📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ব্রেইনকে প্রখর রাখতে ৮টি অভ্যাস

📄 ব্রেইনকে প্রখর রাখতে ৮টি অভ্যাস


সাধারণভাবে আমরা শারীরিক গঠনটাকে সুন্দর করার প্রতি বেশি মনোযোগী। আদৌ কি আমরা তার কিছুটা সময় মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পেছনে ব্যয় করি, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। এই মস্তিষ্কের কল্যাণেই আমরা প্রাণীকূল থেকে আলাদা। মেধায়, মননে, বুদ্ধিদীপ্ততায় মানুষের অগ্রগতি থেমে নেই। বিশ্ব যেভাবে এগোচ্ছে, সেটাই প্রমাণ করে আমরা পূর্বের চেয়ে বহুগুণে বেশি মস্তিষ্কের উপর নির্ভরশীল। জীবনের বহু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখানে মস্তিষ্ককে শাণিত করার প্রাকৃতিক ও সহজ ৮টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা আলোচনা করা হলো।

১) সক্রিয় থাকা ও নিয়মিত ব্যায়াম করা। দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, অ্যারোবিক ব্যায়াম স্মৃতিশক্তিকে চাঙ্গা রাখবে। বয়স বাড়তে থাকলেও, মস্তিষ্কের জটিল কোন সমস্যা দেখা দেয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। তবে, মাঝবয়স থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চার তালিকা নির্ধারণ করে নিতে হবে।

২) মাস্তিষ্কেরও ব্যায়াম রয়েছে। অঙ্ক বা গণিতচর্চা, ধাঁধার সমাধান বের করা, প্রোগ্রামিং, পাজল গেইম বা দাবা খেলার মতো যে কাজগুলোতে মাথা খাটাতে হয়, সে ধরনের কাজ বেছে নিয়ে ও নিয়মিত তা করা। কারণ, স্নায়ুকোষের মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ তৈরি হয় এ ধরনের চর্চার মাধ্যমে। আর তা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখে।

৩) স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট অনুসরণ করা। চিনি কিংবা সম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার যতোটা সম্ভব পরিহার করা। পর্যাপ্ত পানি পান করা। সাধারণভাবে, প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ফরমালিন মুক্ত নানা রঙের টাটকা ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা। মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরটাও ভালো থাকবে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

৪) দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত থাকার অভ্যাস করা। অনেক চাপের মধ্যেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চর্চাটা আমাদের মস্তিষ্ককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। নিয়ম করে মাঝে-মধ্যে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। শহরে থাকলে, সময় বের করে একটু দূরে কোন গ্রাম থেকে ঘুরে আসা উচিত।

৫) পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো উচিত। বয়সভেদে ঘুমের সময়ের পার্থক্য হলেও, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সুনিদ্রা মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তোলে। সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জেগে থাকা নয় বরং ঘুমিয়ে থাকার সময়টাতেই মানুষের মস্তিষ্ক অধিক সক্রিয় থাকে। সারাদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা মানসিক চাপের পর মস্তিষ্কে যেসব ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়, তা পরিস্কার করে ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রামে মস্তিষ্কের কোষগুলো পরিশোধিত হয়। সতেজতা ফিরে পায়। নতুন কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয়। চিন্তা করার সময় জড়তা থাকে না। স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীলভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজতর হয়। স্বল্প বা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণতর হয়।

৬) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার আমাদের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে যেন না ভুলি। যেমন গাঢ় রঙের আঙুর, ডালিম, রসুন ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই প্রথমেই জেনে নিতে হবে কোন খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এরপর ডায়েট চার্টে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা।

৭) প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ যে ক্ষয় শুরু হয়, তা প্রতিরোধে অন্যতম ভূমিকা পালন করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সারা জীবন মস্তিষ্কের ভারসাম্য রক্ষা ও মাথা খাটানোর কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে বিশেষ এ পুষ্টি উপাদানটি। তাই আমাদের উচিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারগুলোকে খুঁজে বের করা ও তা প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা। যেমন: তেলাপিয়া, টোনা, চিংড়ি, সালমান মাছ, সয়াবিন তেল, ক্যানোলা তেল, ডিম, দুধ, কুমড়া বিচি ইত্যাদি।

৮) সামাজিক জীবনে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সে কাজগুলোর মধ্যে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, আলোচনা করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং চিন্তার শক্তিকে তীক্ষ্ণতর করে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ব্রেইনের জন্য ১০টি খারাপ অভ্যাস

📄 ব্রেইনের জন্য ১০টি খারাপ অভ্যাস


প্রতিনিয়ত অভ্যাসবশত আমরা কিছু কাজ করে থাকি যা আমাদের ব্রেইনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই ব্রেইনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সতর্ক হওয়ার জন্য জেনে নেয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো।

১. সকালে নাশতা না করা: আমরা অনেকেই ব্যস্ততার কারণে সকালের নাশতা না করেই বাসা থেকে বের হয়ে যাই। কিন্তু এই অভ্যাসটা খুব খারাপ। কারণ সকালে নাশতা না করলে নিম্ন রক্ত সরবরাহের কারণে আমাদের ব্রেইনে পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। এতে করে ধীরে ধীরে ব্রেইন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ব্যস্ততা সত্ত্বেও সকালের নাশতা করতে ভুলে যেন না যাই।

২. অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ: অনেক সময় আমরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণ করি। ধারণা করা হয়, মাঝে মাঝে এরকম অতিরিক্ত ডায়েটে কী আর হবে কিন্তু ধারণাটা ভুল। কারণ অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণের অভ্যাস আমাদের ব্রেইনের রক্তনালীর ইলাস্টিসিটি নষ্ট করে দেয়, ফলে অনেক ধরনের মানসিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। তাই সর্বদা সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডায়েট গ্রহণে বিরত থাকা।

৩. ধূমপান: ধূমপান নানা রোগের অন্যতম কারণ। ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব বলে শেষ করা যাবে না। তাই যারা ধূমপান করেন তাদের জন্য সতর্কবার্তা ধূমপানে কেবল ফুসফুস ক্যান্সার নয় বরং এতে করে ব্রেইন সঙ্কুচিত হয়ে যায় ফলে আলঝেইমার (alzheimer) নামক স্মৃতিবিলোপকারী রোগের উদ্ভব হয়। এছাড়া ইসলামে ধূমপান করা হারাম।

৪. অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ: অনেকের ধারণা মিষ্টি বেশি খেলে ব্রেইন ভালো হয়। কিন্তু আসলে অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে সেটা আমিষ ও অনান্য পুষ্টি উপাদানের পরিপাক ও শোষণে বাধা সৃষ্টি করে যা ব্রেইনের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং বেইনের বিকাশ সাধনের অন্তরায়।

৫. বায়ু দূষণ: বায়ু দূষণের জন্য আমাদের বেইনের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। কারণ বায়ু দূষণের ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বাতাস আমাদের ব্রেইনে যেতে পারে না। ফলে ব্রেইন ধীরে ধীরে পুষ্টির অভাবজনিত কারণে স্বাভাবিক কার্যকরী ক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই বায়ু দূষণযুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা উচিত এবং বায়ু দূষণ রোধে নিজে ও অন্যকে সচেতন করা উচিত।

৬. নিদ্রাহীনতা: ঘুম আমাদের ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য জরুরী। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ব্রেইন কোষের স্বাভাবিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যারা দীর্ঘদিন যাবত নিদ্রাহীনতায় ভুগছেন কিংবা কাজের ব্যস্ততার জন্য ঘুমানোর সময় পাচ্ছেন না তাদের জন্য বলা হচ্ছে, নিদ্রাহীনতা আমাদের ব্রেইনের কোষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। সুতরাং পর্যাপ্ত ঘুমকে কেবল সময় নষ্ট হিসেবে নয় বরং ব্রেইনের বিশ্রামের জন্য দরকারি হিসেবে গুরুত্ব দেয়া উচিত।

৭. ঘুমানোর সময় মাথা আবৃত করা: ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথা খোলা রেখে ঘুমানো ব্রেইনের জন্য উপকারী। কারণ মাথা আবৃত করে ঘুমালে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ঘনীভূত হয় এবং অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। এতে ব্রেইনের ক্ষতিসাধন হয়।

৮. অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত কাজ: যখন আমরা অসুস্থ হই তখন আমাদের উচিত কোনো পরিশ্রমী কাজ অথবা পড়াশোনা থেকে বিরত থেকে আমাদের ব্রেইনকে বিশ্রাম দেয়া। তা না হলে অসুস্থতার সময় অতিরিক্ত চাপ আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে ব্রেইনের দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক ক্ষতিসাধন হয়।

৯. চিন্তা না করা: বেশি বেশি চিন্তা করা, ব্রেইন কোষের উদ্দীপনার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা অত্যন্ত জরুরি। যত বেশি সৃষ্টিশীল চিন্তায় মনোযোগ দিতে পারা যায়, তত বেশি ব্রেইন কোষ উদ্দীপিত হবে। আরও বেশি দক্ষ ও মনোযোগী হতে পারা যায় যে কোনো কাজে। আর চিন্তাহীন ব্রেইন ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হয়ে ব্রেইনের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

১০. কথা না বলা: অনেকেই চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন। কিন্তু অতিরিক্ত নিরবতা ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর। কারণ যত বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় অংশ নিতে পারা যায় সেটা ব্রেইনের স্বাভাবিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ব্রেইন ফুড এবং স্মরণ-শক্তি বৃদ্ধি

📄 ব্রেইন ফুড এবং স্মরণ-শক্তি বৃদ্ধি


মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেইনের কিছু কিছু নার্ভ শুকিয়ে যেতে থাকে, যার কারণে স্মরণ-শক্তি আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে। আর পানি কম পান করার দরুন এগুলো আরো দ্রুত শুকিয়ে যায়। তবে সব ধরনের বেরী ফল হিউম্যান ব্রেইনের উন্নতি সাধন করে স্মরণ-শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। তাই আমাদের নিজেদের এবং সন্তানদের বেশী বেশী করে এই ফলগুলো নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। যেমন: কালোজাম, লেবু, আমড়া, আমলকি, স্ট্রবেরী, ব্লুবেরী, ব্ল‍্যাকবেরী, রাসবেরী ইত্যাদি।

মানসিক শান্তির জন্য স্বাস্থ্য ভাল রাখা খুবই প্রয়োজন
১) খাওয়ার শুরু ও শেষে দু'আ পড়া। ২) খুব ক্ষুধা না লাগলে না খাওয়া। প্রতি তিন ঘন্টা পরপর হালকা কিছু খাওয়া। ৩) অতিরিক্ত পরিমাণ আহার না করা। ৪) অতিরিক্ত চর্বি-মশলা ও লবণযুক্ত খাদ্য এবং নেশা-জাতীয়/উত্তেজক পানীয় গ্রহণ না করা। ৫) প্রতিদিন টক-ঝাল-মিষ্টি-তেতো স্বাদের খাদ্য খাওয়া। ৬) পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া, প্রচুর পরিমাণে সবজী খাওয়া। ৭) সারাদিন প্রচুর পানি পান করা। ৮) খাওয়ার পরপরই শুতে না যাওয়া অথবা কোন ব্যায়াম না করা। ৯) খাদ্য ভাল করে চিবিয়ে খাওয়া। ১০) রেগে থাকলে অথবা কোন কারণে মেজাজ খারাপ (আপসেট) থাকলে ঐমুহূর্তে না খাওয়া, এতে হজমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ১১) দ্রুত খাবার না খাওয়া, ধীরে-সুস্থে এন্জয় করে খাওয়া। ১২) দিনে দু'বার দাঁত ব্রাশ করা। রাতে ঘুমাবার আগে অবশ্যই।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 স্ট্রেস কন্ট্রোল করা

📄 স্ট্রেস কন্ট্রোল করা


পরিমাণ মত খাবার-দাবার গ্রহণ: আমাদের ধারণা আছে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে বা বেশি পরিমাণে খাওয়া-দাওয়া করলে স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া-দাওয়ায়ের অভ্যাস স্ট্রেস কমানোর বদলে তা বাড়িয়ে তোলে। তাই স্ট্রেস বেশি হলে পরিমাণমত খাবার খেতে হবে। খুব বেশি খাবার খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে : অন্যদের ইচ্ছা পূরণ করার পাশাপাশি নিজের ইচ্ছা পূরণের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রত্যেকেরই কিছু কিছু নিজস্ব ইচ্ছা আছে এবং তা পূরণ করা বা সেই ইচ্ছা অনুসারে জীবনধারণ করার অধিকার সবারই আছে, তবে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নার বিপরীত নয়।

খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা : স্ট্রেস-ফ্রি হতে গিয়ে খুব বেশি চা বা কফি পান বা সিগারেট খাওয়ার মতো বদ অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া যাবে না। এর মধ্যে যে নিকোটিন থাকে তা স্ট্রেস বাড়িয়ে তোলে।

নিয়মিত ব্যায়াম করা : খুব কঠিন নয় এমন কিছু ব্যায়াম দৈনিক চর্চা করা যার ফলে শরীর থেকে ‘এন্ডোফিন’ নির্গত হয় যা স্ট্রেস কমে যায় এবং পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা জাগিয়ে তোলে। নিয়মিত পড়াশোনা করা, নিজেকে রিল্যাক্স রাখা। রিল্যাক্সেশনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া জেনে নেয়া। অবসর সময় নষ্ট না করে বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানের জন্য নিয়মিত পড়াশোনার চর্চা করা। স্ট্রেসের কারণ কম করার চেষ্টা করা।

নিজের গুরুত্ব উপলদ্ধি করা : নিজের কাজে নিজের চিন্তাধারা বা বিচার বুদ্ধির বাস্তব রূপ তুলে ধরা। আমি কতটা ব্যস্ত তা কারো কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তাই নিজের গুরুত্ব এবং ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করা।

জীবাণুর বিস্তার রোধ : হাত পরিষ্কার রাখা
হাত পরিষ্কার রাখা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
হাতের মাধ্যমেই জীবাণু বহন করে ও ছড়ায় সবচেয়ে বেশি। বাইরে থেকে এসে প্রথমেই হাত না ধুয়ে সে হাত দ্বারা চোখ, নাক অথবা মুখ স্পর্শ করলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যদি কোনও ব্যক্তি নিজের হাতের উপর হাঁচি দেন বা কাঁশেন এবং তারপর দরজার হাতল বা নব, সিড়ির রেলিং কিংবা টেলিফোন স্পর্শ করেন, তাহলেও জীবাণু ছড়ায়। অন্য কেউ ওগুলি ধরামাত্র জীবাণু তাঁর শরীরে উঠে যেতে পারে। যদি তিনি হাত পরিষ্কার না করেই সে হাত দিয়ে চোখ, নাক অথবা মুখ স্পর্শ করেন তবে জীবাণুর প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

আমি কখন হাত সাবান ও পানি দিয়ে ধোব?
যখন হাত স্পষ্টত নোংরা থাকে।
আগে ও পরে :
• হাঁচি, কাশি, নাক ঝেড়ে - খাবার তৈরি করা ও খাবার খাওয়া।
• ওয়াশরুম ব্যবহার করে - কাঁটা বা ক্ষতস্থানে স্পর্শ করে।
• ময়লা ঘাঁটলে - চোখ, নাক অথবা মুখে স্পর্শ করে।
• ডায়াপার বদল করে।
• খোলা খাবারে হাত দিয়ে।

সাবান ও পানি দিয়ে সবচেয়ে ভাল ভাবে কী করে হাত ধোয়া যায়?
• কুসুম-কুসুম গরম পানিতে হাত ভেজান ও সাবান দেয়া।
• প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে দুই হাত জোরে জোরে ঘষা।
• গোটা হাত, এমনকী হাতের পিছন দিকে, দুই আঙুলের মাঝে, নখের নীচেও ঘষে নেয়া।
• তোয়ালে দিয়ে ভাল করে মুছে হাত শুকিয়ে নেয়া (বাড়ির বাইরে পাবলিক ওয়াশরুম হলে ওয়ান টাইম টিসু বা পেপার টাউয়াল ব্যবহার করতে হবে) অথবা ব্লোয়ার চালিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
• যদি প্রয়োজন হয়, পানির কল বন্ধ করতে হলে খালি হাত ব্যবহার না করে টিসু দিয়ে কল ধরতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px