📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ছেলে এবং মেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে?

📄 ছেলে এবং মেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে?


আমেরিকার টিভি শোতে নুমান আলী খানের একটি সাক্ষাতকার

ছেলেমেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে? সময়ের স্রোতে এ আজ জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুত্বে ক্ষতি নেই, বন্ধুত্বে অশ্লীলতা নেই, বন্ধুত্বে হার নেই এমন কি বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্ভব এ ধরনের অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি। তবে বাস্তবতা কি? ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্বটা ক্ষতিকর না উপকারী? এসব বিষয় নিয়ে 'দ্যা দিন শোতে' সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আমেরিকার বিখ্যাত স্কলার নুমান আলী খান।

দ্যা দিন শো হোস্ট: আমাদের বলুন, নারী এবং পুরুষ, ছেলে এবং মেয়ে কি বন্ধু হতে পারে? একটা মেয়ে কি এই রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে দেখ আমি তার সাথে শুধু ঘুরতে যাচ্ছি। আমার সাথে হাঁটবে। সে আমার সাথে খুবই ভালো আচরণ করে, সে আমার আসলে প্রশংসাও করে, সে সবসময় আমাকে খুব মিষ্টি করে কথা বলে, সে আসলে খুবই ভালো। আমি তার সাথে কিছুই করবো না; আমরা শুধু একসাথে ঘুরাঘুরি করবো। এটা কি সম্ভব?

নুমান আলী খান: এটা হতে পারে না। তবে তা হচ্ছে তো অবশ্যই। অথচ তা হওয়া উচিত নয় এটাই সত্যি।

দ্যা দিন শো হোস্ট: কিন্তু তারা বলছে তারা শুধুই বন্ধু। তারা বন্ধুই থাকবে। ছেলে এবং মেয়ে কি শুধু বন্ধু হতে পারে?

নুমান আলী খান: না। ছেলেরা সেটা খুব ভালো করে জানে। তারা স্বীকার করবে না কিন্তু তারা এটা খুব ভালোভাবে জানে। কখনো কখনো মেয়েরা জানে না এবং এটাই আমাকে আমার বোনদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে যে, তারা অনেক সময় পুরুষদের এই পরিকল্পিত ফাঁদটা বুঝতে পারে না।

দ্যা দিন শো হোস্ট: পুরুষদের পরিকল্পিত ফাঁদটা কী?

নুমান আলী খান: আমরা ল্যাব পার্টনার অথবা আমরা স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা ইসলাম নিয়ে আলোচনা করছি এবং তারা অনেক সময় এ সবের আড়ালের পুরোটা দেখতে পায় না এবং আমাদের বোনদের মধ্যে আসলে সচেতনতার এবং সাবধানতার মাত্রা বাড়াতে হবে। আমাদের মতবিনিময় হবে কিন্তু কিছু গাইডলাইন আমাদেরকে মানতে হবে যাতে তা অস্বাস্থ্যকর না হয়ে স্বাস্থ্যকর হয়। আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমাদের ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় হোক, বিশেষ করে কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে, এমনভাবে তারা বড়দের থেকে গাইড পাক যেন তারা জানুক কিভাবে সম্মানজনকভাবে একে অন্যের সাথে ব্যবহার করতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি আমার মেয়েকে পুরো আলাদা রাখি যাতে তারা অন্য কারো সাথে কথাও না বলতে পারে, একটা সময় আসবে যখন তারা কলেজে যাবে, কর্মক্ষেত্রে যাবে অথবা এয়ারপোর্টে যাবে বা ঘুরতে যাবে, অন্য মানুষ থাকবে ওদের আশেপাশে। আমি চাইনা বাইরের পৃথিবী দেখে ওরা আঁতকে উঠুক। জানেন নিশ্চয়ই, বাচ্চাদেরকে বোতলে ভরে রাখলেই তাদেরকে রক্ষা করা যাবে না কিন্তু একই সময়ে তাদেরকে এই বলে ছেড়েও দেয়া যাবে না যে, তুমি যা ইচ্ছা কর - এটাও পাগলামি। আমাদেরকে ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় -এর একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে।

তারা যদি একে অন্যের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলে ঠিক আছে। ছেলেরা যখন জানবে কোথায় তাদের তাকাতে হবে এবং কিভাবে শুধু কাজের কথায় আলোচনা সীমিত রাখতে হবে এবং কখন তারা সীমা অতিক্রম করছে বুঝতে পারে তখন তাদের এ পথে পা বাড়ানো উচিত এবং বড়দের উচিত গাইড করা। নারী এবং পুরুষের মেলামেশা, এসব কোথায় হয় জানেন? এসব হয় যেখানে নারী পুরুষ একসাথে প্রচুর সময় কাটায়। তো আমি কলেজে যাচ্ছি কিছু মানুষের সাথে, কাজে যাচ্ছি কিছু মানুষের সাথে এবং আমি জানি লাঞ্চের সময় সবাই একসাথে হয় এবং এটা সেটা এবং এটা প্রতিদিন হচ্ছে, এতে কী হয়? এতে শয়তান হয়তো আমাকে একেবারে পুরো বিচ্যুত করতে পারছে না। কিন্তু ১% করে করে আমার বিচ্যুতি ঘটায়।

একজন অভিভাবকের প্রশ্ন

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এবং সাইবার ক্যাফে গড়ে উঠেছে কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও ভয়ের কারণ হলো যে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসার নামে চলে চরম বেহায়াপনা। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ও যুবকেরা প্রেমের নামে প্রতারণা করে ছাত্রী মেয়ে বান্ধবীদেরকে নিয়ে এ সমস্ত চাইনিজ ও সাইবার ক্যাফেতে সারাদিন আড্ডা দেয় এবং মেয়েদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। আমাদের কোমলমতি মেয়েদেরকে ব্ল‍্যাক মেইলিং করে তাদের পর্নো সিডি/ডিভিডি বাজারে ছেড়ে অশ্লীলতার এ মহোৎসব শুরু করেছে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা এর শিকার হয়ে জীবনের মহামূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে। এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী?

উত্তর:
এ সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য পরিষ্কার। ইসলাম অন্যায়কে কখনোই মেনে নেয় না। অসৎ কর্মকে কখনোই সমর্থন করে না। পাপ ও ঘৃণাজনক কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগায় না। পৃথিবীর বুকে একমাত্র ইসলামই সর্বক্ষেত্রে মানবতার কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সদা সচেষ্ট। তাই উল্লিখিত পরিস্থিতিতে যারা অন্যায় বৃদ্ধি করার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরী করে দিচ্ছে (প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ) আর যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত হচ্ছে (ছাত্র-ছাত্রী বা যুবক-যুবতীরা), সবার জন্যই ইসলামী বিধান অনুযায়ী শাস্তি অবধারিত।

অবশ্য এ প্রশ্নে অভিভাবক ছাত্রী বা মেয়েদের অবলা বা সরলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন ক্ষেত্রে ছাত্রী বা মেয়েদের প্রতি লক্ষ্য করে জবাব হচ্ছে: এগুলো আরও বাড়বে যদি মেয়েরা তাদের সম্মান সম্পর্কে সতর্ক না হয়। এখন প্রশ্ন: মেয়েরা ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যাবে কেন? এবং তাদের দাওয়াতে কোন রেষ্টুরেন্টে অথবা কোন সাইবার ক্যাফেতে তারা যাবে কেন? আর যখন প্রশ্নকর্তা বলছেন 'মেয়েদের সরলতা নিয়ে' ছেলেরা এমনটি করছে। এক্ষেত্রেও দায়ী মেয়েরা কারণ এমন সরলতার কোন দাম নেই। সরলতার কারণে কি কেউ বিষ খায়? সরলতার কারণে কি কেউ গলায় দড়ি দিয়েছে বা পানিতে ডুবে মরেছে! এরকমতো হয় না। এটা কি ধরনের সরলতা?

যুবতী মেয়ের ভাবা উচিত তার জীবনের মূল্যবান সম্পদ তার সতীত্ব। কারো সাথে ফোনে কথা বলে বন্ধুত্ব বানিয়ে কোন জায়গায় বেড়াতে যাবার অর্থ সরলতা নয় বরং এটা চরম বোকামি ও জেনে শুনে নিজের ঘাড়ে ভয়ংকর বিপদের বোঝা চাপানো। একবার নির্জনে এসব তথাকথিত ছেলেবন্ধুর সাথে ঘনিষ্টতা করলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই নষ্ট হবে। তার পরবর্তী জীবন আর সহজ থাকে না। খুব কঠিন হয়ে যায়। অনেকে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যাও করে। এসব ঘটনা দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়েও খুব দেখা যাচ্ছে।

এসব বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ছাত্রী জীবনে কোন ছেলেদের সাথে অবৈধ মেলামেশা বা প্রেমে লিপ্ত না হওয়া। বিয়ের আগে প্রেম অর্থাৎ বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম ইসলাম হারাম করেছে। ইসলামে এটা জায়িয নেই। এতে নিজের সর্বনাশ করা ছাড়া আর কোন লাভ নেই। কাজেই এটাকে সরলতা বা কোমলতা কোনভাবেই বলা যায় না। এটা যেন ইচ্ছে করেই সাপের কামড় খাওয়া বা ইচ্ছে করে গর্তে পড়ে আত্মহত্যা করার শামিল।

সুতরাং কোন (তথাকথিত) পুরুষ বন্ধুর সাথে কোন মেয়ে ঘরের বাইরে যাওয়া মোটেই উচিৎ নয়। ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে মা-বাবাদেরকে আরো বেশী সতর্ক হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের সন্তানদেরকে হিফাযত করুন।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা

📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা


আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ পেশা (প্রফেশন) কী হবে তা ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার আগে থেকেই চিন্তা করতে হবে। পেশা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি পরিষ্কার নীতিমালা অবলম্বন করা উচিত আর তা হচ্ছে আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। কারণ হালাল ইনকাম ফরয আর ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে হালাল ইনকাম। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকওয়ার পরীক্ষা।

ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে কিভাবে পেশা নির্ধারণ করবো? সহজ formula হচ্ছে, যে সকল পেশা সরাসরি হারামের সাথে যুক্ত তা জায়িয নয়। যেমন কোন কোম্পানী হারাম পণ্য উৎপাদন করে বা বিক্রি করে বা ডেলিভারি করে বা সূদের কারবার করে ইত্যাদি। এছাড়াও যে সকল পেশায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় বা বেপর্দা হতে হয় তাও হালাল নয়। যেমন একটি উদাহরণ দেয়া যাক: আমরা মনে করতে পারি যে ব্যাংকে চাকুরী করাতো ভাল কিন্তু এখানে খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে যে সূদী ব্যাংকের মূল বিজনেজ হচ্ছে সূদ, সূদ হচ্ছে তাদের প্রডাকসনস বা উৎপাদন, তাই যে কোম্পানীর উৎপাদন হারাম সেখানে চাকুরী করাও হারাম। তবে এই বিষয়ে কারো সাথে যেন তর্কে না যাই বরং তর্ক এড়িয়ে তাকওয়ার উপর জ্ঞান অর্জন করলে পরিষ্কার উত্তর পওয়া যাবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ফেইসবুক সম্পর্কে সাবধানতা

📄 ফেইসবুক সম্পর্কে সাবধানতা


আমাদের সন্তানেরা দিন-দিন ফেইসবুকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি যে এর নেগেটিভ দিকগুলো কী কী? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে এই আসক্তি এতো প্রকোট আকার ধারণ করেছে যে তা কন্ট্রলের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় থাকতে সচেতন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির উপর একটি আইন রয়েছে এবং এই আইনের আওতায় অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারী এরেষ্টও হচ্ছে। তাদের অপরাধ তারা ফেইসবুকের মাধ্যমে কাউকে হুমকী দিয়েছে বা ভুল তথ্য প্রচার করে সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ফেইসবুকের মাধ্যমে অনেক ছেলেমেয়েরাই নিজেরা নিজেদের নানা রকম বিপদ ডেকে আনছে।

আরো একটি জঘন্যতম কাজ হচ্ছে হাইস্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা তাদের নানা ভঙ্গির ছবি ফেইসবুকে আপলোড করে রাখছে এবং দুনিয়ার নারী-পুরুষ তা দেখছে এবং উপভোগ করছে। কোন একটি পারিবারিক প্রোগাম হলেই তার ছবিগুলো ছেলেমেয়েরা ফেইসবুকে আপলোড করে দেয় এবং পারিবারিক ছবিগুলোর মাঝে মেয়েদের ছবিগুলোও থাকে এবং পরপুরুষরা তা উপভোগ করে (নাউযুবিল্লাহ)। মনে রাখতে হবে এই কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তান কি সাইবার বুলিং-এর শিকার?

📄 আমার সন্তান কি সাইবার বুলিং-এর শিকার?


সাইবার বুলিং (Cyber bullying) হচ্ছে অনলাইনে অর্থাৎ ইন্টারনেটে একজন (বা বহুজন) যখন আরেকজনকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে সেটা। এর বেশীর ভাগই হয়ে থাকে কিশোর/কিশোরী যারা স্কুল-কলেজে যায় তাদের ক্ষেত্রে। অনেক বাবা/মাই জানেন যে স্কুলে গেলে কোনো কোনো ছেলেমেয়ে স্কুলের অন্যদের হাসি-ঠাট্টা বা তামাশার শিকার হয়। কিছু কিছু সময় এই ঠাট্টাতামাশা মারামারিতেও রূপান্তরিত হয়। এ বিষয়গুলো যে কোনো বাচ্চার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এবং তাদের মানসিকভাবে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে একটি বাধার সৃষ্টি করে। অনেক স্কুলে এই ব্যাপারগুলো হরহামেশাই ঘটে থাকে। এগুলো ছেলেমেয়েদের স্কুল জীবনের একটা অংশ হিসেবেই অনেক মা/বাবা ধরে নেন। স্কুলে কেউ তাদের বাচ্চাকে নিয়ে হাসাহাসি করলে যদি সেই বাচ্চা তার মা/বাবাকে বলে তাহলে তারা বুঝতে পারে। অথবা স্কুলে অন্য কোনো বাচ্চার সাথে মারামারি হলে তার কোনো চিহ্ন দেখে মা-বাবা সেটা বুঝতে পারেন।

কিন্তু সাইবার বুলিং হয় ইন্টারনেট জগতে। বর্তমান যুগে অতি ছোটকাল থেকেই বাচ্চারা ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে যেমন তারা পৃথিবীর অনেক কিছু সম্পর্কে জানছে, তেমনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের বন্ধু/বান্ধবের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। অনলাইন জগৎ এই অপরিণত বয়সের ছেলেমেয়েরা অনেকের সাথে বন্ধুসুলভ মনোভাব নেয়। একটি সময়ে এই অপরিণত বয়সের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইমেইলে, এসএমএসএ অথবা তাদের ফেইসবুক পেজে ঘৃণামূলক বা অবজ্ঞামূলক মেসেজ পাবে যা তাদের মনে প্রচণ্ড প্রভাব ফেলতে পারে। হেয় প্রতিপন্ন করার স্বার্থে পাঠানো এই মেসেজগুলো অনেক কিশোর/ কিশোরী তাদের বাবা মার সাথে আলাপ করতে চায় না।

২০১৩ সালে ক্যানাডার বৃটিশ কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছরের একজন কিশোরী আত্মহত্যা করে। সে ছিল স্কুলে এবং অনলাইনে সাইবার বুলিং এর শিকার। কিশোরীটির জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে তার অভিজ্ঞতার কথাগুলো প্রকাশ করে নিজের জীবন নেবার আগে। দুই বছর আগে আমেরিকার নিউজার্সিতে ১৮ বছরের একজন স্কুলছাত্র ব্রীজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে যখন সে জানতে পারে অন্য একজন ছাত্র তার অগোচরে কম্পিউটারের ক্যামেরা দিয়ে তার ছবি ধারণ করেছে এগুলো শুধুমাত্র সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনাগুলোর একাংশ মাত্র। আমাদের দক্ষিণ এশীয় সমাজ ব্যবস্থার আলোকে অনেক ছেলেমেয়েরাই হয়তো তাদের মা-বাবার সাথে এদেশীয় ছেলেমেয়েদের তুলনায় অনেক কাছাকাছি। তবুও এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা উচিত।

একজন মা-বাবা কিভাবে বুঝবেন যে তার সন্তান এই সাইবার বুলিং এর শিকার? যখন একজন মা-বাবা খেয়াল করবেন যে তার সন্তান, যে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারে বসে থাকত, সে কম্পিউটারে আর বসতে চাইছে না; যে সেলফোনে বা মোবাইলে কথা বলত অবিরল সে আর ফোন ধরছে না, ইত্যাদি। অনেক সময় সন্তানেরা তাদের সমস্যাগুলো, বিশেষ করে যেটা সাইবার বুলিং এর মতো মানসিক একটা ব্যাপার। মা-বাবার সাথে ভাগাভাগী করতে চায় না। অতএব সন্তানের যে কোন ধরনের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে মা-বাবাকে তা খেয়াল করতে হবে। সন্তানের সাথে বসে এ ব্যাপারে কথা বলতে হবে। কথা বলার সময়, সন্তানের সমস্ত কথাগুলো শোনার জন্য দরকার হলে নিজেকে বোকা বোকা ভাব নিতে হবে। প্রশ্ন করে করে সব কিছু জানতে হবে। যদি সন্তানের অভ্যাস পরিবর্তনগুলোর কারণ সাইবার বুলিং হয় তাহলে সে ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে কিছু করাটা ঠিক হবে না। যদি সাইবার বুলিং সন্তানের স্কুলের কারও কাছ থেকে হয়ে থাকে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে প্রথম পদক্ষেপে। সন্তানকে মানসিকভাবে সার্পোট দিতে হবে এ সময়। সন্তানেরা যাতে সাইবার বুলিং এর শিকার না হয় সে জন্য সকল মা-বাবা তাদের সন্তানদের প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহারের ভালো এবং খারাপ দু'টি দিক নিয়েই উপদেশ দিতে পারেন এবং অনলাইনে বন্ধু বাছাই করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম বেঁধে দিতে পারেন। অপরিচিত কারোর সাথে যাতে আমার সন্তান যোগাযোগ না রাখে সে ব্যাপারে তাদেরকে বুঝাতে হবে। সন্তানদের সাথে খোলাখুলিভাবে আলোচনার পাশাপাশি সামাজিকভাবে আমাদেরও উচিৎ একে অপরকে অবগত করা এ ব্যাপারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px