📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 ব্যভিচারে কত পরিচারিকা গর্ভবতী হচ্ছে, তার কি কোনো হিসেব আছে?

📄 ব্যভিচারে কত পরিচারিকা গর্ভবতী হচ্ছে, তার কি কোনো হিসেব আছে?


হাসপাতালে গর্ভপাতকারিণী নারীদের একটা লিস্ট সংগ্রহ করুন। থানাগুলো থেকে পরিচারিকাদের জন্ম দেওয়া জারজ সন্তানদের একটা লিস্ট সংগ্রহ করে দেখুন। এটা কতটা ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে, তা অনায়াসে বুঝতে পারবেন। এ অন্যায় কাজের কারণে যে সকল রোগব্যাধি আমাদের সমাজে ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবেন যে, আমরা কতটা ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি। যার কারণ একটিই, ঘরে পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়া। যদি এ সত্যতা আমরা উপলব্ধি করতে পারি, তবে পরিচারক-পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়ার কথা কখনো মুখেও আনব না।
এরপর একটু চিন্তা করে দেখুন, এ সকল চাকর-বাকর আর চালকদের মনে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে কী ধারণা জন্মাচ্ছে? এরা তো নিজ চোখে তাদের মালিকদের অবস্থা দেখছে। এবার নিজেকে নিজে একবার প্রশ্ন করে দেখুন যে, এ সকল লোকের ইসলামে পরিপূর্ণ প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরাই কি বাধা হয়ে দাঁড়াইনি? এটা কি কখনো সম্ভব যে, প্রতারণার মাধ্যমে আসা কাফির চাকর-বাকরগুলো এরপর কখনো ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে আশ্রয় গ্রহণ করবে?!

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 যারা পরিচারক-পরিচারিকা রাখা নিজেদের জন্য জরুরি মনে করেন, তাদের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা

📄 যারা পরিচারক-পরিচারিকা রাখা নিজেদের জন্য জরুরি মনে করেন, তাদের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা


১. বাজার থেকে রেডিমেট প্রস্তুত করা খাবার কিনে আনবেন। কাগজের ওয়ানটাইম পাত্র ব্যবহার করবেন। অনুরূপভাবে গোসলখানা পরিষ্কার, ঘর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সাময়িকের জন্য লোক ভাড়া করে আনবেন। শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রে কোনো পুরুষের তত্ত্বাবধানে কাজ করিয়ে বিদায় করবেন। একান্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্তগুলোতে প্রতিবেশীর নিকট সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজন শেষ করে বাসায় চলে আসবেন।
২. যদি এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না হয়, তাহলে শরয়ি শর্তগুলো ঠিক রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজের মেয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রয়োজন শেষ হলে তাকে বিদায় দিতে হবে; যদিও এ ক্ষেত্রেও ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. সবচেয়ে উত্তম হলো, ঘণ্টা চুক্তিতে পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়া। যেমন এক ঘণ্টার মধ্যে সে তার সকল কাজ শেষ করে বাড়ি ত্যাগ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৪. বর্তমান সমাজে ঘরে ঘরে এই ফিতনা প্রবল আকার ধারণ করার কারণে বিষয়টি নিয়ে একটু দীর্ঘ আলোচনা করতে হচ্ছে। এ বিষয়টি বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমরা আর বেশি আলোচনা করছি না। তবে আলোচনা শেষ করার আগে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
৫. যারা চাকর-বাকরের দিক থেকে বা অন্য কোনোভাবে ফিতনার সম্মুখীন হচ্ছে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং এদের বিদায় করে দেয়।
৬. যারা মনে করে যে, তারা কাজের লোক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ি বিধিবিধান সঠিকভাবে মেনে চলবে এবং মেনে চলতে পারবে, তাদের এ বিষয়টা মনে রাখতে হবে, শুরুতে অনেক বিধান মানা হলেও দিন যত গড়াতে থাকে মানার মাত্রাটা তত শিথিল হতে থাকে। এমন যেন না হয়, বরং তারা যেন তাকওয়া অবলম্বন করে এবং আল্লাহকে ভয় করে শরয়ি নীতিমালার ওপর অটল থাকে।
৭. জাজিরাতুল আরবে যাদের কাছে কাফির কাজের লোক আছে, তাদের কর্তব্য হলো, এদের উত্তম পদ্ধতিতে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তো ভালো। আর ইসলাম গ্রহণ না করলে তাদের বের করে দেবে। যেখান থেকে এসেছে, সেখানে পাঠিয়ে দেবে।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন হলে প্রত্যেক আত্মমর্যাদাবান মুসলিমের নিকটই তা জঘন্য মনে হবে। অনেক পরিবারেই এমন ঘটে থাকে যে, তাদের ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কর্মী বা ঘরের অন্য কোনো কাজের কর্মী আসে। তখন তাদের বাড়ির কোনো কোনো মহিলা ঘুমের পোশাক পরা অবস্থায় থাকে। এসব মহিলা এ পোশাকেও এ লোকদের দেখা দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। এ সকল কর্মচারী কি এমন পুরুষ নয়, যাদের থেকে পর্দা করার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আদেশ করেছেন?!
পরিবারের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টির আরেকটি কারণ হলো, অনেকেই তাদের বালেগা কন্যাদের পড়ানোর জন্য গাইরে মাহরাম পুরুষদের বা বালেগ ছেলেদের পড়ানোর জন্য গাইরে মাহরাম মহিলাদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। আশ্চর্য!
আমরা পরিচারক-পরিচারিকা, চালক ও অন্যান্য পেশায় নিয়োগদান যতটুকু পর্যন্ত সম্ভব হয় পরিহার করব। কদাচিৎ যদি কাজের লোকের প্রয়োজন পড়ে, তবে পূর্বে বর্ণিত নির্দেশনার প্রতি খেয়াল রাখব। নিজেদের অটল রাখব তাকওয়ার ওপর।

টিকাঃ
১৫. সহিহুল বুখারি, ফাতহুল বারি: ১২/১৩৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00