📄 বৌমাকে বলছি
আপনাকেও শাশুড়ির মেয়ের মতো হতে হবে। মেয়ে কিন্তু প্রত্যেকটা কথায় গাল ফুলিয়ে বসে থাকে না। সুতরাং বিনয়ী হোন। মানুষের হৃদয়ের প্রবেশ করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে বিনয়ী হওয়া। শাশুড়ি মুরুব্বি হিসেবে কোনো কথা বললে মনের বিপরীতে হলেও মেনে নিন। নিজের মা কোনো শক্ত কথা বললে যেমন সহজভঙ্গিতে 'ও হতেই পারে' বলেন, এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই ভাবতে চেষ্টা করুন। মনে করুন, মা তার মেয়েকেই তো বলেছে। নবীজী বলেছেন
وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدُ اللَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ
কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিনয়ী হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। ৯ মনে রাখবেন, ভালোবাসা ও যত্ন হচ্ছে বিনিময়ের ব্যাপার। এগুলো এক পাক্ষিকভাবে হয় না। দু'পক্ষ থেকেই আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকতে হয়।
টিকাঃ
৯ মুসলিম: ২৫৮৮
📄 ঝগড়া ক্ষমার মাধ্যমে ইতি টানুন
উক্ত দুই পরামর্শ মেনে চলার পরেও আমি এ কথা বলছি না যে, কোনো ঝগড়াঝাঁটি মোটেও থাকবে না। কেননা একসঙ্গে থাকতে গেলে টুকটাক মনোমালিন্য হবেই। আপন মা-মেয়ের মধ্যেও হয়। তবে এক্ষেত্রে বউ- শাশুড়ি উভয়ের প্রতি তৃতীয় পরামর্শ হল, আগের দিনের ঝগড়ার জের টেনে পরের দিন অশান্তি শুরু করবেন না। যা হয়েছে তা ভুলে যান। রাতে ঘুমানোর আগেই একে অপরকে মাফ করে দিন। নতুন একটা সকাল, নতুনভাবে শুরু করুন। একে অপরকে ক্ষমা করে দেয়ার মাধ্যমে ঝগড়ার ইতি টানুন।
📄 রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলুন
একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তাহল এই যে, নিয়ম হচ্ছে, পরিবারের টুকটাক ঝামেলা রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলা। যে দিনটি খুব খারাপ গিয়েছে, সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচকতা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা. সতর্ক থাকা যে, ঘুমানোর আগে চলে যাওয়া দিনের কোনো ঝগড়া যেন পরের দিন সকাল পর্যন্ত বিস্তৃত না হয়। যেমন একটু আগে বলেছি, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া? রাতে ঘুমানোর আগেই মীমাংসা করে ফেলুন। অনুরূপভাবে স্বামী-স্ত্রীর কলহ? তাও রাতের ভেতরেই মিটমাট করে ফেলুন।
📄 স্বামীর রাগের মোকাবেলা করার চমৎকার কৌশল
কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্য থেকেও বিষয়টির গুরুত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন যৌবনকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্ট ঝগড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে পুরুষদের ক্ষেত্রে শারীরিক চাহিদা পূরণ করতে না পারা এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে মনের চাহিদা পূরণ করতে না পারা। অপর দিকে বিশেষ হেকমতের কারণে ইসলাম তালাকের অধিকার পুরুষদের দিয়েছে। এখন যদি স্বামী তার গোস্বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে তালাকের মতো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে! তাই ইসলাম স্বামীর রাগের মোকাবেলা করার জন্য একটা চমৎকার কৌশল শিক্ষা দিয়েছে। তা এই যে, রাগারাগী যতই হোক; রাতের বেলা স্বামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ-সময় কাটাতে হবে। স্পর্শ, আলিঙ্গন, চুম্বন দিয়ে তাকে উত্তেজিত করে তুলতে হবে। এটা আল্লাহর দারুণ একটা নেয়ামত। এটা স্বামীর রাগ প্রশমনে খুব দ্রুত কাজ করে।
রাসূলুল্লাহ বলেছেন
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ أَنْ تَجِيءَ, لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহ্বান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, তবে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার উপর অভিশাপ করতে থাকে। ১১
উক্ত হাদীসে حَتَّى تُصْبِحَ ‘সকাল পর্যন্ত’ শব্দ দ্বারা স্ত্রীকে এই শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তালাকের মতো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, তাই রাতেই স্বামীর গোস্বা কাবু করে ফেলতে হবে।
টিকাঃ
১১ বুখারী: ৩২৩৭