📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা

📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা


আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ পেশা (প্রফেশন) কী হবে তা ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার আগে থেকেই চিন্তা করতে হবে। পেশা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি পরিষ্কার নীতিমালা অবলম্বন করা উচিত আর তা হচ্ছে আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। কারণ হালাল ইনকাম ফরয আর ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে হালাল ইনকাম। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকওয়ার পরীক্ষা।

ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে কিভাবে পেশা নির্ধারণ করবো? সহজ formula হচ্ছে, যে সকল পেশা সরাসরি হারামের সাথে যুক্ত তা জায়িয নয়। যেমন কোন কোম্পানী হারাম পণ্য উৎপাদন করে বা বিক্রি করে বা ডেলিভারি করে বা সূদের কারবার করে ইত্যাদি। এছাড়াও যে সকল পেশায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় বা বেপর্দা হতে হয় তাও হালাল নয়। যেমন একটি উদাহরণ দেয়া যাক: আমরা মনে করতে পারি যে ব্যাংকে চাকুরী করাতো ভাল কিন্তু এখানে খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে যে সূদী ব্যাংকের মূল বিজনেজ হচ্ছে সূদ, সূদ হচ্ছে তাদের প্রডাকসনস বা উৎপাদন, তাই যে কোম্পানীর উৎপাদন হারাম সেখানে চাকুরী করাও হারাম। তবে এই বিষয়ে কারো সাথে যেন তর্কে না যাই বরং তর্ক এড়িয়ে তাকওয়ার উপর জ্ঞান অর্জন করলে পরিষ্কার উত্তর পওয়া যাবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ফেইসবুক সম্পর্কে সাবধানতা

📄 ফেইসবুক সম্পর্কে সাবধানতা


আমাদের সন্তানেরা দিন-দিন ফেইসবুকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে এর নেগেটিভ দিকগুলো কী কী? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে এই আসক্তি এতো প্রকোট আকার ধারণ করেছে যে তা কন্ট্রলের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির উপর একটি আইন রয়েছে এবং এই আইনের আওতায় অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারী এরেষ্টও হচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে কাউকে হুমকী দিয়েছে বা ভুল তথ্য প্রচার করে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেক ছেলেমেয়েরাই নিজেরা নিজেদের নানা রকম বিপদ ডেকে আনছে।

আরো একটি জঘন্যতম কাজ হচ্ছে হাইস্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা তাদের নানা ভঙ্গির ছবি ফেইসবুকে আপলোড করে রাখছে এবং দুনিয়ার নারী-পুরুষ তা দেখছে এবং উপভোগ করছে। কোন একটি পারিবারিক প্রোগাম হলেই তার ছবিগুলো ছেলেমেয়েরা ফেইসবুকে আপলোড করে দেয় এবং পারিবারিক ছবিগুলোর মাঝে মেয়েদের ছবিগুলোও থাকে এবং পরপুরুষরা তা উপভোগ করে (নাউযুবিল্লাহ)। মনে রাখতে হবে এই কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তান কি সাইবার বুলিং-এর শিকার?

📄 আমার সন্তান কি সাইবার বুলিং-এর শিকার?


সাইবার বুলিং (Cyber bullying) হচ্ছে অনলাইনে অর্থাৎ ইন্টারনেটে একজন (বা বহুজন) যখন আরেকজনকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে সেটা। এর বেশীর ভাগই হয়ে থাকে কিশোর/কিশোরী যারা স্কুল-কলেজে যায় তাদের ক্ষেত্রে। অনেক বাবা/মাই জানেন যে স্কুলে গেলে কোনো কোনো ছেলেমেয়ে স্কুলের অন্যদের হাসি-ঠাট্টা বা তামাশার শিকার হয়। কিছু কিছু সময় এই ঠাট্টাতামাশা মারামারিতেও রূপান্তরিত হয়। এ বিষয়গুলো যে কোনো বাচ্চার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এবং তাদের মানসিকভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি বাধার সৃষ্টি করে। অনেক স্কুলে এই ব্যাপারগুলো হরহামেশাই ঘটে থাকে। এগুলো ছেলেমেয়েদের স্কুল জীবনের একটা অংশ হিসেবেই অনেক মা/বাবা ধরে নেন। স্কুলে কেউ তাদের বাচ্চাকে নিয়ে হাসাহাসি করলে যদি সেই বাচ্চা তার মা/বাবাকে বলে তাহলে তারা বুঝতে পারে। অথবা স্কুলে অন্য কোনো বাচ্চার সাথে মারামারি হলে তার কোনো চিহ্ন দেখে মা-বাবা সেটা বুঝতে পারেন।

কিন্তু সাইবার বুলিং হয় ইন্টারনেট জগতে। বর্তমান যুগে অতি ছোটকাল থেকেই বাচ্চারা ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে যেমন তারা পৃথিবীর অনেক কিছু সম্পর্কে জানছে, তেমনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের বন্ধু/বান্ধবের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। অনলাইন জগৎ এই অপরিণত বয়সের ছেলেমেয়েরা অনেকের সাথে বন্ধুসুলভ মনোভাব নেয়। একটি সময়ে এই অপরিণত বয়সের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইমেইলে, এসএমএসএ অথবা তাদের ফেইসবুক পেজে ঘৃণামূলক বা অবজ্ঞামূলক মেসেজ পাবে যা তাদের মনে প্রচণ্ড প্রভাব ফেলতে পারে। হেয় প্রতিপন্ন করার স্বার্থে পাঠানো এই মেসেজগুলো অনেক কিশোর/ কিশোরী তাদের বাবা মার সাথে আলাপ করতে চায় না।

২০১৩ সালে ক্যানাডার বৃটিশ কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছরের একজন কিশোরী আত্মহত্যা করে। সে ছিল স্কুলে এবং অনলাইনে সাইবার বুলিং এর শিকার। কিশোরীটির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে তার অভিজ্ঞতার কথাগুলো প্রকাশ করে নিজের জীবন নেবার আগে। দুই বছর আগে আমেরিকার নিউজার্সিতে ১৮ বছরের একজন স্কুলছাত্র ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে যখন সে জানতে পারে অন্য একজন ছাত্র তার অগোচরে কম্পিউটারের ক্যামেরা দিয়ে তার ছবি ধারণ করেছে এগুলো শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর একাংশ মাত্র। আমাদের দক্ষিণ এশীয় সমাজ ব্যবস্থার আলোকে অনেক ছেলেমেয়েরাই হয়তো তাদের মা-বাবার সাথে এদেশীয় ছেলেমেয়েদের তুলনায় অনেক কাছাকাছি। তবুও এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।

একজন মা-বাবা কিভাবে বুঝবেন যে তার সন্তান এই সাইবার বুলিং এর শিকার? যখন একজন মা-বাবা খেয়াল করবেন যে তার সন্তান, যে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারে বসে থাকত, সে কম্পিউটারে আর বসতে চাইছে না; যে সেলফোনে বা মোবাইলে কথা বলত অবিরল সে আর ফোন ধরছে না, ইত্যাদি। অনেক সময় সন্তানেরা তাদের সমস্যাগুলো, বিশেষ করে যেটা সাইবার বুলিং এর মতো মানসিক একটা ব্যাপার। মা-বাবার সাথে ভাগাভাগী করতে চায় না। অতএব সন্তানের যে কোন ধরনের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে মা-বাবাকে তা খেয়াল করতে হবে। সন্তানের সাথে বসে এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। কথা বলার সময়, সন্তানের সমস্ত কথাগুলো শোনার জন্য দরকার হলে নিজেকে বোকা বোকা ভাব নিতে হবে। প্রশ্ন করে করে সব কিছু জানতে হবে। যদি সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনগুলোর কারণ সাইবার বুলিং হয় তাহলে সে ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে কিছু করাটা ঠিক হবে না। যদি সাইবার বুলিং সন্তানের স্কুলের কারও কাছ থেকে হয়ে থাকে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে প্রথম পদক্ষেপে। সন্তানকে মানসিকভাবে সার্পোট দিতে হবে এ সময়। সন্তানেরা যাতে সাইবার বুলিং এর শিকার না হয় সে জন্য সকল মা-বাবা তাদের সন্তানদের প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহারের ভালো এবং খারাপ দু'টি দিক নিয়েই উপদেশ দিতে পারেন এবং অনলাইনে বন্ধু বাছাই করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেঁধে দিতে পারেন। অপরিচিত কারোর সাথে যাতে আমার সন্তান যোগাযোগ না রাখে সে ব্যাপারে তাদেরকে বুঝাতে হবে। সন্তানদের সাথে খোলাখুলিভাবে আলোচনার পাশাপাশি সামাজিকভাবে আমাদেরও উচিৎ একে অপরকে অবগত করা এ ব্যাপারে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ইসলামিক ওয়েবসাইট ভিজিট করার বিষয়ে সতর্কতা

📄 ইসলামিক ওয়েবসাইট ভিজিট করার বিষয়ে সতর্কতা


মা-বাবাদের বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় যে এখন ইন্টারনেটের যুগ, আমাদের সন্তানেরা সাধারণত ইন্টারনেট থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে ইনফরমেশন নিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে যে আমাদের শত্রুরা ইসলামের নামে অসংখ্য ওয়েবসাইট তৈরী করে রেখেছে আমাদের নতুন জেনারেশনকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তাই অবশ্যই এ সকল ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে আমাদের সন্তানদেরকে দূরে রাখতে হবে। এবং এর পাশাপাশি authentic ওয়েবসাইট থেকে ইসলামী তথ্য সংগ্রহ করার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের সন্তানদের জন্য যে বইটি আমরা প্রকাশ করেছি (এই সিরিজের ৮ নং বই) সেখানে বেশ কিছু authentic ওয়েবসাইট এর ঠিকানা দেয়া হয়েছে যা থেকে আমরা বিষয়ভিত্তিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে পারি।

এছাড়া আরো সতর্ক বিষয় হচ্ছে যে, আহমেদিয়া কাদিয়ানী, ইসমাইলিয়া আগা খান, শিয়া সম্প্রদায়, সুফী সম্প্রদায়েরও অনেক ওয়েব সাইট রয়েছে। সেখানে তারা তাদের ফিলোসফি তুলে ধরেছে। এই ওয়েবসাইটগুলো দেখে মনে হবে ইসলামের কিন্তু যেহেতু তাদের সাথে মূল ইসলামের আকীদাগত পার্থক্য রয়েছে তাই এগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px