📄 সন্তানদেরকে সময় দেয়া
আমাদের প্রজন্মের নিকট সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার হচ্ছে নুমান আলী খান। অনেক মা-বাবরাই তার কাছে যান এই বলে যে, "আপনি কী আমার সন্তানের সাথে একটু কথা বলতে পারবেন?” এই মা-বাবাদের মধ্যে বেশীরভাগই টিনেজারদের মা-বাবা। টিনেজারদের মা-বাবা প্রায় সময়ই তার কাছে যান বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে। যেমন বলেন, "আমার ছেলেটা না, আমার কথা শোনেই না আজকাল। আপনি ওর সাথে একটু কথা বলবেন?” তখন তিনি মনে মনে বলেন বরং আপনি নিজে আপনার ছেলের সাথে কথা বলছেন না কেন? কোথায় ছিলেন আপনি যখন তার সাথে কথা বলার প্রকৃত সময় ছিল?
মা-বাবা এবং স্বামী-স্ত্রী এই দু'টো খুবই মৌলিক সম্পর্ক। একটা আমাদের সন্তানদের সাথে, আরেকটা আমাদের জীবনসঙ্গীর সাথে। এই দু'টো সম্পর্কের ব্যাপারেই খুব বেসিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক। আমাদের সন্তান যখন ছোট, খুবই ছোট, ধরি যখন তাদের বয়স পাঁচ, ছয়, সাত, দুই, তিন, চার, তখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন্ জিনিসটি? তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের সমর্থন। তারা মা-বাবাকে গর্বিত করতে চায়। তারা যা যা করেছে সব মা-বাবাকে দেখাতে চায়।
ধরি, আমি জরুরী কোনো কাজের আলাপ করছি ফোনে, আর এ সময় আমার দুই বছরের ছেলে এসে বলবে, "আব্বু আব্বু আব্বু আব্বু।"... "ভাই একটু লাইনে থাকেন"... "কী হয়েছে?"..."হে হে হে” ব্যস! আমি আবার ফোনালাপে ফিরে গেলাম, সে আবার আমাকে ডাকা শুরু করল। আমি বললাম, "আচ্ছা ঠিক আছে, কী হয়েছে বলো"... "আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো" "কি দেখাতে চাও বাবা? সে হয়তো একটা লাফ দিয়ে বাবাকে দেখালো ... ব্যস এটাই! কিন্তু আমার এ ক্ষেত্রে কী করা উচিত? অনেক বাবাই হয়তো বিরক্ত হবে বা তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিবে, এটা মোটেও ঠিক না।
বরং বন্ধুর সাথে ফোনের কথা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে উৎসাহ দিয়ে বলা যেতে পারে, "আল্লাহ! দারুন তো! আবার করো দেখি।" আমাদের সন্তানরা যা যা করে আমাদের উচিত তার কদর করা। এটা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক। অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে বেশি তারা এটাই চায় আমাদের কাছ থেকে। ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য কি আমরা তা জানি কিনা? ছেলেরা এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, আর মেয়েরা কথা বলা থামাতে পারে না।
আমার (নুমান আলী খান) মেয়েরা একজন ক্লাস ওয়ানে আরেক জন ক্লাস থ্রিতে পড়ে আমি ওদের স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে আসি ২৫ মিনিট গাড়ি চালিয়ে। আর এই পুরোটা সময় তারা কি করে জানেন? একজন বলতে থাকে "জানো আজকে ক্লাসে কি হয়েছে? আমরা একটা ডাইনোসর রং করেছি, এটা করেছি, ওটা করেছি, প্রথমে আমি বেগুনী রং করলাম, তারপর ভাবলাম একটু সবুজ রং-ও দেই”- এভাবে বলতে থাকলো তো বলতেই থাকলো। থামার কোনো নামই নেই। থামা সম্ভবই না ওদের পক্ষে। আর আমাকেও মনোযোগ দিয়ে সেটা শুনতে হবে। আমি বললাম, "ও তাই? নীল রং দাও নি?".. "না অল্প একটু নীল দিয়েছি"। আমাকে মনোযোগ দিতে হবে।
অন্য একটা গল্প বলি। আমার (নুমান আলী খান) বড় মেয়েটা, হুসনা, যখন ছোট ছিল তখন আঙ্গুল দিয়ে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করত। সে তার আঙ্গুলগুলো রঙের মধ্যে চুবিয়ে তারপর সেগুলো দিয়ে হাবিজাবি আঁকত। তো একদিন এক বিশাল কার্ডবোর্ড নিয়ে সে আমার কাছে হাজির! সেখানে নীল রং দিয়ে বিশাল কি যেন আঁকা, আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। সে বলল, “আব্বু, দেখো আমি কী এঁকেছি?” আর আমি বললাম, বাহ, দারুন! একটা পাহাড়!" আর সে বলল, "না এটা তো আম্মু। আমি বললাম, "খাইছে!” "আম্মুকে এই কথা বোলো না কিন্তু”। তবে যে কথাটা বলতে চাচ্ছি তা হলো ওরা আমাদের সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। ব্যাকুল তারা এর জন্য।
কিন্তু যাদের সন্তানরা টিনেজার, এমন কি হয় যে স্কুল থেকে আনার সময় তারা গাড়িতে উঠে কথা বলা থামাতে পারছে না? হয় এমন? জানো আজকে ক্লাসে কি হয়েছে? টিচার এটা বলেছে, ওটা করেছে, পরীক্ষায় ‘এ’ পেয়েছি”। না! তারা একদম চুপ! বরং মা-বাবারাই তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে, "কেমন গেলো দিন?" “মোটামুটি”.. "কি করলে সারাদিন?" "কিছু একটা” "আজকে কোথায় যাবে?" ... "যাব কোথাও"। কথা বলেই না তারা! তাদের কথা বলানো অনেকটা পুলিশের আসামীকে জেরা করার মত ব্যাপার। মা- বাবাকে তারা কিছুই বলে না, এক দুই শব্দে উত্তর দেয়। আর যখন মা-বাবা তাকে প্রশ্ন করছেন, তখন হয়ত সে তার বন্ধুকে এস.এম.এস পাঠাচ্ছে, “আব্বু আজকে বেশি প্রশ্ন করছে! ঘটনা কি? তুমি ওনাকে কিছু বলেছ নাকি....?"
ছোট বয়সে আমাদের বাচ্চারা আমাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল থাকে। আর যখন তারা বড় হবে, তখন আমরা তাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল হবো। কিন্তু তারা যখন ছোট থাকে তখন যদি আমরা তাদের মনোযোগ না দেই তারা খেলনা নিয়ে আমাদের কাছে আসলে যদি বলি, "ঘরে যাও! আমি সংবাদ দেখছি”, “খেলা চলছে। এই, তুমি একটু সরাও তো!", "সারাদিন অনেক কাজ করেছি, এখন ওকে সামলাতে পারব না", "বাসায় আমার বন্ধুরা এসেছে, কি বলবে ওরা? যাও ঘুমাতে যাও! যাও এখান থেকে" ইত্যাদি! এগুলো মোটেও ঠিক না।
আমরা যখন ওদের সাথে এমন আচরণ করবো, যেন তারা আমাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা, আমাদের কাজ হচ্ছে চাকরি করা, আর বাসায় এসে শুধু বিশ্রাম নেয়া? আসলে আমাদের কাজ শুরু হয়েছে তখনই যখন আমরা ঘরে ফিরি। সেটাই আমাদের আসল কাজ। চাকরিতে যে কাজ করেছি সেটা শুধুমাত্র এজন্য যেন ঘরের আসল কাজটা ঠিকমত করতে পারি। একজন প্রকৃত বাবা হই। আমাদের সন্তানদের সাথে সময় কাটাই। তারা শুধু এ জন্য নয় যে আমি তাদের স্কুলে ছেড়ে দিয়ে আসবো, আর বাসায় ফিরে শুধু ঘুমাতে যাবো, কোনো ঝামেলায় যাবো না, তাদের সাথে কথা বলবো না। এবং তাদের সাথে কথা না বলার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তাদের একটা আইপ্যাড টাচ অথবা আইফোন ধরিয়ে দেয়া, তাদের নিজস্ব রুমে একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে দেয়া হাই-স্পিড ইন্টারনেট সহ! সুতরাং আমাদেরকে তাদের চেহারাও দেখতে হবে না। তারা সারাদিন তাদের ঘরে ফেইসবুকিং করতে থাকবে, অনলাইনেই নিজেদের জন্য নতুন মা-বাবা খুঁজে নিবে না হয়।
আসুন আমরা প্রকৃত বাবা হই, প্রকৃত মা হই। আমাদের মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের বদলি হিসেবে এইসব জিনিসকে আসতে না দেই। কারণ যদি তা না দেই, তাহলে ওরা যখন স্বাবলম্বী হয়ে যাবে তখন বেশির ভাগ মা-বাবার কী হয়? বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরা মা-বাবাকে দেখে কতগুলো টাকার মেশিন হিসেবে। শুধুমাত্র কখন তারা মা-বাবার কাছে আসে? "বাবা, আমাকে ৫০০ টাকা দাও তো” অথবা “শপিং মলে যেতে চাই, আমাকে একটু পৌঁছে দাও তো", বন্ধুদের বাসায় যাই?” “এটা করতে পারি?" "ওটা কিনতে পারি?” যখন তাদের কোনো কিছুর দরকার তখন তারা আমাদের কাছে আসে। এর বাইরে আমরা তাদের খুঁজেও পাবো না।
আর যখন তারা বড় হবে, নিজেরাই একটু কামাই করতে পারবে, তখন কি হবে? তাদের দেখাই পাবো না আর। কারণ আমাদের টাকার মেশিনও এখন আর দরকার নেই। এর প্রয়োজন শেষ। সন্তানদের সাথে আমরা যদি এই ধরনের সম্পর্ক তৈরী করি, তাহলে আমরা নিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছি। আমাদেরকে এখনই পরিবর্তন আনতে হবে। আর পরিবর্তনের উপায় হলো- হয়তো এটা অনেকের জন্যই করাটা কঠিন হবে- কিন্তু আমাদেরকে সন্তানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। আমাদেরকে তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে হবে। আমাদের সাথে সময় কাটানোটা তাদের কাছে উপভোগ্য হতে হবে।
📄 সন্তানদের মিথ্যা বলার কারণ ও প্রতিকার
আমাদের যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া উচিত, তা হল শিশুদের মিথ্যা কথা বলা। শিশুরা মিথ্যা বলে কিন্তু তারা বুঝাতে চাইবে যে তারা মিথ্যা বলেনি। তারা বলবে আমি এটা বলিনি, ওটা বলিনি, আমি এটা কখনও বলিনি, সত্যি বলছি। নিম্নে মা ও শিশুর উদাহরণ স্বরূপ একটি কথোপকথন দেখা যাক :
মা: তুমি এটা আমাকে বলেছো, আমি সেখানে ছিলাম।
শিশু: আমি বলিনি।
মা: আমি এটা রেকর্ড করেছি। এই হল ভিডিও।
শিশু: আমি এটা বলিনি।
ভিডিও দেখার পরেও তারা বলে, আমি এটা বলিনি। তারা স্বীকার করে না। তারা কোন ভাবে নিজেদের বুঝিয়ে নেয়।
আমরা কি জানি কেন এটা ঘটে? এটা ঘটে, কারণ প্রথম বার সে যখন মিথ্যা বলেছিল এবং সে স্বীকার করে নিয়েছিল তখন মা রাগ হয়ে তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিল। যেন কিয়ামত ঘটে গেছে। তুমি? মিথ্যা বলেছ? আমার ঘরে? প্রথমে মা হয়তো বলেছেন যে, আমাকে সত্য বলো, কিচ্ছু হবে না। যখন সে সত্য স্বীকার করল, তখন মা তাকে প্রহার করলেন। পরবর্তী সময়ে, সে মনে মনে ভাবলো, আমি এতসব (বকা-ঝকা) গ্রহণ করতে রাজি। যখন আমি স্বীকার করে নিব আমি মিথ্যা বলেছি, আমি জানি এরপর কি হবে আমার। আমি এই অপরাধ (সত্য স্বীকার) আর করতে যাচ্ছি না। অপরাধ স্বীকারের কোন মূল্য এই বাসায় নেই।
আমাদেরকে এটা সর্বপ্রথম বন্ধ করতে হবে। আমি অতিরিক্ত শাস্তি দিতে পারবো না এমন কিছুর জন্য যা ঘটে গেছে এবং ইতিমধ্যেই আমাকে রাগান্বিত করেছে। এটা সংশোধন প্রক্রিয়া নয়। মা রাগান্বিত কারণ বাচ্চা মিথ্যা বলেছে, অথবা খারাপ কিছু করেছে। তারপর সে রাগান্বিত, কারণ সে কাজটি সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। তারপর সে রাগান্বিত কারণ সে জিজ্ঞেস করছে- সত্য বল, আমি তোমাকে শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি। আমি শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি। যদিও সে আরও ৬ বার জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছে। কিন্তু সে বলে, শেষ বারের মতো আমাকে বল, আমি এই শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি, আমি আর দ্বিতীয় বার জিজ্ঞেস করবো না। তুমি কি এটা করেছ? (শিশু) না। ঠিক আছে আমি তোমাকে এই শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি। তোমার বাবাকে বলার আগে আর একবার। আমি এটা করেনি ৩ বার। সে বিছানায় যাবে, কান্নাকাটি করবে, কিন্তু সে স্বীকার করবে না। সে এটার উপরে অটল থাকবে। এই ছেলেকে নিয়ে আমি কী করবো? এরপর মা বলেন, আমি জানি তুমিই এটা করেছ। আমি জানি তুমিই এটা করেছ। মা হয়তো আরও বেশি রাগান্বিত হয়ে যান। সে হয়ে যায় আরও বেশি রক্ষণাত্মক। সবশেষে, মা নিজের চুল ছিঁড়তে থাকেন। জানি না এটার শেষ কোথায়? এবার বাবা অফিস থেকে ঘরে আসলে মার অভিযোগ! আমি জানি না একে নিয়ে কী করব! সে মিথ্যা বলেছে! এবার বাবা আবার নতুন করে শুরু করলেন। বাবা: তুমি মিথ্যা বলেছ? শিশু: না।
কিভাবে আমরা এই সমস্যার সমাধান করবো? আমাদেরকে ঐ পরিস্থিতিগুলো নিতে হবে এভাবে, কিছু কিছু সময় আমরা তাদেরকে বিশ্বাস করবো, যদিও আমরা জানি তারা মিথ্যা বলছে। বলতে হবে, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তুমি আমার সাথে মিথ্যা বলবে না। তুমি শেষবার কথা দিয়েছ যে, তুমি মিথ্যা বলবে না। তাই আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। ঠিক আছে। তোমার কোন সমস্যা নেই। তাকে এই মিথ্যা বলাতে ৩/৪ বার সুযোগ দিতে হবে। কল্পনা করি। কি ঘটতে পারে। শিশুরা স্বভাবগতভাবে খারাপ না। তাদের প্রকৃতিতেই রয়েছে সততা। তাই যখন তারা খারাপ কিছু করে এবং আমরা সেজন্য তাদেরকে শাস্তি দেই না, তখন তাদের সুযোগ হয় বিবেককে প্রশ্ন করার। যদি আমরা এর জন্য তাদেরকে শাস্তি দেই, তাদের বিবেক কাজ করার সুযোগ পায় না। কারণ তারা এর জন্য ইতিমধ্যেই শাস্তি পেয়ে গেছে। যখন তারা শাস্তি পেয়ে যায়, তখন তাদের অপরাধবোধ আর কাজ করে না। তারা খারাপ কিছু করেছে এবং তার জন্য তারা মূল্যও দিয়েছে। তখন তাদের বিবেকের আর কিছু করার থাকে না।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো পরিস্কার হওয়া যেতে পারে। যেমন একটি শিশু তার ছোট বোনের গালে চড় দিয়েছে। আমরা বিষয়টা সামলানোর জন্য তাকে কোন প্রকার শাস্তি না দিয়ে তার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য একটি উপযুক্ত সময় বেছে নিতে পারি। সবসময় এটা করার সুযোগ হয়তো পাবো না। এবং বলতে হবে, ঠিক আছে আমি তোমাকে বিশ্বাস করলাম, তুমি এটা করনি তোমার বোন ভুল করেছে, সে ভালভাবে মনে রাখতে পারে নি। তার গালের উপর যে লাল দাগ রয়েছে, সেটা হয়ত কোন ভাবে হয়েছে। ঠিক আছে, তোমার কোন সমস্যা নেই।
সময়ের ব্যবধানে এতে কি হবে আমরা কি তা জানি? এক সময় সে এসে মাকে বলবে, "আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। আমি এটা করেছি... কান্না...।" তখন মায়ের উচিত হবে তাকে সান্তনা দেয়া, তাকে আদর করা। ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি এখনো তোমাকে ভাল জানি। এখানে মা আসলে কি করলেন, মা তাকে রক্ষণাত্মক মনোভাব থেকে সরিয়ে আনলেন। কিন্তু এটা করার জন্য দীর্ঘ সময়ের চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন হয়। প্রথমেই আমরা এটা করতে সমর্থ হবো না। এটা খুব কঠিন এ ধরনের বিষয় ক্ষমা করে দেয়া। বিশেষভাবে যখন তারা আরেকটা বাচ্চাকে আঘাত করে। যদি তারা অন্য বাচ্চার সাথে অন্যায় করে। তাহলে আমাদেরকে সেই বাচ্চাটাকে সান্তনা দিতে হবে। আমি তোমাকেও বিশ্বাস করি। আমি তোমার প্রতি রাগান্বিত নই। এবং আমি জানি যে তুমি কোন অন্যায় করনি।
কিন্তু তুমি খুশি হতে পারবে না যদি সে শাস্তি পায়। এটা আরেক বিষয়, এক বাচ্চা শাস্তি পেলে আরেক বাচ্চা খুশি হয়ে যায়। এবং তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে এভাবে বলে, বাবা অন্য দিন সে আমার কান টান দিয়েছে। এবং ছোট জন হয়তো কাছে এসে বললো বাবা, তুমি জানো আপি একদিন আমার কান টান দিয়েছে। বললাম, কখন? (শিশু) আমি জানি না, কোন এক গতকাল। আমি বললাম আমাকে তুমি কি করতে বল? তাকে শাস্তি দাও। আমি বললাম, এতে কি তুমি খুশি হবে? হ্যা...। কখনও কখনও শিশুরা কৌশল অবলম্বন করে যাতে অন্যজন শাস্তি পায়। তারা এটা করে। আমরা হয়তো এই পরিস্থিতিও তৈরী করতে চাই না। যদি এটা একদম ছোট বাচ্চা হয়, ২ বছরের তাহলে সমস্যা মনে হয় না। আমি হয়তো তাদের আনন্দ দিতে চাই। আমি হয়তো বড় জনকে ধরে এভাবে নিজের হাতে নিজে কয়েকবার আঘাত করি এবং বলি, বলো আও, সে তখন বলে আও, আও, আমি ব্যাথা পাই, আমি ব্যাথা পাই। এবং আমি ছোটজনের দিকে ফিরে বলি, তুমি এখন খুশি? হ্যাঁ...। এটা মজার।
কিন্তু বড় সন্তানের বেলায় একজন শাস্তি পেলে যদি অন্য জন খুশি হয় তাহলে এটা একটা সমস্যা। এটা একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেন তুমি খুশি এটা থেকে তুমি কি পেলে? এ বিষয়গুলো আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।