📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 APPENDIX: কিছু বাস্তব চিত্র থেকে শিক্ষাগ্রহণ

📄 APPENDIX: কিছু বাস্তব চিত্র থেকে শিক্ষাগ্রহণ


মা-বাবাদের নিকট কিছু বাস্তব সিনারিও তুলে ধরা হলো। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সতর্ক করা। আমরা খুব দ্রুত বিজাতীয় কালচার নিজেদের দেশে আধুনিকতার নামে আগ্রহ করে লুফে নিচ্ছি। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছি যে নিজেদের কী সর্বনাশ ডেকে আনছি!

বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কালচার

আমরা জানি স্কুল-কলেজগুলোতে ছেলেমেয়েদের শিক্ষার এমন কোন ব্যবস্থা নেই যে যেখানে ইসলামিক কালচার শেখানো হয়। তারা এই শিক্ষা পায় না যে একটা অ্যাডাল্ট ছেলে এবং একটা অ্যাডাল্ট মেয়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়। বরং এখনকার কালচার হচ্ছে যে হাইস্কুল-কলেজ থেকেই বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সম্পর্ক তৈরী করা এবং যাদের বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড নেই তাদেরকে অন্যান্য ছেলেমেয়েরা একটু অন্যরকম চোখেই দেখে থাকে। এছাড়া তারা নিজেরাও অনেক সময় এই কারণে হীনমন্যতায় ভুগে। তারপরও আরো কথা থেকে যায়। এই বয়সের মনও চায় সেটা, তার উপর আবার অবারিত পরিবেশ। সবার বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড আছে কিন্তু আমার নেই তা তাদের মনেও যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। আমাদের অনেক মুসলিম ছেলেমেয়েরাই এই প্রভাবে পড়ে বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সম্পর্ক তৈরী করে কিন্তু মা-বাবা যেহেতু পছন্দ করেন না সেহেতু তা তারা সবার নিকট লুকিয়ে রেখে বাইরেই কাজটা সেরে বাসায় আসে।

মনে রাখতে হবে, যে সকল ছেলেমেয়েরা কো-এডুকেশনে পড়ে এবং ৮-১০ ঘন্টা বাসার বাইরে থাকে, আমি কি তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করবো না? আমি কি সচেতন হবো না? আমার সন্তানদের জন্য কি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো না?

কো-এডুকেশনের প্রভাব বা ফলাফল

কো-এডুকেশন মানে ছেলেমেয়েরা একই সময়ে একই স্থানে, একই শ্রেণীকক্ষে বসে পড়ালেখা করা। যার দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই খারাপ হচ্ছে। এতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই ছেলেমেয়েদের মাঝে অবৈধ সম্পর্কের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও পশ্চিমা দৃষ্টিতে ও আইনানুসারে এই সম্পর্ক বৈধ। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের একটি চিত্র দেখি। বাংলাদেশ অবজার্ভার পত্রিকায় ডা. সাবরিনা কিউ রশীদ একটি আর্টিক্যালে লিখেছেন তা নিম্মে তুলো ধরা হলো:
'পূর্বে কখনো আমরা ডাক্তারেরা এত অধিক সংখ্যক অবিবাহিত অল্প বয়স্ক মেয়েকে গর্ভবতী হতে দেখিনি'। তিনি এ মন্তব্য সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের সম্পর্কে করতে গিয়ে প্রবন্ধে উল্লেখ করেন- ছাত্র-ছাত্রীদের পারস্পরিক কথাবার্তা শেষ পর্যন্ত আর শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো পরবর্তীতে স্পর্শ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এ বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে যৌন হরমোনের নিঃসরণ হওয়ায় যে কোন স্পর্শ শরীর ও মনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এটি ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি ঘটে। কেননা মেয়েরা একটু ঠাণ্ডা হলেও ছেলেরা অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। সুতরাং মেয়েরা ছেলেদের বন্ধু হিসেবে নিতে চাইলেও ছেলেরা তার চেয়ে অনেক বেশি ভাবে।
সেজন্য ডা. সাবরিনা সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা না করতে এবং নিরাপদ দূরত্ব রক্ষা করে চলতে বলেছেন। ডা. সাবরিনা রশীদের পরামর্শ যুক্তিযুক্ত।

আমাদের সত্যিকার কালচার কী?

ঘটনা-এক: আমি (আমির জামান) একদিন টরন্টোতে বাসে করে মসজিদের দিকে যাচ্ছি। মেইন স্টেশন সাবওয়ে থেকে দু'জন ভদ্র মহিলা উঠেছেন, হয়তো অফিস থেকে ফিরছেন। একজন আমার পাশের খালি সিটে বসেছেন এবং অপরজন দাঁড়িয়ে গল্প করছেন। তারা বাংলায় গল্প করছেন বলে আমি পাশে বসে শুনার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও সবই শুনতে পারছি। তারা মূলতঃ আমাদের কালচার নিয়ে কথা বলছেন। আমি তাদের দু'জনের আলাপের কিছুটা অংশ আমাদের শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরছি।

১ম মহিলা: ভাবী, আপনারা তো ক্যানাডায় অনেক দিন হলো, আপনার মেয়েরা বাংলাদেশী কালচার ভুলে যাচ্ছে না তো?
২য় মহিলা: না না ভাবী, আমি তো এ ব্যাপারে খুব সচেতন। আমি আমার মেয়েদেরকে বাংলা গানের এবং নাচের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি, ওরা নাচ-গান দুটোই শিখছে, এছাড়া ওরা প্রতি বছর বৈশাখী মেলায় প্যান্ট-শার্ট না পরে শাড়ি পরে থাকে, সেখানে স্টেজে নাচে, ফুল নিয়ে একুশের মেলায়ও যায়। আর আমার বড় মেয়েটা তো শুটকি ভর্তা খেতে খুব পছন্দ করে। ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিশ্লেষণ: দেখি এই ভদ্র মহিলার কাছে কালচার মানে অনৈসলামী কিছু কাজকর্ম যা মুসলিম কালচার থেকে অনেক দূরে! আসলে শুধু এই মহিলা কেন, আমাদের বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষের কাছেই কালচার মানে অনৈসলামী কাজ কারবার।

ঘটনা-দুই: টরন্টোর একটা বাংলাদেশী মেলায় আমরা ইসলামের দাওয়াতি ম্যাটারিয়ালস ডিস্টিবিউশনের উদ্দেশ্যে স্টল দিয়েছিলাম। উদ্বোধনী দিনের একটি ঘটনা আমাদের শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরছি। ঢাকা ইউনিভার্সিটির বটতলার মতোই খুব সুন্দর করে স্টেজ সাজানো হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের একজন এক্স প্রেসিডেন্ট আসছেন শুভ উদ্বোধন করার জন্য। সকলেই প্রধান অতিথির জন্য অপেক্ষমান, যে কোন সময় তিনি এসে পড়বেন।

চিত্র ১: প্রধান অতিথি যথা সময়ে আসলেন। অডিটোরিয়ামের গেটে একদল মেয়ে গানের তালে তালে নেচে প্রধান অতিথিকে স্বাগতম জানালো এবং নাচ শেষে একটি মেয়ে তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিল। এটি ছিল প্রধান অতিথিকে বরণ করার প্রথম পর্ব।

চিত্র ২: এবার প্রধান অতিথিকে বরণ করার দ্বিতীয় পর্ব। অতিথি মূল স্টেজের কাছাকাছি গেলেন এবং পূর্ব থেকেই ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া দু'টি যুবতী মেয়ে নাচের সাজে সেজে স্টেজের মধ্যে আগে থেকেই সিজদারত অবস্থায় রয়েছে এবং মেয়ে দু'টি সিজদার মাধ্যমে প্রধান অতিথিকে বরণ করলো মনোমুগ্ধকর নাচের তালে তালে। এবার প্রধান অতিথি তার নিজ আসন গ্রহণ করলেন।

বিশ্লেষণ: প্রোগ্রাম শেষে এক ভদ্রলোক এক মেয়ের বাবাকে বলছেন, “ভাই আপনার মেয়ে তো খুব সুন্দর নেচেছে!” মেয়ের বাবাতো এই মন্তব্য শুনে খুব খুশি, তার বুকটা যেন গর্বে ভরে গেল। এই হলো আমাদের কালচারের অবস্থা! আমার মেয়ে স্টেজে নেচে নিজেকে প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্য পুরুষের মন জয় করছে আর আমি বাবা হয়ে সেজন্য গর্ববোধ করছি, মনে খুব আনন্দ পাচ্ছি, তৃপ্তি পাচ্ছি, শান্তি পাচ্ছি। আর বিশেষ কিছু লিখতে চাই না আশা করি আমরা মা-বাবারা সচেতন হবো।

বাস্তব চিত্র: ১

ঘটনা: বুসরা (ছদ্ম নাম) নামের একটি মেয়ে। এস.এস.সি পাশ করে ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছে ঢাকার একটি নামকরা প্রাইভেট কলেজে। তারা দুই ভাই বোন, বুসরা বড় এবং ভাইটি ছোট হাইস্কুলে পড়ে। মা এবং বাবা দু'জনই শিক্ষিত এবং দু'জনই ভাল চাকুরী করেন। হঠাৎ একদিন মা অফিস থেকে কোন একটি জরুরী কাজে দুপুরে বাসায় এসেছেন। বাসায় এসে তার মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। বুসরা কলেজ ফাঁকি দিয়ে বাসায় এবং এখানেই শেষ নয়, সে তার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে একান্তে তার বেডরুমে সময় কাটাচ্ছে!

সমস্যা: মা এখন কী করবেন? চেঁচামেচি করে বাসা মাথা তুলবেন? এখুনি বুসরার বাবাকে ফোন করবেন? আত্মীয়-স্বজনদেরকে ডেকে আনবেন? ছেলেটির মা-বাবাকে ফোন দিবেন? বুসরাকে ধরে চড়-থাপ্পড় দিবেন? ছেলেটিকে ঘাড় ধরে বাসা থেকে বের করে দিবেন? বুসরার কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিবেন? বুসরাকে বাসা থেকে বের হতে দিবেন না?

সমস্যার সমাধান: না। মায়ের এগুলো কোনটাই করা ঠিক হবে না। তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বুসরার বাবাকে এই মুহূর্তেই ফোন না দিয়ে সে বাসায় ফেরার পর তার সাথে ধীরে সুস্থে পরামর্শ করতে হবে, কী করা যায়। হৈচৈ করার কোন প্রয়োজন নেই। বুসরার কলেজ বন্ধ করারও প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, বুসরার মাকে অফিস থেকে কয়েক মাসের ছুটি নিতে হবে। বুসরার সাথে নিয়মিত সময় কাটাতে হবে। বুসরাকে মা বোঝাবেন যে, সে তাদের মা-বাবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তারা কখনই তার কাছ থেকে এটা আশা করেনি। তারা খুব কষ্ট পেয়েছেন সেটা বুসরাকে বোঝাতে হবে। ছোট বেলা থেকে কীভাবে মা-বাবা সন্তানকে লালন-পালন করেন সেই ইমোশনাল কথা মনে করিয়ে দিতে হবে। যেনো বুসরা অন্তর থেকে বুঝতে পারে। বুসরাকে বোঝাতে হবে যে, তার পছন্দের কথা তাদের জানাতে পারতো। তার সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে। প্রায় প্রতিদিন বিকেলে, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন পরিবারের সবাই মিলে সুন্দর সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যেতে হবে, টুকটাক কেনাকাটা করা যেতে পারে। শুক্র-শনিবার সবাই একসাথে মিলে নাস্তা খাওয়া, লাঞ্চ করা এবং প্রতিদিন একসাথে ডিনার করা।

বাস্তব চিত্র: ২

এই ঘটনাটি আমরা সবাই পত্রিকায় দেখেছি, টিভিতে খবরে দেখেছি এবং ইউটিউবেও এর ডকুমেন্টারি রয়েছে। মেয়েটির সম্মানের খাতিরে আমরা নাম প্রকাশ করছি না। একজন বড় অফিসারের মেয়ে। বাবার অগাধ টাকা। বাবা তার চাকুরী নিয়ে ব্যস্ত থাকেন এবং মা সোসাইটি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মেয়েকে খুব একটা সময় দেন না কিন্তু মেয়েকে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা দেন, এদিকে কোন কমতি নেই। মেয়েটির তরুণ বয়স, অফুরন্ত টাকা-পয়সা নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সময় কাটায়, এক সময় খারাপ বন্ধু-বান্ধবও জুটে যায় এবং ড্রাগ এডিকটেড হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছু দিন। এক সময় মা-বাবা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তাকে শাসন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ের সেটা ভাল লাগে না। অবশেষে নানা কারণে সে নিজ হাতে মা-বাবাকে হত্যা করে।

এখানে মেয়েটিকে সর্বপ্রথমে দোষ দেয়া যাবে না। ঘটনায় দেখা যাচ্ছে মা-বাবা তাকে প্রথম থেকে সময় দেন নাই, টাকা-পয়সার লিমিট করেন নাই এবং তাকে প্রথম থেকেই কন্ট্রোল করেন নাই। যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। সময় থাকতে বাবা মা সচেতন হন নাই এবং যখন রোগ বেশি দূর পর্যন্ত চলে গেছে তখন মেয়েকে টাইট দিয়েছেন যার কারণে হিতে বিপরীত হয়েছে।

বাস্তব চিত্র: ৩

শাহেদ (ছদ্ম নাম) নামে একটি ছেলে হাইস্কুলে পড়ে। মা-বাবা, ভাই-বোন সকলেই খুবই ধার্মিক অর্থাৎ পুরো পরিবারটাই ধর্মপরায়ণ। বাবা ব্যবসা করেন এবং মা হাউজ-ওয়াইফ, মা-বাবা সারাক্ষণ ছেলেমেয়েদেরকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করেন। পরিবারটি লক্ষ্য করছেন যে শাহেদের পরীক্ষার রেজাল্ট খুবই খারাপ হচ্ছে অর্থাৎ বেশীরভাগ সাবজেক্টেই ফেল। মা-বাবা চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু সঠিক কারণটা ঠিক বুঝতে পারছেন না কেন ছেলের রেজাল্ট এতো খারাপ হচ্ছে! এভাবে চলছে বেশ কিছুদিন।

হঠাৎ একদিন অবাক হয়ে পরিবারটি আবিষ্কার করলেন যে, শাহেদ নিয়মিত স্কুলে যায় না। সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিন কম্পিউটার গেম খেলে। কিন্তু এখন প্রশ্ন, সে প্রতিদিন সাইবার ক্যাফের জন্য টাকা পায় কোথায়? যা হোক, মা-বাবা সেটাও কিছুদিনের মধ্যে উদ্ঘাটন করে ফেললেন। আর তা হচ্ছে শাহেদ বাবার পকেট থেকে মাঝেমধ্যে না বলে টাকা নিয়ে থাকে।

ঘটনার বিশ্লেষণ : এখানে পাঁচটি বিষয় ১) শাহেদ নিয়মিত স্কুল ফাঁকি দিচ্ছে ২) পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ করছে ৩) বাজে বন্ধুদের পাল্লায় পড়েছে ৪) কম্পিউটার গেমের নেশায় পড়েছে এবং ৫) বাবার পকেট থেকে না বলে টাকা নিচ্ছে। এখানে পরিবারটি ধার্মিক এবং যথেষ্ট সতর্ক হওয়ার পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মা-বাবা কোনদিন কল্পনাও করতে পারেননি যে এ ধরনের ঘটনা তার ছেলের দ্বারা হতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিনএইজারদের নিজের উপর নিজের কন্ট্রোল খুব কমই থাকে। এই বয়সে মন অনেক কিছুই চায়। তার উপর আবার আধুনিক পরিবেশ। এখানে মা-বাবা ছেলের ব্যাপারে এতোটা গভীরভাবে কখনও চিন্তা করেন নাই কিন্তু যখনই ছেলের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে তখনই ওনারা বেশ চিন্তায় পড়ে গেছেন।

সমস্যার সমাধান : আলহামদুলিল্লাহ, সমস্যার সমাধান পরিবারটি নিজেরাই করেছেন। শাহেদকে বেশ কিছুদিন বাবা নিজে সাথে করে স্কুলে দিয়ে এসেছেন এবং স্কুল শেষে বাসায় নিয়ে এসেছেন। মাঝেমধ্যেই স্কুলে গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন সে স্কুলে আছে কিনা এবং টিচারদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। শাহেদকে বাসায় ভাল কম্পিউটার কিনে দিয়েছেন যেন নিজ ঘরে বসেই কম্পিউটার গেম খেলতে পারে। বাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার গেম খেলার জন্য নির্দিষ্ট রুটিন করেও দিয়েছেন। পরিবারের সকলে মিলে বন্ধের দিনগুলোতে বিভিন্ন ইসলামিক প্রোগ্রামে যোগ দিচ্ছেন।

আলহামদুলিল্লাহ, শাহেদ এখন পড়াশোনার পাশাপাশি কয়েকটি ইসলামিক অর্গানাইজেশনের সাথে নিয়মিত ভলান্টারী কাজ করছে, বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ইসলামিক সেমিনার, কোর্স, ওয়ার্কশপ অর্গানাইজ করছে। আমরা তার জন্য দু'আ করি সে যেন জীবনে একজন ভাল প্রফেশনাল হওয়ার পাশাপাশি একজন ভাল মুসলিম হয়। আমীন।

বাস্তব চিত্র: ৪

একদিন বিকেলে বাসায় ফিরছি। লিফটে জামাল ভাইয়ের (ছদ্ম নাম) স্ত্রী তার টিনএইজ ছেলেকে প্রশ্ন করছেন "তোমাকে স্কুল থেকে কেন বের করে দিয়েছে? তুমি নিশ্চয়ই কোন অন্যায় করেছ, কী করেছ? অন্য কাউকে তো বের করে দেয়নি, তোমাকে কেন বের করে দিয়েছে?” ইত্যাদি ইত্যাদি কথা হতে হতে আমাদের ফ্লোর এসে গেছে এবং আমরা নেমে যাই। পরিবারটির একটু বর্ণনা দেয়া যাক, জামাল ভাই চাকুরী করেন আর স্ত্রী লেখিকা, ছেলেটা মেয়েদের মতো লম্বা চুল রেখেছে এবং পিছনে ঝুঁটি করেছে আর পরেছে আর্মির প্যান্ট ও গেঞ্জি। অন্য আরেকদিন বিকেলে বাসায় ফিরছি এমন সময় দেখি বিল্ডিংয়ের সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়ানো এবং দু'জন পুলিশ জামাল ভাইয়ের ঐ ছেলেটাকেই হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে নিয়ে আসছে। তার চোখ মুখে কোন ভয়ের ছাপ নেই এবং সে খুবই স্বাভাবিকভাবে পুলিশের সাথে হেঁটে যাচ্ছে, দেখে মনে হচ্ছে সে এরকম প্রায়ই যায়।

বাস্তব চিত্র: ৫

আমাদের এক পরিচিত ভাইয়ের ছেলে প্রাইমারী স্কুলে পড়ে। স্কুল শেষে সে একদিন হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরছে, হাতে তার স্কুলের রেজাল্ট শিট। তার সাথে পথে দেখা, খুব আগ্রহ করে তার রেজাল্ট শিটটা দেখতে চাইলাম। কিন্তু সে তার প্রতি উত্তরে অবাক করে দিয়ে বলল: "It's not your business!"

বাস্তব চিত্র: ৬

আকাশ নামে একটি ছেলে হাইস্কুলে পড়ে। মা-বাবার চোখে সে নিয়মিত স্কুলে যায়। কিন্তু যখন কোন পরীক্ষা আসে তখন সে স্কুলকে অসুস্থতা দেখিয়ে ঠিক সময়মতো পরীক্ষা দেয় না এবং পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পরপরই সে বন্ধুদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে শুধু ঐ কটা প্রশ্নের উত্তর পড়ে অন্য একটা তারিখ ঠিক করে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। এভাবে সে নিয়মিত স্কুলের পড়াশোনা না করে শুধু সিলেক্টেড কটা প্রশ্ন পড়ে পাশ করে যাচ্ছে। আমরা কি চিন্তা করে দেখেছি এই ছেলে নিজের অজান্তে কার ক্ষতি করছে?

বাস্তব চিত্র: ৭

একটি পরিবারের দুই ছেলে। মা-বাবা দুজনই খুবই উচ্চ শিক্ষিত। ছেলে দু'টির পেছনে প্রচুর সময় এবং অর্থ ব্যয় করেছেন বড় প্রফেশনাল হওয়ার জন্য। প্রচুর অর্থ খরচ করে তাদেরকে পৃথিবীর নাম করা ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন। দুই ছেলেই ইউনিভার্সিটি পাশ করেছেন এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। একজন নামকরা ডাক্তার (নিউরোলজিষ্ট) এবং আরেকজন নামকরা ইঞ্জিনিয়ার।

মা-বাবা ছেলে দু'টিকে কোন দিন দ্বীন ইসলামের কোন শিক্ষা দেন নাই, ছেলেরা জানে না কীভাবে ঠিক মতো সলাত আদায় করতে হয়, কীভাবে কুরআন পড়তে হয়। ছেলেরা জানে না ইসলামে কোনটি হালাল আর কোনটি হারাম, কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। ছেলেরা ঠিকভাবে শিখেনি ইসলামে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য। যা হোক, ছেলেরা নিজেদের পছন্দমতো বিয়ে-শাদী করেছে, দু'জনেরই আলাদা আলাদা সংসার হয়েছে, ছেলেদের বউরাও উচ্চ শিক্ষিতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে দুই ছেলের কেউ-ই এখন আর মা-বাবাকে দেখেন না। এখন মা-বাবা বৃদ্ধ কিন্তু তাদের আদরের সন্তানরা তাদের কাছে নেই। তারা অভাবের তাড়নায় গ্রামে চলে গেছেন, চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। হয়তো শেষ জীবন অতি কষ্টে এভাবে শেষ হয়ে যাবে।

বাস্তব চিত্র: ৮

এই পরিবারের দু'টি ছেলে। মা-বাবা আর দুই ছেলে ছিমছাম পরিবার। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যাদেরই বিয়ে হয় মায়ের পাত্রী পছন্দ হয় না। তাই সে বেশীরভাগ সময়ে এই বিয়েগুলোতে যান না। সবাই অপেক্ষায় আছে যে তার দুই ছেলেকে কোথায় কেমন পাত্রীর কাছে বিয়ে দেয় তা সকলেরই দেখার ইচ্ছা। ছেলে দু'টি বিদেশে থাকে। যা হোক, তার দুই ছেলের যখন বিয়ের বয়স হলো তখন তারা দু'জনই মা-বাবাকে না বলে, মা-বাবার অনুমতি না নিয়ে এবং মা-বাবার ইচ্ছের কোন গুরুত্ব না দিয়েই দু'জনে দুই অমুসলিম বিদেশী মেয়েকে বিয়ে করে নিয়েছে!!

বাস্তব চিত্র: ৯

ঢাকার কল্যাণপুরের একটি ঘটনা। এই পরিবারের চার-পাঁচটি ছেলেমেয়ে। ছেলেমেয়েরা সবাই মোটামুটি বড় হয়ে গেছে। ভাই-বোনদের মধ্য থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব। প্রায়ই দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, কোন কোন সময় এক পর্যায়ে ঝগড়াও লেগে যায়। কেউ কারো কথা সহ্য করতে পারে না, একজন একটি বললে অপরজন দশটি বলে। একদিন দুই ভাইয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তুমুল ঝগড়া লেগে যায় এবং সেই ঝগড়া থেকে এক সময় তা হাতাহাতিতে চলে যায়। মানুষ যখন ক্রোধে পড়ে তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। এ সবই শয়তানের কাজ, সে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত সমাধান হয় অঘটন দিয়ে। এই দুই ভাইয়ের অবস্থাও সেরকম, তারা হাতাহাতিতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে এক পর্যায়ে একজন হাতের কাছে বাঁশ পেয়েছে তা দিয়েই অপর ভাইকে মারতে গিয়েছে। মা এতোক্ষণ দুই ছেলের কাণ্ড দেখছিলেন এবং থামতে বলছিলেন কিন্তু যখন একজন অপরজনকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করতে যাচ্ছে তখন মা তাদের মাঝে চলে গেছেন থামানোর জন্যে। বাঁশের বাড়ি ভাইয়ের মাথায় না পড়ে মায়ের মাথায় পড়ে মা-জননী ঐ জায়গাতেই পড়ে মারা যান।

এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে বিরল নয়, প্রায় পত্রিকায় দেখা যায় ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু অথবা ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জমি-জমার ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। উপরের এই ঘটনাতেও ঐ একই বিষয়ের ঘাটতি। পরিবারটি প্রকৃত ইসলামী শিক্ষা পায় নাই যার কারণে কারো প্রতি কারো ভালবাসা নেই, শ্রদ্ধাবোধ নেই, মায়া-মমতা নেই, সর্বোপরি পরকালে বিচার দিনের বিন্দুমাত্র ভয় নেই। এই ধরনের পরিবারগুলো ইসলামের শিক্ষা থেকে অনেক অনেক দূরে।

বাস্তব চিত্র: ১০

একজন দুঃখী বাবার গল্প। বাবা কম বেতনের একটি সরকারী চাকুরী করেন, খুবই সৎভাবে জীবনযাপন করেন। যা বেতন পান তা দিয়ে খুবই কষ্টে সংসার চলে। তার অনেক স্বপ্ন। নিজে খান আর না খান ছেলেকে লেখা-পড়া শিখিয়ে অনেক বড় করবেন। ছেলেকে ভাল স্কুলে পড়ালেন, ভাল কলেজে পড়ালেন, ভাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেন। ছেলেকে পড়াশোনা করাতে গিয়ে সারাজীবন অনেক কষ্ট করলেন, এবং রিটায়ার্ডও করলেন। এদিকে ছেলে পাশ করে বের হলেন, বিসিএস দিয়ে বড় অফিসার হলেন। নিজের ক্লাসমেট এক বড় লোকের মেয়েকে বিয়েও করলেন। ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট কিনলেন, নতুন বউকে নিয়ে সেখানে উঠলেন। নানারকম পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেও মাঝেমধ্যে পার্টি দেন। তার এখন হাই সোসাইটির সাথে উঠাবসা। ট্র্যাজেডী এখানেই শুরু, অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখন তিনি অন্যদের নিকট নিজ মা-বাবাকে পরিচয় করিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন, নিজ ফ্ল্যাটে মা-বাবাকে রাখতেও লজ্জা পান তাই তাদেরকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। যে বাবা এতো কষ্ট করে তাকে পড়ালেখা করালেন, যে মা তাকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করলেন তাদেরকে পরিচয় দিতে ছেলে এখন লজ্জা পান! অথচ এই সন্তানকে যদি শেখানো হতো যে, মাতা-পিতার দায়িত্ব নিয়ে, তাদের সাথে সৎব্যবহার করে, তাদের দেখাশুনা করে সে জান্নাতে যেতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই এমন লোভনীয় অফার সে হাত ছাড়া করতো না।

অথচ অপর দিকে, এমন ইসলামিক পরিবারের সন্তানও আছে এই বাংলাদেশে যিনি বিদেশের আরাম আয়েস ছেড়ে বাংলাদেশে একেবারে চলে এসেছেন শুধুমাত্র তার বৃদ্ধা মায়ের পা টিপার জন্য, মায়ের সেবা করার জন্য। জান্নাত পাবার আশায়। জান্নাত পাবার সুযোগ সে হাত ছাড়া করতে চায়নি।

বাস্তব চিত্র: ১১

উচ্চ শিক্ষিত, আর্থিকভাবে অতি সচ্ছল, বাড়ি-গাড়ির মালিক এই পরিবার। দু'টি সন্তান, দু'টিই ছেলে-বয়স ১৪ বছর এবং ৫ বছর। সেই পরিবারের মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালো যে সে তাদের ১৪ বছর বয়সের ছেলেটাকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে, রেগে গিয়ে চেঁচামেচি করে, ওর দিকে এটা- সেটা ছুঁড়ে মারে ইত্যাদি। এর কোন বিহিত করা যায় কি?

সেই ছেলের বাবাকে ডেকে এনে অভিযোগগুলো শুনিয়ে জানতে চাওয়া হলো অভিযোগগুলো সত্য কিনা। বলল: সত্য। এবার জানতে চাওয়া হলো কেন সে ছেলেটার সংগে এমন দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছে। জবাবে সে জানালো যে বহু চেষ্টা সত্ত্বেও ছেলেটাকে সলাত আদায় করার জন্য রাজী করানো যাচ্ছে না, কুরআন শরীফ এবং অন্যান্য ইসলামী বইপত্র কিনে দেয়া হয়েছে কিন্তু সে সেগুলো পড়তে নারাজ, একজন মুসলিম যুবকের মত চালচলন আচার ব্যবহার রপ্ত করতে উপদেশ দিচ্ছি কিন্তু আমার কোন কথাতেই সে কান দিচ্ছে না, বরং গোঁয়ার ও বেআদবের মত ব্যবহার করে চলেছে। তাই আমি ওর সংগে এমন দুর্ব্যবহার করি, এবং যতদিন সে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চলবে ততদিন আমি ওর সংগে দুর্ব্যবহার চালিয়ে যাব। উনার কথা শেষ হওয়ার পর বলা হলো: আপনাকে কিছু প্রশ্ন করি, এর উত্তর দিন।

এখন বলুন, আপনি কি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করেন? - না।
সুযোগ থাকলে কখনো কি আপনি ছেলেদের নিয়ে মসজিদে জুমার সলাত আদায় করতে যান? - না। ঈদের সলাতে? - না। আপনি নিয়মিত কুরআন পড়েন কি? - না। আপনি কোনদিন ইসলামী বিষয় নিয়ে আপনার স্ত্রী এবং ছেলেদের সাথে আলোচনা করেন কি? - না। আপনি রমাদান মাসে সিয়াম পালন করেন কি? - না। আপনার স্ত্রী সলাত আদায় করেন কি? - না। আপনার স্ত্রী সিয়াম পালন করেন কি? - না।

প্রশ্নোত্তর শেষ হলে তাকে বলা হলো: এতক্ষণ ধরে সবই তো বললেন "না"। এবার আপনিই বলেন আপনার বাসায় যেখানে কোন ইসলামী পরিবেশই আপনি সৃষ্টি করতে পারেননি, এমন কি আপনি নিজেও সলাত-সিয়াম পালন করেন না সেখানে এই ছেলেটাকে শাসন করলেই কি সে একজন মুসলিম হয়ে সলাত- সিয়াম-কুরআন পাঠ ইত্যাদি শুরু করে দেবে? ওর সামনে ইসলামী জীবনে আকৃষ্ট বা আগ্রহী হওয়ার মত দৃষ্টান্ত বা Role model কোথায়? শক্তি প্রয়োগ করে একাজ হবে না কখনো।

তারপর তাকে পরামর্শ দেয়া হলো: ওকে মারপিট, ধমকাধমকি ছাড়ুন। শুরুতে আপনি নিজে একজন মুসলিম হোন, আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন নিজের ঘরে, নিজের স্ত্রী ও সন্তানের সামনে। ছেলেটা দেখুক যে ওর বাবা পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করেন, কুরআন পাঠ করেন, রমাদানে সিয়াম পালন করেন, ইসলামী বইপত্র পড়ে, ইসলামিক ডিভিডি দেখে, ঘরে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করে, বাবা তাকে আদর করে তখন দেখবেন গালিগালাজ বা মারপিট কোনটাই লাগবে না, আপনাকে অনুসরণ করেই সে সানন্দে ইসলামকে গ্রহণ করেছে, ইসলামী জীবনে অভ্যস্থ হচ্ছে, ইসলামী আদব-কায়দা শিখছে। এবং বড় ভাইকে অনুসরণ-অনুকরণ করে ছোট ছেলেটাও কোন বড় ধরনের চেষ্টা ছাড়াই ইসলামকে আঁকড়ে ধরবে। তখন ছেলের মাও আর পিছিয়ে থাকবেন না, সেও একই কাতারে এসে স্বেচ্ছায় শামিল হবেন। একটা শান্তিপূর্ণ সংসার এমনি করেই গড়ে উঠবে, ইন্‌শাআল্লাহ। Give it a try. Be a Muslim first. Let Islam enter your home through you first and gradually embrace you all with peace. And good luck.

একটি সাধারণ পরামর্শ

অন্ততঃ সপ্তাহে একদিন পরিবারের সকলে মিলে নিজ ঘরে কুরআনের তাফসীর নিয়ে বসতে হবে, প্রথমে সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। একজন একজন করে তাফসীর থেকে কিছু অংশ রিডিং পড়বে এবং একেকটি আয়াত নিয়ে নিজেরা আলোচনা করবে যে এখানে থেকে আমরা কি শিখলাম। এভাবে আস্তে আস্তে ইসলামের অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আল কুরআন ও হাদীসের আলোকে আলোচনা করতে হবে, ইসলামের হালাল-হারাম নিয়ে আলোচনা করতে হবে, কবিরা গুনাহ নিয়ে আলোচনা করতে হবে, ইসলামী আদব ও কালচার নিয়ে আলোচনা করতে হবে, ইসলামের ফরয আদেশগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এভাবে পরিবারের সকলে একসময় বুঝে যাবে একজন মুসলিম কী করতে পারবে আর কী করতে পারবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px