📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানের ধুমপানের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা

📄 সন্তানের ধুমপানের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা


সাধারণত হাইস্কুল থেকেই ছেলেমেয়েরা ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এই টিনএইজারদের ধূমপানের আর একটা কারণ তারা খুব তাড়াতাড়ি নিজেদেরকে বড়দের মতো ম্যাচিউর ভাবতে থাকে। এটা প্রধানতঃ ঘটে স্কুলের/ক্লাসের ধূমপায়ী সংগী-সাথীদের কুপ্রভাবে। যেসব পরিবারে মা-বাবা, বড় ভাইবোন, নিকটাত্মীয়রা ধূমপান করে, সেই সব পরিবারের ছেলেমেয়েরা অতি সহজেই ধূমপান শুরু করে। তবে অধুমপায়ী পরিবারের সন্তানও ধুমপান শুরু করতে পারে। শুরু হয় সস্তা সিগারেট দিয়ে, কিন্তু বয়স বাড়ার সংগে সংগে আরো বেশী নেশাযুক্ত টোব্যাকো, ড্রান্স, মারিজুয়ানা ইত্যাদিতে অভ্যস্থ্য হয়ে পড়ে। সেই অভ্যাস আর ছাড়া যায় না। রিসার্চ করে দেখা গেছে যে ধূমপায়ীদের ৭৭% চেষ্টা করেও সেই আসক্তির কবল থেকে মুক্তি পায় না।

ইসলাম ধর্ম যেমন মদ খাওয়া হারাম করেছ, ঠিক তেমনি যে কোন নেশার দ্রব্য খাওয়া বা পান করাও হারাম করেছে- এমনকি যদি অতি অল্প পরিমাণও হয়। আল্লাহ ও তাঁর রসূল মুহাম্মাদ ﷺ -এর আদেশ অমান্য করে কোন মুসলিম (নারী অথবা পুরুষ) যদি হারাম কাজে লিপ্ত হয়, সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে, কঠিন শাস্তি পাবে, একথা কুরআন ও হাদীস বারবার জোর দিয়ে বলেছে। সুতরাং মুসলিমদের সাবধান হওয়া উচিত।

সিগারেট তৈরী করতে চার হাজার অধিক কেমিক্যাল্‌ল্স প্রয়োজন হয়। রিসার্চের ফলে জানা গেছে যে সেগুলোর মাঝে ৪০টিও অধিকসংখ্যক কেমিক্যাস্ ক্যান্সার রোগটি সৃষ্টি করে।

Smokeless Tobacco নামে এক ধরনের সিগারেট বাজারে পাওয়া যায়, লোকেরা তা কিনে খায়। রিসার্চের ফলে জানা গেছে যে smokeless Tobacco তৈরী করতে যেসব কেমিক্যাল্‌ল্স ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর মাঝে অন্ততঃ ২৮টি মানুষের দেহে Cancer রোগটির সৃষ্টি করে।

ধূমপানের অপকারিতা
১) হারাম বস্তু খাওয়া হয় এবং ফলে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশের অবাধ্যতা করা হয়। এতে আখিরাতে জাহান্নামী হওয়ার আশংকা রয়েছে যদি না আল্লাহ দয়া করে মাফ করেন।
২) অযথা অর্থের অপচয় যাকে ইসলামী পরিভাষায় বলা হয় ইস্রাফ (অপব্যয়) যা আল্লাহ মু'মিনদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।
৩) গায়ে, মুখে, হাতে, পোশাকে দুর্গন্ধ জন্মে। নিজেদের রুমে, বইপত্রে, ব্যাকপ্যাকে দুর্গন্ধ জন্মে। কথা বললে শ্রোতা মুখের দুর্গন্ধ পেয়ে বিরক্ত হয়। সমস্ত পরিবেশটাই দুর্গন্ধময় ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে।
৪) এমন দুর্গন্ধ গায়ে নিয়ে সলাত ও অন্যান্য ইবাদত আল্লাহ কতটুকু কবুল করবেন তা জানা নেই।
৫) সিগারেটের আগুনে অনেক সময় জামা-কাপড় পুড়ে যায়, এমন কি ঘরে আগুনও ধরে যেতে পারে।
৬) ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের তুলনায় ১০ বছর কম বাঁচে।
৭) ধূমপায়ীদের প্রায় অর্ধেক পরিমাণ নারী-পুরুষ ক্যান্সার, হার্ট ডিজিজে মারা যায়। এর বাইরে আরো অন্ততঃ দুই ডজন রোগের জন্ম দেয় এই ধূমপান- লাং ক্যান্সার, হার্ট এটাক, হাই ব্লাড প্রেশার, ব্রংকাইটিস, আলসার ইত্যাদির কারণ এই স্মোকিং।
৮) অপারেশন করার পর ইনফেকশন হওয়ার অধিক আশংকা থাকে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে।
৯) বাচ্চাদের এজমা রোগটা সৃষ্টি হয় (দ্বিগুণ পরিমাণ)- যদি ওদের মা- বাবা ধূমপায়ী হয়।

মাঝেমধ্যে দেখতে হবে তার জামা-কাপড় দিয়ে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায় কিনা, বা রুমে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায় কিনা বা তার হাত মুখ দিয়ে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া যায় কিনা। ছেলের সার্ট-প্যান্ট ধোয়ার সময় মায়ের খেয়াল রাখতে হবে যে পকেটে সিগারেটের গুড়া থাকে কিনা, যদি এটা পাওয়া যায় তাহলে বুঝতে হবে ছেলে সিগারেট ধরেছে। কোন চেচামেচি করা যাবে না, তাকে মারধোর করা যাবে না। হিকমতের সাথে এগুতে হবে। সন্তানকে ধূমপানের ব্যাপারে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গী তুলে ধরতে হবে। প্রথমে এর খারাপ দিকগুলি তুলে ধরতে হবে। এ ব্যাপারে মৃদু কঠিন নীতি বেঁধে দিতে হবে। বলতে হবে আমি কোন অবস্থায় ধূমপান সহ্য করবো না। এটি একটি ঘৃণ্য কাজ। ধুমপান যে হারাম পরিবারের সবাই মিলে এর উপর ডা. জাকির নায়েকের লেকচার দেখতে পারি, আশা করি তারা ডা. জাকির নায়েকের কুরআন-হাদীস এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক লজিক পছন্দ করবে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 মা-বাবাদের জন্য দু’টি তথ্য

📄 মা-বাবাদের জন্য দু’টি তথ্য


বাস্তবতা তুলে ধরছি। একটি দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে অতি ম্যাচিউর কিছু ছাত্র কোন বন্ধুর বাসায় একত্র হয়ে জুয়া খেলে। মা-বাবা-রা তা জানেনই না, বাসার অন্যেরা হয়তো মনে করে ছেলে বন্ধুদের নিয়ে গ্রুপ স্টাডি করছে। দেখা যায় নিজ সন্তান তার বন্ধুদের নিয়ে নিজ রুমে এই কাজ করছে আর মা হয়তো তাদের চা-নাস্তা দিয়ে আপ্পায়ন করছেন কিন্তু তিনি তার কিছুই টের পাচ্ছেন না। প্রথম দিকে বন্ধুরা মিলে তাস দিয়ে স্পেকট্রাম খেলে এবং এক সময় তা টাকা দিয়ে জুয়াতে রূপান্তরিত হয়। (নাউযুবিল্লাহ) এই জুয়া দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করতে থাকে এবং পড়াশোনার চরম অবনতি ঘটতে থাকে। এমনও হয় জুয়ার টাকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বড় ধরনের গন্ডগোলও হয়, বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়। কোন কোন গ্রুপ শুধু জুয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না তারা এর পাশাপাশি মদ খায় এবং পর্নগ্রাফী দেখে। এই জঘন্য নেশা দিনের পর দিন চলতে থাকে এবং ছাত্ররা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা জুয়া খেলে সময় নষ্ট করে।

তারা একবারও চিন্তা করে না যে এই সময় নষ্ট করার জন্য তারা আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবে? তাই মা-বাবাদের এই বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সন্তান যখন বড় হয় অর্থাৎ হাইস্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তখন তার একটা পারসোনালিটি তৈরী হয়, এটি সত্যি কথা, তার এই পারসোনালিটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু ইবলিশ শয়তানকে এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করা যাবে না, তাকে কোন প্রকার সুযোগ দেয়া যাবে না, সে বেশী ঘুরাঘুরি করে কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েদের পিছনে এর কারণ উঠতি বয়স। এই বয়সে যদি একটি ছেলে বা মেয়েকে নষ্ট করে দেয়া যায় তাহলেই তার সার্থকতা, বাকী জীবন আর তার তেমন কিছু করতে হবে না। তাই কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া সন্তানদের পারসোনালিটির কথা চিন্তা করে একেবারে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তাদের সাথে মা-বাবাকে মিশতে হবে যেন তারা মা-বাবা থেকে কোন কিছু না লুকায়।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 ছেলে এবং মেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে?

📄 ছেলে এবং মেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে?


আমেরিকার টিভি শোতে নুমান আলী খানের একটি সাক্ষাতকার

ছেলেমেয়েরা কি একে অপরের বন্ধু হতে পারে? সময়ের স্রোতে এ আজ জটিল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুত্বে ক্ষতি নেই, বন্ধুত্বে অশ্লীলতা নেই, বন্ধুত্বে হার নেই এমন কি বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্ভব এ ধরনের অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি। তবে বাস্তবতা কি? ছেলেমেয়েদের বন্ধুত্বটা ক্ষতিকর না উপকারী? এসব বিষয় নিয়ে 'দ্যা দিন শোতে' সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আমেরিকার বিখ্যাত স্কলার নুমান আলী খান।

দ্যা দিন শো হোস্ট: আমাদের বলুন, নারী এবং পুরুষ, ছেলে এবং মেয়ে কি বন্ধু হতে পারে? একটা মেয়ে কি এই রকম আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারে দেখ আমি তার সাথে শুধু ঘুরতে যাচ্ছি। আমার সাথে হাঁটবে। সে আমার সাথে খুবই ভালো আচরণ করে, সে আমার আসলে প্রশংসাও করে, সে সবসময় আমাকে খুব মিষ্টি করে কথা বলে, সে আসলে খুবই ভালো। আমি তার সাথে কিছুই করবো না; আমরা শুধু একসাথে ঘুরাঘুরি করবো। এটা কি সম্ভব?

নুমান আলী খান: এটা হতে পারে না। তবে তা হচ্ছে তো অবশ্যই। অথচ তা হওয়া উচিত নয় এটাই সত্যি।

দ্যা দিন শো হোস্ট: কিন্তু তারা বলছে তারা শুধুই বন্ধু। তারা বন্ধুই থাকবে। ছেলে এবং মেয়ে কি শুধু বন্ধু হতে পারে?

নুমান আলী খান: না। ছেলেরা সেটা খুব ভালো করে জানে। তারা স্বীকার করবে না কিন্তু তারা এটা খুব ভালোভাবে জানে। কখনো কখনো মেয়েরা জানে না এবং এটাই আমাকে আমার বোনদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে যে, তারা অনেক সময় পুরুষদের এই পরিকল্পিত ফাঁদটা বুঝতে পারে না।

দ্যা দিন শো হোস্ট: পুরুষদের পরিকল্পিত ফাঁদটা কী?

নুমান আলী খান: আমরা ল্যাব পার্টনার অথবা আমরা স্কুলের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা ইসলাম নিয়ে আলোচনা করছি এবং তারা অনেক সময় এ সবের আড়ালের পুরোটা দেখতে পায় না এবং আমাদের বোনদের মধ্যে আসলে সচেতনতার এবং সাবধানতার মাত্রা বাড়াতে হবে। আমাদের মতবিনিময় হবে কিন্তু কিছু গাইডলাইন আমাদেরকে মানতে হবে যাতে তা অস্বাস্থ্যকর না হয়ে স্বাস্থ্যকর হয়। আমি আসলে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমাদের ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় হোক, বিশেষ করে কম বয়সী ছেলে মেয়েদের মধ্যে, এমনভাবে তারা বড়দের থেকে গাইড পাক যেন তারা জানুক কিভাবে সম্মানজনকভাবে একে অন্যের সাথে ব্যবহার করতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ, আমি যদি আমার মেয়েকে পুরো আলাদা রাখি যাতে তারা অন্য কারো সাথে কথাও না বলতে পারে, একটা সময় আসবে যখন তারা কলেজে যাবে, কর্মক্ষেত্রে যাবে অথবা এয়ারপোর্টে যাবে বা ঘুরতে যাবে, অন্য মানুষ থাকবে ওদের আশেপাশে। আমি চাইনা বাইরের পৃথিবী দেখে ওরা আঁতকে উঠুক। জানেন নিশ্চয়ই, বাচ্চাদেরকে বোতলে ভরে রাখলেই তাদেরকে রক্ষা করা যাবে না কিন্তু একই সময়ে তাদেরকে এই বলে ছেড়েও দেয়া যাবে না যে, তুমি যা ইচ্ছা কর - এটাও পাগলামি। আমাদেরকে ভাই এবং বোনদের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মতবিনিময় -এর একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে।

তারা যদি একে অন্যের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলে ঠিক আছে। ছেলেরা যখন জানবে কোথায় তাদের তাকাতে হবে এবং কিভাবে শুধু কাজের কথায় আলোচনা সীমিত রাখতে হবে এবং কখন তারা সীমা অতিক্রম করছে বুঝতে পারে তখন তাদের এ পথে পা বাড়ানো উচিত এবং বড়দের উচিত গাইড করা। নারী এবং পুরুষের মেলামেশা, এসব কোথায় হয় জানেন? এসব হয় যেখানে নারী পুরুষ একসাথে প্রচুর সময় কাটায়। তো আমি কলেজে যাচ্ছি কিছু মানুষের সাথে, কাজে যাচ্ছি কিছু মানুষের সাথে এবং আমি জানি লাঞ্চের সময় সবাই একসাথে হয় এবং এটা সেটা এবং এটা প্রতিদিন হচ্ছে, এতে কী হয়? এতে শয়তান হয়তো আমাকে একেবারে পুরো বিচ্যুত করতে পারছে না। কিন্তু ১% করে করে আমার বিচ্যুতি ঘটায়।

একজন অভিভাবকের প্রশ্ন

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচুর মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এবং সাইবার ক্যাফে গড়ে উঠেছে কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও ভয়ের কারণ হলো যে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবসার নামে চলে চরম বেহায়াপনা। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ও যুবকেরা প্রেমের নামে প্রতারণা করে ছাত্রী মেয়ে বান্ধবীদেরকে নিয়ে এ সমস্ত চাইনিজ ও সাইবার ক্যাফেতে সারাদিন আড্ডা দেয় এবং মেয়েদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। আমাদের কোমলমতি মেয়েদেরকে ব্ল‍্যাক মেইলিং করে তাদের পর্নো সিডি/ডিভিডি বাজারে ছেড়ে অশ্লীলতার এ মহোৎসব শুরু করেছে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা এর শিকার হয়ে জীবনের মহামূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে। এ সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী?

উত্তর:
এ সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য পরিষ্কার। ইসলাম অন্যায়কে কখনোই মেনে নেয় না। অসৎ কর্মকে কখনোই সমর্থন করে না। পাপ ও ঘৃণাজনক কাজে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগায় না। পৃথিবীর বুকে একমাত্র ইসলামই সর্বক্ষেত্রে মানবতার কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সদা সচেষ্ট। তাই উল্লিখিত পরিস্থিতিতে যারা অন্যায় বৃদ্ধি করার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরী করে দিচ্ছে (প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ) আর যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত হচ্ছে (ছাত্র-ছাত্রী বা যুবক-যুবতীরা), সবার জন্যই ইসলামী বিধান অনুযায়ী শাস্তি অবধারিত।

অবশ্য এ প্রশ্নে অভিভাবক ছাত্রী বা মেয়েদের অবলা বা সরলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন ক্ষেত্রে ছাত্রী বা মেয়েদের প্রতি লক্ষ্য করে জবাব হচ্ছে: এগুলো আরও বাড়বে যদি মেয়েরা তাদের সম্মান সম্পর্কে সতর্ক না হয়। এখন প্রশ্ন: মেয়েরা ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যাবে কেন? এবং তাদের দাওয়াতে কোন রেষ্টুরেন্টে অথবা কোন সাইবার ক্যাফেতে তারা যাবে কেন? আর যখন প্রশ্নকর্তা বলছেন 'মেয়েদের সরলতা নিয়ে' ছেলেরা এমনটি করছে। এক্ষেত্রেও দায়ী মেয়েরা কারণ এমন সরলতার কোন দাম নেই। সরলতার কারণে কি কেউ বিষ খায়? সরলতার কারণে কি কেউ গলায় দড়ি দিয়েছে বা পানিতে ডুবে মরেছে! এরকমতো হয় না। এটা কি ধরনের সরলতা?

যুবতী মেয়ের ভাবা উচিত তার জীবনের মূল্যবান সম্পদ তার সতীত্ব। কারো সাথে ফোনে কথা বলে বন্ধুত্ব বানিয়ে কোন জায়গায় বেড়াতে যাবার অর্থ সরলতা নয় বরং এটা চরম বোকামি ও জেনে শুনে নিজের ঘাড়ে ভয়ংকর বিপদের বোঝা চাপানো। একবার নির্জনে এসব তথাকথিত ছেলেবন্ধুর সাথে ঘনিষ্টতা করলে নিজের দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই নষ্ট হবে। তার পরবর্তী জীবন আর সহজ থাকে না। খুব কঠিন হয়ে যায়। অনেকে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যাও করে। এসব ঘটনা দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়েও খুব দেখা যাচ্ছে।

এসব বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ছাত্রী জীবনে কোন ছেলেদের সাথে অবৈধ মেলামেশা বা প্রেমে লিপ্ত না হওয়া। বিয়ের আগে প্রেম অর্থাৎ বিবাহ-বহির্ভূত প্রেম ইসলাম হারাম করেছে। ইসলামে এটা জায়িয নেই। এতে নিজের সর্বনাশ করা ছাড়া আর কোন লাভ নেই। কাজেই এটাকে সরলতা বা কোমলতা কোনভাবেই বলা যায় না। এটা যেন ইচ্ছে করেই সাপের কামড় খাওয়া বা ইচ্ছে করে গর্তে পড়ে আত্মহত্যা করার শামিল।

সুতরাং কোন (তথাকথিত) পুরুষ বন্ধুর সাথে কোন মেয়ে ঘরের বাইরে যাওয়া মোটেই উচিৎ নয়। ছেলেমেয়েদের নৈতিক শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে মা-বাবাদেরকে আরো বেশী সতর্ক হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ও আমাদের সন্তানদেরকে হিফাযত করুন।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা

📄 সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশা সম্পর্কে সতর্কতা


আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ পেশা (প্রফেশন) কী হবে তা ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার আগে থেকেই চিন্তা করতে হবে। পেশা নির্ধারণের ব্যাপারে একটি পরিষ্কার নীতিমালা অবলম্বন করা উচিত আর তা হচ্ছে আয়-রোজগারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। কারণ হালাল ইনকাম ফরয আর ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে হালাল ইনকাম। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই তাকওয়ার পরীক্ষা।

ইসলামী দৃষ্টিকোন থেকে কিভাবে পেশা নির্ধারণ করবো? সহজ formula হচ্ছে, যে সকল পেশা সরাসরি হারামের সাথে যুক্ত তা জায়িয নয়। যেমন কোন কোম্পানী হারাম পণ্য উৎপাদন করে বা বিক্রি করে বা ডেলিভারি করে বা সূদের কারবার করে ইত্যাদি। এছাড়াও যে সকল পেশায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয় বা বেপর্দা হতে হয় তাও হালাল নয়। যেমন একটি উদাহরণ দেয়া যাক: আমরা মনে করতে পারি যে ব্যাংকে চাকুরী করাতো ভাল কিন্তু এখানে খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে যে সূদী ব্যাংকের মূল বিজনেজ হচ্ছে সূদ, সূদ হচ্ছে তাদের প্রডাকসনস বা উৎপাদন, তাই যে কোম্পানীর উৎপাদন হারাম সেখানে চাকুরী করাও হারাম। তবে এই বিষয়ে কারো সাথে যেন তর্কে না যাই বরং তর্ক এড়িয়ে তাকওয়ার উপর জ্ঞান অর্জন করলে পরিষ্কার উত্তর পওয়া যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px