📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 ইবাদতের ওপর বিরূপ প্রভাব

📄 ইবাদতের ওপর বিরূপ প্রভাব


১. ফিল্ম ইত্যাদিতে আসক্ত হওয়ার কারণে অনেকের সালাত ছুটে যায়। বিশেষ করে, রাত জেগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখার কারণে ফজরের সালাতে তো তাদের কখনো মসজিদে দেখা যায় না।
২. বিভিন্ন সিরিয়াল, ফিল্ম, টুর্নামেন্ট দেখার কারণে মসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে সালাত আদায় তো দূরের কথা সঠিক সময়েও সালাত আদায় করা হয় না।
৩. কারও কারও মধ্যে ইসলামের কোনো কোনো শিআরের (নিদর্শনের) প্রতি অল্প অল্প করে ঘৃণা জন্মাতে থাকে; যেমন কারও কারও ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে যে, ম্যাচ চলছে। চরম উত্তেজনাকর মুহূর্ত। কিন্তু তখনই নামাজ আদায়ের জন্য টিভি বন্ধ করে দেওয়া হলো। যার কারণে তার মনে নামাজের প্রতি বিরূপভাব চলে এল। নাউজুবিল্লাহ।
৪. যারা এসবে আসক্ত, তারা তো রমজানেও এগুলো দেখা জারি রাখে। ফলে এসব হারাম জিনিস দেখার কারণে তাদের সিয়ামের সাওয়াব কমে যায়। আবার কারও কারও তো পুরো সিয়ামটাই শেষ হয়ে যায়।
৫. পর্দার বিধান, একাধিক বিয়ের বিধানসহ শরিয়তের বিভিন্ন হুকুম-আহকামের ওপর অনবরত আঘাত করে এসব মুভি-সিনেমা। ফলে পর্দার ফরজ বিধান, একাধিক বিয়ে জায়িজ হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহর নির্ধারণের ওপর ফিল্ম-আসক্ত এসব ব্যক্তিরা বিরূপভাবাপন্ন হয়।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 ইতিহাসের বিকৃতি সাধন

📄 ইতিহাসের বিকৃতি সাধন


১. ইতিহাসনির্ভর সিনেমাগুলোতে ইসলামি ইতিহাস বিকৃতি, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল এবং মুসলমানদের অবস্থান ও অবদানকে খাটো করে প্রকাশ করা হয়।
২. মুসলমানদের জালিম ও নিজেদের মাজলুম হিসেবে প্রকাশ করে স্পষ্ট ও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত ইতিহাসের বিকৃতি ঘটায় এসব কাফির বা কাফির-অধীন মানসিক গোলামরা। ফিল্মগুলোতে ইহুদিদের প্রকাশ করা হয় ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক হিসেবে।
৩. মহান মুসলিম বীর ও সিংহপুরুষদের চরিত্রকে অবমাননাকর অবস্থায় দর্শকদের সামনে নিয়ে আসা হয়। কোনো কোনো মুভি নির্মিত হয় সাহাবায়ে কিরাম ও ইসলামের বিজয়ী সেনাপতিদের নিয়ে। কিন্তু সেখানে এ মহান পুরুষদের সাধারণ মর্যাদাহীন ও গতানুগতিক লোকের মতো করেই পেশ করা হয়। এ ছাড়াও এ ধরনের মুভিগুলোতে যৌন উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যগুলোকে তাদের জীবনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষদের মনে তা বিরূপ প্রভাব ফেলে।
৪. মুসলমানদের পরাজিত মানসিকতার জাঁতাকলে পিষ্ট করা ও তাদের অন্তরে ভয়-ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এসব সিনেমায়। কারণ, এ সকল মুভিতে কাফিরদের অত্যাধুনিক বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হয় এবং মুসলমানদের মনে এই ধারণা দেওয়া হয় যে, মুসলমানরা কখনো এই জাতিকে পরাজিত করতে পারবে না।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 আত্মিক অবক্ষয়

📄 আত্মিক অবক্ষয়


১. বিভিন্ন যুদ্ধ ও আ্যকশন মুভির খুনোখুনি, রক্তপাত, গোলাগুলি বা শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের দৃশ্য দেখার ফলে অন্তর শক্ত হয়ে যায়। মনে কারও জন্য দয়ামায়া থাকে না। এবং এক ধরনের আগ্রাসী মনোভাব তৈরি হয়ে যায়। ফলে তার স্বভাব পরিণত হয় আগ্রাসী ও শত্রুভাবাপন্ন স্বভাবে।
২. যারা হরর মুভি দেখে, তাদের অন্তরে এক ধরনের ভয় বাসা বাঁধে। এমনকি তাদের কেউ কেউ ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে আঁতকে উঠে চিৎকার করতে থাকে।
৩. এসব মুভিতে বাস্তবতা বহির্ভূত বিভিন্ন দৃশ্য দেখে শিশুসহ লোকেরা অবাস্তব মন নিয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। যেমন শিশুরা বিভিন্ন কার্টুনে এমন দৃশ্য ও গল্প দেখে, যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিলই নেই। ফলে এসব অবাস্তব দৃশ্য ও গল্প তাদের বাস্তবিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 স্বাস্থ্যগত ক্ষতি

📄 স্বাস্থ্যগত ক্ষতি


১. সিনেমা, ফিল্ম দেখতে দেখতে সিনেমায় আসক্তদের দৃষ্টিশক্তি বিকল হয়ে পড়ে। দৃষ্টিশক্তি আল্লাহর অনেক বড় একটি নিয়ামত। এ সম্পর্কে কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
২. ভয় ও খুনোখুনির ফিল্ম দেখার কারণে মানুষের হার্ডবিট প্রবল হয়ে পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ স্নায়বিক উত্তেজনাজনিত রোগ দেখা দেয়।
৩. ক্ষতিকর কাজে রাত জাগরণ শারীরিক শান্তি ও শরীরের সুস্থতা বিনষ্টের কারণ। আর এ কারণে কিয়ামতের দিন তাকে জিজ্ঞাসার সম্মুখীন হতে হবে যে, কী কাজে সে তার স্বাস্থ্য ক্ষয় করেছে?
৪. শিশুরা শারীরিকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়, যখন তারা সুপার ম্যান, আইরন ম্যান বা এমন অন্যদের অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আর বড়রা যখন বিভিন্ন বক্সার বা ক্যারাটে অভিনেতাদের অনুকরণ করে, তখন তারা শারীরিক বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00