📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তির সমস্যা ও সমাধান

📄 পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তির সমস্যা ও সমাধান


পর্ণগ্র্যাফিতে আসক্তির সমস্যা ও সমাধান

পর্নগ্র্যাফির বিষয়টি আল্লাহ এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে বলে শেষ করা যাবে না। ঠিক যেভাবে তিনটি আয়াত রয়েছে শেষ বিচারের দিন নিয়ে। "যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে। কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানা ভুক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। অতএব যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।"

শয়তানের প্ররোচনায় পরে বড়রাও অনেক সময় এগুলো দেখে থাকে। হয়তো মাঝেমধ্যে কারো কারো এ নিয়ে অনুশোচনা হয়, কিন্তু আবারও ফিরে যায় এসবে, বিশেষ করে যখন সে একা একা থাকে। কেউ হয়তো ভাবছে 'অন্তত আমিতো আর কারো ক্ষতি করছি না। অন্য কাউকে দেখাচ্ছি না। নিজেই দেখছি। এটুকু ঠিকই আছে।' কিন্তু আমরা কি জানি? ভিতরে ভিতরে আমাদের আত্মা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভিতরে আর আত্মার কিছু বাকি নেই। আমাদের সলাত হয়ে গেছে অন্তঃসারশূন্য। সে সময়ে আমি একটুও চোখের পানি ফেলতে পারবো না, কেননা আমার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় এতটাই কমে গেছে। কারণ হলো সেসব নোংরামি, যা আমরা দেখে আসছি এতদিন ধরে। তারই ফল। এগুলো আমাদেরকে পরিণত করছে মানুষরূপে পশু হিসেবে। যার ফলে আমি এখন আর স্বাভাবিকভাবে তাকাতেও পারি না, যখন একজন নারী আমার পাশ দিয়ে যায়-আমি যেন দেখি একটি মাংসপিন্ড হেঁটে যাচ্ছে। সারাক্ষণ আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। চোখ নামিয়ে ফেলতে আমার রীতিমত কষ্ট হয়। যখন আমি শপিং মলে কিংবা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অথবা কর্মক্ষেত্রে, নয়তো রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, আমি পারছি না নিজেকে সংযত রাখতে। এমন একটা সুযোগও আমি হাতছাড়া করি না যা দিয়ে আমার অন্তরটা কলুষিত হয়। আমি পরিপূর্ণভাবে একজন আসক্ত ব্যক্তি। তারপরও আমি আর সলাতে মন আনবো কিভাবে? কোন্ দুনিয়ায় আছি আমরা? কোন্ দুনিয়ায় বাস করছি? এই সমস্যা শুধু ভাইদের নয় এই সমস্যা রয়েছে অনেক বোনেরও। এটা একটা অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা। এটা সেই যুদ্ধ যেটা আমাদের অন্তরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এই জিনিস আমাদের ঘর পর্যন্ত প্রবেশের পথ করে নিচ্ছে, রাস্তা বানিয়ে নিচ্ছে। আমিও চাই আমার সন্তানদেরকে এসবের হাত থেকে যতদুর সম্ভব বাঁচাতে। যখন আমার সন্তান স্কুলে যায় তখন তার সহপাঠি কোন মোবাইল ডিভাইসে ওইসব নিয়ে এসে তা সবাইকে দেখায়। এটা খুবই বাস্তব একটা চিত্র। মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। এগুলো থেকে পালানোর কোন পথ নেই, এগুলো সব জায়গায় সবখানে। আর আমাদের বেলায় কী হয়? আমরা হয়তো কম্পিউটারে ইন্টারনেটে একটা ভিডিও দেখছি, হঠাৎ মনিটরের পাশ দিয়ে একটা বাজে জিনিস চলে আসে তা দেখে হয়তো কেউ ক্লিক করে বসেন, শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঐ জঘন্য কিছু একটা দেখে ফেলেন। এগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের কোন বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা নেই। ফেইসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্টারনেট এগুলো যদি আমরা সঠিক কাজে লাগাতে না পারি তাহলে এগুলো ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এটাই বাস্তব। এগুলো এখন অক্সিজেনের মত একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের তরুণদের সাথে এই বিষয়ে পরিস্কার কথাবার্তা বলতে হবে। তাদেরকে শিখাতে হবে কিভাবে এসব জিনিসকে মোকাবিলা করতে হয়। কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আমরা অনেকেই মা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী মিলে যা ইচ্ছা তাই দেখছি। এগুলোকে বন্ধ করতে হবে। লজ্জাস্থান বন্ধ করা মানেই যে, ব্যাভিচার/যিনা না করা তা কিন্তু নয়। এর মানে সেসকল জিনিস যা আমাদের ঐ প্রলোভনের দিকে ধাবিত করে, ঠেলে নিয়ে যায় সেগুলোতে।

আমরা যেন আমাদের ১১-১২ বছরের বাচ্চাকে কখনও স্মার্টফোন না দেই। যদি তারা না দেয়ার কারণে অখুশী হয় এতে চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার আর আমার সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তা হল আমাদের অন্তর, আমাদের হৃদয়। আর এই নির্লজ্জতা আমাদের অন্তরটাকে ধ্বংস করে দেয়। সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটি আমাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে তা হলো আমাদের ঈমান। আমার সলাত কী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে? নাকি আমি এভাবেই চলতে থাকব আর ভান করব? আমাকে শিখতে হবে, কীভাবে আমার প্রতিক্রিয়াটি সঠিক হবে। আর সঠিক প্রতিক্রিয়া তখনই আসবে যখন আমরা সলাত- কায়েমকারীদের অন্তর্ভুক্ত হব।

ফন্ট সাইজ
15px
17px