📄 যৌন হয়রানী থেকে সতর্কতা
যৌন হয়রানী থেকে সতর্কতা
অনেক বাচ্চাকেই Sexual abuse করা হয়ে থাকে বড়দের দ্বারা যেমন, বাবার বন্ধু, চাচা, মামা, খালু, প্রাইভেট শিক্ষক, আরবী শিক্ষক, বেবীসিটার ইত্যাদি। কিন্তু বাচ্চারা অনেক সময়ই তা মা-বাবার কাছে বলে না বা বলতে ভুলে যায়। তাই এই বিষয়ে প্রতিটি মা-বাবাকেই সতর্ক থাকা উচিত। দু'টি সত্য ঘটনা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরা যাক।
ঘটনা-১ : ঘটনার সত্য-মিথ্যা জানি না, একদিন Toronto Sun পত্রিকায় পরিচিত এক মুরুব্বীর ছবিসহ নিউজ ছাপা হয়েছে, নিউজের বিষয় বস্তু Child Abuse। মুরুব্বীর বয়স ৭০ এর কাছাকাছি এবং অবসর প্রাপ্ত। তিনি এই অবসর সময়ে বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন বাসায়-বাসায় আরবী পড়ান। যা হোক হয়তো কোন বাচ্চাকে নিয়ে দুর্ঘটনা একদিন ঘটে গেছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই, এই ধরনের ঘটনা অনেক-ই ঘটে থাকে কিন্তু আমরা তা জানি না। তাই এই বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে।
ঘটনা-২ : এই ঘটনাটি আরো হৃদয়বিদারক। বাচ্চাটির মা-বাবা দু'জনেই হয়তো চাকুরী করেন তাই বাচ্চাকে পরিচিত এক ভাবীর বাসায় নিয়মিত দিয়ে যান বেবী সিটিং এর জন্য। ভাবী কোন একদিন বাচ্চাটিকে তার হাজব্যান্ডের কাছে রেখে দোকানে গিয়েছেন কিছু আনার জন্যে। ঐদিন বাসায় আর কেউ-ই ছিল না এবং ইবলিস শয়তানের প্ররোচনায় দুর্ঘটনা তখনই ঘটে গেছে। ভাবীর হাজব্যান্ড তার অনুপস্থিতিতে বাচ্চাটিকে রেপ করেছে এবং অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়াতে অবশেষে বাচ্চাটি মারা গেছে।
📄 পর্ণোগ্রাফি থেকে দূরে রাখার বিষয়ে কতিপয় পদক্ষেপ
সব যুগেই পর্নগ্র্যাফি এক অভিশাপ ছিলো। তবে ইন্টারনেটের কারণে এটার সহজলভ্যতা অনেক বেশি হওয়ায় এই বিষয়ে আমাদের অধিক সচেতনতা দরকার। এই অভিশাপ সকলের জন্য। যারাই এটাতে আসক্ত হয়েছে তারাই মানসিক এবং শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং সমাজও কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজ আজ ধ্বংসের মুখে। আমাদের সন্তানরা তাদের ব্যক্তিগত হিফাযতে পর্নগ্র্যাফি পোষ্টার বা ম্যাগাজিন রাখতে পারে। সে ক্লাসে বসলেও তার মনের মধ্যে বারে বারে ঐ এডাল্ট চিত্র ভেসে আসবে। আবার দেখা যাচ্ছে ইন্টারনেটে ইমেইল বা অন্য কোন কাজ করতে থাকলে মনিটরের আশে পাশে দিয়ে এডাল্ট ছবি যুক্ত বিজ্ঞাপন চলে আসে যা আমাদের সন্তানদের মনের মধ্যে প্রভাব ফেলে।
এই পর্নগ্র্যাফির এডিকশন মাদক আসক্তির মতোই, কোন কোন ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশী। এখন এর প্রতিকার কী? ইন্টারনেটের প্রতিকার খুব সহজ। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডাররা সাধারণত ভাইরাস প্রটেকশনের সাথে সাথে এডাল্ট প্রোটেকশন সার্ভিসও দিয়ে থাকে। এই সার্ভিসের জন্য তাদের টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলতে হবে। তারা ভাইরাস গার্ডের সাথে সাথে পর্নগ্র্যাফি প্রটেকশনও দিয়ে দিবে তারপর থেকে কেউ চাইলেও পর্নগ্র্যাফি ব্রাউজ করতে পারবে না। কিন্তু এডাল্ট ম্যাগাজিন বা পোষ্টার বা ডিভিডি এগুলো থেকে সন্তানদেরকে দুরে রাখতে হলে মা-বাবাদেরকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। সন্তানদের সাথে যথেষ্ট সময় দিতে হবে বন্ধুর মতো।
আজকাল বাংলাদেশের প্রতিটি ছেলেমেয়ের হাতের মুঠোয় মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন। এর যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। যেমন ছেলেমেয়েরা তাদের মোবাইলের মধ্যে পর্নগ্র্যাফি কপি করে রেখে দেয় এবং অবসর সময়ে তা উপভোগ করে থাকে। এই দৃশ্য আজ বাংলাদেশের গ্রামে গঞ্জেও পৌঁছে গেছে। অনেক দোকানে এই পর্নগ্র্যাফির কপি বিক্রি করে এবং উঠতি বয়সের ছেলেরা তা নিজেদের মোবাইলে সেইভ করে নিয়ে একে অপরের সাথে শেয়ার করে এবং আনন্দ উপভোগ করে।
📄 পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তির সমস্যা ও সমাধান
পর্ণগ্র্যাফিতে আসক্তির সমস্যা ও সমাধান
পর্নগ্র্যাফির বিষয়টি আল্লাহ এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে বলে শেষ করা যাবে না। ঠিক যেভাবে তিনটি আয়াত রয়েছে শেষ বিচারের দিন নিয়ে। "যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে। কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানা ভুক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। অতএব যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।"
শয়তানের প্ররোচনায় পরে বড়রাও অনেক সময় এগুলো দেখে থাকে। হয়তো মাঝেমধ্যে কারো কারো এ নিয়ে অনুশোচনা হয়, কিন্তু আবারও ফিরে যায় এসবে, বিশেষ করে যখন সে একা একা থাকে। কেউ হয়তো ভাবছে 'অন্তত আমিতো আর কারো ক্ষতি করছি না। অন্য কাউকে দেখাচ্ছি না। নিজেই দেখছি। এটুকু ঠিকই আছে।' কিন্তু আমরা কি জানি? ভিতরে ভিতরে আমাদের আত্মা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভিতরে আর আত্মার কিছু বাকি নেই। আমাদের সলাত হয়ে গেছে অন্তঃসারশূন্য। সে সময়ে আমি একটুও চোখের পানি ফেলতে পারবো না, কেননা আমার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় এতটাই কমে গেছে। কারণ হলো সেসব নোংরামি, যা আমরা দেখে আসছি এতদিন ধরে। তারই ফল। এগুলো আমাদেরকে পরিণত করছে মানুষরূপে পশু হিসেবে। যার ফলে আমি এখন আর স্বাভাবিকভাবে তাকাতেও পারি না, যখন একজন নারী আমার পাশ দিয়ে যায়-আমি যেন দেখি একটি মাংসপিন্ড হেঁটে যাচ্ছে। সারাক্ষণ আমি হাঁ করে তাকিয়ে থাকি। চোখ নামিয়ে ফেলতে আমার রীতিমত কষ্ট হয়। যখন আমি শপিং মলে কিংবা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অথবা কর্মক্ষেত্রে, নয়তো রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, আমি পারছি না নিজেকে সংযত রাখতে। এমন একটা সুযোগও আমি হাতছাড়া করি না যা দিয়ে আমার অন্তরটা কলুষিত হয়। আমি পরিপূর্ণভাবে একজন আসক্ত ব্যক্তি। তারপরও আমি আর সলাতে মন আনবো কিভাবে? কোন্ দুনিয়ায় আছি আমরা? কোন্ দুনিয়ায় বাস করছি? এই সমস্যা শুধু ভাইদের নয় এই সমস্যা রয়েছে অনেক বোনেরও। এটা একটা অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা। এটা সেই যুদ্ধ যেটা আমাদের অন্তরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
এই জিনিস আমাদের ঘর পর্যন্ত প্রবেশের পথ করে নিচ্ছে, রাস্তা বানিয়ে নিচ্ছে। আমিও চাই আমার সন্তানদেরকে এসবের হাত থেকে যতদুর সম্ভব বাঁচাতে। যখন আমার সন্তান স্কুলে যায় তখন তার সহপাঠি কোন মোবাইল ডিভাইসে ওইসব নিয়ে এসে তা সবাইকে দেখায়। এটা খুবই বাস্তব একটা চিত্র। মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। এগুলো থেকে পালানোর কোন পথ নেই, এগুলো সব জায়গায় সবখানে। আর আমাদের বেলায় কী হয়? আমরা হয়তো কম্পিউটারে ইন্টারনেটে একটা ভিডিও দেখছি, হঠাৎ মনিটরের পাশ দিয়ে একটা বাজে জিনিস চলে আসে তা দেখে হয়তো কেউ ক্লিক করে বসেন, শেষ পর্যন্ত গিয়ে ঐ জঘন্য কিছু একটা দেখে ফেলেন। এগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের কোন বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা নেই। ফেইসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্টারনেট এগুলো যদি আমরা সঠিক কাজে লাগাতে না পারি তাহলে এগুলো ব্যবহার করা ঠিক হবে না। এটাই বাস্তব। এগুলো এখন অক্সিজেনের মত একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাদের তরুণদের সাথে এই বিষয়ে পরিস্কার কথাবার্তা বলতে হবে। তাদেরকে শিখাতে হবে কিভাবে এসব জিনিসকে মোকাবিলা করতে হয়। কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আমরা অনেকেই মা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী মিলে যা ইচ্ছা তাই দেখছি। এগুলোকে বন্ধ করতে হবে। লজ্জাস্থান বন্ধ করা মানেই যে, ব্যাভিচার/যিনা না করা তা কিন্তু নয়। এর মানে সেসকল জিনিস যা আমাদের ঐ প্রলোভনের দিকে ধাবিত করে, ঠেলে নিয়ে যায় সেগুলোতে।
আমরা যেন আমাদের ১১-১২ বছরের বাচ্চাকে কখনও স্মার্টফোন না দেই। যদি তারা না দেয়ার কারণে অখুশী হয় এতে চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনার আর আমার সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তা হল আমাদের অন্তর, আমাদের হৃদয়। আর এই নির্লজ্জতা আমাদের অন্তরটাকে ধ্বংস করে দেয়। সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটি আমাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে তা হলো আমাদের ঈমান। আমার সলাত কী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে? নাকি আমি এভাবেই চলতে থাকব আর ভান করব? আমাকে শিখতে হবে, কীভাবে আমার প্রতিক্রিয়াটি সঠিক হবে। আর সঠিক প্রতিক্রিয়া তখনই আসবে যখন আমরা সলাত- কায়েমকারীদের অন্তর্ভুক্ত হব।