📄 রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলুন
একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তাহল এই যে, নিয়ম হচ্ছে, পরিবারের টুকটাক ঝামেলা রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলা। যে দিনটি খুব খারাপ গিয়েছে, সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচকতা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা. সতর্ক থাকা যে, ঘুমানোর আগে চলে যাওয়া দিনের কোনো ঝগড়া যেন পরের দিন সকাল পর্যন্ত বিস্তৃত না হয়। যেমন একটু আগে বলেছি, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া? রাতে ঘুমানোর আগেই মীমাংসা করে ফেলুন। অনুরূপভাবে স্বামী-স্ত্রীর কলহ? তাও রাতের ভেতরেই মিটমাট করে ফেলুন।
📄 স্বামীর রাগের মোকাবেলা করার চমৎকার কৌশল
কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য থেকেও বিষয়টির গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন যৌবনকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্ট ঝগড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক চাহিদা পূরণ করতে না পারা এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে মনের চাহিদা পূরণ করতে না পারা। অপর দিকে বিশেষ হেকমতের কারণে ইসলাম তালাকের অধিকার পুরুষদের দিয়েছে। এখন যদি স্বামী তার গোস্বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে তালাকের মতো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে! তাই ইসলাম স্বামীর রাগের মোকাবেলা করার জন্য একটা চমৎকার কৌশল শিক্ষা দিয়েছে। তা এই যে, রাগারাগী যতই হোক; রাতের বেলা স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ-সময় কাটাতে হবে। স্পর্শ, আলিঙ্গন, চুম্বন দিয়ে তাকে উত্তেজিত করে তুলতে হবে। এটা আল্লাহর দারুণ একটা নেয়ামত। এটা স্বামীর রাগ প্রশমনে খুব দ্রুত কাজ করে।
রাসূলুল্লাহ বলেছেন
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ أَنْ تَجِيءَ, لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহ্বান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকে। ১১
উক্ত হাদীসে حَتَّى تُصْبِحَ ‘সকাল পর্যন্ত’ শব্দ দ্বারা স্ত্রীকে এই শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তালাকের মতো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, তাই রাতেই স্বামীর গোস্বা কাবু করে ফেলতে হবে।
টিকাঃ
১১ বুখারী: ৩২৩৭
📄 একে অপরের সঙ্গে মুচকি হেসে কথা বলুন
বউ-শাশুড়ি উভয়ের প্রতি চতুর্থ পরামর্শ হল, সুখী পরিবার পেতে হলে একে অপরের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও মুচকি হেসে কথা বলুন। কেননা একটু মুচকি হাসি দু'জনের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অপরদিকে গোমরামুখে থাকলে দূরত্ব তৈরি হবে। বিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন, মুচকি হাসির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। মানুষের হৃদয়েও একটা তালা আছে। সেই তালার উত্তম চাবি হচ্ছে মুচকি হাসি। তাছাড়া মুচকি হেসে কথা বলা রাসূলুল্লাহ -এর একটি চমৎকার সুন্নাহ। যতবার মুচকি হেসে কথা বলবেন, ততবার সদকার সাওয়াব পাবেন। রাসূলুল্লাহ বলেন
تَبَسُّمُكَ فِي وَجْهِ أَخِيكَ لَكَ صَدَقَةٌ
তোমার ভাইয়ের সাক্ষাতে মুচকি হাসাও একটি সদকা। ১২
টিকাঃ
১২ তিরমিযী: ১৯৫৬
📄 আইন দিয়ে জীবন-সংসার চলে না
মুহতারাম হাজেরীন! এবার আসা যাক, বউমার প্রতি বিশেষ কিছু পরামর্শ সম্পর্কে। একটু আগে বলেছিলাম, পুত্রবধূর ওপর শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা ফরজ করা হয়নি। এটা তো আইনের কথা। বাস্তবতা হল আইনের রুক্ষ বাঁধনের ওপর ভিত্তি করে হয়ত 'তালাক' ঠেকানো যাবে- যদিও অনেক সময় তাও সম্ভব হয় না; কিন্তু সুখ-শান্তি কখনই আসবে না।
কেননা এটা যেমন আইন তেমনিভাবে এটাও আইন যে, স্ত্রীকে তার মা- বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর জন্য নিয়ে যাওয়া কিংবা ব্যবস্থা করে দেওয়া স্বামীর দায়িত্ব নয়। বরং ফকিহগণ এ পর্যন্তও বলেছেন, স্ত্রীর মা-বাবা সপ্তাহে মাত্র একবার আসবে, তাও মেয়েকে দূর থেকে দেখে চলে যাবে। তাদেরকে ঘরে বসিয়ে সাক্ষাৎ করতে দেয়া স্বামীর দায়িত্ব নয়।
সুতরাং আইনের এসব চৌহদ্দিতে পড়ে থাকা মানে অশান্তি ডেকে আনা। বরং বউমাকেও ভাবতে হবে যে, তাকেও একদিন শাশুড়ি হতে হবে। হতে হবে বৃদ্ধা। আর বৃদ্ধাবস্থায় পুত্রবধূর কাছ থেকে কীরূপ আচরণ প্রত্যাশা করে- এ প্রশ্ন নিজেকে করলে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তার জবাব সে পেয়ে যাবে।