📄 ক্ষতিকর কাজে মোবাইল-ফোন ব্যবহারের কিছু নমুনা
১. মোবাইল-টেলিফোনের মাধ্যমে সবখানে ক্ষতিকর প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়।
২. ঘরের মেয়েদের অপরিচিত গাইরে মাহরাম পুরুষের সাথে পরিচয় ঘটে। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্কের ডালপালা ছড়াতে থাকে। আমাকে এক যুবক (আল্লাহ তাআলা তাকে তাওবার মাধ্যমে হিদায়াত দিয়েছেন।) বলেছে, 'এমন যুবক-যুবতি খুব কমই আছে, মোবাইল বা টেলিফোনের মাধ্যমে যাদের সম্পর্ক হয়েছে অথচ পরে তারা এক সাথে বাইরে যায়নি। তাদের মধ্যে যে কত নিকৃষ্ট পর্যায়ের অশ্লীলতা ও খারাবি ঘটে, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই ভালো জানেন।'
৩. দুষ্ট ও খারাপ প্রকৃতির কিছু লোক হিংসাবশত, অনিষ্টতার উদ্দেশ্যে মোবাইলের মাধ্যমে স্বামীকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে এবং স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে উসকে দেয়। বাবাকে ক্ষেপিয়ে তোলে ছেলে-মেয়েদের বিরুদ্ধে। বা ছেলে-মেয়েদের ক্ষেপিয়ে তোলে বাবার বিরুদ্ধে। সবই এসব চুগলখোর ও মন্দ প্রকৃতির লোকদের সাথে কথা বলার ফসল।
৪. একেবারে তুচ্ছ ও মূল্যহীন কথা নিয়ে বিস্তর সময় নষ্ট হয় এ মোবাইলের কারণে। যার কারণে অন্তর শক্ত হয়ে যায়, গাফিল হয়ে যায় আল্লাহর জিকির থেকে। বিশেষ করে, মেয়েদের মধ্যে এ প্রভাবটা বেশি পড়ে। কারণ মহিলারা যদি কথা না বলতে পারে, তবে যেন তাদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা।
📄 মোবাইল ও টেলিফোনের ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়
১. মোবাইলের অপব্যবহারকারীকে ধারাবাহিকভাবে সর্তক করে যেতে হবে এবং নসিহতের সাথে এগোতে হবে।
২. হিকমতের সাথে এগুলোর ব্যবহার থেকে বাধা প্রদান করতে হবে।
৩. আর মন্দ প্রকৃতির লোকদের অনিষ্টতা থেকে বাঁচার উপায় হলো, যখন আমাদের কাছে অপরিচিত কারও সাথে কথা বলার সংবাদ আসবে, তখন আমরা বিষয়টি আল্লাহর কিতাবের কাছে সোপর্দ করব এবং আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করব। আমরা এ আয়াতের ওপর আমল করব, যেখানে আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا
'হে মুমিনগণ, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের নিকট কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে।'২১
৪. সঠিক ইসলামি শিক্ষাই পারে বাড়ির কর্তা বা দায়িত্বশীলের অনুপস্থিতিতে এগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে। তাই পরিবারের সদস্যদের ইলমের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে, দ্বীনি কিতাব পড়ার অভ্যাস গঠন করতে হবে।
৫. যখন মোবাইল ব্যবহারে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে, তখন এ থেকে পৃথক হওয়াই হলো সর্বশেষ ও চূড়ান্ত চিকিৎসা।
টিকাঃ
২১. সুরা আল-হুজুরাত : ০৬