📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 অনেক সন্তানেরাই জানে না মা-বাবার মৃত্যুর পর কী করণীয়

📄 অনেক সন্তানেরাই জানে না মা-বাবার মৃত্যুর পর কী করণীয়


“আবু উসাইদ বলেন, আমরা নাবী এর সামনে উপস্থিত ছিলাম. এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! মা-বাবার মৃত্যুর পরও কি এমন কোনো পদ্ধতি সম্ভব যে, আমি তাদের সাথে সুন্দর আচরণ অব্যাহত রাখতে পারি? নাবী বললেন, হ্যাঁ. চারটি পন্থায় তুমি তা করতে পার (১) মা- বাবার জন্য দু'আ এবং ইসতিগফার (২) তাদের কৃত ওয়াদাসমূহ এবং বৈধ ওসিয়ত (দান) পূরণ, (৩) বাবার বন্ধু-বান্ধব এবং মার বান্ধবীদের সম্মান ও আদর-যত্ন এবং (৪) তাঁদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ও সুন্দর আচরণ করা, যারা মা-বাবার দিক থেকে তোমাদের আত্মীয় হন.” (আল আদাবুল মাফরুজ)

১) দু'আ ও ইসতিগফার : সলাতের পর এবং অন্য সময় আল্লাহর নিকট কেঁদে কেঁদে দু'আ করা উচিত যে, হে আল্লাহ! আমার মা-বাবাকে ক্ষমা করুন. তাঁদের গুণাহসমূহকে মুছে দিন এবং তাঁদেরকে আপনি তাই দান করুন যা আপনি নেক বান্দা-বান্দীকে দিয়ে থাকেন. হে আল্লাহ! যখন আমরা সন্তানরা তাঁদের সাহায্য, স্নেহ ও লালন-পালনের মুখাপেক্ষী ছিলাম তখন তারা সবকিছু আমাদের জন্য ত্যাগ করেছিলেন. হে আল্লাহ! এখন তাঁরা তোমার নিকট সমুপস্থিত. শৈশবকালে অসহায় অবস্থায় আমরা তাঁদের মুখাপেক্ষী ছিলাম. এখন তাঁরা সেই সময়ের চেয়ে বেশী তোমার রহমাত ও সুদৃষ্টির মুখাপেক্ষী. হে আল্লাহ! তুমি তাঁদেরকে নিজের রহমাতের ছায়া দান কর এবং নিজের জান্নাতে তাঁদের আশ্রয় দাও. “রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানিস্ সগিরা”

২) মা-বাবার ওয়াদা ও ওসিয়ত পূরণ করা: মা-বাবা জীবিত অবস্থায় অনেক লোকের সাথে ওয়াদা করে থাকতে পারেন. বিভিন্ন ব্যাপারে কিছু ওয়াদা করতে পারেন. মৃত্যুর আগে ওসিয়ত (দান) করতে পারেন. মা-বাবার মৃত্যুর পর সন্তানের জন্য তাঁদের সাথে সুন্দর আচরণের একটি পন্থা অবশিষ্ট থাকে. তা হলো তাঁদের কৃত ওয়াদাসমূহ ও ওসিয়ত পূরণ করা. আর এভাবেই তাঁদের রূহকে খুশী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে. কিন্তু তাঁদের জায়িয বা বৈধ ওসিয়তই পূরণ করতে হবে, তাঁদের অবৈধ ওসিয়ত নয়.

৩) মায়ের বান্ধবী এবং বাবার বন্ধুদের সাথে আচরণ: মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সাথে আচরণের তৃতীয় পন্থা হলো, মায়ের বান্ধবী এবং বাবার বন্ধুদের সাথে সুন্দর আচরণ করা. সামাজিক জীবনে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের মতো তাঁকেও শ্রদ্ধা করতে হবে. তাঁদের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে. বিভিন্ন প্রশ্নে পরামর্শের সময় তাঁদেরকে শরীক করা এবং সবসময় শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক তাঁদের সাথে সুন্দর আচরণ করা আবশ্যক. নাবী কারীম বলেছেন: বাবার বন্ধুদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা সবচেয়ে সুন্দর আচরণ.

৪) মা-বাবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দর আচরণ: মা-বাবার মৃত্যুর পর আচরণের চতুর্থ পন্থা হলো, মা-বাবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দর আচরণ করা. মায়ের পক্ষের আত্মীয় যেমন- খালা, মামা, নানা-নানী প্রভৃতি এবং বাবার পক্ষের আত্মীয় যেমন চাচা, ফুফু, বাধা-দাদী ইত্যাদি. এ সকল আত্মীয়র প্রতি অমনোযোগী থাকা এবং বেপরোয়া ভাব প্রদর্শন প্রকৃতপক্ষে মা-বাবার প্রতি অমনোযোগী থাকার নামান্তর এবং একজন মু'মিন ও মু'মিনা মা-বাবার সাথে এ ধরনের আচরণ করতে পারে না. আল্লাহর রসূল বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাবা ও দাদার সাথে কখনও বেয়াদবসুলভ আচরণ করবেন না. মা-বাবার সাথে বেয়াদবী করা আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়ার শামিল.

ফন্ট সাইজ
15px
17px