📄 শাশুড়িকে বলছি
মূলত শাশুড়ি ও বৌমা তখনই দূরে সরে যায় যখন তাদের সম্পর্ক সেরেফ বউ শাশুড়ির মতো থাকে। এ জন্য আবারও বলছি, বৌমাকে মেয়ের মত করে দেখতে হবে। অনেক শাশুড়ি আশা করেন, তার বৌমা ঘরে পা দিয়েই পাকা গৃহিণীর মত সব কিছু সামলাবে। কিন্তু এভাবে ভাবলে চলবে না। আপনার বৌমা আপনার চেয়ে অনেক ছোট- বয়সে এবং অভিজ্ঞতায়। সুতরাং বৌমাকে স্নেহ এবং মমতা দিয়ে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে। তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজের জন্য তাকে কষ্ট দেয়া যাবে না। সতর্ক থাকতে হবে, মেয়ে হলে এমন করে বলতে পারতেন বা করতে পারতেন? বৌমায়ের পক্ষ থেকে এই ধরনের কথার তলে কখনই পড়া যাবে না। বরং ধৈর্য্য ধরে তার সঙ্গে নরম আচরণ করুন। নবীজী বলেছেন
مَنْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ ، فقدْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الخِيرِ ، وَمَنْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ ، فَقَدْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الخيرِ
যাকে নমনীয়তার অংশ দেয়া হয়েছে তাকে কল্যাণের অংশ দেয়া হয়েছে। নমনীয়তার অংশ হতে যাকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে কল্যাণের অংশ হতে বঞ্চিত করা হয়েছে। ৮
টিকাঃ
৮ তিরমিযী: ২০১৩ • মুসলিম: ২৫৮৮
📄 বৌমাকে বলছি
আপনাকেও শাশুড়ির মেয়ের মতো হতে হবে। মেয়ে কিন্তু প্রত্যেকটা কথায় গাল ফুলিয়ে বসে থাকে না। সুতরাং বিনয়ী হোন। মানুষের হৃদয়ের প্রবেশ করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে বিনয়ী হওয়া। শাশুড়ি মুরুব্বি হিসেবে কোনো কথা বললে মনের বিপরীতে হলেও মেনে নিন। নিজের মা কোনো শক্ত কথা বললে যেমন সহজভঙ্গিতে 'ও হতেই পারে' বলেন, এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই ভাবতে চেষ্টা করুন। মনে করুন, মা তার মেয়েকেই তো বলেছে। নবীজী বলেছেন
وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدُ اللَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ
কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে বিনয়ী হলে তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। ৯ মনে রাখবেন, ভালোবাসা ও যত্ন হচ্ছে বিনিময়ের ব্যাপার। এগুলো এক পাক্ষিকভাবে হয় না। দু'পক্ষ থেকেই আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকতে হয়।
টিকাঃ
৯ মুসলিম: ২৫৮৮
📄 ঝগড়া ক্ষমার মাধ্যমে ইতি টানুন
উক্ত দুই পরামর্শ মেনে চলার পরেও আমি এ কথা বলছি না যে, কোনো ঝগড়াঝাঁটি মোটেও থাকবে না। কেননা একসঙ্গে থাকতে গেলে টুকটাক মনোমালিন্য হবেই। আপন মা-মেয়ের মধ্যেও হয়। তবে এক্ষেত্রে বউ- শাশুড়ি উভয়ের প্রতি তৃতীয় পরামর্শ হল, আগের দিনের ঝগড়ার জের টেনে পরের দিন অশান্তি শুরু করবেন না। যা হয়েছে তা ভুলে যান। রাতে ঘুমানোর আগেই একে অপরকে মাফ করে দিন। নতুন একটা সকাল, নতুনভাবে শুরু করুন। একে অপরকে ক্ষমা করে দেয়ার মাধ্যমে ঝগড়ার ইতি টানুন।
📄 রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলুন
একটি সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তাহল এই যে, নিয়ম হচ্ছে, পরিবারের টুকটাক ঝামেলা রাতে ঘুমানোর আগে মিটমাট করে ফেলা। যে দিনটি খুব খারাপ গিয়েছে, সেখান থেকেও কোনো ইতিবাচকতা নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করা. সতর্ক থাকা যে, ঘুমানোর আগে চলে যাওয়া দিনের কোনো ঝগড়া যেন পরের দিন সকাল পর্যন্ত বিস্তৃত না হয়। যেমন একটু আগে বলেছি, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া? রাতে ঘুমানোর আগেই মীমাংসা করে ফেলুন। অনুরূপভাবে স্বামী-স্ত্রীর কলহ? তাও রাতের ভেতরেই মিটমাট করে ফেলুন।