📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার

📄 মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার


আল্লাহ তা'আলা বলেন: আপনার প্রতিপালক ফায়সালা করে দিয়েছেন যে তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। (সূরা বানী ইসরাঈল: ২৩)

আল্লাহ তা'আলা বলেন: আমি বনী ইসরাঈলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছি যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপাসনা করবে না এবং মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। (সূরা আল-বাকারা : ৮৩)

তোমরা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করো, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করো। (সূরা আন-নিসাঃ ৩৬)

তিনি অন্য এক আয়াতে বলেন: তোমার মা-বাবা যদি আমার সাথে এমন সব বিষয়কে শরীক করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। (সূরা লুকমান : ১৫)

মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করা নাবীগণের বৈশিষ্ট্য
আল্লাহ তা'আলা বলেন: হে ইয়াহইয়া! দৃঢ়তার সাথে এই গ্রন্থ ধারণ করো আমি তাকে শৈশবেই বিচার বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দান করেছিলাম এবং নিজের পক্ষ থেকে দয়ার্দ্রতা ও পবিত্রতা দান করেছি। সে ছিল পরহেজগার। মা-বাবার অনুগত এবং সে উদ্ধত অবাধ্য ছিলো না। (সূরা মারইয়াম : ১২-১৪)

ঈসা বলেন: তিনি (আল্লাহ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সলাত কায়েম ও যাকাত আদায় করতে এবং মায়ের অনুগত থাকতে। (সূরা মারইয়াম : ৩১-৩২)

মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন, আমি রসূলুল্লাহ -কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট সবচাইতে বেশি প্রিয়? রসূলুল্লাহ বললেন: সময় মতো সলাত আদায় করা। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন কাজ? তিনি বললেনঃ মা-বাবার সাথে সুন্দর আচারণ করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর? তিনি বললেন : আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। (সহীহ বুখারী)

মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহারের উপকারিতা
মা-বাবা আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। সন্তানের জন্ম ও তাদের লালন-পালনে আল্লাহর পরেই মা-বাবার অবদান সবচাইতে বেশী। মা-বাবার অবদান ও ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানালে আল্লাহর ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের অকৃতজ্ঞতা আল্লাহর অকৃতজ্ঞতারই শামিল।

• মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করলে ঈমান পরিপূর্ণ হয় এবং ইসলামী জীবন যাত্রা সুন্দর হয়।
• মা-বাবার আনুগত্য করা উত্তম ইবাদত ও শ্রেষ্ঠ আনুগত্য।
• মা-বাবার সন্তুষ্টি জান্নাতের চাবিকাঠি। মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার জান্নাতের পথে ধাবিত করে। যাকে আল্লাহ মা-বাবার সেবা-যত্ন করার সৌভাগ্য দান করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তাকে তিনি জান্নাতের পথে চলারই সুযোগ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ সৌভাগ্য অর্জন করেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
• মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করলে, তাঁদের সেবা-যত্ন করলে হায়াত বৃদ্ধি পাবে।
• মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করলে পরকালে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের কাছে সে প্রশংসিত হবে।
• যে ব্যক্তি মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তার সন্তানরাও তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং তাকে মর্যাদা প্রদান করবে। মা-বাবার সাথে ভালো আচরণ করলে আল্লাহ তার সন্তানদেরকেও সেই শিক্ষাই দেবেন।
• মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করলে এবং তাদের সেবা-যত্ন করলে বিপদ মুসিবত দুর হয় ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়া যায়।
• যে ব্যক্তি মা-বাবার বন্ধুদের সাথে সদাচরণ করবে, তার নূর বিলুপ্ত করা হবে না।
• মা-বাবার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মা-বাবাকে সন্তুষ্ট করার কাজ করতে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
• আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা, হাজ্জ ও উমরাহ পালন করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে ব্যক্তি মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তাঁদের অধিকার আদায় করে এবং তাদের সেবা যত্ন করে, আল্লাহ তাকে কবুল হাজ্জ ও উমরাহর সমান সাওয়াব দান করেন।
• মা-বাবার সেবা-যত্ন করা যুদ্ধের সমতুল্য ইবাদত। ক্ষেত্র বিশেষে তার চাইতেও বড়। মা-বাবার খেদমতে নিয়েজিত থাকলে দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী মুজাহিদগণের মধ্যে গণ্য হওয়া যাবে এবং যুদ্ধের ময়দানে অংশ গ্রহণকারীদের সমতুল্য মর্যাদার অধিকারী হওয়া যাবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মা-বাবার জন্য অর্থ ব্যয়

📄 মা-বাবার জন্য অর্থ ব্যয়


যেভাবে সন্তানের উপর মা-বাবার অধিকার রয়েছে তেমনিভাবে সন্তানের সম্পদের উপরও তাদের অধিকার রয়েছে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,

“হে নাবী লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা কি ব্যয় করবো? আপনি তাদেরকে বলে দিন, যে মালই তোমরা ব্যয় করো না কেন? তার প্রথম হকদার হলো তোমার মা-বাবা।” (সূরা আল বাকারা : ২১৫)

এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ -এর নিকট স্বীয় বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বললো, তিনি যখনই ইচ্ছা করেন আমার সম্পদ নিয়ে নেন। রসূলুল্লাহ তার বাবাকে ডাকলেন। লাঠি ভর করে এক দুর্বল বৃদ্ধ হাযির হলেন। তিনি বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। বৃদ্ধলোকটি জবাব দিলেন, হে আল্লাহর রসূল! এক সময় আমার এ ছেলে দুর্বল অসহায় ও কপর্দকহীন ছিল। আমি তখন ছিলাম শক্তিশালী ও বিত্তশালী। আমি কখনও তাকে আমার সম্পদ নিতে বাধা দেইনি। আজ আমি দুর্বল ও কপর্দকহীন, সে শক্তিশালী ও বিত্তশালী। এখন তার সম্পদ আমাকে দেয় না। একথা শুনে রসূলুল্লাহ বললেন: তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার। (ইবনু মাজাহ)

ছেলে ও তার উপার্জন তার বাবার জন্যই
ইবনু মাযাহ জাবির হতে এই মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল আমার সম্পদ ও সন্তানাদি আছে, আর আমার বাবা আমার সম্পদ বিনষ্ট (খরচ) করতে চায়। রসূলূল্লাহ বললেন: তুমি এবং তোমার সম্পদ (সবই) তোমার বাবার। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

ইবনু আবী শায়বাহ মায়ায ইবনু জাবাল হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সন্তানের উপর মা-বাবার কী হক? তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, তোমার সমস্ত ধন সম্পদ যদি তাদেরকে দিয়েও দাও তবুও তাদের হক আদায় করতে পারবে না।

মা-বাবার প্রতিদান
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত. নাবী বলেছেন: কোন সন্তান বাবার স্নেহে-ভালবাসা, লালন-পালন এবং কষ্টের হক আদায় করতে বা তার বদলা দিতে সক্ষম নয়। তবে সে যদি তাঁকে কারো দাস রূপে পায়, অতঃপর তাঁকে ক্রয় করে মুক্ত করে দেয়, তাহলে কিছু হক আদায় হয়। (সহীহ মুসলিম)

মা-বাবার অবাধ্যতা
"তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন, তোমরা তাঁদের ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করবে। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উহ' শব্দটিও বলবে না এবং তাদেরকে ভর্ৎসনা করবে না। বরং তাদের সাথে সম্মান ও শিষ্টাচারপূর্ণ কথা বলবে এবং বিনয় ও নম্রতাসহকারে তাদের সামনে নত হয়ে থাকবে। আর এ দু'আ করতে থাকবে : হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করো, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বনী ইসরাঈল : ২৩-২৪)

আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরা থেকে বর্ণিত. তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে সবচাইতে বড় কবীরা (জঘন্যতম) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না. একথা তিনি তিন বার বললেন. সাহাবায়ে কেরাম বললেন, কেন নয়, অবশ্যই করবেন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্যতা করা. তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলতে লাগলেন, (খুব ভালো করে শোন!) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া. তিনি বারবার একথা বলতে থাকনে. অবশেষে আমরা (মনে মনে) বললাম, হায়! তিনি যদি চুপ হয়ে যেতেন. (সহীহ বুখারী)

আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস বলেন, নাবী বলেছেন: কবীরা গুনাহসমূহ হচ্ছে, ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা ২. মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, ৩. মানুষ হত্যা করা ও ৪. মিথ্যা শপথ করা. (সহীহ বুখারী)

মা-বাবাকে গালি দেয়া কবীরা গুনাহ
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: কোন ব্যক্তির নিজের মা-বাবাকে গালি দেয়া অন্যতম কবীরা গুনাহ. সাহাবীগণ বললেন, কোন লোক কি নিজের মা-বাবাকে গালি দেয়? তিনি বললেন: হ্যাঁ দেয়. কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বাবাকে গালি দেয়, প্রত্যুত্তরে সেও তার বাবাকে গালি দেয়. অনুরূপভাবে সে অপর কোন ব্যক্তির মাকে গালি দেয়, এর উত্তরে সেও তার (গালি দাতার) মাকে গালি দেয়. (সহীহ বুখারী)

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন: জঘন্যতম কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কোন ব্যক্তির নিজের মা-বাবাকে লা'নত করা. বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কোন ব্যক্তি কিভাবে তার মা-বাবাকে লা'নত করতে পারে? তিনি বললেন: কোন ব্যক্তি অন্যের বাবাকে গালি দেয়, প্রত্যুত্তরে সেও তার বাবাকে গালি দেয়. অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি অন্যের মাকে গালি দেয়, এর উত্তরে সেও তার মাকে গালি দেয়. (সহীহ মুসলিম)

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, নাবী বলেছেন: যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করে, যে ব্যক্তি জমির সীমানা বদলে দেয় এবং যে ব্যক্তি নিজের মা-বাবাকে গালি দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি লা'নত (অভিসম্পাত) করেন. (সহীহ বুখারী)

যে বাবাকে অভিশাপ দেয় তার উপর আল্লাহর অভিশাপ
সাহাবী আবু তুফায়েল আমির ইবন ওয়াসিলা বলেন, আমি আলী এর নিকট ছিলাম. তখন জনৈক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল, রসূলুল্লাহ কি আপনাকে এমন কোন কথা বলেছেন, যা অন্য কাউকে বলেননি? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, রসূলুল্লাহ আমাকে এমন কোন কথা বলেননি, যা তিনি অন্যকে বলেননি. তবে তিনি আমার নিকট চারটি বিষয় বর্ণনা করেছেন. বর্ণনাকারী বলেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! সে চারটি বিষয় কী? তিনি বলেন: তিনি (রসূলুল্লাহ) বলেছেন: যে ব্যক্তি বাবাকে অভিশাপ দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন. যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন. যে ব্যক্তি দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করে এবং যে ব্যক্তি জমির সীমানা বদলে দেয়, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি অভিসম্পাত করেন. (সহীহ মুসলিম)

অবাধ্য সন্তান জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন: তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না. ১. মা-বাবাকে কষ্টদানকারী অবাধ্য সন্তান. ২. পুরুষের বেশ ধারণকারী নারী ও ৩. দাইয়্যুস. আর তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না. ১. মা-বাবার অবাধ্য সন্তান. ২. মদপানে আসক্ত ব্যক্তি ও ৩. দান করে খোঁটাদানকারী. (না'সাঈ)

মা-বাবার অধিকার আদায় করা ও না করার পরিণাম
আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণিত. তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, মা-বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে. (তিরমিযী)

আবূ উমামা থেকে বর্ণিত. জনৈক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রসূলুল্লাহ! সন্তানের উপর মা-বাবার কি অধিকার আছে? তিনি বলেন: তাঁরা উভয়ে তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম. (ইবনু মাজাহ)

মায়ের সাথে অবাধ্যতা
সাহাবী মুগীরা ইবনে শোবা রা. থেকে বর্ণিত, নাবী বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর মায়ের অবাধ্যতা, কন্যা শিশুকে জীবিত কবর দেয়া, কৃপণতা করা ও ভিক্ষা বৃত্তি হারাম করে দিয়েছেন. আর বৃথা তর্ক-বিতর্ক, অধিক জিজ্ঞাসা সম্পদ নষ্ট করাকে তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন. (সহীহ বুখারী)

মা-বাবার অবাধ্যতার অপকারিতা
• মা-বাবা আল্লাহর বড় নিয়ামত. অবাধ্য সন্তান আল্লাহর নিয়ামতের অস্বীকার করে. ফলে সে মা-বাবার অনুগ্রহকেও অস্বীকার করে.
• মা-বাবার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি. তাদের অসন্তুষ্টি আল্লাহর অসন্তুষ্টি. মা- বাবার অবাধ্য সন্তান আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে দূর হয়ে যায়.
• মা-বাবার অবাধ্যতা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে. যে ব্যক্তি মা-বাবার সাথে অসদাচরণ করে তার সন্তান, তার প্রতিবেশী ও তার সমাজের লোকেরাও তার সাথে অসদাচরণ করবে.
• মা-বাবার অবাধ্যতার কারণে সমাজ থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা দূরীভূত হয়.
• অবাধ্য সন্তান, মা-বাবার অবাধ্যতার প্রতিফল দুনিয়াতেও পাবে.
• মা-বাবার অবাধ্যতার কারণে চেহারার লাবণ্যতা ও নূর দূরীভূত হয়.
• অবাধ্য সন্তান কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমতের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে.

মা-বাবার দু'আ কবুল হয়
সাহাবী আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত. তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন, তিন ব্যক্তির দু'আ কবুল হয়. এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই. এক : মাজলুমের দু'আ, দুই: মুসাফিরের দু'আ, তিন: সন্তানের বেলায় মা-বাবার দু'আ. (তিরমিযী)

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 অনেক সন্তানেরাই জানে না মা-বাবার মৃত্যুর পর কী করণীয়

📄 অনেক সন্তানেরাই জানে না মা-বাবার মৃত্যুর পর কী করণীয়


“আবু উসাইদ বলেন, আমরা নাবী এর সামনে উপস্থিত ছিলাম. এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! মা-বাবার মৃত্যুর পরও কি এমন কোনো পদ্ধতি সম্ভব যে, আমি তাদের সাথে সুন্দর আচরণ অব্যাহত রাখতে পারি? নাবী বললেন, হ্যাঁ. চারটি পন্থায় তুমি তা করতে পার (১) মা- বাবার জন্য দু'আ এবং ইসতিগফার (২) তাদের কৃত ওয়াদাসমূহ এবং বৈধ ওসিয়ত (দান) পূরণ, (৩) বাবার বন্ধু-বান্ধব এবং মার বান্ধবীদের সম্মান ও আদর-যত্ন এবং (৪) তাঁদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ও সুন্দর আচরণ করা, যারা মা-বাবার দিক থেকে তোমাদের আত্মীয় হন.” (আল আদাবুল মাফরুজ)

১) দু'আ ও ইসতিগফার : সলাতের পর এবং অন্য সময় আল্লাহর নিকট কেঁদে কেঁদে দু'আ করা উচিত যে, হে আল্লাহ! আমার মা-বাবাকে ক্ষমা করুন. তাঁদের গুণাহসমূহকে মুছে দিন এবং তাঁদেরকে আপনি তাই দান করুন যা আপনি নেক বান্দা-বান্দীকে দিয়ে থাকেন. হে আল্লাহ! যখন আমরা সন্তানরা তাঁদের সাহায্য, স্নেহ ও লালন-পালনের মুখাপেক্ষী ছিলাম তখন তারা সবকিছু আমাদের জন্য ত্যাগ করেছিলেন. হে আল্লাহ! এখন তাঁরা তোমার নিকট সমুপস্থিত. শৈশবকালে অসহায় অবস্থায় আমরা তাঁদের মুখাপেক্ষী ছিলাম. এখন তাঁরা সেই সময়ের চেয়ে বেশী তোমার রহমাত ও সুদৃষ্টির মুখাপেক্ষী. হে আল্লাহ! তুমি তাঁদেরকে নিজের রহমাতের ছায়া দান কর এবং নিজের জান্নাতে তাঁদের আশ্রয় দাও. “রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানিস্ সগিরা”

২) মা-বাবার ওয়াদা ও ওসিয়ত পূরণ করা: মা-বাবা জীবিত অবস্থায় অনেক লোকের সাথে ওয়াদা করে থাকতে পারেন. বিভিন্ন ব্যাপারে কিছু ওয়াদা করতে পারেন. মৃত্যুর আগে ওসিয়ত (দান) করতে পারেন. মা-বাবার মৃত্যুর পর সন্তানের জন্য তাঁদের সাথে সুন্দর আচরণের একটি পন্থা অবশিষ্ট থাকে. তা হলো তাঁদের কৃত ওয়াদাসমূহ ও ওসিয়ত পূরণ করা. আর এভাবেই তাঁদের রূহকে খুশী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে. কিন্তু তাঁদের জায়িয বা বৈধ ওসিয়তই পূরণ করতে হবে, তাঁদের অবৈধ ওসিয়ত নয়.

৩) মায়ের বান্ধবী এবং বাবার বন্ধুদের সাথে আচরণ: মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সাথে আচরণের তৃতীয় পন্থা হলো, মায়ের বান্ধবী এবং বাবার বন্ধুদের সাথে সুন্দর আচরণ করা. সামাজিক জীবনে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের মতো তাঁকেও শ্রদ্ধা করতে হবে. তাঁদের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে. বিভিন্ন প্রশ্নে পরামর্শের সময় তাঁদেরকে শরীক করা এবং সবসময় শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক তাঁদের সাথে সুন্দর আচরণ করা আবশ্যক. নাবী কারীম বলেছেন: বাবার বন্ধুদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা সবচেয়ে সুন্দর আচরণ.

৪) মা-বাবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দর আচরণ: মা-বাবার মৃত্যুর পর আচরণের চতুর্থ পন্থা হলো, মা-বাবার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুন্দর আচরণ করা. মায়ের পক্ষের আত্মীয় যেমন- খালা, মামা, নানা-নানী প্রভৃতি এবং বাবার পক্ষের আত্মীয় যেমন চাচা, ফুফু, বাধা-দাদী ইত্যাদি. এ সকল আত্মীয়র প্রতি অমনোযোগী থাকা এবং বেপরোয়া ভাব প্রদর্শন প্রকৃতপক্ষে মা-বাবার প্রতি অমনোযোগী থাকার নামান্তর এবং একজন মু'মিন ও মু'মিনা মা-বাবার সাথে এ ধরনের আচরণ করতে পারে না. আল্লাহর রসূল বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাবা ও দাদার সাথে কখনও বেয়াদবসুলভ আচরণ করবেন না. মা-বাবার সাথে বেয়াদবী করা আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়ার শামিল.

ফন্ট সাইজ
15px
17px