📄 ফেইসবুক সম্পর্কে সাবধানতা
আমাদের সন্তানেরা দিন-দিন ফেইসবুকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে এর নেগেটিভ দিকগুলো কী কী? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে এই আসক্তি এতো প্রকোট আকার ধারণ করেছে যে তা কন্ট্রলের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির উপর একটি আইন রয়েছে এবং এই আইনের আওতায় অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারী এরেষ্টও হচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে কাউকে হুমকী দিয়েছে বা ভুল তথ্য প্রচার করে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেক ছেলেমেয়েরাই নিজেরা নিজেদের নানা রকম বিপদ ডেকে আনছে।
আরো একটি জঘন্যতম কাজ হচ্ছে হাইস্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা তাদের নানা ভঙ্গির ছবি ফেইসবুকে আপলোড করে রাখছে এবং দুনিয়ার নারী-পুরুষ তা দেখছে এবং উপভোগ করছে। কোন একটি পারিবারিক প্রোগাম হলেই তার ছবিগুলো ছেলেমেয়েরা ফেইসবুকে আপলোড করে দেয় এবং পারিবারিক ছবিগুলোর মাঝে মেয়েদের ছবিগুলোও থাকে এবং পরপুরুষরা তা উপভোগ করে (নাউযুবিল্লাহ)। মনে রাখতে হবে এই কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।
📄 আমার সন্তান কি সাইবার বুলিং-এর শিকার?
সাইবার বুলিং (Cyber bullying) হচ্ছে অনলাইনে অর্থাৎ ইন্টারনেটে একজন (বা বহুজন) যখন আরেকজনকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে সেটা। এর বেশীর ভাগই হয়ে থাকে কিশোর/কিশোরী যারা স্কুল-কলেজে যায় তাদের ক্ষেত্রে। অনেক বাবা/মাই জানেন যে স্কুলে গেলে কোনো কোনো ছেলেমেয়ে স্কুলের অন্যদের হাসি-ঠাট্টা বা তামাশার শিকার হয়। কিছু কিছু সময় এই ঠাট্টাতামাশা মারামারিতেও রূপান্তরিত হয়। এ বিষয়গুলো যে কোনো বাচ্চার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এবং তাদের মানসিকভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি বাধার সৃষ্টি করে। অনেক স্কুলে এই ব্যাপারগুলো হরহামেশাই ঘটে থাকে। এগুলো ছেলেমেয়েদের স্কুল জীবনের একটা অংশ হিসেবেই অনেক মা/বাবা ধরে নেন। স্কুলে কেউ তাদের বাচ্চাকে নিয়ে হাসাহাসি করলে যদি সেই বাচ্চা তার মা/বাবাকে বলে তাহলে তারা বুঝতে পারে। অথবা স্কুলে অন্য কোনো বাচ্চার সাথে মারামারি হলে তার কোনো চিহ্ন দেখে মা-বাবা সেটা বুঝতে পারেন।
কিন্তু সাইবার বুলিং হয় ইন্টারনেট জগতে। বর্তমান যুগে অতি ছোটকাল থেকেই বাচ্চারা ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে যেমন তারা পৃথিবীর অনেক কিছু সম্পর্কে জানছে, তেমনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের বন্ধু/বান্ধবের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। অনলাইন জগৎ এই অপরিণত বয়সের ছেলেমেয়েরা অনেকের সাথে বন্ধুসুলভ মনোভাব নেয়। একটি সময়ে এই অপরিণত বয়সের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইমেইলে, এসএমএসএ অথবা তাদের ফেইসবুক পেজে ঘৃণামূলক বা অবজ্ঞামূলক মেসেজ পাবে যা তাদের মনে প্রচণ্ড প্রভাব ফেলতে পারে। হেয় প্রতিপন্ন করার স্বার্থে পাঠানো এই মেসেজগুলো অনেক কিশোর/ কিশোরী তাদের বাবা মার সাথে আলাপ করতে চায় না।
২০১৩ সালে ক্যানাডার বৃটিশ কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছরের একজন কিশোরী আত্মহত্যা করে। সে ছিল স্কুলে এবং অনলাইনে সাইবার বুলিং এর শিকার। কিশোরীটির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে তার অভিজ্ঞতার কথাগুলো প্রকাশ করে নিজের জীবন নেবার আগে। দুই বছর আগে আমেরিকার নিউজার্সিতে ১৮ বছরের একজন স্কুলছাত্র ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে যখন সে জানতে পারে অন্য একজন ছাত্র তার অগোচরে কম্পিউটারের ক্যামেরা দিয়ে তার ছবি ধারণ করেছে এগুলো শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর একাংশ মাত্র। আমাদের দক্ষিণ এশীয় সমাজ ব্যবস্থার আলোকে অনেক ছেলেমেয়েরাই হয়তো তাদের মা-বাবার সাথে এদেশীয় ছেলেমেয়েদের তুলনায় অনেক কাছাকাছি। তবুও এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।
একজন মা-বাবা কিভাবে বুঝবেন যে তার সন্তান এই সাইবার বুলিং এর শিকার? যখন একজন মা-বাবা খেয়াল করবেন যে তার সন্তান, যে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারে বসে থাকত, সে কম্পিউটারে আর বসতে চাইছে না; যে সেলফোনে বা মোবাইলে কথা বলত অবিরল সে আর ফোন ধরছে না, ইত্যাদি। অনেক সময় সন্তানেরা তাদের সমস্যাগুলো, বিশেষ করে যেটা সাইবার বুলিং এর মতো মানসিক একটা ব্যাপার। মা-বাবার সাথে ভাগাভাগী করতে চায় না। অতএব সন্তানের যে কোন ধরনের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে মা-বাবাকে তা খেয়াল করতে হবে। সন্তানের সাথে বসে এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। কথা বলার সময়, সন্তানের সমস্ত কথাগুলো শোনার জন্য দরকার হলে নিজেকে বোকা বোকা ভাব নিতে হবে। প্রশ্ন করে করে সব কিছু জানতে হবে। যদি সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনগুলোর কারণ সাইবার বুলিং হয় তাহলে সে ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে কিছু করাটা ঠিক হবে না। যদি সাইবার বুলিং সন্তানের স্কুলের কারও কাছ থেকে হয়ে থাকে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে প্রথম পদক্ষেপে। সন্তানকে মানসিকভাবে সার্পোট দিতে হবে এ সময়। সন্তানেরা যাতে সাইবার বুলিং এর শিকার না হয় সে জন্য সকল মা-বাবা তাদের সন্তানদের প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহারের ভালো এবং খারাপ দু'টি দিক নিয়েই উপদেশ দিতে পারেন এবং অনলাইনে বন্ধু বাছাই করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেঁধে দিতে পারেন। অপরিচিত কারোর সাথে যাতে আমার সন্তান যোগাযোগ না রাখে সে ব্যাপারে তাদেরকে বুঝাতে হবে। সন্তানদের সাথে খোলাখুলিভাবে আলোচনার পাশাপাশি সামাজিকভাবে আমাদেরও উচিৎ একে অপরকে অবগত করা এ ব্যাপারে।
📄 ইসলামিক ওয়েবসাইট ভিজিট করার বিষয়ে সতর্কতা
মা-বাবাদের বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় যে এখন ইন্টারনেটের যুগ, আমাদের সন্তানেরা সাধারণত ইন্টারনেট থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে ইনফরমেশন নিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে যে আমাদের শত্রুরা ইসলামের নামে অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরী করে রেখেছে আমাদের নতুন জেনারেশনকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তাই অবশ্যই এ সকল ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে আমাদের সন্তানদেরকে দূরে রাখতে হবে। এবং এর পাশাপাশি authentic ওয়েবসাইট থেকে ইসলামী তথ্য সংগ্রহ করার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের সন্তানদের জন্য যে বইটি আমরা প্রকাশ করেছি (এই সিরিজের ৮ নং বই) সেখানে বেশ কিছু authentic ওয়েবসাইট এর ঠিকানা দেয়া হয়েছে যা থেকে আমরা বিষয়ভিত্তিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারি।
এছাড়া আরো সতর্ক বিষয় হচ্ছে যে, আহমেদিয়া কাদিয়ানী, ইসমাইলিয়া আগা খান, শিয়া সম্প্রদায়, সুফী সম্প্রদায়েরও অনেক ওয়েব সাইট রয়েছে। সেখানে তারা তাদের ফিলোসফি তুলে ধরেছে। এই ওয়েবসাইটগুলো দেখে মনে হবে ইসলামের কিন্তু যেহেতু তাদের সাথে মূল ইসলামের আকীদাগত পার্থক্য রয়েছে তাই এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
📄 আমার সন্তান কি কার্টুন পছন্দ করে?
এ যুগের বাচ্চারা জন্মের পর যখন থেকে একটু-একটু বুঝতে শিখে তখন থেকেই টিভিতে নানারকম কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করে। দিন-দিন এমন অবস্থা হয় যে তাদেরকে টিভির সামনে থেকে সরানোই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। যাহোক, কার্টুন দেখা কোন অন্যায় না। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে তারা যে কার্টুনগুলো দেখছে তার মধ্যে কী আছে? এই সকল কার্টুন থেকে তারা কী শিক্ষা পাচ্ছে? আমরা মা-বাবারা কি কখনো এই বিষয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেছি? বিষয়টা বুঝার জন্য আমাদের সন্তানদের সাথে সাথে আমরাও কি কখনো এই সকল কার্টুন মনোযোগ দিয়ে দেখেছি? বুঝার সুবিধার্থে নিম্নে কিছু ফেমাস কার্টুনের দৃশ্যের উদাহরণ তুলে ধরা হলোঃ
"Jasmine was in a forbidden relationship with Aladin, Snow White lived alone with seven men, Pinocchio was a liar, Robin Hood was a thief, Tarzan walked without clothes on, a stranger kissed sleeping beauty and she married him, Cinderella lied and sneaked out at night to attend a party. Almost 70 of the Tom and Jerry cartoon shows that Tom is extensively addicted to the opposite sex. And he reacts strangely when he sees anyone of the opposite sex. Guardians are not weary of what it represents but the kids are watching this very easily with family!"
আমি কি জানি পৃথিবী কোন দিকে যাচ্ছে? ইবলিস শয়তান সূরা আ'রাফের ১৭ নং আয়াতে open declaration দিয়ে বলেছে “আমি মানব জাতির ডান দিক থেকে আসবো, বাম দিক থেকে আসবো, সামনের দিক থেকে আসবো, পিছন দিক থেকে আসবো”। তাই ইবলিস শয়তান কিন্তু বসে নেই, সে তার declaration অনুযায়ী দিনরাত তার এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সে আমাদের চেয়ে অনেক বেশী একটিভ। আমরা জানি মক্কায় আবু জাহিল এবং তার গ্রুপ যখন রসূল ﷺ -কে হত্যার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই মিটিং-এর সভাপতি ছিল স্বয়ং ইবলিস (শয়তান)।
আমাদের দুর্বল ঈমানের কারণে আজকে এই পৃথিবীকে লীড দিচ্ছে ইবলিস শয়তান। এই শয়তানের এজেন্ডাগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে মানুষকে Free thinker করে তোলা, অর্থাৎ সে কোন ধর্মেই বিশ্বাস করবে না। সে না হবে খ্রীষ্টান, না হবে ঈহুদী বা না হবে মুসলিম। কিন্তু তার অবচেতন মন তো আর শূন্য থাকবে না আর সেই শূন্য জায়গাটা দখল করে নিবে ইবলিশ (শয়তান), তখন তার প্রভু হবে শয়তান।
এখন আমরা আবার বাচ্চাদের কার্টুনে ফিরে যাই। এখনকার কার্টুনগুলো খুবই উন্নতমানের, সব দিক থেকে হাইকোয়ালিটি সম্পন্ন। আমি কি জানি এই উন্নত কার্টুনগুলোর writer, analyst, designer, programmer কারা? তাদের background বা qualifications কী? এরা একেকজন PhD holder, Doctorate | Medical Science অনুযায়ী বাচ্চাদের ব্রেইন থাকে active, এরা এই বয়সে যা দেখে বা শুনে সেভাবেই তাদের ব্রেইন ডেভেলপ হতে থাকে। আর এই সকল কার্টুনের মাধ্যমে তাদের ব্রেইনে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে এক ধরনের virtual poison যার বিষক্রিয়ায় তারা আক্রান্ত হয়ে দিন-দিন বেড়ে উঠছে এবং Free thinking-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আরো গভীরে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদেরকে কিছু পড়াশোনা করতে হবে। এই জন্য Youtube-এ দেখতে পারি : “The Arrivals”-এর সিরিজগুলো।
আমি কি এখনো সাবধান হবো না? ইউরোপ-আমেরিকা-ক্যানাডা এখন বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের উপযোগী ইসলামিক কার্টুন এবং মুভি তৈরী করে যা অনায়াসেই আমি সংগ্রহ করতে পারি এবং সন্তানদেরকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। নিম্নে একটা লিষ্ট দেয়া হলো:
• Prophet Muhammed (PBUH) - Cartoon
• Kindness in Islam - Sound Vision
• Finding Courage - Sound Vision
• Happy to be a Muslim - Sound Vision
• Zakat Helps Everyone - Sound Vision
• Ramadan Mubarak - Sound Vision
• Home Sweet Home - Sound Vision
• One Big Family - Sound Vision
• Adam’s World - Sound Vision
• Yaa Rabb - Music Video
• Songs of Asmaa Allah Al Husna - Music Video
• Lion of Ain - Jaloot - Cartoon
• Alif is for Asad - Alphabet Learning Video with song
• The Story of Prophet Musa - Cartoon
• Animals Allah Created Learning Video
• The Wealth of Salah - Cartoon
• Salam’s Journey - Cartoon
• Habil Kabil - Cartoon
• Prophet Stories