📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের শাসন করা

📄 সন্তানদের শাসন করা


আমরা অনেক মা-বাবা কথায় কথায় সন্তানদের চর থাপ্পর মারি। কোন কোন মা-বাবা সামান্য পড়া না পারার কারণে বা দুষ্টামি করার কারণে, বা পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করার কারণে সন্তানদের অমানবিক শাস্তি দেন! লাঠি দিয়ে চোরের মতো পেটান! কোন কোন শিক্ষকরা বেত দিয়ে পিটিয়ে রক্ত বের করে ফেলেন, হাত-পা ফুলিয়ে দেন, হাতের কাছে বেত না থাকলে ডাষ্টার দিয়ে মাথায় মারেন, পেন্সিল দুই আঙুলের চিপায় ঢুকিয়ে দাগি আসামীকে রিমান্ডে নেয়ার মতো শাস্তি দেন! অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোতে ইয়াতিম ছাত্রদের হুজুররা পিটিয়ে পিঠের চামড়া ফুলিয়ে ফেলেন! মোহাম্মাদপুরে আমাদের এক প্রতিবেশীকে স্কুল জীবনে প্রাইভেট শিক্ষক বেত দিয়ে পিটাতে পিটাতে ঐ বেত ভেঙ্গে ছাত্রের চোখের মধ্যে ঢুকে যায় এবং তখন থেকে তার এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়! সে আজ কয়েকটি সন্তানের বাবা এবং সেই এক চোখ নিয়ে বেঁচে আছে!

শাসন মানেই মার-ধর না, শারীরিক নির্যাতন নয়। সন্তানের গায়ে হাত দেয়া ছাড়াও শাসন করা যায় এবং সেটাই হচ্ছে প্রকৃত শাসন। যদিও আমরা এখানে শাসন শব্দটা ব্যবহার করেছি কিন্তু এটাকে আমরা সংশোধন প্রক্রিয়া বলতে চাই। আমাদের শাসন হবে সংশোধন প্রক্রিয়ার একটা উপায় মাত্র। আর সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হবে যেনো আমাদের সন্তান তার ভুলটি বুঝে এবং ভবিষ্যতে সেটা করা থেকে বিরত থাকে। সংশোধন প্রক্রিয়া সন্তান প্রতিপালনের অন্যতম একটা অংশ। অনেক মা-বাবারা তাদের সন্তানদের ছোটবেলায় শাসন করতে চান না। বলেন, "ও তো এখনো ছোট, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে”। কিন্তু একদম শাসন না করা বা সংশোধন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না করাও ঠিক না।

ছোটবেলা থেকে একটা শিশুকে ন্যায়-অন্যায়ের মানদন্ড যদি মা-বাবা না শেখায় তবে সে “ঠিক” হবে কী করে? আগেকার আমলে ছোটবেলায় ছেলেমেয়েরা নিজ বাবাকে দেখলে পালিয়ে থাকতো, সাধারণত তার কাছে বা সামনে যেতে ভয় পেতো। আর আজ শিক্ষার বদৌলতে, জ্ঞানের প্রসারতার কারণে ছেলেমেয়েরা বাবাকে দেখলে দৌড়ে কাছে আসে, পালিয়ে বেড়ায় না, মায়ের মতো বাবার কাছেও আবদার করে।

সতর্কতা: কেউ কেউ ছেলেমেয়েদের গালে চর বা থাপ্পর মারেন। এই কাজটি মোটেও ঠিক না। ইসলামে কারো গালে আঘাত করা নিষেধ। গালে চর মারার অনেক ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। যেমন গালে চর মারার কারণে বাচ্চার ব্রেইনের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া মাথায় চর-থাপ্পর দিলে ঐ একই ঘটনা ঘটতে পারে। আবার দেখা যায় যে গালে বা মাথায় মারতে গিয়ে কেউ কেউ বাচ্চার কানের মধ্যে চর মারেন, এতে হয়তো শিশুর কানের বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সন্তানকে শাসন করতে গিয়ে গালে, কানে বা মাথায় আঘাত করা মোটেও ঠিক না। এতে সন্তান বিকলাঙ্গ বা বধির হয়ে যেতে পারে।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের প্রতি আজেবাজে মন্তব্য না করা

📄 সন্তানদের প্রতি আজেবাজে মন্তব্য না করা


অনেক মা-বাবা সন্তানদের প্রতি নানা রকম কমেন্ট বা মন্তব্য করেন। এতে ছেলেমেয়েদের মন ছোট হয়ে যায়, তারা নিজেরা অপমানিতবোধ করে, মনে খুবই কষ্ট পায়। তাদের অপারগতার জন্য তাদেরকে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলতে হবে। নিম্নে কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো। এই জাতীয় আজেবাজে বাক্য বা মন্তব্য করা ঠিক না। যেমনঃ
• ছেলেটা একটা গাঁধা!
• মেয়েটা আস্ত একটা গর্ধব!
• তুমি একটা গরু।
• তোমার মাথা ভরা গোবর!
• তুমি একটা ফালতু মেয়ে!
• তুমি একটা অসভ্য ছেলে!
• ছেলেটা একটা শয়তানের হাড্ডি!
• তোমার চেয়ে ওমুকে অনেক ভাল!

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 সন্তানদের বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি দৃষ্টি রাখা

📄 সন্তানদের বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি দৃষ্টি রাখা


আমাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পড়ুয়া বন্ধু-বান্ধবদের দিকে দৃষ্টি রাখার আগে তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি শিক্ষা দেয়া উচিত। তাদের বন্ধুরা হয় তাদের চাইতে ছাত্র হিসেবে ভাল হবে অথবা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকে উন্নত হবে। সন্তানগণ যদি এ নীতিতে একমত হয় তাহলে মা-বাবাদের মাথাব্যথা কিছুটা কমে যাবে বৈকি! একটি বাস্তবতা মা-বাবাদের স্মরণ রাখতে হবে যে সন্তানগণ সবসময় তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা দিতে চেষ্টা করে। এমনকি তারা মা-বাবার চাইতে বন্ধুকে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। তারা সবসময় বন্ধুদের পক্ষ নিয়ে কথা বলে। ক্ষেত্রবিশেষে বখাটে বন্ধুদের পক্ষ হয়ে সন্তানগণ মা-বাবার নির্দেশ ও উপদেশ অমান্য করে।

কিছু বিষয় আছে যে সম্পর্কে আমাকে অতিরিক্ত সতর্ক হতে হবে। আমার যাবতীয় প্রচেষ্টার পরও যদি সন্তান ঠিক না হয় তাহলে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে দু'আ করে যেতে হবে। তবে চেষ্টা ছাড়া যাবে না, চালিয়ে যাতে হবে। কিন্তু চেষ্টা-তদবীর করে যাওয়া আমার উপর অবশ্যকরণীয়। সন্তানদের বন্ধুরা যেন মাঝে মাঝে বাসায় আসতে পারে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। বন্ধুদের বাসায় আসার দরজা যদি বন্ধ করি তা হলে আমার সন্তান বিকল্প পথ খুঁজে একেবারে অন্ধকারে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ আমি কিছুই জানবো না সে কি ধরনের বন্ধুদের সাথে চলে, বন্ধুরা মিলে কি ধরনের তৎপরতা চালায় ইত্যাদি।

📘 প্যারেন্টিং এই আধুনিক যুগে সন্তানকে কিভাবে মানুষ করবো 📄 আমার সন্তান যেন আমাকে বন্ধু ভাবে

📄 আমার সন্তান যেন আমাকে বন্ধু ভাবে


আমার সন্তান যেন আমাকে বন্ধু ভাবে সে ধরনের পরিবেশ তৈরী করতে হবে। ফলে সে কী করে না করে সবই আমি জানতে পারবো। আল্লাহ না করুন, সে কোন নেশা জাতীয় মাদক সেবন করে কিনা, বা সে ধরনের কোন গ্রুপের সংস্পর্শে চলে যায় কিনা তা কৌশলে খেয়াল রাখতে হবে। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে সন্তানদের সাথে নিয়ে ইসলামিক ভিডিও দেখা যেতে পারে। এখন কোয়ালিটি সম্পন্ন ইসলামিক ডিভিডি আমেরিকা, ব্রিটেন আর ক্যানাডায় তৈরী হয়। এখানে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা দিনরাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন প্রকাশনা বাজারে ছাড়ছে। ব্যাপক হারে পাশ্চাত্য দেশের গুণীজন ইসলাম গ্রহণ করছেন। এটা গোটা মুসলিম জাতির জন্য শিক্ষার বিষয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px