📄 ইসলামের দৃষ্টিতে সেক্স
মানব জীবনের লক্ষ্যই উন্নতি ও প্রগতি। এ উদ্দেশ্য কখনও বল্লাহীনভাবে কামনা চরিতার্থের মাধ্যমে লাভ করা যায় না। স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলাম প্রবৃত্তির দাসে পরিণত হওয়া পছন্দ করে না। যদি প্রত্যেকেই তার কামনা-বাসনার দাসে পরিণত হয় তা হলে মানবজীবন ভুল পথে পরিচালিত হতে বাধ্য। যে ব্যক্তি সব সময় তার দৈহিক কামনা চরিতার্থ করতে লিপ্ত থাকে তার জীবনীশক্তি অতি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এরূপ প্রবৃত্তির অনুচরদের দ্বারা সমাজ-জীবনের কোন মহৎ কাজ সম্ভব নয়।
বল্লাহীন ভোগ-বিলাসের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি যাতে তার নিজের, অপরের, তার পরিবারের বা তার সমাজের কোন ক্ষতিসাধন বা বিপর্যয় ঘটাতে না পারে, তার জন্যই ইসলামের রীতিনীতি রচিত হয়েছে। এ সকল রীতিনীতি পালন সাপেক্ষে জীবনের সকল সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করার পূর্ণ অধিকার মুসলিমদের রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম সকলকে পূর্ণভাবে জীবনকে ভোগ করার আহ্বান জানায়। ইসলাম মানুষের বৈধ যৌনস্পৃহাকে স্বাভাবিক বলে স্বীকার করে নেয়।
আনাস থেকে বর্ণিত : “রসূল আমাদেরকে বিয়ে করতে নির্দেশ দিতেন। আর অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করা থেকে খুব কড়া ভাষায় নিষেধ করতেন।” (মুসনাদে আহমাদ) রসূল আরোও বলেছেন : “কুমারিত্ব ও অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবনযাপনের কোন প্রথা ইসলামের মধ্যে নেই।” (মুসনাদে আহমাদ)
রসূল আর এক হাদীসে উল্লেখ করেছেন : “মানুষ তার স্ত্রী-সহবাসের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কার লাভ করে।" একজন সাহাবী বিস্ময় প্রকাশ করে রসূল ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলেন, “কোন লোক স্ত্রীসহবাস করার জন্য পুরস্কার পাবে, এ কেমন কথা?” উত্তরে রসূল ﷺ বললেন, “তুমি কি বুঝতে পারছো না যে, যদি সে এরূপ না করে নিষিদ্ধভাবে এই কাজে লিপ্ত হত তাহলে সে গুনাহের কাজ করত? সুতরাং যদি সে আইনানুযায়ী স্ত্রীসহবাস করে তাহলে সে পুরস্কার পাবে।” (সহীহ মুসলিম)
এ কারণেই ইসলামের বিধান মতে যৌনপ্রবৃত্তি দমনের কোন প্রশ্নই ওঠে না। যদি যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যৌনস্পৃহার উন্মেষ হয় তাহলে তাতে দূষণীয় কিছু নেই এবং তাদের পক্ষে এরূপ স্পৃহাকে কদর্য বা অন্যায় কিছু মনে করারও কারণ নেই। ইসলাম যা চায় তা হচ্ছে এই যে, যুব-সম্প্রদায়ের উচিত তাদের স্পৃহাকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ না আসা পর্যন্ত যৌনকার্য হতে বিরত থাকা। এরূপ বিরতির অর্থ দমন নয়। যারা যৌনবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের মতামতকে গুরুত্ব দেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন যে তিনিও বলেছেন যে, যৌনকার্য হতে নিবৃত্তি ও যৌনস্পৃহা দমন এক কথা নয়। যৌন প্রবৃত্তি দমন করলে স্নায়ুর উপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং তার ফলে নানাবিধ মানসিক পীড়ার উৎপত্তি ঘটে। সাময়িকভাবে যৌনকার্য হতে বিরত থাকলে এরূপ স্নায়বিক ও মানসিক পীড়ার কোন কারণ ঘটে না।
📄 যৌনতা বিষয়ে শিশুর প্রশ্নের জবাব দেয়া
যৌনতা বিষয়ে শিশুর প্রশ্নের জবাব কেন দেব?
• যৌনতা বিষয়ে শিশুরা কৌতূহলী।
• শিশুরা সবসময় তাদের চারপাশের সবকিছু দেখে দ্বিধান্বিত হয়ে থাকে।
• সবসময় প্রশ্ন করার জন্য আহ্বান করলে, শিশুটি কোনকিছুতে দ্বিধান্বিত হলে ভুল উৎসের কাছে যাবার বদলে সে মা-বাবার কাছে আসবে।
• এটি একটি শিশুদের সাথে বাবা মায়ের সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ।
• বিশেষ করে, যদি শিশুকালে শিশুর এই ধরনের প্রশ্নের জবাব দেয়া হয় তাহলে সে যখন কিশোর-কিশোরী হবে তখনও মা-বাবার কাছেই তার গোপন ও জরুরী বিষয়ে পরামর্শ চাইবে। আমাদের শিশুদের সাথে সংস্কৃতিক, পরিবারিক মূল্যবোধকে জানানোর এটি একটি উত্তম সুযোগ।
যৌনতা বিষয়ে শিশুর প্রশ্নের জবাব কখন দেব?
• যখন তারা প্রশ্ন করে। আমরা উত্তরটি না জানলেও বলতে পারি : ‘উত্তম প্রশ্ন, পরে আমরা এ ব্যাপারে কথা বলব’। পরে জবাব দিতে হবে।
• যখন আমরা সুযোগ পাই, যেমন টিভি দেখা - গর্ভবতী মহিলাকে দেখলে, পোষাপ্রাণীর বাচ্চা হলে।
• তাদের বলার জন্য চাপ না দিয়ে-তারা যদি উত্তরটি নাও জানে তবু প্রশ্ন করা যেতে পারে ‘তুমি কি মনে কর? তুমি এ সম্পর্কে কি জান?’ এতে বুঝায় যে যখনি প্রশ্ন আসবে তখনই তাদের সাথে কথা বলতে পারা যাবে।
• সময় ও সুযোগ বুঝে (দু’জনের জন্যই স্বস্তিকর, ঘুমানোর সময় অথবা একসাথে হাঁটার সময়) জবাব দিতে হবে।
• সবচেয়ে উত্তম হয় যদি পরিবারে নিয়মিত (সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক হলে ভালো) ইসলামী আলোচনার আয়োজন করা যায়। এই নিয়মিত আয়োজনে ইসলামের নানা বিধান নিয়ে আলোচনা করা হবে। যদি এমন আয়োজন করা যায়, তাহলে একটা সময় এমনিতেই ফরয গোসল, স্বপ্ন দোষ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা আসতেই হবে এবং তখন ক্রমান্বয়ে উপযুক্ত সময়ে সেক্স এডুকেশন ইন ইসলাম নিয়েও আলোচনা করা সহজ হবে।
যৌনতা বিষয়ে শিশুর প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় আমরা কী বলব?
• উত্তরটি সঠিক, সৎ, সংক্ষিপ্ত এবং সরলভাবে দিতে হবে।
• বয়স অনুযায়ী তারা যাতে বুঝতে পারে সে অনুযায়ী শব্দ এবং ধারণার ব্যবহার করে উত্তর দিতে হবে।
• সাংস্কৃতিক, পরিবারিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ যা আমার জন্য মূল্যবান সেগুলি শিক্ষা দিতে হবে।
• তার বয়সে যেটি গ্রহণযোগ্য এবং উপযুক্ত সেগুলি শিক্ষা দিতে হবে।
• শিশুদের জানাতে হবে যে তারা আমার কাছে প্রশ্ন নিয়ে আসলে আমি খুশি হই, বিরক্ত হই না।
• বক্তৃতামূলক এবং রাগান্বিত কথাবার্তা এড়িয়ে চলতে হবে।
• শালীনতা শিক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
যৌনতা বিষয়ে শিশুর প্রশ্নের জবাব কিভাবে দিতে হবে?
• মা-বাবা শিশুর যৌনতা নিয়ে আলোচনা চর্চার জন্য এই চারটি পয়েন্ট মনে রাখা প্রয়োজন: ক) তথ্য; খ) মূল্যবোধ; গ) দায়িত্ব; ঘ) আত্মশক্তি।
• যখন আমি অস্বস্তি বা বিব্রত বোধ করি তা চিহ্নিত করতে হবে।
• কিভাবে প্রশ্নটির জবাব দিতে হবে তা ভাবার জন্য সময় নিতে হবে।
• যখন আমি কোন প্রশ্নের উত্তর না জানি, তা উল্লেখ করতে হবে।
• প্রশ্নের সঠিক উত্তর বের করে দু'জনে একসাথে তা পড়া যেতে পারে।
• শিশুদের ইতিবাচক ভঙ্গীতে প্রশ্নের জবাব দেয়া উচিত।
📄 শিশুর বিকাশের জন্য যেভাবে মা-বাবা সাহায্য করতে পারে
যৌনসুস্থতাসহ শিশুর বিকাশের জন্য যেভাবে মা-বাবা সাহায্য করতে পারে
১. ছেলেমেয়েদের জন্য যত্নশীল স্পর্শ এবং আন্তরিকতা তাদের নিজেদের এবং অন্যান্যদের সম্পর্কে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরী করবে।
২. আমাদের মেয়ে অথবা ছেলে শিশুদের জন্য সমান সুযোগ দেয়া।
৩. শিশুর সাথে এমন ভাষায় এবং এমনভাবে কথা বলতে হবে যা উভয় লিংগকে বুঝায়।
৪. ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে হবে যে তার শরীরের গোপনাংগসমূহ হল তার শরীরের ব্যক্তিগত অংশ।
৫. ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিতে হবে যে তার শরীর একটি নিজস্ব বিষয় এবং ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে যে কে তার শরীর স্পর্শ করবে বা স্পর্শ করতে পারবে না।
৬. প্রশ্ন করার জন্য আমাদের শিশুদের স্বাগত জানিয়ে বলতে হবে যে, 'তুমি প্রশ্ন করেছ বলে আমি খুশি হয়েছি'। যদি উত্তরটি আমাদের জানা না থাকে, ছেলেমেয়েদের নিয়ে একসাথে আমরা উত্তরটি খুঁজতে পারি।
৭. পরিবারের সকলকে (শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক) তাদের অনুভূতি জানানোর জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে।
৮. বাচ্চাদের বুঝতে সাহায্য করতে হবে যে কিভাবে তাদের ব্যবহার অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে।
৯. বাচ্চাদের তার বয়স এবং বিকাশ অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করতে ও উপযুক্ত আচরণ সম্পর্কে শিখতে সাহায্য করতে হবে।
১০. কোনটি উপযুক্ত আচরণ এবং কোনটি উপযুক্ত আচরণ নয় তা বাচ্চাদের সরাসরি ও স্পষ্ট করে বলা যাতে তারা অপরাধবোধে না ভোগে বা লজ্জা না পায়।
১১. আমাদের শিশুদের জন্য ইতিবাচক আদর্শ ভূমিকা পালনকারী হতে হবে।
বাবা মায়ের জন্য আরো কিছু টিপস
১. যখনি আমার চোখের বাইরে আমার শিশুটি খেলতে শিখে তখন থেকেই তার প্রকৃত ভালমন্দ শুরু হয়।
২. বাচ্চাকে শুধু এই বলা ঠিক না যে তার শুধু “না” বলার অধিকার আছে। বাচ্চাদের অধিকারকেও শ্রদ্ধা করতে হবে। বাচ্চাকে জোড় করে চুমু, সুড়সুড়ি দেয়া, কোন অপছন্দনীয় ভাষা বা প্রাপ্তবয়স্কের সাথে সময় কাটাতে দেয়া যাবে না।
৩. বাচ্চার কারণ বিহীন প্রতিক্রিয়া বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। যেমন - "আমি আমার প্রাইভেট শিক্ষককে পছন্দ করি না", হয়তো কথাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে। সেটি গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে।
৪. জরুরী পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর জন্য বাচ্চার সাথে "কী হবে” খেলা যেতে পারে। "যদি তুমি একা থাক তাহলে কী হবে?" "যদি তুমি তোমার জুতাটি স্কুলে হারিয়ে ফেল এবং বাইরে বৃষ্টি পরতে থাকে, কী হবে?” কেউ যদি তার গোপনাংগ স্পর্শ করতে বলে তা হলে কী হবে। ইত্যাদি।
৫. বাচ্চাকে বলতে হবে যে, কোন প্রাপ্তবয়স্ক কেউ শিশুকে কোন বিষয় গোপন রাখতে বললে তা যেন সে না করে তার বাবা-মাকে বলে।
৬. স্বস্তিকরভাবে যৌন নির্যাতন কথাটি বর্ণনা করতে হবে। যেমন- "তোমার ব্যক্তিগত স্থান স্পর্শ করলে” অন্যান্য উদাহরণ ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন - "তোমাকে চুম্বন করলে বা জড়িয়ে ধরলে” এবং “তোমার কাপড় খুলে ফেলতে বললে”। ইত্যাদি।
৭. বাচ্চা নির্যাতনের কথা বললে, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে ধীরে বিস্তারিত জানার জন্য চেষ্টা করতে হবে। বলা যেতে পারে "আমি খুশি হয়েছি যে তুমি সেটা আমাকে জানিয়েছো" এবং "এতে তোমার কোন দোষ নেই।"
📄 যৌন হয়রানী থেকে সতর্কতা
যৌন হয়রানী থেকে সতর্কতা
অনেক বাচ্চাকেই Sexual abuse করা হয়ে থাকে বড়দের দ্বারা যেমন, বাবার বন্ধু, চাচা, মামা, খালু, প্রাইভেট শিক্ষক, আরবী শিক্ষক, বেবীসিটার ইত্যাদি। কিন্তু বাচ্চারা অনেক সময়ই তা মা-বাবার কাছে বলে না বা বলতে ভুলে যায়। তাই এই বিষয়ে প্রতিটি মা-বাবাকেই সতর্ক থাকা উচিত। দু'টি সত্য ঘটনা শিক্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরা যাক।
ঘটনা-১ : ঘটনার সত্য-মিথ্যা জানি না, একদিন Toronto Sun পত্রিকায় পরিচিত এক মুরুব্বীর ছবিসহ নিউজ ছাপা হয়েছে, নিউজের বিষয় বস্তু Child Abuse। মুরুব্বীর বয়স ৭০ এর কাছাকাছি এবং অবসর প্রাপ্ত। তিনি এই অবসর সময়ে বাচ্চাদেরকে বিভিন্ন বাসায়-বাসায় আরবী পড়ান। যা হোক হয়তো কোন বাচ্চাকে নিয়ে দুর্ঘটনা একদিন ঘটে গেছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই, এই ধরনের ঘটনা অনেক-ই ঘটে থাকে কিন্তু আমরা তা জানি না। তাই এই বিষয়ে বাবা-মাকে সচেতন থাকতে হবে।
ঘটনা-২ : এই ঘটনাটি আরো হৃদয়বিদারক। বাচ্চাটির মা-বাবা দু'জনেই হয়তো চাকুরী করেন তাই বাচ্চাকে পরিচিত এক ভাবীর বাসায় নিয়মিত দিয়ে যান বেবী সিটিং এর জন্য। ভাবী কোন একদিন বাচ্চাটিকে তার হাজব্যান্ডের কাছে রেখে দোকানে গিয়েছেন কিছু আনার জন্যে। ঐদিন বাসায় আর কেউ-ই ছিল না এবং ইবলিস শয়তানের প্ররোচনায় দুর্ঘটনা তখনই ঘটে গেছে। ভাবীর হাজব্যান্ড তার অনুপস্থিতিতে বাচ্চাটিকে রেপ করেছে এবং অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়াতে অবশেষে বাচ্চাটি মারা গেছে।