📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 মুখান্নাসের সংজ্ঞা

📄 মুখান্নাসের সংজ্ঞা


মুখান্নাস বলা হয় আকার-আকৃতি, কথাবার্তা, চলাফেরাসহ ইত্যাদি দিক থেকে মহিলাদের মতো হওয়া। সে যদি প্রকৃতপক্ষেই এমন হয়, তাহলে তো দোষের কিছু নয়। তবে তার ওপর ওয়াজিব হলো, সে যথাসম্ভব এই ধরনের চালচলন পরিহার করে চলার চেষ্টা করবে। আর যদি কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে মেয়েদের মতো হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সে হলো মুখান্নাস; চাই সে অশ্লীল কাজ করুক বা না করুক।

হাদিসে বর্ণিত মুখান্নাস লোকটি (যে খাদিম ছিল) রাসুলুল্লাহ ﷺ এর বিভিন্ন ঘরে প্রবেশ করত। কারণ তাকে পুরুষত্বহীনদের মধ্যে গণ্য করা হতো। অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন দেখলেন যে, সে সূক্ষ্মভাবে মহিলাদের শরীরের বর্ণনা দিচ্ছে। সে এমন এক মহিলার বর্ণনা দিচ্ছে—যে সম্মুখে আসার সময় পেটের সামনের দিকে চার ভাঁজ পড়ে এবং পেছনে ফিরে যাওয়ার সময় তার পেটের পেছনের দিকে আট ভাঁজ পড়ে—তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে বের করে দেওয়ার আদেশ দিলেন। তাকে নিষেধ করে দিলেন, সে যেন আর কখনো তাঁর স্ত্রীদের কোনো কামরায় প্রবেশ না করে। কারণ, তার থেকে অনেক বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সে অপরিচিত লোকদের নিকট ঘরের মহিলাদের বর্ণনা দেবে। অথবা সে ঘরের সদস্যদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করবে। ঘরের মেয়েরা তার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, ফলে তাদের মধ্যে ছেলেদের মতো ভাব ধরার প্রবণতা আসতে পারে, অথবা পুরুষরা মহিলাদের মতো হওয়ার প্রবণতা পেয়ে চলার মাঝে নাজুকতা প্রদর্শন, চিকন সুরে কথা বলা কিংবা এর চেয়ে মন্দ কোনো কাজ করতে পারে।

সুতরাং আমরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরস্পরকে একটু প্রশ্ন করে দেখি যে, এখন তো এ সকল পরিচারক-পরিচারিকার মধ্যে নারীসদৃশ পুরুষ ও পুরুষসদৃশ নারী রয়েছে, যারা বিপরীত লিঙ্গের বেশ ধারণ করেছে। বিশেষভাবে মুসলিমদের ঘরে বিধর্মী পরিচারক-পরিচারিকাদের ক্ষেত্রে, আমাদের ছেলে সন্তানদের ওপর যাদের খারাপ ও ভয়ংকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা নিশ্চিতই অবগত আছি। বরং এখন তো যুবকদের মধ্য থেকে তৃতীয় আরেক প্রকার লিঙ্গ পরিচয়দানকারী বের হয়ে গেছে। যারা মহিলাদের পোশাক পরিধান করে, তাদের মতো সাজসজ্জা করে, নিজেরা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় লিঙ্গের পরিচয় দেয়। এর চেয়ে বড় বিপদ ও কঠিন বিপর্যয় এই উম্মাহর জন্য আর কী হতে পারে, যে উম্মাহর ব্যাপারে আশা করা হয় যে, এ উম্মাহ জিহাদের উম্মাহ হবে?!

এখানে এই প্রকারের মানুষের প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর প্রতিরোধ এবং সাহাবায়ে কিরাম এর আত্মমর্যাদাবোধ সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে এই হাদিস নিয়ে একটু চিন্তা করুন :
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
أَن النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِمُخَنَّثٍ قَدْ خَضَّبَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالْحِنَّاءِ؟ فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، يَتَشَبَّهُ بِالنِّسَاءِ، فَأَمَرَ بِهِ فَنَفَاهُ إِلَى النَّقِيعِ، فَقِيلَ: أَلَا تَقْتُلُهُ؟ فَقَالَ: إِنِّي نُهِيتُ عَنْ قَتْلِ الْمُصَلِّينَ
'নবিজি ﷺ এর নিকট এক মুখান্নাসকে নিয়ে আসা হলো। সে মহিলাদের মতো তার হাতে-পায়ে মেহেদি দিয়ে রঙিন করে রেখেছিল। বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসুল, এই লোকটি মহিলাদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে চলে।” রাসুল ﷺ তাকে নাকি' নামক স্থানের দিকে বের করে দিলেন।১৮ বলা হলো, “আপনি কি তাকে হত্যা করবেন না?” তিনি বললেন, “যারা সালাত আদায় করে, তাদের হত্যার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে।”১৯

টিকাঃ
১৮. তাকে শাস্তিস্বরূপ একাকী ও জনমানবহীন একটি জায়গাতে পাঠিয়ে দিলেন, যাতে তার থেকে অন্যদের রক্ষা করা যায়।
১৯. সুনানু আবি দাউদ : ৪৯২৮, সহিহুল জামি' : ২৫০২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00