📄 স্ট্রেস কন্ট্রোল করা
পরিমাণ মত খাবার-দাবার গ্রহণ: আমাদের ধারণা আছে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে বা বেশি পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া করলে স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া-দাওয়ায়ের অভ্যাস স্ট্রেস কমানোর বদলে তা বাড়িয়ে তোলে। তাই স্ট্রেস বেশি হলে পরিমাণমত খাবার খেতে হবে। খুব বেশি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে : অন্যদের ইচ্ছা পূরণ করার পাশাপাশি নিজের ইচ্ছা পূরণের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রত্যেকেরই কিছু কিছু নিজস্ব ইচ্ছা আছে এবং তা পূরণ করা বা সেই ইচ্ছা অনুসারে জীবনধারণ করার অধিকার সবারই আছে, তবে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নার বিপরীত নয়।
খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা : স্ট্রেস-ফ্রি হতে গিয়ে খুব বেশি চা বা কফি পান বা সিগারেট খাওয়ার মতো বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া যাবে না। এর মধ্যে যে নিকোটিন থাকে তা স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে।
নিয়মিত ব্যায়াম করা : খুব কঠিন নয় এমন কিছু ব্যায়াম দৈনিক চর্চা করা যার ফলে শরীর থেকে ‘এন্ডোফিন’ নির্গত হয় যা স্ট্রেস কমে যায় এবং পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা জাগিয়ে তোলে। নিয়মিত পড়াশোনা করা, নিজেকে রিল্যাক্স রাখা। রিল্যাক্সেশনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া জেনে নেয়া। অবসর সময় নষ্ট না করে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার চর্চা করা। স্ট্রেসের কারণ কম করার চেষ্টা করা।
নিজের গুরুত্ব উপলদ্ধি করা : নিজের কাজে নিজের চিন্তাধারা বা বিচার বুদ্ধির বাস্তব রূপ তুলে ধরা। আমি কতটা ব্যস্ত তা কারো কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তাই নিজের গুরুত্ব এবং ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করা।
জীবাণুর বিস্তার রোধ : হাত পরিষ্কার রাখা
হাত পরিষ্কার রাখা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
হাতের মাধ্যমেই জীবাণু বহন করে ও ছড়ায় সবচেয়ে বেশি। বাইরে থেকে এসে প্রথমেই হাত না ধুয়ে সে হাত দ্বারা চোখ, নাক অথবা মুখ স্পর্শ করলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যদি কোনও ব্যক্তি নিজের হাতের উপর হাঁচি দেন বা কাঁশেন এবং তারপর দরজার হাতল বা নব, সিড়ির রেলিং কিংবা টেলিফোন স্পর্শ করেন, তাহলেও জীবাণু ছড়ায়। অন্য কেউ ওগুলি ধরামাত্র জীবাণু তাঁর শরীরে উঠে যেতে পারে। যদি তিনি হাত পরিষ্কার না করেই সে হাত দিয়ে চোখ, নাক অথবা মুখ স্পর্শ করেন তবে জীবাণুর প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
আমি কখন হাত সাবান ও পানি দিয়ে ধোব?
যখন হাত স্পষ্টত নোংরা থাকে।
আগে ও পরে :
• হাঁচি, কাশি, নাক ঝেড়ে - খাবার তৈরি করা ও খাবার খাওয়া।
• ওয়াশরুম ব্যবহার করে - কাঁটা বা ক্ষতস্থানে স্পর্শ করে।
• ময়লা ঘাঁটলে - চোখ, নাক অথবা মুখে স্পর্শ করে।
• ডায়াপার বদল করে।
• খোলা খাবারে হাত দিয়ে।
সাবান ও পানি দিয়ে সবচেয়ে ভাল ভাবে কী করে হাত ধোয়া যায়?
• কুসুম-কুসুম গরম পানিতে হাত ভেজান ও সাবান দেয়া।
• প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে দুই হাত জোরে জোরে ঘষা।
• গোটা হাত, এমনকী হাতের পিছন দিকে, দুই আঙুলের মাঝে, নখের নীচেও ঘষে নেয়া।
• তোয়ালে দিয়ে ভাল করে মুছে হাত শুকিয়ে নেয়া (বাড়ির বাইরে পাবলিক ওয়াশরুম হলে ওয়ান টাইম টিসু বা পেপার টাউয়াল ব্যবহার করতে হবে) অথবা ব্লোয়ার চালিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
• যদি প্রয়োজন হয়, পানির কল বন্ধ করতে হলে খালি হাত ব্যবহার না করে টিসু দিয়ে কল ধরতে হবে।
📄 প্রচন্ড গরম থেকে নিরাপদে থাকা
অত্যাধিক গরমের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তিরই স্বাস্থের ক্ষতি হতে পারে। হীট স্ট্রোকে অনেকে মারাও যেতে পারে। প্রচন্ড গরমে যারা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন তারা হলেন: বৃদ্ধরা, শিশু ও ছোট বাচ্চা, দীর্ঘকালীন রোগে আক্রান্ত রোগীরা, মানসিক রোগী।
প্রচন্ড গরমে কী করা যেতে পারে
• তেষ্টা পাওয়ার পূর্বেই ঠান্ডা পানি পান করা।
• অধিক পরিমাণে তরল পদার্থ পান করা।
• যতোটা সম্ভব ঠান্ডা বা ছায়াতল স্থানে থাকা।
• ঢিলা এবং হালকা রংয়ের কাপড় পরিধান করা।
• সূর্য থেকে দূরে থাকা এবং ছাতা ব্যবহার করা।
• বাইরের কাজগুলো দিনের ঠান্ডা সময়ে করে নেয়া।
• ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা এবং ভিজা টাউয়াল ব্যবহার করা।
• দিনে সূর্য থেকে বাঁচার জন্য জানালায় পর্দা ব্যবহার করা।
• কম গরমের সময় রান্না করে রাখা এবং রান্না ঘরের চুলা যতোটা সম্ভব কম জ্বালানো।
• জানালার পাশে অথবা জানালার মধ্যে টেবিল ফ্যান ফিট করা এতে বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে নিয়ে আসবে এবং ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিবে।
• বদ্ধ ঘরে ফ্যান ব্যবহার করা ঠিক নয়।
📄 রসুন উপকারিতা
তাই হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে রসুন এক অসাধারণ ভেষজ। প্রতিদিন এককোয়া রসুন কাঁচা খেলে সাধারণত হার্ট এটাকের সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ কমে যায়।
📄 মধুর উপকারিতা
মধু হলো মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নিয়ামত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। রসূলুল্লাহ ﷺ একে 'খাইরুদ্দাওয়া' বা মহৌষধ বলেছেন। আয়ূর্বেদ এবং ইউনানী চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। এটা যেমন বলকারক, সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্যনির্যাস, তেমনি নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্রও। আর তাই তো খাদ্য ও ওষুধ- এ উভয়বিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নির্যাসকে প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে 'পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক' পানীয় হিসেবে সকল দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে।
মধুতে যে সকল উপকরণ রয়েছে এর মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকেই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এ দু'টি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসেবে জমা হয় না।
মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এতে এলুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড (যেমন- ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, এন্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স এবং পানি (১৯-২১%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন যেমন- ভিটামিন সি বা অ্যাসকারবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি বিদ্যমান। মধু এমন ধরনের ঔষধ, যার পচন নিবারক (এন্টিসেপটিক), কোলেস্টেরল বিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী ধর্ম আছে। মধু দ্বারা ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার জীবাণু চতুর্থ দিনে, টাইফয়েডের জীবাণু পঞ্চম দিনে এবং আমাশয়ের জীবাণু ১০ ঘণ্টায় ধ্বংস হয়।
নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবন করলে নিম্নলিখিত উপকার পাওয়া যায়:
১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং হৃদপেশীর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
৪. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে।
৫. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৬. মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকাতে সাহায্য করে।
৭. মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়, এবং ঠান্ডাজনিত রোগ নিরাময় করে।
৮. আন্ত্রিক রোগে উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়।
৯. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘা-এর জন্য খুবই উপকারী।
১০. শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে।
১১. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিস্কের কলা সুদৃঢ় করে।
১২. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
১৩. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
১৪. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগেন বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।
১৫. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না।
১৬. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে।
১৭. রক্ত পরিশোধন করে।
১৮. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।
১৯. জিহ্বার জড়তা দূর করে।
২০. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
২১. বাতের ব্যথা উপশম করে।
২২. মাথা ব্যথা দূর করে।
২৩. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে।
২৪. কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে বিশেষ উপকার করে।
২৫. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে।
২৬. মধু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীর হয়ে ওঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম।