📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 শিশু সন্তানদের তরবিয়ত ও তাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়া

📄 শিশু সন্তানদের তরবিয়ত ও তাদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়া


কাফির, মুশরিক, নাসারা, বৌদ্ধ পরিচারিকাদের থেকে বিভিন্ন কুফরি আকিদা-বিশ্বাস শিশুদের মধ্যে প্রবেশ করে। এখন অনেক শিশুকে মাথা, বুকের দুদিকে ইশারা করে ক্রস অঙ্কন করতে দেখা যায়; যেভাবে খ্রিষ্টানরা প্রার্থনা করে থাকে। এর প্রধান একটি কারণ হলো, ঘরে কোনো খ্রিষ্টান পরিচারিকার উপস্থিতি। শিশুরা তাদের বিধর্মী সেবক-সেবিকাদের উপাসনা করতে দেখে তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে। তারা অনেক সময় আমাদের বাচ্চাদের হাতে চকলেট বা মিষ্টি দিয়ে বলে, এটা যিশুর পক্ষ থেকে এসেছে। এমনিভাবে শিশুটি তার বৌদ্ধ সেবিকাকে গৌতম বুদ্ধের মূর্তির সামনে মাথা নত করে পুজো দিতে দেখে। আবার কেউ কেউ বাচ্চাদের নিয়ে তাদের ধর্মের উৎসব উদযাপন করে। তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি ও আনন্দ-খুশিকে আমাদের শিশুদের মনের মধ্যে প্রবেশ করায়। যার ফলে ধীরে ধীরে আমাদের শিশুরা তাদের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুরাগী হয়ে ওঠে।
শিশুদের প্রতিপালন ও উত্তম শিক্ষা প্রদানে মায়ের আদর-স্নেহ অপরিহার্য। মায়ের আদর-যত্নেই শিশুরা পায় আত্মিক স্থিরতা। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে শিশুরা তাদের মায়ের আদর-যত্ন, স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। যার ফলে ছোটবেলা থেকেই তাদের মনে বিরাজ করে এক ধরনের শূন্যতা ও বিষণ্ণতা। অন্যদিকে সেবিকাদের পক্ষেও প্রকৃত মায়ের আদর-যত্ন ও স্নেহ-ভালোবাসা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিশুদের প্রতিপালনে অপূর্ণতা থেকে যায়।
ভিন্ন অঞ্চলের ভিন্ন ভাষার পরিচারিকার তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে শিশুদের ভাষার মধ্যেও বিকৃতি ঘটে। বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। ফলে ভাষার এমন অপূর্ণতা তাদের শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণে ক্ষতিকর সাব্যস্ত হয়।
পরিচারিকা ও গাড়িচালকদের বেতন ও খরচ বাবদ বাড়ির কর্তাকে বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত অনেক অর্থ খরচ করতে হয়।
আবার 'কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কে দেবে?' এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বাধার ঘটনা তো রয়েছেই। যখন বাড়ির কর্তা ও কর্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হয়, তখন শিশু লালনপালনের জন্য নির্ধারিত পরিচারিকা ও চালকদের খরচ কে মিটাবে? এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কলহ-বিবাদ শুরু হয়। নারীরা যদি বাড়ির বাইরে কাজের পরিবর্তে ঘরে থাকত, ঘরের কাজ নিজেই সম্পন্ন করত, তাহলে অনেক অনিষ্টতা ও অকল্যাণ থেকে ঘর ও পরিবার রক্ষা পেত।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 পরিবারের লোকদের জন্য ক্ষতিকর কিছু বিষয়

📄 পরিবারের লোকদের জন্য ক্ষতিকর কিছু বিষয়


১. শত্রুরা পরিবারের সদস্যদের জন্য জাদু-টোনা ও তাবিজ-কবজ করতে পারে। যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায় অথবা ব্যাঘাত ঘটায় তাদের শারীরিক সুস্থতায়। চাকর-বাকর বা এ ধরনের কেউ সে জাদু-টোনার জন্য প্রয়োজনীয় চুল বা ইত্যাদি শত্রুদের কাছে পৌছিয়ে দেওয়া অবাক করা ব্যাপার নয়।
২. বাড়ির সদস্যদের বিভিন্ন বস্তু চুরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৩. বাড়ির কর্তার সম্মানহানি হতে পারে। অনেক সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবার আছে, যখন তারা বাইরে যায়, তখন তার ঘর খারাপ, অশ্লীল ও অপরাধমূলক কাজের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। আপনি অবশ্যই শুনে থাকবেন যে, বাড়ির কর্তার অনুপস্থিতিতে পরিচারিকারা অনেক অপরিচিত পুরুষকে ঘরে নিয়ে এসে হারাম কর্মে লিপ্ত হয়।
৪. ঘরে কুফরির প্রবেশ ঘটে। আর এটা তো সরাসরি রাসুল ﷺ এর নিষেধের লঙ্ঘন। তিনি জাজিরাতুল আরবে কাফিরদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। বিশেষ করে, যখন তাদের কোনো প্রয়োজনই থাকবে না। কারণ, তাদের পরিবর্তে মুসলমান পরিচারক-পরিচারিকা নিয়ে আসা সম্ভব। সৎ ও আল্লাহভীরু এমনিভাবে পরিবারের সদস্যদের ইসলাহের উদ্দেশ্যে ভালো দায়িদের নিয়ে আসা যায়।
৫. বাড়িতে কিংবা গাড়িতে মহিলারা গাড়ি-চালকের সাথে একাকী থাকার কারণে যে সকল ফিতনা সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাবধান থাকতে হবে। অনেক মহিলা সেজেগুজে সুগন্ধি মেখে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে গাড়িচালকের সামনে আসতে কোনো বাধা মনে করে না। মনে হয় সে যেন তার মাহরামদের কেউ। বারবার নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে চালকের সামনে যাওয়ার কারণে বাড়ির বেগমের দিকে তাকাতে, তার সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে তাদের দ্বিধা ও জড়তা কেটে যায়। ধীরে ধীরে তা ফিতনার দিকে নিয়ে যায়। ড্রাইভারের সাথে বাড়ির বেগমের ফিতনায় জড়ানোর ঘটনা তো আর কম নয়। এসব দেখে বুদ্ধিমান গৃহকর্তার এ বিপজ্জনক বিষয়টি বুঝা দরকার, প্রয়োজন তার শঙ্কিত হবার।
৬. বিভিন্ন ধর্মের লোকদের চাকর-বাকর বা চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে কাফিরদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা হয়। অথচ, মুসলমানগণ এর অধিক উপযুক্ত ও হকদার ছিল। এ ছাড়াও কাফিরদের সাথে ওঠাবসা ও মেলামেশার কারণে মুসলমানদের অনুভূতি দিনদিন ভোঁতা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তাদের অন্তর থেকে 'আল-ওয়ালা ওয়াল বারা'র আকিদা দুর্বল হতে থাকে।
এর সাথে একটি নিকৃষ্ট ছল-চাতুরীর কথা বলছি। পরিচারক-সরবরাহকারী এমন কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, যারা আল্লাহর ভয়ের ধার ধারে না। তাদের শরণাপন্ন হওয়া বাড়ির কর্তাদের বলে যে, তাদের কাছে মুসলিম পরিচারক নেই অথবা এটা না বলে সরাসরি তারা প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এরা অমুসলিম কিছু লোককে বিভিন্ন দেশ থেকে রিক্রুট করে। যাদের পাসপোর্টে ইসলামি নাম-ধাম ও পরিচয় থাকে। এরা প্রতারণার ওপর প্রতারণা করে এসব বিধর্মী লোককে মুসলিমদের পরিবারগুলোতে প্রেরণ করে। এসব নাটক শুরু হয় রিক্রুট করা লোকটির স্বদেশ থেকে, সেখানে তাদের ইসলামি কিছু বাক্য শিখিয়ে এখানে পাঠানো হয়। যাতে করে এগুলো বলে বাড়ির কর্তাকে বুঝ দেওয়া যায়।

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 ব্যভিচারে কত পরিচারিকা গর্ভবতী হচ্ছে, তার কি কোনো হিসেব আছে?

📄 ব্যভিচারে কত পরিচারিকা গর্ভবতী হচ্ছে, তার কি কোনো হিসেব আছে?


হাসপাতালে গর্ভপাতকারিণী নারীদের একটা লিস্ট সংগ্রহ করুন। থানাগুলো থেকে পরিচারিকাদের জন্ম দেওয়া জারজ সন্তানদের একটা লিস্ট সংগ্রহ করে দেখুন। এটা কতটা ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে, তা অনায়াসে বুঝতে পারবেন। এ অন্যায় কাজের কারণে যে সকল রোগব্যাধি আমাদের সমাজে ছড়াচ্ছে, তা নিয়ে একটু চিন্তা করলেই দেখতে পাবেন যে, আমরা কতটা ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে রয়েছি। যার কারণ একটিই, ঘরে পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়া। যদি এ সত্যতা আমরা উপলব্ধি করতে পারি, তবে পরিচারক-পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়ার কথা কখনো মুখেও আনব না।
এরপর একটু চিন্তা করে দেখুন, এ সকল চাকর-বাকর আর চালকদের মনে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে কী ধারণা জন্মাচ্ছে? এরা তো নিজ চোখে তাদের মালিকদের অবস্থা দেখছে। এবার নিজেকে নিজে একবার প্রশ্ন করে দেখুন যে, এ সকল লোকের ইসলামে পরিপূর্ণ প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরাই কি বাধা হয়ে দাঁড়াইনি? এটা কি কখনো সম্ভব যে, প্রতারণার মাধ্যমে আসা কাফির চাকর-বাকরগুলো এরপর কখনো ইসলামের সুশীতল ছায়ায় এসে আশ্রয় গ্রহণ করবে?!

📘 পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণ > 📄 যারা পরিচারক-পরিচারিকা রাখা নিজেদের জন্য জরুরি মনে করেন, তাদের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা

📄 যারা পরিচারক-পরিচারিকা রাখা নিজেদের জন্য জরুরি মনে করেন, তাদের জন্য কিছু দিক-নির্দেশনা


১. বাজার থেকে রেডিমেট প্রস্তুত করা খাবার কিনে আনবেন। কাগজের ওয়ানটাইম পাত্র ব্যবহার করবেন। অনুরূপভাবে গোসলখানা পরিষ্কার, ঘর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে সাময়িকের জন্য লোক ভাড়া করে আনবেন। শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রে কোনো পুরুষের তত্ত্বাবধানে কাজ করিয়ে বিদায় করবেন। একান্ত প্রয়োজনীয় মুহূর্তগুলোতে প্রতিবেশীর নিকট সন্তানের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে প্রয়োজন শেষ করে বাসায় চলে আসবেন।
২. যদি এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না হয়, তাহলে শরয়ি শর্তগুলো ঠিক রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজের মেয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রয়োজন শেষ হলে তাকে বিদায় দিতে হবে; যদিও এ ক্ষেত্রেও ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. সবচেয়ে উত্তম হলো, ঘণ্টা চুক্তিতে পরিচারিকা নিয়োগ দেওয়া। যেমন এক ঘণ্টার মধ্যে সে তার সকল কাজ শেষ করে বাড়ি ত্যাগ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৪. বর্তমান সমাজে ঘরে ঘরে এই ফিতনা প্রবল আকার ধারণ করার কারণে বিষয়টি নিয়ে একটু দীর্ঘ আলোচনা করতে হচ্ছে। এ বিষয়টি বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমরা আর বেশি আলোচনা করছি না। তবে আলোচনা শেষ করার আগে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
৫. যারা চাকর-বাকরের দিক থেকে বা অন্য কোনোভাবে ফিতনার সম্মুখীন হচ্ছে, তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং এদের বিদায় করে দেয়।
৬. যারা মনে করে যে, তারা কাজের লোক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ি বিধিবিধান সঠিকভাবে মেনে চলবে এবং মেনে চলতে পারবে, তাদের এ বিষয়টা মনে রাখতে হবে, শুরুতে অনেক বিধান মানা হলেও দিন যত গড়াতে থাকে মানার মাত্রাটা তত শিথিল হতে থাকে। এমন যেন না হয়, বরং তারা যেন তাকওয়া অবলম্বন করে এবং আল্লাহকে ভয় করে শরয়ি নীতিমালার ওপর অটল থাকে।
৭. জাজিরাতুল আরবে যাদের কাছে কাফির কাজের লোক আছে, তাদের কর্তব্য হলো, এদের উত্তম পদ্ধতিতে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তো ভালো। আর ইসলাম গ্রহণ না করলে তাদের বের করে দেবে। যেখান থেকে এসেছে, সেখানে পাঠিয়ে দেবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00