📄 কালিজিরার উপকারিতা
কালিজিরাকে সব রোগের ওষুধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যান্য সব ভেষজের মতো কালিজিরা নিয়েও গবেষণা কম হয়নি। ১৯৬০ সালে মিসরের গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, কালিজিরায় বিদ্যমান নাইজেলনের কারণে হাঁপানি উপশম হয়। জার্মানি গবেষকরা বলেন, কালিজিরার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইকোটিক প্রভাব রয়েছে। এটি বোনম্যারো ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে এবং ইন্টারফেরন তৈরি বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকার গবেষকরা প্রথম কালিজিরার টিউমারবিরোধী প্রভাব সম্পর্কে মতামত দেন। শরীরে ক্যান্সার উৎপাদনকারী ফ্রি-রেডিক্যাল অপসারিত করতে পারে কালিজিরা। মোটকথা, কালিজিরা সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে তুলনাহীন। কালিজিরার এমন কিছু ব্যবহার জানা যাক, যেগুলো একেবারেই অপ্রচলিত।
১. স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে : কালিজিরা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়ম করে আধা চা চামচ কাঁচা কালিজিরা অথবা ১ চা চামচ কালিজিরার তেল খাওয়া উচিত।
২. চুল পড়া রোধে: কালিজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে চুল পড়া রোধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ চা চামচ কালিজিরার তেল একসাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। ১ ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩. ব্যথা কমাতে: যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে কালিজিরার জুড়ি নেই। কালিজিরার তেল হালকা গরম করে নিয়ে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে, ব্যথা সেরে যাবে। বিশেষ করে বাতের ব্যথায় বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়।
৪. ফোঁড়া সারাতে: ব্যথাযুক্ত ফোঁড়া সারাতে কালিজিরা সাহায্য করে। তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোঁড়াতে লাগালে ব্যথা উপশম হয় ও ফোঁড়া সেরে যায়।
৫. মেদ কমাতে: চায়ের সাথে কালিজিরা মিশিয়ে পান করলে তা বাড়তি মেদ ঝরে যেতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে চাপাতা ও সমপরিমাণ কালিজিরা পানিতে দিতে হবে। চায়ের রং হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাধারণ চায়ের মতোই পান করতে হবে।
৬. দাঁতের ব্যথায়: দাঁত ব্যথা হলে, মাঢ়ি ফুলে গেলে বা রক্ত পড়লে কালিজিরা তা উপশম করতে পারে। পানিতে কালিজিরা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এই পানির তাপমাত্রা কমে উষ্ণ অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করতে হবে। এতে দাঁত ব্যথা কমে যাবে, মাঢ়ির ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হবে। এছাড়া জিহ্বা, তালু ও মুখের জীবাণু ধ্বংস হবে।
৭. মাথা ব্যথায়: ঠান্ডাজনিত মাথাব্যথা দূর করতে কালিজিরা সাহায্য করে। একটি সুতি কাপড়ের টুকরায় খানিকটা কালিজিরা নিয়ে পুঁটুলি তৈরি করতে হবে। এই পুঁটুলি নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস টানতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা সেরে যাবে। ইনশাআল্লাহ।
📄 নাবী মুহাম্মাদ ﷺ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে যে খাবার খেতে বলেছেন
আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক মানুষেরই স্মৃতিশক্তি কম থাকে। তাই স্মৃতিশক্তি বাড়াতে তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরী। স্বাস্থ্যকর খাবার অর্থ শুধু মাছ বা মাংস খাওয়া নয়। মহানাবী নিজে যে খাবার খেতেন এবং যে খাবার গুলো উনার উম্মতদের খেতে বলেছেন সেগুলো হলো-
১. ডালিম-বেদানা: বেদানার পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণের পাশাপাশি এটার ধর্মীয় একটি দিক আছে এবং নাবী বলতেন, এটা আহারকারীদের শয়তান ও মন্দ চিন্তা থেকে বিরত রাখে।
২. মধু: মধুর নানা পুষ্টিগুণ ও ভেষজ গুণ রয়েছে। মধুকে বলা হয় খাবার, পানীয় ও ওষুধের সেরা। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে মধু পান ডায়রিয়ার জন্য ভালো। খাবারে অরুচি, পাকস্থলীর সমস্যা, হেয়ার কন্ডিশনার ও মাউথ ওয়াশ হিসেবে উপকারী।
৩. আঙ্গুর : নাবী মুহাম্মাদ আঙ্গুর খেতে অত্যন্ত ভালবাসতেন। আঙ্গুরের পুষ্টিগুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। এই খাবারের উচ্চ খাদ্য শক্তির কারণে এটা থেকে আমরা তাৎক্ষণিক এনার্জি পাই এবং এটা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আঙ্গুর কিডনির জন্য উপকারী এবং বাওয়েল মুভমেন্টে সহায়ক।
৪. দুধ : দুধের খাদ্যগুণ, পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ বর্ণনাতীত। দেড় হাজার বছর আগে বিজ্ঞান যখন অন্ধকারে তখন নাবী মুহাম্মাদ দুধ সম্পর্কে বলেন, দুধ হার্টের জন্য ভালো। দুধ পানে মেরুদন্ড সবল হয়, মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি প্রখর হয়। আজকের বিজ্ঞানীরাও দুধকে আদর্শ খাবার হিসেবে দেখেন এবং এর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অস্থিগঠনে সহায়ক।
৫. ফল : যে সমস্ত ফল এবং সব্জিতে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তা মস্তিষ্কের পক্ষে খুবই ভালো। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ব্লুবেরি ও স্ট্রবেরিতে থাকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মনোযোগ এবং শর্ট টার্ম মেমরি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৬. ডিম : ডিমে প্রচুর পরিমাণে কোলিন থাকে যা শরীরে নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে যদি সঠিক পরিমাণে অ্যাসিটিলকোলিন তৈরি না হয় তাহলে, কোনও কিছু মনে রাখতে অসুবিধা হতে পারে। ডিমে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে যা বাচ্চার মস্তিষ্কের পক্ষে খুবই ভালো।
৭. বার্লি (জাউ) : ব্রেইনের পাশাপাশি এটা জ্বরের জন্য এবং পেটের পীড়ায় উপকারী। অসুস্থ অবস্থায়, মূলত জ্বর হলে রসুল এই খাবারটি বেশি গ্রহণ করতেন বলে জানা যায়।
৮. খেজুর : খেজুর রসুল এর খুব প্রিয় একটি খাবার। রসুল বলতেন, যে বাড়িতে খেজুর নেই সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই। এমনকি রসুল সন্তান প্রসবের পর প্রসূতি মাকে খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর তাহনিক করার ক্ষেত্রেও রসুল খেজুর ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। খেজুরের গুণাগুণ ও খাদ্যশক্তি অপরিসীম। খেজুরের খাদ্যশক্তি ও খনিজ লবণের উপাদান শরীর সতেজ রাখে।
রসুল আরো কিছু খাবার পছন্দ করতেন
দেড় হাজার বছর পর আজকের বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে রসূল-এর বিভিন্ন খাবারের গুণাগুণ ও উপাদান অত্যন্ত যথাযথ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. ডুমুর: ডুমুর রসূল-এর প্রিয় খাবারের অন্যতম। ডুমুর অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভেষজগুণ সম্পন্ন যাদের পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী খাবার।
২. তরমুজ: রসূল তরমুজ আহারকে গুরুত্ব দিতেন। নিজেও বেশ পরিমাণে তরমুজ খেতেন। সব ধরনের তরমুজ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। যেসব গর্ভবর্তী মায়েরা তরমুজ আহার করেন তাদের সন্তান প্রসব সহজ হয়। তরমুজের পুষ্টি, খাদ্য ও ভেষজগুণ এখন সর্বজনবিদিত ও বৈজ্ঞানিক সত্য।
৩. মাশরুম: দেড় হাজার বছর আগে রসূল জানতেন মাশরুম চোখের জন্য ভালো। এটা বার্থ কন্ট্রোলে সহায়ক ও মাশরুমের ভেষজগুণের কারণে এটা নার্ভ শক্ত করে এবং শরীরের প্যারালাইসিস বা অকেজো হওয়ার প্রক্রিয়া রোধ করে। আজ বিশ্ব জুড়ে মাশরুম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার এবং মাশরুম নিয়ে চলছে নানা গবেষণা।
৪. জলপাই তেল: অলিভ অয়েলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ অনেক। গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী এবং বয়স ধরে রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক বা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে। এছাড়া অলিভ অয়েল পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময়ে সহায়ক।
৫. ভিনেগার বা সিরকা: ভিনেগারের ভেষজ গুণ ও খাদ্যগুণ অপরিসীম। রসূল অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আজকের এই মর্ডান ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্যের যুগে বিশ্বের বড় বড় নামি-দামি রেস্টুরেন্টেগুলো অভিল অয়েল ও ভিনেগার এক সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করে থাকে।
৬. খাবার পানি: প্রিয়নাবী পানিকে পৃথিবীর সেরা ড্রিংক বা পানীয় হিসাবে উল্লেখ করেছেন। পানির অপর নাম জীবন। পানির ভেষজগুণ অপরিসীম। সৌন্দর্য চর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আজ প্রচুর পানি পান করতে বলেন।
📄 দীর্ঘজীবী হওয়ার উপায়
কেউ যদি দীর্ঘজীবী হতে চায় তাহলে প্রাণ খুলে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। এতে আয়ু বেড়ে যাবে। যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইংল্যান্ডের গবেষকদের ভাষ্য, যাঁরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেন, পীড়িতদের সেবায় সময় দেন, তাঁরা মানসিক ও শারীরিকভাবে উপকৃত হন। আত্মকেন্দ্রিক স্বভাবের বদলে পরোপকার মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষকেরা দাবি করেন, যাঁরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের কম বয়সে মৃত্যুহার স্বেচ্ছাসেবকের কাজ না করা ব্যক্তিদের তুলনায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।
বিএমসি পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত পর্যালোচনায় গবেষকেরা ৪০টি গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে পরোপকারের সুফল সম্পর্কে জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, পরোপকার মানুষকে বিষন্নতা থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনের ভালো দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে সহায়তা করে।
গবেষক সুজান রিচার্ডস এ প্রসঙ্গে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষেত্রে মানসিকের পাশাপাশি শারীরিক উন্নতির বিষয়টিও লক্ষণীয়। গবেষকেরা জানান, মানুষের উপকার করে যেতে পারলেই কেবল এই সুফল পাওয়া সম্ভব। প্রতিনিয়ত অন্যের উপকারের কথা ভেবে কাজ করে যেতে পারলে মানসিক শান্তির পাশাপাশি সামাজিকতা ও বন্ধুত্ব বাড়ে, যাতে একাকিত্ব থেকে মুক্তি মেলে।
এবার আমরা দেখি এ বিষয়ে হাদীসে কি উল্লেখ রয়েছে।
আনাস কর্তৃক বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি চায় যে, তার রুযী (জীবিকা) প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখে।” (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)