📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 প্রচন্ড গরম থেকে নিরাপদে থাকা

📄 প্রচন্ড গরম থেকে নিরাপদে থাকা


অত্যাধিক গরমের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিরই স্বাস্থের ক্ষতি হতে পারে। হীট স্ট্রোকে অনেকে মারাও যেতে পারে। প্রচন্ড গরমে যারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন তারা হলেন: বৃদ্ধরা, শিশু ও ছোট বাচ্চা, দীর্ঘকালীন রোগে আক্রান্ত রোগীরা, মানসিক রোগী।

প্রচন্ড গরমে কী করা যেতে পারে
• তেষ্টা পাওয়ার পূর্বেই ঠান্ডা পানি পান করা।
• অধিক পরিমাণে তরল পদার্থ পান করা।
• যতোটা সম্ভব ঠান্ডা বা ছায়াতল স্থানে থাকা।
• ঢিলা এবং হালকা রংয়ের কাপড় পরিধান করা।
• সূর্য থেকে দূরে থাকা এবং ছাতা ব্যবহার করা।
• বাইরের কাজগুলো দিনের ঠান্ডা সময়ে করে নেয়া।
• ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা এবং ভিজা টাউয়াল ব্যবহার করা।
• দিনে সূর্য থেকে বাঁচার জন্য জানালায় পর্দা ব্যবহার করা।
• কম গরমের সময় রান্না করে রাখা এবং রান্না ঘরের চুলা যতোটা সম্ভব কম জ্বালানো।
• জানালার পাশে অথবা জানালার মধ্যে টেবিল ফ্যান ফিট করা এতে বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে নিয়ে আসবে এবং ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিবে।
• বদ্ধ ঘরে ফ্যান ব্যবহার করা ঠিক নয়।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 রসুন উপকারিতা

📄 রসুন উপকারিতা


তাই হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে রসুন এক অসাধারণ ভেষজ। প্রতিদিন এককোয়া রসুন কাঁচা খেলে সাধারণত হার্ট এটাকের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ কমে যায়।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মধুর উপকারিতা

📄 মধুর উপকারিতা


মধু হলো মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নিয়ামত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। রসূলুল্লাহ ﷺ একে 'খাইরুদ্দাওয়া' বা মহৌষধ বলেছেন। আয়ূর্বেদ এবং ইউনানী চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। এটা যেমন বলকারক, সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্যনির্যাস, তেমনি নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্রও। আর তাই তো খাদ্য ও ওষুধ- এ উভয়বিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নির্যাসকে প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে 'পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক' পানীয় হিসেবে সকল দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে।

মধুতে যে সকল উপকরণ রয়েছে এর মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকেই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এ দু'টি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না।

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এতে এলুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড (যেমন- ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, এন্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স এবং পানি (১৯-২১%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন যেমন- ভিটামিন সি বা অ্যাসকারবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি বিদ্যমান। মধু এমন ধরনের ঔষধ, যার পচন নিবারক (এন্টিসেপটিক), কোলেস্টেরল বিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী ধর্ম আছে। মধু দ্বারা ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার জীবাণু চতুর্থ দিনে, টাইফয়েডের জীবাণু পঞ্চম দিনে এবং আমাশয়ের জীবাণু ১০ ঘণ্টায় ধ্বংস হয়।

নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবন করলে নিম্নলিখিত উপকার পাওয়া যায়:
১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং হৃদপেশীর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৪. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে।
৫. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৬. মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকাতে সাহায্য করে।
৭. মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়, এবং ঠান্ডাজনিত রোগ নিরাময় করে।
৮. আন্ত্রিক রোগে উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়।
৯. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘা-এর জন্য খুবই উপকারী।
১০. শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে।
১১. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিস্কের কলা সুদৃঢ় করে।
১২. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
১৩. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
১৪. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগেন বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।
১৫. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না।
১৬. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে।
১৭. রক্ত পরিশোধন করে।
১৮. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।
১৯. জিহ্বার জড়তা দূর করে।
২০. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
২১. বাতের ব্যথা উপশম করে।
২২. মাথা ব্যথা দূর করে।
২৩. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে।
২৪. কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে বিশেষ উপকার করে।
২৫. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে।
২৬. মধু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীর হয়ে ওঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 কালিজিরার উপকারিতা

📄 কালিজিরার উপকারিতা


কালিজিরাকে সব রোগের ওষুধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যান্য সব ভেষজের মতো কালিজিরা নিয়েও গবেষণা কম হয়নি। ১৯৬০ সালে মিসরের গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, কালিজিরায় বিদ্যমান নাইজেলনের কারণে হাঁপানি উপশম হয়। জার্মানি গবেষকরা বলেন, কালিজিরার অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-মাইকোটিক প্রভাব রয়েছে। এটি বোনম্যারো ও প্রতিরক্ষা কোষগুলোকে উত্তেজিত করে এবং ইন্টারফেরন তৈরি বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকার গবেষকরা প্রথম কালিজিরার টিউমারবিরোধী প্রভাব সম্পর্কে মতামত দেন। শরীরে ক্যান্সার উৎপাদনকারী ফ্রি-রেডিক্যাল অপসারিত করতে পারে কালিজিরা। মোটকথা, কালিজিরা সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে তুলনাহীন। কালিজিরার এমন কিছু ব্যবহার জানা যাক, যেগুলো একেবারেই অপ্রচলিত।

১. স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে : কালিজিরা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়ম করে আধা চা চামচ কাঁচা কালিজিরা অথবা ১ চা চামচ কালিজিরার তেল খাওয়া উচিত।
২. চুল পড়া রোধে: কালিজিরা চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দিয়ে চুল পড়া রোধ করে এবং চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ও ১ চা চামচ কালিজিরার তেল একসাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিয়ে চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট মাসাজ করতে হবে। ১ ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৩. ব্যথা কমাতে: যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে কালিজিরার জুড়ি নেই। কালিজিরার তেল হালকা গরম করে নিয়ে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলে, ব্যথা সেরে যাবে। বিশেষ করে বাতের ব্যথায় বেশ ভালো উপকার পাওয়া যায়।
৪. ফোঁড়া সারাতে: ব্যথাযুক্ত ফোঁড়া সারাতে কালিজিরা সাহায্য করে। তিলের তেলের সাথে কালিজিরা বাটা বা কালিজিরার তেল মিশিয়ে ফোঁড়াতে লাগালে ব্যথা উপশম হয় ও ফোঁড়া সেরে যায়।
৫. মেদ কমাতে: চায়ের সাথে কালিজিরা মিশিয়ে পান করলে তা বাড়তি মেদ ঝরে যেতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে পানি নিয়ে চুলার উপরে দিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে চাপাতা ও সমপরিমাণ কালিজিরা পানিতে দিতে হবে। চায়ের রং হয়ে এলে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সাধারণ চায়ের মতোই পান করতে হবে।
৬. দাঁতের ব্যথায়: দাঁত ব্যথা হলে, মাঢ়ি ফুলে গেলে বা রক্ত পড়লে কালিজিরা তা উপশম করতে পারে। পানিতে কালিজিরা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। এই পানির তাপমাত্রা কমে উষ্ণ অবস্থায় এলে তা দিয়ে কুলি করতে হবে। এতে দাঁত ব্যথা কমে যাবে, মাঢ়ির ফোলা বা রক্ত পড়া বন্ধ হবে। এছাড়া জিহ্বা, তালু ও মুখের জীবাণু ধ্বংস হবে।
৭. মাথা ব্যথায়: ঠান্ডাজনিত মাথাব্যথা দূর করতে কালিজিরা সাহায্য করে। একটি সুতি কাপড়ের টুকরায় খানিকটা কালিজিরা নিয়ে পুঁটুলি তৈরি করতে হবে। এই পুঁটুলি নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস টানতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা সেরে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px