📄 খাওয়ার রুটিন পরিবর্তন করা
আমাদের দেশে তিন বেলা খাওয়ার রুটিনটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান যা বলে আমরা তার উল্টোটা করি। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলে সকালের নাস্তা হতে হবে খুবই ভারী, দুপুরের লাঞ্চ হবে সকালের চেয়ে একটু হালকা এবং রাতের ডিনার হবে দুপুরের লাঞ্চের চেয়ে আরো হালকা। রাতের ডিনার সেরে ফেলতে হবে সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ ৬টার মধ্যে। রাতে আর কোন ভাত জাতীয় ভারী খাবার খাওয়া যাবে না। রাতে যদি খিদে লাগে তাহলে হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে যেমন ফল-মূল ইত্যাদি। আমাদের দেশে আমরা তিন বেলা খাবারের মধ্যে শর্করা জাতীয় খাবারের পরিমাণ বেশী রাখি যেমন ভাত বা রুটি জাতীয় খাবার যা শরীরে ফ্যাট তৈরী করতে সাহায্য করে। তাই খাবার মেনু থেকে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে অন্যান্য আইটেম বাড়াতে হবে।
📄 শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য ও সমাধান
শিশু একটু বড় হলেই সাধারণতঃ টয়লেট করার একটা নির্দিষ্ট সময় করে নেয়, এবং দিনে এক দু'বারের বেশি করে না। কিন্তু শিশু যদি কোনদিন একবারও তার সময়ানুযায়ী টয়লেট না করে তাহলে মা ভীষণভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পরপরই পটিতে বসিয়ে টয়লেট করানোর জন্য চেষ্টা করেন। এতদসত্ত্বেও প্রায়ই দেখা যায় শিশু ঠিকমত টয়লেট করছে না, অথবা করলেও তা বেশ শক্ত।
অধিকাংশ মা-ই তার সন্তানের ডায়ারিয়া বা পেট খারাপের ভয়ে শিশুকে পাতলা করে দুধ খাওয়ান। কৌটার গুঁড়ো দুধ খাওয়ালে কৌটার গায়ে নির্দেশ মোতাবেক ঘন না করে নিজেদের খেয়াল খুশী মত তা পাতলা করে খাওয়ান। গরুর দুধ খাওয়ালে তাতে পানি মিশিয়ে খুব পাতলা করে খাওয়ান যেখানে পুষ্টির পরিমাণের কথা মোটেও চিন্তা করেন না, অনেকে আবার তাদের অজ্ঞতার জন্য দুধ পাতলা করে খাওয়ান। যেমন- কয়েক আউন্স পানিতে আধা বা এক চামচ দুধ মিশিয়ে দুধের সাদা রং হলে তাকে শিশুর উপযুক্ত বলে মনে করেন। অনেকে আবার শিশু খেতে চায় না বলে গরমের দিনেও তাকে পানি খাওয়াতে পারেন না। এ সকল ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দুধ ও পানির অভাবে স্বভাবতঃই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
শৈশবে কোষ্ঠকাঠিন্যের আর একটি প্রধান কারণ মানসিক। মা-বাবা যদি অতি শৈশব থেকেই শিশুকে সময় মত মলত্যাগের অভ্যাস শুরু করান তার ফলেও কিন্তু শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তা ছাড়া মা বাবা যদি প্রত্যহ মলত্যাগের ব্যাপারে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাহলে সেই শিশু স্বেচ্ছায় কোষ্ঠকাঠিন্যের পূনরাবৃত্তি করতে থাকে। কাজেই তাঁদের এ ব্যাপারে কোনরকম উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত নয়। অথবা শিশু মলত্যাগ করছে না বলে তাকে কখনই বকাবকি বা কোন রকম শাস্তি দেয়া উচিত নয়, তার ফল বিপরীতই হতে পারে।
কখনও কখনও কোন কঠিন রোগের লক্ষণ হিসেবেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শিশুকে দুধ পাতলা না করে পরিমাণমত ঘন করে খাওয়াতে হবে। তাই দুধ তৈরির নিয়মাবলী জেনে নেয়া দরকার। বাজারে যে সমস্ত টিনের দুধ পাওয়া যায় কৌটার গায়ে লেখা নিয়মানুযায়ী দুধ তৈরি করে খাওয়াতে হবে। সাধারণতঃ কৌটার ভেতরে যে চামচ থাকে তা দিয়ে এক চামচ দুধ এক আউন্স পানিতে মিশালে শিশুর জন্য উপযুক্ত দুধ তৈরি হয়।
কোন কোন parents শিশুর কান্না থামানোর জন্য (কারণ যাই হোক না কেন) feeding-এর সংখ্যা বাড়িয়ে দেন। এতে শিশুর অনেক ক্ষতি হতে পারে। regular গরুর দুধে আয়রণ কম থাকে, পানি মিশানোর দরকার হয় না। ১ বছরের আগে গরুর দুধ খাওয়ালে পরবর্তী জীবনে তাদের diabetes-সহ আরো অনেক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত গরমের সময় শিশুকে বেশি পানি দেয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া গরমে বেশি জামা-কাপড় পরালে শিশুর ঘাম শুকিয়ে যায়। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। সেজন্য শিশুকে সময়োপযোগী কাপড় পরানো এবং নিয়মিত গোসল করানো দরকার।
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা কোনরকম ঔষধের দ্বারা নিরাময় না করে উপযুক্ত অভ্যাসের আহার এবং উপযুক্ত মাধ্যমেই তা করতে হয়। তাছাড়া কখনও কখনও অন্যান্য কারণেও শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
📄 সন্তানের জন্য কিছু স্বাস্থ্য টিপস্
সন্তানদের স্বাস্থ্য বিষয়ে কিছু খেয়াল করা মা-বাবাদের জন্য খুবই জরুরী। নিম্নে কিছু স্বাস্থ্য টিপস্ দেয়া হলো:
১) রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে নাস্তা খাওয়ার পরে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা।
২) বাইরে থেকে বাসায় এসেই সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা।
৩) যতদূর সম্ভব তাদেরকে ছোটবেলা থেকে গাম, চকলেট বা ক্যান্ডি অতিরিক্ত পরিমাণে খেতে না দেয়া।
৪) খাবার মেনুতে যতদূর সম্ভব আঁশ (fiber) যুক্ত খাবার রাখা। এতে কন্সটিপেশন হবে না। কন্সটিপেশনের কারণে ভবিষ্যতে নানা সমস্যা হতে পারে। Fiber যুক্ত খাবার যেমন, whole wheat bread, শাক-সবজী।
৫) সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে নাস্তার মেনুতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার রাখা। কার্বোহাইড্রেটের অভাবে ছেলেমেয়েরা সকালে স্কুলে মনোযোগ দিতে পারে না, ব্রেইন ঠিকমতো কাজ করে না। যেমন, রুটি এবং সিরিয়াল জাতীয় খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট থাকে।
৬) প্রচুর পানি পান করানো। কারণ পানির অভাবে ব্রেইনের কিছু কিছু নার্ভ শুকিয়ে যেতে থাকে, যার কারণে স্মরণ শক্তি লোপ পেতে থাকে। পানির অভাবে এটা বড়দেরও হতে পারে।
৭) খাদ্যে ফসফরাস এবং আয়োডিন থাকলে তা স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যেমন সামুদ্রিক লইট্টা মাছে প্রচুর ফসফরাস থাকে।
৮) প্রেগন্যান্ট মায়েরা টুনা মাছ খাওয়া উচিত নয়। এতে প্রচুর পরিমাণে পারদ থাকে যা গর্ভাবস্থায় সন্তানের ক্ষতিসাধন করে।
৯) ছেলেমেয়েরা স্কুল ব্যাগে অতিরিক্ত বই-খাতা বহন করার কারণে ব্যাগ অস্বাভাবিক ওজনে পরিণত হয় যা দিন দিন তার মেরুদন্ডের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে থাকে। এ বিষয়ে মা-বাবার সচেতন থাকা উচিত।
📄 ব্রেইনকে প্রখর রাখতে ৮টি অভ্যাস
সাধারণভাবে আমরা শারীরিক গঠনটাকে সুন্দর করার প্রতি বেশি মনোযোগী। আদৌ কি আমরা তার কিছুটা সময় মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার পেছনে ব্যয় করি, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। এই মস্তিষ্কের কল্যাণেই আমরা প্রাণীকূল থেকে আলাদা। মেধায়, মননে, বুদ্ধিদীপ্ততায় মানুষের অগ্রগতি থেমে নেই। বিশ্ব যেভাবে এগোচ্ছে, সেটাই প্রমাণ করে আমরা পূর্বের চেয়ে বহুগুণে বেশি মস্তিষ্কের উপর নির্ভরশীল। জীবনের বহু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখানে মস্তিষ্ককে শাণিত করার প্রাকৃতিক ও সহজ ৮টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা আলোচনা করা হলো।
১) সক্রিয় থাকা ও নিয়মিত ব্যায়াম করা। দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, অ্যারোবিক ব্যায়াম স্মৃতিশক্তিকে চাঙ্গা রাখবে। বয়স বাড়তে থাকলেও, মস্তিষ্কের জটিল কোন সমস্যা দেখা দেয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। তবে, মাঝবয়স থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চার তালিকা নির্ধারণ করে নিতে হবে।
২) মাস্তিষ্কেরও ব্যায়াম রয়েছে। অঙ্ক বা গণিতচর্চা, ধাঁধার সমাধান বের করা, প্রোগ্রামিং, পাজল গেইম বা দাবা খেলার মতো যে কাজগুলোতে মাথা খাটাতে হয়, সে ধরনের কাজ বেছে নিয়ে ও নিয়মিত তা করা। কারণ, স্নায়ুকোষের মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ তৈরি হয় এ ধরনের চর্চার মাধ্যমে। আর তা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখে।
৩) স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস বা ডায়েট অনুসরণ করা। চিনি কিংবা সম্পৃক্ত চর্বিসমৃদ্ধ খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার যতোটা সম্ভব পরিহার করা। পর্যাপ্ত পানি পান করা। সাধারণভাবে, প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ফরমালিন মুক্ত নানা রঙের টাটকা ফলমূল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা। মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরটাও ভালো থাকবে। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস বা হার্টের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
৪) দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপমুক্ত থাকার অভ্যাস করা। অনেক চাপের মধ্যেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চর্চাটা আমাদের মস্তিষ্ককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। নিয়ম করে মাঝে-মধ্যে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া উচিত। শহরে থাকলে, সময় বের করে একটু দূরে কোন গ্রাম থেকে ঘুরে আসা উচিত।
৫) পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো উচিত। বয়সভেদে ঘুমের সময়ের পার্থক্য হলেও, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সুনিদ্রা মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তোলে। সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জেগে থাকা নয় বরং ঘুমিয়ে থাকার সময়টাতেই মানুষের মস্তিষ্ক অধিক সক্রিয় থাকে। সারাদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম কিংবা মানসিক চাপের পর মস্তিষ্কে যেসব ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ জমা হয়, তা পরিস্কার করে ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রামে মস্তিষ্কের কোষগুলো পরিশোধিত হয়। সতেজতা ফিরে পায়। নতুন কাজ করার উদ্দীপনা তৈরি হয়। চিন্তা করার সময় জড়তা থাকে না। স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীলভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজতর হয়। স্বল্প বা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণতর হয়।
৬) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার আমাদের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে যেন না ভুলি। যেমন গাঢ় রঙের আঙুর, ডালিম, রসুন ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই প্রথমেই জেনে নিতে হবে কোন খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এরপর ডায়েট চার্টে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা।
৭) প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীরের অভ্যন্তরীণ যে ক্ষয় শুরু হয়, তা প্রতিরোধে অন্যতম ভূমিকা পালন করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সারা জীবন মস্তিষ্কের ভারসাম্য রক্ষা ও মাথা খাটানোর কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে বিশেষ এ পুষ্টি উপাদানটি। তাই আমাদের উচিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারগুলোকে খুঁজে বের করা ও তা প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা। যেমন: তেলাপিয়া, টোনা, চিংড়ি, সালমান মাছ, সয়াবিন তেল, ক্যানোলা তেল, ডিম, দুধ, কুমড়া বিচি ইত্যাদি।
৮) সামাজিক জীবনে সক্রিয় থাকা মস্তিষ্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ্য। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে মেলামেশার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা সে কাজগুলোর মধ্যে পড়ে। অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, আলোচনা করা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং চিন্তার শক্তিকে তীক্ষ্ণতর করে।