরুত্ব দিতে।

হাদীস শরিফে এসেছে, এক ব্যক্তি নবী ﷺ-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কাজের লোককে প্রতিদিন কত বার মাফ করবো? তিনি চুপ থাকলেন। লোকটি আবার একই প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ থাকলেন। তৃতীয় বার প্রশ্ন করলে তিনি বলেন

اعفوا عنه كل يوم سبعينَ مرَّةً

প্রতিদিন তাকে তোমরা সত্তর বার মাফ করবে। ১৩

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, যেখানে খাদেম বা চাকরকে প্রতিদিন সত্তর বার মাফ করার কথা বলা হয়েছে, সেখানে এই মেয়েটি তো আপনার বউমা। আপনি বড়, সে ছোট। ভুল তো ছোটরাই করে। সুতরাং মাফ করে দিন।

টিকাঃ
১৩ আবু দাউদ: ৫১৬৪

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 পুত্র ও পুত্রবধূর সব কিছুতে নাক গলাবেন না

📄 পুত্র ও পুত্রবধূর সব কিছুতে নাক গলাবেন না


মনে রাখবেন, আপনার ছেলে এখন আপনার ছোট্ট বাবু নয়। সে এখন বড় হয়েছে। তার পার্সোনাল লাইফ আছে। আপনার পুত্র ও পুত্রবধূর দাম্পত্যজীবনে একে অন্যের প্রতি কিছু দায়িত্ব ও অধিকার রয়েছে। এখন যদি আপনি এসব বিষয়েও নাক গলানো শুরু করেন, তাদেরকে নিজেদের মতো করে দাম্পত্যজীবন উপভোগ করার স্পেস না দেন। যেমন ছেলে তার স্ত্রীর জন্য কিছু আনলে আপনি যদি বলেন, এত দামীটা কেন আনলো কিংবা আমার জন্য বা আমার মেয়ের জন্য কেন আনলো না। অথবা ধরুন, ছেলে তার স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যেতে চায় আর আপনি এক্কেবারে 'না' করে বসলেন তাহলে মনে রাখবেন, সুখ ও শান্তি আপনার ছাদের নিচে কক্ষনো আসবে না। সুতরাং তাদের এসব পার্সোনাল বিষয়ে আপনাকে ছাড় দিতে হবে।

আসলে উক্ত সমস্যার অন্যতম কারণ হল, ছেলেকে বিয়ে করানোর পর মা মনে করে, এই বুঝি ছেলে পর হয়ে গেল। বৌমাকেই বেশি গুরুত্ব দিবে। আর বোধ হয় তাকে সেভাবে পাত্তাও দিবে না। ছেলের অধিকারবোধ নিয়ে তারা আশঙ্কায় ভোগেন বিধায় এমনটি করে থাকেন। এ জন্য এক্ষেত্রে মায়ের উচিত অন্তরটাকে বড় করা।

📘 পারিবারিক বন্ধন প্রাণবন্ত রাখবেন যেভাবে 📄 পুত্রবধূর ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করুন

📄 পুত্রবধূর ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করুন


কিছু শাশুড়ি আছে বউমার ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করা তো দূরের কথা; বরং পদে পদে তার ভুল ধরতেই ব্যস্ত থাকেন। ছেলের কাছে বউয়ের নামে গোপনে দুর্নাম করেন। নুন থেকে চুন খসলে ছেলের কাছে বিচার দেওয়ার ধমক দেন। নিজের মেয়েদের কাছে বলে বেড়ান। এমনকি বাইরের মানুষের সামনে অপদস্থ করেন। আর মেয়েদের কাছে বললে এটা তো স্বাভাবিক যে, এ দুর্নামগুলো তাদের স্বামীর কানেও পৌঁছে। তখন বউয়ের জন্য প্রধান বিচারপতি বনে যায় মেয়ে কিংবা তার স্বামী! যার কারণে আমাদের সমাজের অধিকাংশ ননদ তাদের ভাবীকে দাজ্জাল মনে করে। আর ভাবীরা ননদকে দাজ্জাল মনে করে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এটার জন্য অন্যতম দায়ী কিন্তু শাশুড়ি। অথচ শাশুড়ি যদি বউয়ের বদনাম না করে তার দোষগুলো গোপন করত এবং তার ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করত, তাহলে পারিবারিক বিবাদ-কলহ অনেকাংশে কমে যেত।

তাই শাশুড়িকে বলবো, আল্লাহকে ভয় করুন। বউয়ের গীবত করা, তাকে অপবাদ দেয়া থেকে দূরে থাকুন, তার দোষগুলো মায়ের মত করে লুকিয়ে রাখুন, তার ভালো গুণগুলোর প্রশংসা করুন; দেখবেন আপনার সংসারে অশান্তি থাকবে না।

মুমিন অপরের দোষ গোপন রাখে
ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন

الْمُؤْمِنُ يَسْتُرُ وَيَنْصَحُ، وَالْفَاجِرُ يَهْتِكُ وَيُعَيِّرُ

মুমিন ব্যক্তি দোষ গোপন রাখে এবং সদুপদেশ দেয়। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি গোপন বিষয় ফাঁস করে দেয় এবং পরনিন্দা করে। ১৪

টিকাঃ
১৪ জামে'উল 'উলূম ওয়াল হিকাম ১/২২৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px