📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 প্রথম থেকে একাদশ উপদেশাবলী

📄 প্রথম থেকে একাদশ উপদেশাবলী


আল কুরআনে সূরা লুকমানে লুকমান তার ছেলেকে যেভাবে উপদেশ দিয়েছেন, তা এই চ্যাপ্টারে আলোচনা করা হল। কারণ, লুকমান তার ছেলেকে যে উপদেশ দিয়েছেন, তা এতই সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য যে, মহান আল্লাহ তা'আলা তা কুরআনে কারীমে উল্লেখ করে কিয়ামত পর্যন্ত অনাগত উম্মতের জন্য তিলাওয়াতে উপযোগী করে দিয়েছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা আদর্শ করে রেখেছেন। লুকমান কোন নাবী বা রসূল ছিলেন না, তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। নিয়মিত জ্ঞান চর্চা করতেন এবং তার সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দিতেন তাই মহান আল্লাহ তাকে খুব ভালবাসতেন এবং তাঁর নামে কুরআনে একটি সূরা নাযিল করেছেন। লুকমান তাঁর ছেলেকে যে উপদেশগুলো দিয়েছেন তা নিম্নরূপ: মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর কুরআনে বলেন:

প্রথম উপদেশ
“হে প্রিয় বৎস আল্লাহর সাথে শিরক করো না, নিশ্চয় শিরক হল বড় যুলুম।" (সূরা লুকমান, ৩১: ১৩)

এখানে লক্ষণীয় যে, প্রথমে তিনি তার ছেলেকে শিরক হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন। একজন সন্তান তাকে অবশ্যই জীবনের শুরু থেকেই আল্লাহর তাওহীদে বিশ্বাসী হতে হবে। কারণ, তাওহীদই হল, যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিশুদ্ধতা ও নির্ভুলতার একমাত্র মাপকাঠি। তাই তিনি তার ছেলেকে প্রথমেই বলেন, আল্লাহর সাথে ইবাদতে কাউকে শরিক করা হতে বেঁচে থাক। যেমন, মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা করা অথবা পীর-আউলিয়াদের নিকট সাহায্য চাওয়া বা প্রার্থনা করা ইত্যাদি। এছাড়াও এ ধরনের আরও অনেক কাজ আছে, যেগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত। রসূল বলেন, “দু'আ হল ইবাদত”। সুতরাং আল্লাহর সৃষ্টির নিকট দু'আ করার অর্থ হল, সৃষ্টির ইবাদত করা, যা শিরক।

দ্বিতীয় উপদেশ
"আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার ব্যাপারে [সদাচরণের] নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে, তাকে গর্ভেধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার মা-বাবার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন-তো আমার কাছেই।" (সূরা লুকমান, ৩১:১৪)

তিনি তার ছেলেকে কেবলই আল্লাহর ইবাদত করা ও তার সাথে ইবাদতে কাউকে শরীক করতে নিষেধ করার সাথে সাথে মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দেন। কারণ, মা-বাবার অধিকার সন্তানের উপর অনেক বেশি। মা তাকে গর্ভধারণ, দুধ-পান ও ছোটবেলা লালন-পালন করতে গিয়ে অনেক জ্বালা-যন্ত্রণা ও কষ্ট সইতে হয়েছে। তারপর তার বাবাও লালন-পালনের ব্যয়ভার, লেখাপড়া ও ইত্যাদির দায়িত্ব নিয়ে তাকে বড় করছেন এবং মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন। তাই তারা উভয়ই সন্তানের পক্ষ হতে অভিসম্পাত ও সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে।

তৃতীয় উপদেশ
"আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না। এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর আমার অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, যা তোমরা করতে।” (সূরা লুকমান, ৩১:১৫)

আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, 'যদি তারা উভয়ে তোমাকে পরিপূর্ণরূপে তাদের দ্বীনের আনুগত্য করতে বাধ্য করে, তাহলে তুমি তাদের কথা শুনবে না এবং তাদের নির্দেশ মানবে না। তবে তারা যদি দ্বীন কবুল না করে, তারপরও তুমি তাদের সাথে কোন প্রকার অশালীন আচরণ করবে না। তাদের দ্বীন কবুল না করা তাদের সাথে দুনিয়ার জীবনে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। তুমি তাদের সাথে ভালো ব্যবহারই করবে। আর মু'মিনদের পথের অনুসারী হবে, তাতে কোন অসুবিধা নেই।'

চতুর্থ উপদেশ
“হে আমার প্রিয় বৎস! নিশ্চয় তা [পাপ-পুণ্য] যদি সরিষা দানার পরিমাণও হয়, অতঃপর তা থাকে পাথরের মধ্যে কিংবা আসমানসমূহে বা জমিনের মধ্যে, আল্লাহ তাও নিয়ে আসবেন; নিশ্চয় আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী সর্বজ্ঞ।” (সূরা লুকমান, ৩১:১৬)

আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, অন্যায় বা অপরাধ যতই ছোট হোক না কেন, এমনকি যদি তা শস্য-দানার সমপরিমাণও হয়, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা'আলা তা উপস্থিত করবেন এবং মীযানে (দাড়িপাল্লায়) ওজন দেয়া হবে। যদি তা ভালো হয়, তাহলে তাকে ভালো প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি খারাপ কাজ হয়, তাহলে তাকে খারাপ প্রতিদান দেয়া হবে।

পঞ্চম উপদেশ
“হে আমার প্রিয় বৎস সলাত কায়েম কর।" (সূরা লুকমান, ৩১:১৭)

তুমি সলাতকে তার ওয়াজিবসমূহ ও রোকনসমূহ সহ আদায় কর। সমাজে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত প্রতিষ্ঠা কর।

ষষ্ঠ উপদেশ
"তুমি ভালো কাজের আদেশ দাও এবং মন্দ কাজ হতে মানুষকে নিষেধ কর।” (সূরা লুকমান, ৩১:১৭)

বিনম্র ভাষায় তাদের দাওয়াত দাও, যাদের তুমি দাওয়াত দেবে তাদের সাথে কোন প্রকার কঠোরতা করো না।

সপ্তম উপদেশ
"যে তোমাকে কষ্ট দেয় তার উপর তুমি ধৈর্যধারণ কর।” (সূরা লুকমান, ৩১:১৭)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, যারা ভালো কাজের আদেশ দেবে এবং খারাপ ও মন্দ কাজ হতে মানুষকে নিষেধ করবে তাকে অবশ্যই কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে এবং অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে। যখন পরীক্ষার সম্মুখীন হবে তখন তোমার করণীয় হল, ধৈর্যধারণ করা ও ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

অষ্টম উপদেশ
“আর তুমি মানুষের দিক থেকে তোমার মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।” (সূরা লুকমান, ৩১ : ১৮)

আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, 'যখন তুমি কথা বল অথবা তোমার সাথে মানুষ কথা বলে, তখন তুমি মানুষকে ঘৃণা করে অথবা তাদের উপর অহংকার করে, তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে না। তাদের সাথে হাস্যোজ্জ্বল হয়ে কথা বলবে। তাদের জন্য উদার হতে হবে এবং তাদের প্রতি বিনয়ী হতে হবে।'

নবম উপদেশ
"অহংকার ও হঠকারিতা প্রদর্শন করে জমিনে হাটা চলা করবে না।" (সূরা লুকমান, ৩১:১৮)

কারণ, এ ধরনের কাজের কারণে আল্লাহ কাউকে পছন্দ করেন না। এ কারণেই মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, "নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক, অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” অর্থাৎ যারা নিজেকে বড় মনে করে এবং অন্যদের উপর বড়াই করে, মহান আল্লাহ তা'আলা তাদের পছন্দ করেন না।

দশম উপদেশ
"আর তোমার চলার ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর।" (সূরা লুকমান, ৩১:১৯)

খুব স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে হবে। খুব দ্রুত হাঁটা যাবে না আবার একেবারে মন্থর গতিতেও না। মধ্যম পন্থায় চলাচল করতে হবে অর্থাৎ নমনীয় হয়ে হাটা চলা করা অভ্যাস করতে হবে। চলাচলে যেন কোন প্রকার সীমালঙ্ঘন না হয়।

একাদশ উপদেশ
নরম সুরে কথা বলা। লুকমান হাকীম তার ছেলেকে নরম সুরে কথা বলতে আদেশ দেন। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"তোমার আওয়াজ নিচু কর।" আর কথায় কথায় কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করবে না। বিনা প্রয়োজনে তুমি তোমার আওয়াজকে উঁচু করো না। মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন, “নিশ্চয় সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল, গাধার আওয়াজ।” (সূরা লুকমান, ৩১ : ১৯)

আল্লামা মুজাহিদ বলেন, 'সবচাইতে নিকৃষ্ট আওয়াজ হল, গাধার আওয়াজ। অর্থাৎ, মানুষ যখন বিকট আওয়াজে কথা বলে, তখন তার আওয়াজ গাধার আওয়াজের সাদৃশ্য হয়। আর এ ধরনের বিকট আওয়াজ মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট একেবারেই অপছন্দনীয়। বিকট আওয়াজকে গাঁধার আওয়াজের সাথে তুলনা করা প্রমাণ করে যে, বিকট শব্দে আওয়াজ করে কথা বলা হারাম। কারণ, মহান আল্লাহ তা'আলা এর জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন।

পূর্বের আয়াতগুলো থেকে শিক্ষা
১. আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়, যেসব কাজ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ নিশ্চিত হয়, বাবা তার ছেলেকে সে বিষয়ে উপদেশ দিবে।
২. উপদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে তাওহীদের উপর অটল ও অবিচল থাকতে হবে এবং শিরক থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেবে। কারণ, শিরক হল, এমন এক যুলুম বা অন্যায়, যা মানুষের সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দেয়।
৩. প্রত্যেক ঈমানদারের উপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব হল, মা-বাবার কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়া আদায় করা। তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা, কোন প্রকার খারাপ ব্যবহার না করা এবং তাদের উভয়ের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা।
৪. আল্লাহর নাফরমানি হয় না, এমন কোন নির্দেশ যদি মা-বাবা দিয়ে থাকে, তখন সন্তানের উপর তাদের নির্দেশের আনুগত্য করা ওয়াজিব। আর যদি আল্লাহর নাফরমানি হয়, তবে তা পালন করা ওয়াজিব নয়।
৫. প্রত্যেক ঈমানদারের উপর কর্তব্য হল, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী মু'মিন-মুসলিমদের পথের অনুকরণ করা, আর অমুসলিম ও বিদ'আতীদের পথ পরিহার করা।
৬. প্রকাশ্যে ও গোপনে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করতে হবে। আর মনে রাখতে হবে কোন নেক-কাজ তা যতই ছোট হোক না কেন, তাকে তুচ্ছ মনে করা যাবে না এবং কোন খারাপ-কাজ তা যতই ছোট হোক না কেন, তাকে ছোট মনে করা যাবে না এবং তা পরিহার করতে কোন প্রকার অবহেলা করা চলবে না।
৭. সলাতের যাবতীয় আরকান ও ওয়াজিবগুলিসহ সলাত কায়েম করা প্রত্যেক মু'মিনের উপর ওয়াজিব; সলাতে কোন প্রকার অবহেলা না করে, সলাতের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়া এবং খুশুর সাথে সলাত আদায় করা ওয়াজিব।
৮. জেনেশুনে, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। না জেনে এ কাজ করলে অনেক সময় হিতে-বিপরীত হয়। আর মনে রাখতে হবে, এ দায়িত্ব পালনে যথা সম্ভব নমনীয়তা প্রদর্শন করতে হবে; কঠোরতা পরিহার করতে হবে।
৯. মনে রাখতে হবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে বারণকারীকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্যের কোন বিকল্প নেই। ধৈর্য ধারণ করা হল একটি মহৎ কাজ। আল্লাহ তা'আলা ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন।
১০. হাটা চলায় গর্ব ও অহংকার পরিহার করা। কারণ, অহংকার করা সম্পূর্ণ হারাম। যারা অহংকার ও বড়াই করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।
১১. হাটার সময় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে হাটতে হবে। খুব দ্রুত হাঁটা ঠিক নয় এবং একেবারে ধীর গতিতেও হাঁটা ঠিক নয়।
১২. প্রয়োজনের চেয়ে অধিক উচ্চ আওয়াজে কথা বলা হতে বিরত থাকতে হবে। কারণ, অধিক উচ্চ আওয়াজ বা চিৎকার করা হল গাধার স্বভাব। আর দুনিয়াতে গাধার আওয়াজ হল, সর্ব নিকৃষ্ট আওয়াজ।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 শিশুদের প্রতি নাবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর ভালোবাসা

📄 শিশুদের প্রতি নাবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর ভালোবাসা


নাবী মুহাম্মাদ-এর অন্তরে শিশুদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল। একবার নাবী মুহাম্মাদ-এর কানে হুসাইন-এর কান্নার শব্দ এলো। এতে তিনি ভীষণভাবে ব্যথিত হলেন। তিনি ফাতিমা-কে বললেন, তুমি কি জান না, তার কান্না আমাকে কষ্ট দেয়? আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ শিশু-কিশোরদের কাছ দিয়ে যাতায়াতকালে তাদের সালাম করতেন। একবার রসূলুল্লাহ ভাষণদানের নিমিত্তে মিম্বরে আরোহণ করে দেখতে পেলেন যে, হাসান ও হুসাইন দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পা পিছলে পড়ে যাচ্ছেন। তিনি ভাষণদান বন্ধ করে মিম্বর থেকে নেমে এলেন। শিশু দু'টির দিকে অগ্রসর হয়ে দুই বাহুতে উঠিয়ে নিলেন। তারপর মিম্বরে আরোহণ করে বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের ধন-সম্পদ এক পরীক্ষার বস্তু, আল্লাহর এ বাণী সত্যিই।

একদিন রসূলুল্লাহ সলাত আদায় করছিলেন। আর তখন হাসান ও হুসাইন এসে তাকে সিজদারত অবস্থায় পেয়ে একেবারে পিঠে চড়ে বসলেন। তিনি সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন। আর তারা পিঠ থেকে না নামা পর্যন্ত তাদেরও নামিয়ে দিলেন না। রসূলুল্লাহ সালাম ফিরালে সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা লক্ষ্য করলাম যে, আপনি সিজদা দীর্ঘায়িত করেছেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমার নাতিদ্বয় আমাকে ঘোড়া বানিয়েছে। কাজেই তাদের তাড়াতাড়ি নামিয়ে দেয়াটা আমার পছন্দ হয়নি।

রসূলে কারীম কখনো কখনো শিশুদের কান্না শুনতে পেলে সলাত সংক্ষেপ করে দিতেন। আনাস বলেন, রসূলুল্লাহ এর তুলনায় সন্তান-সন্ততির প্রতি অধিক স্নেহ-মমতা পোষণকারী আমি কাউকে দেখিনি। তার পুত্র ইবরাহীম মদিনার উঁচু স্থানে ধাত্রীমায়ের কাছে দুধপান করতেন। তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন এবং আমরাও তার সঙ্গে যেতাম। তিনি ওই ঘরে যেতেন অথচ সেই ঘরটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকত। কারণ ইবরাহীমের ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিলেন একজন কর্মকার। তিনি ইবরাহীমকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন, এরপর চলে আসতেন। বর্ণনাকারী বলেন, যখন ইবরাহীম ইন্তেকাল করেন তখন রসূলুল্লাহ বললেন, ইবরাহীম আমার পুত্র। সে দুধপানের বয়সে ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং জান্নাতে তাকে একজন ধাত্রী দুধপান করাবে। নাবী বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের যত্ন নেবে এবং তাদের আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেবে। নাবী আরও বলেছেন, তোমরা শিশুদের ভালোবাস এবং তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর। তাদের সঙ্গে কোনো ওয়াদা করলে তা পূর্ণ কর। কেননা তারা তোমাদেরকে তাদের রিজিক সরবরাহকারী বলে জানে।

পরিশেষে বলা যেতে পারে, নাবী -এর অকৃত্রিম ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, সবার জন্য নিবেদিত। তিনি শিশুদেরকে খুব ভালোবাসতেন, আদর করতেন, স্নেহ করতেন। কাজেই আমাদেরও শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা রাখা উচিত। ইবন উমর বলেন, রসূলে কারীম -এর নেতৃত্বাধীন কোনো যুদ্ধে এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। এতে রসূলে কারীম গভীর ভাবে মর্মাহত হন এবং নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেন। তিনি শিশুদের এতটাই ভালোবাসতেন অথচ আমাদের সমাজের শিশুরা কতই না অবহেলিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত। আমরা কি পারি না এই বঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে?

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية